সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬

প্রবীর কোনার






প্রবীর কোনার * দু’টি কবিতা 


১. 

---আগুন যখন বাড়তি কোনও রঙ লাগায়---


জানতাম সব আগুন

এইভাবেই নিভে যাবে একদিন

দোষ শ্রাবণের নয়

দোষ আমার

আমাদের

যারা বাড়ি ফেরার পর

কেউ কারওরই খবর না নিয়ে

যে যার ইচ্ছে মতো গায়ে রঙ লাগাই

পরের বার ডাকলে

অর্ধেক হয়ে যাই।













২.

পথ


যে পথ ঋতুর মতো

সে দ্রুত পরিবহনে নেমে বাদামি পাতায় আঁক কাটে

অনটন এলে চুপ করে বসে থাকে প্রত্যন্তে

শীত করলে কুয়াশার নিচে শোয়

হাওয়ার আগ্রহ দেখে বন্ধু হয়

এর আগে পৃথিবী এতটা দৈন্য হয়নি দেখে

রক্তমাংসের খটখটে কবিতা উঠে এলে

যখন সে পাঠক হয় যখন একটু রোদ পোহায়

মন কেমন করলে চড়ুইভাতি গেলে প্রেমিকার দেখা পায়

কিছু প্রেম ফুল হয়ে ফোটে 

কিছু প্রেম পাখি হয়ে গান গায়

যে চলে গেলে চাদর ফেলে গেলে

সাম্প্রতিক উষ্ণতা খোঁজে চাদরের ভিতরে

বাজারে যাবে না আজ আর

ভিড়ে নাকি মনখারাপ করা যায় না ভাল, বলেছে সে। 




















########################################




প্রবীর কোনার


জন্ম পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়না থানার রামবাটী গ্রামে । পেশায় শিক্ষক । সাহিত্য তার কাছে অবসরের শুশ্রূষা ,তার নিকটতম উপশম  

সৌম্য ঘোষ







সৌম্য ঘোষ * দুটি কবিতা 


জলজ লিরিক 


মানুষের কত গল্প থাকে,
পূর্ব পুরুষের বীরত্বের গাথা, সমুদ্র জয়ের কথা 
কারো বা বন্ধুর গল্প!
আমার কোনো বন্ধু নেই,
নেই বড় কোনো মুসাফির সখা
না কোনো সচিবালয়।
তাই আড্ডায় আমার কোনো গল্প থাকে না।
চিরকালের  বাউলমন,
আগে ছিলাম --- এখনও তাই
নিশিথে নি:সীম রাত্রীকে বেসেছি ভালো 
নদীকে যেমন;
শ্রাবণের ধারার মতো টিনের চালে ঝরে পড়ে 
কবিতার বৃষ্টি 
আঁকি জলজ লিরিক 
এখানে এখনও মাতাল নদী পুড়ে যায় 
শ্রাবণের হাওয়ায় হাওয়ায়।।




কবিতার বীজ
            


না ঘুমানো নদীরা জানে জলের গভীরতা,
কিংবা প্রাক্ সন্ধ্যার কিছু গৈরিক ঝরাপাতার 
অভিমানী গমন, 
কয়েকটি অচেনা পালক দিগন্তে ওড়ায় মশাল
দিগন্তের অন্বেষণে,
স্বপ্নগুলো সনাতন বাউলিয়ায় বীজতলা খোঁজে, 
আর প্রতিনিয়ত কুরুক্ষেত্রের রক্তাক্ত ধুলায়
সাক্ষী হয় আমাদের উঠান;
মেধাবী দেয়ালগুলো ভরে গেছে ভুল বানানের 
পোষ্টারে;   বিমূর্ত সন্ধ্যার আঁধারে সেইসব ভুল
শোধরাতে শোধরাতে,
নাগরিক উৎসবে বুনে দেই --
কবিতার বীজ।।






##################################





সৌম্য ঘোষ

পেশা অধ্যাপনা। হুগলী জেলার সদর চুঁচুড়া শহরে বসবাস। ৮০ দশক থেকে সাহিত্য চর্চা শুরু হলেও মাঝে বহুদিন লেখালিখি বন্ধ ছিল পারিবারিক সমস্যায়। প্রবন্ধ ও কবিতার মধ্যে নিজেকে খুঁজে পান।প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ দুটি -- "আগুনের গান" (২০২১), "শুন্যতার ডানায় ওড়ে বেদনা"(২০২২)। 


হামিদুল ইসলাম

 



হামিদুল ইসলাম * দুটি কবিতা 


কবিতার রাত 


ইচ্ছেগুলো সাজিয়ে রাখি 
খরস্রতা আত্রাই 
জল নেই তবু পাড় ভাঙে 
ভাঙনের শব্দে ভাসে ফসলের ক্ষেত 
বরাবর গন্ধ পাই।

জানালা খোলা 
আয় বান্ধবী শৈশব তুলে আনি 
চাঁদের আলপনায় 
বুকের ভেতর থাক বিষাদের নদী।

মান্দাসে ভাসে বেনামি বন্দর 
ঠিকানা নেই 
মৃত্যু কাঁধে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে যৌবন
নিঃসঙ্গ মরুভূমি
আমরা পোড়া পোড়া পরশ পাথর।

স্মৃতিতে সাজাই দুঃখ 
আমরা এখন নিঃসঙ্গ কবিতার রাত।







 















লাশের কবিতা 

বেলা নিভে আসে 
নাটমন্দিরে শাঁখ বাজে 
চাঁদের জোসনা পান করে রোজনামচা জীবন।

যারা এসেছিলো 
তারা ফিরে গেছে গহন অতীত 
যারা অপেক্ষমান 
তারা দেখতে দেখতে লাশ হয়ে যায়।

এসো পেরিয়ে যাই তৃষ্ণা বিদুর নদী 
জলে ভাসে খড়কুটো 
ঝরাপাতার কান্না শুনি কবিতায়।

কবিতা আজ ভেজা আকাশ 
ভেজা আকাশ আজ লাশের কবিতা।





















###################################################

নৌসাদ আলি





শেষান্ত 


নৌসাদ আলি 



কবির চিত্রকল্পে ফুল পাখি গাছে ধরেনা 

রক্ত উঠে রক্ত ডোবে 

বিদ্রূপের হাসি ছুঁড়ে দেয় অন্ত্য গোধূলি 

আলো কেড়ে নিলে আকাশ 

দোষ কী? 


শকুনের ঠোঁটে লুকোতে চায় অবুঝ লাশের অন্তিম 

সংস্কার ।


পিষ্ট কন্ঠ বিপ্লবী কবিতার 

মিছিল হয়ে ফুটতে চায়।



########################################################



তুষার ভট্টাচার্য

 




তুষার ভট্টাচার্য * দুটি কবিতা

হিরণ্ময় স্বপ্নগুলি 


আসলে এই জীবনে হারাবার কিছু নেই 

অলৌকিক জোছনা রাতে ভাঙা জানালায় 

সুচাঁদ এসে দু'চোখে অগণন স্বপ্ন বুনে দিয়ে যায় ;

বিষণ্ণ মেঘ শ্রাবণ রাত্তির শেষে দুয়ারে উড়ে আসে জোড়া শালিক 

পুবালি ভোর রোদ্দুরে ধুয়ে যায় সব ব্যর্থতা অশ্রু অভিমান ;

এই জীবন থেকে উড়াল পাখির মতো 

যা কিছু চলে গেছে যাক 

হিরণ্ময় স্বপ্নগুলি শুধু বেঁচে থাক হৃদয়ের তাঁতঘরে অমলিন l



মেঘ বাউলের একতারায় 


আকাশে জমেছে শ্রাবণ বাদল মেঘ 

বাতাসে উড়ে আসে বৃষ্টির কান্না গান ;

উঠোনের ঘাসে ফুটে ওঠে কার পদচিহ্ন 

বৃষ্টিজলে ঝরে পড়ে অশ্রু অভিমান;

মেঘ বাউলের একতারায় লিখেছি 

 দিবস রজনী ব্যর্থ ভালবাসা বিরহের যন্ত্রণা 

আনমনা বালিকা জানেনা - তার জন্য

খুলে রেখেছি হৃদয় সমুদ্রের জানালা l




##################################################


বনশ্রী রায় দাস






বনশ্রী রায় দাস * দুটি কবিতা 

ভালো-বাসা ও নীলকান্তমণি

     

পশমে পশমে অগ্নি বলয় নীলকান্তমণি 

লাউলতা , কুমড়ো ফুলের সঙ্গমে 

রেণু ছুঁয়ে কোন অরণ্যে চলে গেল পতঙ্গসেনা 


বাকি পড়েছিল একটুকু আশা 

ক্ষতি কি বলো যদি বাসি অনেকটা ভালোবাসা

যদি বাঁধি একখানি ভাল-বাসা

যেখানে পড়বে সুজন পায়ের ছাপ 


তবু তার খাদের কিনারে যুদ্ধের প্রস্তুতি 

টান মেরে খুলে নেয় বোধের বসন

আশ্রয় খোঁজে কারা মন্দিরে, মাজারে

লালন বলেন জাতের দোষ নেই সংসারে 


অপেক্ষারত যেমন কবরের ঝুরো মাটি 

কোথাও রয়েছে পড়ে সাড়েতিনহাত খাড়ি












 

সকালের রোদ


এই শীতের চিঠি লিখতে তোমাকে 

জোনাক দিয়েছে আলো

তুষার-ঘন স্বপ্নমায়া মেঘের চাদরে

পাহাড়ের বুক ভরা পাইনের বনে


ঝিঁঝির বিলাপ একটি প্রগাঢ় চুম্বন 

লজ্জার ভেতরে ভাঙে রাতের আলস্য 


পাহাড়ের রোডোডেনড্রন 

হাতে যাদুকাঠি

আহত সেনার ছাউনি

তর্জনী বেয়ে নেমে যায় রুপোলি নদীটি


নক্ষত্রের আলো শুশ্রুষার হলুদ বাগানে

বনমালি প্রথম ছোঁয় প্রিয়ার চিবুকখানি 


সকালের রোদ প্রেমিকের মতো মাপে উষ্ণতা












**************************************************************************************************

           



 বনশ্রী রায় দাস 

জন্মস্থান: অখণ্ড মেদিনীপুর জেলার তামলদা গ্রামে। শিক্ষা : ইতিহাসে স্নাতক বিদ্যাসাগর ইউনিভার্সিটি।প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ছয়টি। নৈঃশব্দ্যের বতিঘর । অনন্তের স্পর্শধ্বনি । মগ্ন জলের অন্তরা । বেদুইন মেঘের ইশারা। শূন্য প্রহরের স্বরগ্রামে। আদিম স্রোতের সংলাপ। প্রবন্ধ গ্রন্থ প্রকাশের পথে। পুরষ্কার ও সম্মাননা : অনন্তের স্পর্শধ্বনি কাব্যগ্রন্থের জন্য " নবপ্রভাত " রজতজয়ন্তী সম্মাননা ও পুরস্কার ২০১৭ " মগ্ন জলের অন্তরা " লাভ করেছে " ডলি মিদ্যা স্মৃতি পুরস্কার "২০১৯ । দুই বাংলার অক্ষরকর্মী পদক । "যদি জানতে" সম্মাননা গ্রহণ ২০২১ সালে । "পাইওনিয়ার শ্রুতি সন্ধ্যা'র" পক্ষ থেকে জেলার শ্রেষ্ঠ কবি সম্মাননা ও পুরস্কার লাভ ২০২২ ।"শব্দরেণু " সম্মাননা --- ২০২৩ ইত্যাদি

মানসী কবিরাজ






ধর্ষিতার মা

মানসী কবিরাজ


মোমবাতির আলো সামনে বসে আছেন মা

শুকিয়ে নিচ্ছেন চোখ

পুড়িয়ে নিচ্ছেন বুক …

রুটিনের সংসার সংসার  খেলা সেরেই মা বসে পড়ছেন

মোমবাতির সামনে

রান্নায় স্বাদ হয় না আগের মতো

বিছানার চাদর আকাচা  ।  তুলসিতলা নিষ্প্রদীপ

সন্ধ্যামালতীর গোঁড়ায় জল পড়ে না কতদিন  …

 এবং এসব নিয়ে বাড়ির পুরুষমানুষেরা যেমন বিরক্ত হতেন

পুঁজ লালার গন্ধটা একটু ফিকে হতেই , নিয়মাফিক সেইসব

বিরক্তি সকল

আবারও শুরু হয়ে গেল

শুধু মা আগে যেমন ভীত হরিণীর মতো ছুটোছুটি করে সেসব

ঢাকা চাপা দিতেন

এখন আর দেন না …

মোমবাতির সামনে এসে বসেন । একটা মোমবাতি থেকে 

আরেকটা 

আরেকটা থেকে আরেকটা       আরেকটা থেকে 

আরও               আরও  …

শিখার আগুনে জ্বলজ্বল করে শোক

জ্বলতে থাকে । জ্বলতেই থাকে

পৃথিবীর সমস্ত ধর্ষিতার  মায়েদের

অনির্বাণ শোক …


*******************************************************************


                  মানসী কবিরাজ 

জন্ম বহরমপুরে। পড়াশোনা মালদা এবং কোলকাতা মিলিয়ে মিশিয়ে। পেশায় সরকারি আধিকারিক। চাকরি সূত্রে  শিলিগুড়ি এবং  এখানেই স্থায়ী বসবাস।পছন্দ বই সিনেমা বাগান আড্ডা এবং ভ্রমণ। লেখালিখি বানিজ‍্যিক পত্রপত্রিকায়  এবং  লিটল ম‍্যাগাজিনে। প্রকাশিত কবিতার বই

পতঝড় 

অনন্ত সাঁতারের ক্লাস।

দয়ানিধি ও আয়নায় লেখা পর্যটন

এবং

প্রেমের কবিতা

গৌতম রায়

 





গৌতম রায় * কবিতাগুচ্ছ 

স্যালমন জীবন



ভুলে যাই না জন্মভিটা
মনে রাখি জন্মজলের রাসায়নিক স্বাক্ষর।
সমুদ্র থেকে ফিরি নদীতে– 
উজানে সাঁতার, উল্ফা ছৌ
ঝরে রক্ত 
অপর্ণা সংযম,
মৃত্যুভয় পায়ের শিকার জুতো।  
যাই এগিয়ে –
আমাদের ষষ্ঠী বটতলা অসংখ্য যার বায়বীয় মূল 
মিঠা জলের আঁতুড়ঘর।

ছাড়ি ডিম
ছাড়ি দেহাবশেষ 
ছাড়ি বাস্তুতন্ত্রের জন্য সর্বস্ব একদিন।



আলোলিকার দিকে অভিমুখ


আলোলিকার দিকে অভিমুখ 
ফুলেল সিঁড়ি বেয়ে বহুতলে উঠে গেলে
চাঁদের দেশে উঠে যাই।
তুমি এগিয়ে দিলে চাঁদেলা মাখা গোলাপ উদ্যান।
আমি এই ফেরোমনে টেস্টোস্টেরন ইস্ট্রোজেন ডোপামিন নদীতে অবগাহন করে 
অক্সিটোসিন ভাসেপ্রেসিন নৌকোয় ঘুরে বেড়াই বিশ্বময়।
তুমি তো আমার সকালের কাঞ্চন ব্লিডিং হার্ট–
চলো নন্দনকাননে খাই জ্ঞানবৃক্ষের আপেল।



এ অন্য কোহিনূর


এগিয়ে দিলাম কপাল 
তুমি যথারীতি আরোতি টীক্কা দিলে,
এগিয়ে দিলাম করজোড়,
সৌজন্য ছাড়িয়ে
লেহেঙ্গার জাদুঘুমর।
তোমার আত্মদহনের বিনিময়ে আকাশে পুড়তে থাকে উল্কা জীবন।

মনোরঞ্জনরাতের আরোরা ছাড়িয়ে মুক্তি চাই 
ফেরি মাসিক বেতনের অধিক
এ অন্য কোহিনূর।
খোদাওয়ান পাখির মতো তুমি 
জানো ডানা মেলে ওড়া,
জানো ওষ্ঠ অধরের সাদা পাতা হাসি।


বারুদ অবনত হলে 


বারুদ অবনত হলে ডাললেকের রাস্তায় ওড়ে সহস্র পায়রা।



মাতৃভাষা 


মাতৃভাষা মানে একদিকে জর্ডান 
অন্যদিকে ইজরাইল 
মাঝে জর্ডান নদী, 
মানবতার সেতুবন্ধন 
দুদেশের মানুষকে এক করে 
পবিত্র স্রোতস্বিনী।

অবগাহন করি
বোধের ঘরে দিই সান,
অধিকার অর্জনে বাংলাভাষী সুবর্ণরেখার উভয় তীর এখনও গায়–
'শুন বিহারী ভাই তোরা রাখতে লারবি ডাং দেখাই,
তোরা আপন তরে ভেদ বাড়ালি
বাংলাভাষায় দিলি ছাই।------'
-------------------



                             গৌতম রায়