শনিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২২

চন্দন রায়


 


চন্দন রায় / দু'টি কবিতা 

মনোনীত হয় নি--৩২


বহুদিন বেঁচে থাকা পা দুটো নিয়ে একাই একদিন

নদীর কাছে গেলাম। গন্ধ রুমাল বুকের ভিতর

চুবিয়ে রেখে বললাম---

কোনো ঢেউ আর আড়ালে রেখো না----


গোধূলি কিংবা মধ্যরাত

যে রকম বেঁচে আছে , যে রকম বেঁচে থাকে

জলের কল্লোল , অরণ্যমুখী  কালো চুল,

দীর্ঘতর ফুসফুস , যা হবার হয়ে যাক

তুমি কোনো ঢেউ আড়াল রেখো না----


ধুলোর সংসার থেকে মন্দিরের ঘন্টা

মনুষ্য থেকে রক্তমাংসে মনুষ্যজীবন

চুন মাছ থেকে রাঘব বোয়াল , সবরকম সিঁড়ির

ধাপ সরিয়ে দীর্ঘকায় হও

রোদমাখা কবির পা ছুঁয়ে ভরাট দীর্ঘশ্বাসে তোলপাড় হও , 

কোনো ঢেউ আড়ালে রেখো না-----











মনোনীত হয় নি--৩৩


ঠোঁটের ঘা কি এমনি হয়েছে ?

উঠোনে পা ছড়িয়ে বসে কাসুন্দির মত চাটতে

চাটতে  আল্হাদে আটখানা

তখন কোথায় ছিল বাড়ি ! কোথায় ছিল জারুলের

ডালপালা, নদীর মত শরীর ভাসিয়ে, হাই তুলে দিব্যি

ছিলি জিভের লালায়

ল্যাজ আছড়িয়ে চোখ তখন চাঁদ হয়েছিল

মনের এপিঠ ওপিঠ চড়বরে রোদ্দুর----


ইচ্ছে সুখের ভিতর গভীর গর্জন , কাসুন্দি বিলাস

চুপচাপ রাতে রত্নের থালায় আমুদে শরীর

অনেক খেয়েছে, ছদ্মবেশে চুল খুলে দাপটে খেয়েছে

প্রকৃতি দেখেনি-----


এখন তোর শরীরে একটু একটু করে

ঢুকে পড়ছে মৃত্যুর দীঘল শরীর----


********************************************************************************************



           চন্দন রায় 

আশির দশকের অন্যতম বিশিষ্ট কবি । আটটিরও বেশি কাব্যগ্রন্থের প্রণেতা । নতুন মান্দাস নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করেন, যা ইতিমধ্যেই পাঠকপ্রিয় হয়ে উঠেছে । কবি চন্দন রায়ের সম্প্রতি প্রকাশিত  দুটি কাব্যগ্রন্থ : জেলখানার খোলা চিঠি এবং শিরোনাম সন্ধান চলছে   



কবিতা * গৌরীশঙ্কর দে



গৌরীশঙ্কর দে / দু'টি কবিতা  

বিন্দু 


তুমি কি শূন্যের চেয়ে আরো ছোট হতে চাও নাকি

বড়ো? পরো পরো চৈতালী রাতের শাড়ি মনোলোভা।

নিজেকে আড়াল করে প্রকাশ করেছ যত ফাঁকি 

তাই দিয়ে জড়ো করো মননে আকাশ ক্ষণপ্রভা?


ছুঁয়েছ আচ্ছন্ন দেহ, প্রাণ দাও, গান দাও দেখি।

অসীম, চালাকি জানে বদ্ধমূল ধারণা তোমার,

সন্ধ্যা তীব্র দ্রোহে মানসরোবরে ফুটে আছে, এ কী

তার শান্ত রূপ, মেঘে জলে রঙ গুলে আল্পনার


শিখা উঠে গেছে। ওই পারে অভুক্ত তৃণাচ্ছাদিত

আকাশের স্মৃতিপথে ছড়ানো শ্রাবণী পথরেখা।

জলের বলিষ্ঠ জঙ্ঘা জুড়ে তেজোময়ী গঙ্গাদৃত

কেশের বেশের চুমকি মতান্তরে শক্তিশালী লেখা।


তুমিও উবুড়, পা নাচাচ্ছ না যে কেন চন্দ্রাবলী 

রাতে? আমি তো রীতিমতন বিস্মিত তোমার এই

নছকলি দেখে। মন্ত্র পড়ে হবে যদি মন বলে ওঠে চলি

হাত ধরে নেমে যাই ঘাটে? আর রাত্রে ধুয়ে নেই


মোহ শূন্য পাত্রে থাকি হোমাগ্নির পাশাপাশি জেগে।

রক্তাক্ত প্রতিমা যার কপালে বলির টিপে এতো!

কত নদী নিশিথীনি প্রাচুর্যের গায়ে নারী লেগে

রয়েছে ঘাটের পরে ঘাটে। নৌকোদের মুখে দেঁতো 


হাসি লেগে নেই। পচা বন্ধুর শামুকে পা কেটেছে,

রক্তও ঝরেছে বুকে, কাদায় পদ্মের কুঁড়ি ফুটেছে প্রচুর।

জলতরঙ্গের ধ্বনি, মধ্যরাতে গঙ্গার তীর সব দেখেছে,

ব্যর্থ অন্ত্যমিল মুছে দিয়ে আজ স্বরবর্ণে ছুটেছে নূপুর।





















জয়তিলক

  আমরা আছি জয়ের চিকিৎসাধীন
আহা   কবিজীবন পেটে পড়ুক কাব্য,
  পেট খুলে ভাই কথা বলতে দিন
তাতে কার কি হবে পরে না হয় ভাববো।

  বাছাই করা অপ্রার্থিত ইঁট
লেখা   মাথায় নিয়ে ঘুরেছি সাত বস্তা,
  কেউ বলেছে সিনিক, মরবিড
কেউ    বলেছে আমোদগেঁড়ে, সস্তা।

  মস্তক অবনমন করে গেলাম
জয়    কালীর থানে তখন রাত আটটা,
  পায়রাডাঙা থেকে ফিরে এলাম—
ফের   রাণাঘাটেই—দু'জনে ভোকাট্টা। 

  রাত পোহালে নিজের দিকে চেয়ে
দেখি   পালটে গেছে সত্যি কবিসত্তা,
  পুড়ে যেতাম আগে জ্বলতে যেয়ে
আজ   মোমের সাথে আড়ালে বাগদত্তা।



************************************************************************************************



গৌরীশঙ্কর দে 

বাংলা কবিতায় একটি পরিচিত নাম ছন্দকুশলী এই কবি প্রতিনিয়ত আমাদের কাব্যপিপাসা পরিতৃপ্ত করে চলেছেন নির্বাচিত কবিতাসহ এ পর্যন্ত আটটিরও বেশি কাব্যগ্রন্থ তিনি রচনা করেছেন তাঁরকয়েকটি উল্লেখযোগ্য  কবিতার বই ---অশ্রু প্রপাতের নিচে * স্খলিত স্বপ্নের নীড় * ভাষামাতৃক্রোড়*আদিসপ্তগ্রাম * আশির বাদকের পত্রলেখা*অনৈশ্বর্য * নির্বাচিত কবিতা* 
আমার নিভৃতাবাস 




সম্পাদকীয়



********************************************

স্বরবর্ণ 

সৃজনের মৌলিক স্বর 


দ্বিতীয় বর্ষ * তৃতীয় সংখ্যা
৩০ শ্রাবণ ১৪২৯ * ১৫ আগস্ট ২০২২

*********************************************


স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে, প্রথাগত সম্পাদকীয়-র পরিবর্তে, এবার আমরা এই কলামে রাখছি, জেলখানা থেকে লেখা শহীদ দীনেশ গুপ্ত এবং মাস্টারদা সূর্য সেনের কয়েকটি চিঠি....যার মধ্য দিয়ে আমরা স্মরণ করছি সেইসব বীর বিপ্লবী স্বদেশপ্রেমী শহীদদের, মাতৃমুক্তিযঞ্জে যাঁরা নিঃশেষে  আত্মাহুতি দিয়েছিলেন।


দীনেশ গুপ্ত : জন্ম - ৬ ডিসেম্বর ১৯১১ 

ফাঁসি - ৭ জুলাই ১৯৩১ 


আলিপুর সেন্ট্রাল জেল

কলিকাতা

১৮ জুন, ১৯৩১


বউদি,

তোমার দীর্ঘ পত্র পাইলাম। অ-সময়ে কাহারও জীবনের পরিসমাপ্তি হইতে পারে না। যাহার যে কাজ করিবার আছে, তাহা শেষ হইলেই ভগবান তাহাকে নিজের কাছে টানিয়া লন। কাজ শেষ হইবার পূর্বে তিনি কাহাকেও ডাক দেন না।

তোমার মনে থাকিতে পারে, তোমার চুল দিয়া আমি পুতুল নাচাইতাম। পুতুল আসিয়া গান গাহিত, ‘কেন ডাকিছ আমার মোহন ঢুলী?’ যে পুতুলের পার্ট শেষ হইয়া গেল, তাহাকে আর স্টেজে আসিতে হইত না। ভগবানও আমাদের নিয়া পুতুল নাচ নাচাইতেছেন। আমরা এক একজন পৃথিবীর রঙ্গমঞ্চে পার্ট করিতে আসিয়াছি। পার্ট করা শেষ হইলে প্রয়োজন ফুরাইয়া যাইবে। তিনি রঙ্গমঞ্চ হইতে আমাদের সরাইয়া লইয়া যাইবেন। ইহাতে আপশোস করিবার আছে কি?

ভারতবাসী আমরা নাকি বড় ধর্মপ্রবণ। ধর্মের নামে ভক্তিতে আমাদের পণ্ডিতদের টিকি খাড়া হইয়া উঠে। কিন্তু তবে আমাদের মরণকে এত ভয় কেন? বলি ধর্ম কি আছে আমাদের দেশে? যে দেশে মানুষকে স্পর্শ করিলে মানুষের ধর্ম নষ্ট হয়, সে দেশের ধর্ম আজই গঙ্গার জলে বিসর্জন দিয়ে নিশ্চিন্ত হওয়া উচিত। সবার চেয়ে বড় ধর্ম মানুষের বিবেক। সেই বিবেককে উপেক্ষা করিয়া আমরা ধর্মের নামে অধর্মের স্রোতে গা ভাসাইয়া দিয়াছি। একটা তুচ্ছ গোরুর জন্য, না হয় একটু ঢাকের বাদ্য শুনিয়া আমরা ভাই-ভাই খুনোখুনি করিয়া মরিতেছি। এতে কি ‘ভগবান’ আমাদের জন্য বৈকুণ্ঠের দ্বার খুলিয়া রাখিবেন, না ‘খোদা’ বেহেস্তে স্থান দিবেন?

যে দেশ জন্মের মত ছাড়িয়া যাইতেছি, যার ধূলিকণাটুকু পর্যন্ত আমার কাছে পরম পবিত্র, আজ বড় কষ্টে তার সম্বন্ধে এসব কথা বলিতে হইল।

আমরা ভাল আছি। ভালবাসা ও প্রণাম লইবে।


          ---স্নেহের ছোট ঠাকুরপো।



আলিপুর সেন্ট্রাল জেল

৩০. ৬. ৩১. কলিকাতা


মা,

যদিও ভাবিতেছি কাল ভোরে তুমি আসিবে, তবু তোমার কাছে না লিখিয়া পারিলাম না।তুমি হয়তো ভাবিতেছ, ভগবানের কাছে এত প্রার্থনা করিলাম, তবুও তিনি শুনিলেন না! তিনি নিশ্চয় পাষাণ, কাহারও বুক-ভাঙা আর্তনাদ তাঁহার কানে পৌঁছায় না।

ভগবান কি, আমি জানি না, তাঁহার স্বরূপ কল্পনা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু তবু একথাটা বুঝি, তাঁহার সৃষ্টিতে কখনও অবিচার হইতে পারে না। তাঁহার বিচার চলিতেছে। তাঁহার বিচারের উপর অবিশ্বাস করিও না, সন্তুষ্ট চিত্তে সে বিচার মাথা পাতিয়া নিতে চেষ্টা কর। কি দিয়া যে তিনি কি করিতে চান, তাহা আমরা বুঝিব কি করিয়া?

মৃত্যুটাকে আমরা এত বড় করিয়া দেখি বলিয়াই সে আমাদিগকে ভয় দেখাইতে পারে। এ যেন ছোট ছেলের মিথ্যা জুজুবুড়ির ভয়। যে মরণকে একদিন সকলেরই বরণ করিয়া লইতে হইবে, সে আমাদের হিসাবে দুই দিন আগে আসিল বলিয়াই কি আমাদের এত বিক্ষোভ, এত চাঞ্চল্য?

যে খবর না দিয়া আসিত, সে খবর দিয়া আসিল বলিয়াই কি আমরা তাহাকে পরম শত্রু মনে করিব? ভুল, ভুল। মৃত্যু ‘মিত্র’ রূপেই আমার কাছে দেখা দিয়াছে। আমার ভালোবাসা ও প্রণাম জানিবে।


                 ----- তোমার  নসু 



আলিপুর সেন্ট্রাল জেল

৩০. ৬. ৩১. কলিকাতা


স্নেহের ভাইটি,

তুমি আমাকে চিঠি লিখিতে বলিয়াছ, কিন্তু লিখিবার সুযোগ করিয়া উঠিতে জীবন-সন্ধ্যা হইয়া আসিল।যাবার বেলায় তোমাকে কি বলিব? শুধু এইটুকু বলিয়া আজ তোমাকে আশীর্বাদ করিতেছি, তুমি নিঃস্বার্থপর হও, পরের দুঃখে তোমার হৃদয়ে করুণার মন্দাকিনী-ধারা প্রবাহিত হউক।

আমি আজ তোমাদের ছাড়িয়া যাইতেছি বলিয়া দুঃখ করিও না, ভাই। যুগ যুগ ধরিয়া এই যাওয়া-আসাই বিশ্বকে সজীব করিয়া রাখিয়াছে, তাহার বুকের প্রাণস্পন্দনকে থামিতে দেয় নাই। আর কিছু লিখিবার নাই। আমার অশেষ ভালবাসা ও আশিস জানিবে।


           -----তোমার দাদা



আলিপুর সেন্ট্রাল জেল, কলিকাতা 

৭-৭-৩১ (প্রত্যুষে) * ফাঁসির কয়েক ঘন্টা আগে লেখা 


বৌদি, 

এইমাত্র তোমার চিঠিখানা পাইলাম। আমার জীবন কাহিনী জানাইবার সুযোগ হইল না। কি-ইবা জানাইব বল তো? আমার সব কথাই তো তোমাদের বুকে চিরকাল আঁকা থাকিবে। তুচ্ছ কালির আঁচড় কি তাহাকে আরো উজ্জ্বল করিয়া তুলিতে পারিবে? আমার যত অপরাধ ক্ষমা করিবে। এ জন্মের মত বিদায়। ভালোবাসা ও প্রণাম জানিবে। 

    

      ----তোমার ঠাকুরপো।



স্নেহের বেল্টু ভাই,

একটি গান আজ বারবার মনের পর্দায় ভেসে উঠছে ----


আমার দিন ফুরালো ব্যাকুল বাদল সাঁঝে

গহন মেঘের নিবিড় ধারার মাঝে।।

কোন দূরের মানুষ যেন এলো আজ কাছে, 

তিমির-আড়ালে নীরবে দাঁড়ায়ে আছে ।

বুকে দোলে তার বিরহব্যথার মালা 

গোপন-মিলন-অমৃতগন্ধ-ঢালা। 

মনে হয় তার চরণের ধ্বনি জানি--- 

হার মানি তার অজানা জনের সাজে।। 


শীতের কুজ্ঝটিকার সঙ্গে সঙ্গে আমার দিনও ফুরিয়ে এলো। আমায় ভুলো না ভাই। শীতের পুনরাগমনের সঙ্গে আমিও আবার তোমাদের মধ্যে ফিরে আসব। উত্তুরে বাতাসের পরশ পেলে মনে কোরো, আমি এসেছি তোমাদের আলিঙ্গন করতে, তোমাদের ভালোবাসা কুড়িয়ে নিতে ।

                     ----দাদা।


** বউদির কাছে তিনি ‘স্নেহের ঠাকুরপো’। ছোটভাইয়ের কাছে ‘স্নেহশীল দাদা’। আর মায়ের কাছে আদরের ‘নসু'।


সূর্য সেন : জন্ম - ২২ মার্চ ১৮৯৪ 

ফাঁসি - ১২ জানুয়ারি ১৯৩৪ 


মাস্টারদা সূর্য সেন-এর  লেখা শেষ চিঠি, সহযোদ্ধাদের উদ্দেশে  


আমার শেষ বাণী-আদর্শ ও একতা। ফাঁসির রজ্জু আমার মাথার উপর ঝুলছে। মৃত্যু আমার দরজায় করাঘাত করছে। মন আমার অসীমের পানে ছুটে চলছে। এই ত’ সাধনার সময়। বন্ধুরূপে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার এই ত সময়। ফেলে আসা দিনগুলোকেও স্মরণ করার এই ত সময়।

কত মধুর তোমাদের সকলের স্মৃতি। তোমরা আমার ভাইবোনেরা, তোমাদের মধুর স্মৃতি বৈচিএ্যহীন আমার এই জীবনের একঘেঁয়েমিকে ভেঙ্গে দেয়। উৎসাহ দেয় আমাকে। এই সুন্দর পরম মুহুর্তে আমি তোমাদের জন্য দিয়ে গেলাম স্বাধীন ভারতের স্বপ্ন। আমার জীবনের এক শুভ মুহুর্তে এই স্বপ্ন আমাকে অনুপ্রাণিত করছিল। জীবনভর উৎসাহ ভরে ও অক্লান্তভাবে পাগলের মত সেই স্বপ্নের পিছনে আমি ছুটেছি। জানিনা কোথায় আজ আমাকে থেমে যেতে হচ্ছে। লক্ষে পৌছানোর আগে মৃত্যুর হিমশীতল হাত আমার মত তোমাদের স্পর্শ করলে তোমরাও তোমাদের অনুগামীদের হাতে এই ভার তুলে দেবে, আজ যেমন আমি তোমাদের হাতে তুলে দিয়ে যাচ্ছি। আমার বন্ধু্রা- এগিয়ে চল। এগিয়ে চল- কখনো পিছিয়ে যেও না। পরাধীনতার অন্ধকার দূরে সরে যাচ্ছে। ঐ দেখা যাচ্ছে স্বাধীনতার নবারুন। কখনো হতাশ হয়ো না। সাফল্য আমাদের হবেই। ভগবান তোমাদের আশির্বাদ করুন।

১৯৩০ সালের ১৮ই এপ্রিল চট্টগ্রাম ইস্টার বিদ্রোহের কথা কোন দিনই ভুলে যেও না। জালালাবাদ, জুলধা, চন্দননগর ও ধলঘাটের সংগ্রামের কথা সব সময় মনে রেখো। ভারতের স্বাধীনতার বেদীমূলে যে সব দেশপ্রেমিক জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের নাম রক্তাক্ষরে অন্তরের অন্তরতম প্রদেশে লিখে রেখো।

আমাদের সংগঠনে বিভেদ না আসে- এই আমার একান্ত আবেদন। যারা কারাগারের ভিতরে ও বাইরে রয়েছে, তাদের সকলকে জানাই আমার আশির্বাদ। বিদায় নিলাম তোমাদের কাছ থেকে।


বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক

বন্দে মাতরম্‌।



শ্রীচরণকমলেষু ---আমার বৌদি ---স্নেহময়ী বৌদি, 

আমার ভক্তি প্রণতি নিন। আপনার কাছে হয়তো আমার এই শেষ চিঠি। জানি না আর চিঠি লিখবার সময় হয় কিনা। অন্য কাগজখানাতে গোপাল রাখাল এবং বাদলের কাছে কয়েক লাইন করে লিখলাম, তাহাদিগকে দেবেন। দাদা মেজদি এবং অন্যান্য গুরুজনকে প্রণাম ও বৌমাদিগকে আমার স্নেহাশীষ জানাবেন। হাইকোর্টের হুকুম জানবার পর আপনাদের কাছে কয়েকখানা চিঠি লিখেছি, আশা করি পেয়েছেন। বৌদি আমি চললাম। আপনাদের অকৃত্রিম স্নেহের মধুর স্মৃতি নিয়েই আমি যাচ্ছি। আপনাদের অগাধ স্নেহ আমায় পৃথিবীতে বেঁধে রাখতে পারল না বলে দুঃখ করবেন না। স্নেহ মমতা ভালোবাসা যতই গভীর হোক, যতই অপরিসীম হোক, তা কখনো মানুষকে চিরদিন সংসারে বেঁধে রাখতে পারেনা। একদিন ভগবানের বিধানে সমস্ত বন্ধন কেটে সে অসীমের পানে ছুটে চলে যায়। ইহাই সৃষ্টিকর্তার বিধান। আমার কোন দুঃখ নেই । আমার মন আজ অসীমকে চায়,ভগবানের সান্নিধ্য চায়। দিন ভালই কাটছে।

চার-পাঁচ দিন আগে একদিন সন্ধ্যার সময় একদৃষ্টে একমনে আকাশের দিকে চেয়েছিলাম। নির্মল জোৎস্নায় সমস্ত নীল আকাশ ভরে গিয়েছিল। অসংখ্য নক্ষত্র সুন্দর ফুলের মতো সারা আকাশে ফুটে রয়েছিল। গাছগুলি নীরবে যেন প্রকৃতির এই বিমল সৌন্দর্যের মধ্যে ডুবে গেল। মনে পড়ে গেল তাঁর কথা, যিনি এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি করেছেন, যিনি আমাদের আনন্দের জন্য প্রকৃতির অনন্ত সৌন্দর্যের ভাণ্ডার খুলে রেখেছেন।তাঁর কথা ভাবতে ভাবতে মনে বেশ আনন্দ হল। অনেকক্ষণ এভাবে কেটে গেল। আজকাল প্রায়ই এভাবে অসীমের চিন্তাতেই মন ভরপুর হয়ে থাকে। ...দার্শনিক এবং কবিরা মরণ জিনিসটাকে কত সুন্দরভাবে চিত্রিত করেছেন। গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, মানুষ যেমন জীর্ণবস্ত্র পরিত্যাগ করে নূতন বস্ত্র গ্রহণ করে, সেরূপ আত্মা জীর্ণ শরীর ত্যাগ করে অন্য নূতন দেহ ধারণ করে। কবি বলছেন, মরণ রে, তুঁহু মম শ্যাম সমান। মানুষ এত সুন্দর লেখা পড়েও উপলব্ধি করতে পারে না বলেই কি মৃত্যুকে ভয়ের জিনিস বলে মনে করে?

বৌদি, যাই তবে,আমায় আশীর্বাদ করুন। আপনাদের কাছে কত অপরাধই করেছি---আমায় ক্ষমা করুন। ভগবানের বিধানকে তাঁর শুভ আশীর্বাদ বলেই গ্রহণ করবেন। 

ইতি---

আপনার স্নেহের শ্রীসূর্য কুমার সেন।।


************************************************************************************

স্বরবর্ণ * নয় ** যাঁরা লিখলেন

 





স্বরবর্ণ 

সৃজনের মৌলিক স্বর 


দ্বিতীয় বর্ষ * তৃতীয় সংখ্যা

৩০ শ্রাবণ ১৪২৯   ১৫ অগাস্ট ২০২২


কবিতা 


গৌরীশঙ্ককর দে * চন্দন রায় * স্বপন নাগ * সুদীপ দাস *  প্রদীপ ঘোষ  * কৌশিক সেন * অতনু ভট্টাচার্য * অমিত চক্রবর্তী * বিকাশ চন্দ * স্মৃতি শেখর মিত্র * মধুমিতা বসু সরকার * শুভশ্রী রায় * অর্ঘ্য নাথ * শ্রীদাম কুমার * খগেশ্বর দাস * সাধন চৌধুরী * নিমাই জানা  * লিটন শব্দ কর * চিরন্তন জানা * চন্দ্রাণী গোস্বামী * ঈশিতা পাল * তনুজা চক্রবর্তী * দেবদাস রজক * ছোটন গুপ্ত * গৌতম পাত্র * সোমনাথ বেনিয়া * মালা ঘোষ মিত্র * পলাশ দাস * শর্মিষ্ঠা ঘোষ * মল্লিকা রায় * খুকু ভূঞ্যা  * গৌতম রায় *  সন্দীপন গঙ্গোপাধ্যায় * নিতাই চন্দ্র মাঝি * গৌতম কুমার গুপ্ত * বিশ্বনাথ পাল * হামিদুল ইসলাম


গুচ্ছ কবিতা 

পঙ্কজ মান্না * উমা বন্দ্যোপাধ্যায় * দীপংকর রায় * স্বপ্নদীপ রায় 

শান্তনু চট্টোপাধ্যায়  * রুদ্রপলাশ মন্ডল * দেবাশিস সাহা


অণুগল্প  

শুভাশিস ঘোষ * দেবাশীষ মুখোপাধ্যায় * মানসী কবিরাজ * সোমা মুখোপাধ্যায়


গল্প *  শরদিন্দু সাহা * দেবাংশু সরকার * বিরথ চন্দ্র মন্ডল


অনুবাদ কবিতা *  সুধাংশু রঞ্জন সাহা 

প্রবন্ধ * স্বপন নাথ * নিমিত দত্ত


উপন্যাস * কথা দিয়েছিলাম হেমন্তের নিয়রে * দীপংকর রায় 

উপন্যাস *  ধুলোর সিংহাসন * দেবাশিস সাহা 

প্রিয় কবি প্রিয় কবিতা *  বিনয় মজুমদার

তোমায় খুঁজে ফিরি * অধ্যাত্ম প্রসঙ্গ * স্বামী চেতনানন্দ 

স্বরবর্ণের অন্তরঙ্গ কিছু বই *

প্রিয় কবি লেখক এবং পাঠকের প্রতি 

প্রচ্ছদ * দেবার্ঘ সেন 


সম্পাদকমণ্ডলী                                                   

 ড : শুভঙ্কর দে           অলোক কোৱা

সৌম্যজিৎ দত্ত             দেবাশিস সাহা 

বৃহস্পতিবার, ১৪ জুলাই, ২০২২

স্বরবর্ণ * নয় * * যাঁরা লিখছেন





স্বরবর্ণ 

সৃজনের মৌলিক স্বর 


দ্বিতীয় বর্ষ * তৃতীয় সংখ্যা

২৯ শ্রাবণ ১৪২৯   ১৫ অগাস্ট ২০২২


কবিতা 


গৌরীশঙ্ককর দে * চন্দন রায় * স্বপন নাগ * সুদীপ দাস *  প্রদীপ ঘোষ  * কৌশিক সেন * অতনু ভট্টাচার্য * অমিত চক্রবর্তী * বিকাশ চন্দ * স্মৃতি শেখর মিত্র * মধুমিতা বসু সরকার * শুভশ্রী রায় * অর্ঘ্য নাথ * শ্রীদাম কুমার * খগেশ্বর দাস * সাধন চৌধুরী * নিমাই জানা  * লিটন শব্দ কর * চিরন্তন জানা * চন্দ্রাণী গোস্বামী * ঈশিতা পাল * তনুজা চক্রবর্তী * দেবদাস রজক * ছোটন গুপ্ত * গৌতম পাত্র * সোমনাথ বেনিয়া * মালা ঘোষ মিত্র * পলাশ দাস * শর্মিষ্ঠা ঘোষ * মল্লিকা রায় * খুকু ভূঞ্যা  * গৌতম রায় *  সন্দীপন গঙ্গোপাধ্যায় * নিতাই চন্দ্র মাঝি * গৌতম কুমার গুপ্ত * বিশ্বনাথ পাল * হামিদুল ইসলাম


গুচ্ছ কবিতা 

পঙ্কজ মান্না * উমা বন্দ্যোপাধ্যায় * দীপংকর রায় * স্বপ্নদীপ রায় 

শান্তনু চট্টোপাধ্যায়  * রুদ্রপলাশ মন্ডল * দেবাশিস সাহা


অণুগল্প  

শুভাশিস ঘোষ * দেবাশীষ মুখোপাধ্যায় * মানসী কবিরাজ * সোমা মুখোপাধ্যায়


গল্প *  শরদিন্দু সাহা * দেবাংশু সরকার * বিরথ চন্দ্র মন্ডল


অনুবাদ কবিতা *  সুধাংশু রঞ্জন সাহা 

প্রবন্ধ * স্বপন নাথ * নিমিত দত্ত


উপন্যাস * কথা দিয়েছিলাম হেমন্তের নিয়রে * দীপংকর রায় 

উপন্যাস *  ধুলোর সিংহাসন * দেবাশিস সাহা 

প্রিয় কবি প্রিয় কবিতা *  বিনয় মজুমদার

তোমায় খুঁজে ফিরি * অধ্যাত্ম প্রসঙ্গ * স্বামী চেতনানন্দ 

স্বরবর্ণের অন্তরঙ্গ কিছু বই *

প্রিয় কবি লেখক এবং পাঠকের প্রতি 

প্রচ্ছদ * দেবার্ঘ সেন 


সম্পাদকমণ্ডলী                                                   

 ড : শুভঙ্কর দে           অলোক কোৱা

সৌম্যজিৎ দত্ত             দেবাশিস সাহা 

সোমবার, ১১ জুলাই, ২০২২

একটি ঘোষণা


" স্বরবর্ণ * ৯ " আগস্ট সংখ্যার জন্য লেখা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ  ১৫  জুলাই ২০২২

১৬ জুলাই সম্ভাব্য লেখকসূচি প্রকাশ করা হবে।।





সোমবার, ৪ জুলাই, ২০২২

লেখা আহ্বান



***************************

স্বরবর্ণ * ৯  * ২০২২  

দ্বিতীয় বর্ষ * তৃতীয় সংখ্যা 

******************************

প্রকাশিত হবে আগামী  ১৫ আগস্ট ২০২ 


* এই সংখ্যার জন্য আপনার মৌলিক ও অপ্রকাশিত লেখা ( গল্প কবিতা প্রবন্ধ  অণুগল্প  অনুবাদ কবিতা  ভ্রমণ কাহিনি  ইত্যাদি  ) ১৫ জুলাই  ২০২- এর মধ্যে পাঠিয়ে দিন । 

* শব্দসীমা অনির্দিষ্ট। 

কবিতার ক্ষেত্রে কমপক্ষে দুটি কবিতা পাঠাবেন  

* লেখার সঙ্গে আপনার একটি ছবি এবং সংক্ষিপ্ত পরিচিতি, প্রকাশিত গ্রন্থ (থাকলে)  ছবিসহ পাঠান । 

* "স্বরবর্ণ " সামগ্রিক চিন্তার ফসল। প্রতি দুমাস অন্তর মাসের ১৫ তারিখ বেরো আগে থেকে লেখা পাঠানপরিকল্পনার সুবিধার জন্যলেখা পাঠাবেন ওয়ার্ড ফাইলে, হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা ই-মেইল বডিতে টাইপ করে 


* হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর   8777891532

*ই-মেইল --- debasishsaha610@gmail.com 


সম্পাদকমণ্ডলী                                                   

 ড : শুভঙ্কর দে           অলোক কোৱা

সৌম্যজিৎ দত্ত             দেবাশিস সাহা   

রবিবার, ২৬ জুন, ২০২২

পাঠকের মতামত * স্বরবর্ণ * ৮


স্বরবর্ণ * আট সংখ্যাটি কেমন হল ? কী বলছেন সুধী পাঠকমন্ডলী ? এ বিষয়ে ব্লগে অনেকেই মতামত দিয়েছেন। আবার ব্লগে স্বচ্ছন্দ না হওয়ায়, অনেকে সম্পাদকের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে মতামত জানিয়েছেন। ফোনেও অনেকে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তাছাড়া, এ সংখ্যার কবি-লেখকেরা অনেকেই তাঁদের নিজস্ব ওয়ালে সংশ্লিষ্ট লেখাটি শেয়ার করেছেন। সেখানেও অনেকে মতামত দিয়েছেন। সুচিন্তিত মতামত দেওয়ার জন্য সকল পাঠককে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত শিরোধার্য করে আমরা ক্রমান্বয়ে সেগুলি প্রকাশ করব । আজ পাঠ প্রতিক্রিয়ার দ্বিতীয় পর্ব  -----

সুধাংশুরঞ্জন সাহা এ সংখ্যার সম্পাদকীয় পড়ে লিখছেন  একটি চমৎকার সম্পাদকীয়। কবিতা যেহেতু একটি শিল্প। শিল্পের সংজ্ঞা অনবরত বদলায়। কোনো সংজ্ঞাই সম্পূর্ণ নয়। কবিতার নির্মাণ কৌশল নতুন কাব্যভাষার জন্ম দেয়। কবিতা হয়ে ওঠে অনন্য এক শিল্প।

স্বপন নাগ ' প্রিয় কবি প্রিয় কবিতা * অরিত্র চ্যাটার্জী' সম্পর্কে লিখছেন  গানের শেষটা মনে পড়ছে না... এ কবিতার রেশও মুছে যাচ্ছে না, থেকেই যাচ্ছে। সুন্দর।

বৈশালী গাঙ্গুলী উদয় ভানু চক্রবর্তীর কবিতা পড়ে লিখেছেন   খুব সুন্দর গ্রীষ্মের খরতাপে অতিষ্ট জীবন, ধ্রুবতারা লেখা পড়লাম

সব্যসাচী মজুমদারের গ্রন্থ আলোচনা প্রসঙ্গে দেশিক হাজরা লিখছেন  প্রতিটি পাঠ-প্রতিক্রিয়া ভীষণ গবেষণামূলক বেশ ভালো লাগলো । এই ভাবেই এগিয়ে চলুক বাংলা কবিতা

ঋতুপর্ণা খাটুয়ার কবিতা সম্পর্কে শাশ্বতী সরকার লিখছেন   ঋতুপর্ণার কবিতা ওঁর মতনই, সহজ, স্বাভাবিক, সুন্দর

পঙ্কজ মান্নার কবিতা সম্পর্কে ডাঃ স্বপ্নদীপ রায় লিখেছেন  প্রথম কবিতাটি অনেকবার পড়েছি।পূর্বেই। আমার মনের খুব কাছের।দ্বিতীয়টিতে এক নিস্তব্ধ সমর্পণ আছে। অনুভূতিময় কবিমানসে এ যেন ভাবের নিরন্তর দ‍্যোতনা!কবিকে জানাই সশ্রদ্ধ প্রণাম!

রাজীব দে রায় এর কবিতা পড়ে বিদিশা সরকার লিখছেন   অসাধারণ দুটি কবিতা। সমৃদ্ধ হলাম।

প্রদীপ ঘোষের কবিতা সম্পর্কে জবা ভট্টাচার্য  লিখছেন  দুটো কবিতাই অসামান্য। তিন বাঁও  মন টানলো।

গৌরীশঙ্কর দে-এর হাইকু পড়ে নাম জানাননি এমন একজন লিখছেন   কবি গৌরীশঙ্ককর দে-র কবিতার আমি মুগ্ধ পাঠক। তার ন'টি হাইকু মনের মধ্যে ন'টি দিগন্ত উন্মোচিত করলো যেন...।

পরান মণ্ডলের কবিতা সংক্রান্ত গদ্য সম্পর্কে শ্রীদাম কুমার লিখছেন  বেশ সমৃদ্ধ আলোচনা। শুভেচ্ছা নেবেন । 

চন্দ্রাণী গোস্বামীর কবিতা সম্পর্কে শরদিন্দু সাহা লিখেছেন  কল্পনাশক্তি বেশ ভালো, চিত্রকল্পগুলো ছুঁয়ে গেল। 

মৃন্ময় মাজীর কবিতার পড়ে বিদ্যুৎ পরামানিক লিখছেন  আগেও পড়েছি, আবারও পড়লাম । খুবই ভালো লাগা একটি উত্তর আধুনিক কবিতা । 

বিকাশ চন্দ-এর কবিতা সম্পর্কে মিন্টু চন্দ লিখছেন  খুব সুন্দর দুটো কবিতাই। 

শতদল মিত্রের গল্প পড়ে তন্ময় রায় লিখেছেন  আপনার গল্প " দুয়োভূমি"-র ভাষা এবং শঙ্কর চরিত্রটি অসাধারণ লেগেছে। 

দেবাংশু সরকার এর গল্প পড়ে শুভাশিস ঘোষ জানাচ্ছেন  বেশ ভালো লাগল। 

( আগামীদিন )