সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬

গৌতম রায়

 





গৌতম রায় * কবিতাগুচ্ছ 

স্যালমন জীবন



ভুলে যাই না জন্মভিটা
মনে রাখি জন্মজলের রাসায়নিক স্বাক্ষর।
সমুদ্র থেকে ফিরি নদীতে– 
উজানে সাঁতার, উল্ফা ছৌ
ঝরে রক্ত 
অপর্ণা সংযম,
মৃত্যুভয় পায়ের শিকার জুতো।  
যাই এগিয়ে –
আমাদের ষষ্ঠী বটতলা অসংখ্য যার বায়বীয় মূল 
মিঠা জলের আঁতুড়ঘর।

ছাড়ি ডিম
ছাড়ি দেহাবশেষ 
ছাড়ি বাস্তুতন্ত্রের জন্য সর্বস্ব একদিন।



আলোলিকার দিকে অভিমুখ


আলোলিকার দিকে অভিমুখ 
ফুলেল সিঁড়ি বেয়ে বহুতলে উঠে গেলে
চাঁদের দেশে উঠে যাই।
তুমি এগিয়ে দিলে চাঁদেলা মাখা গোলাপ উদ্যান।
আমি এই ফেরোমনে টেস্টোস্টেরন ইস্ট্রোজেন ডোপামিন নদীতে অবগাহন করে 
অক্সিটোসিন ভাসেপ্রেসিন নৌকোয় ঘুরে বেড়াই বিশ্বময়।
তুমি তো আমার সকালের কাঞ্চন ব্লিডিং হার্ট–
চলো নন্দনকাননে খাই জ্ঞানবৃক্ষের আপেল।



এ অন্য কোহিনূর


এগিয়ে দিলাম কপাল 
তুমি যথারীতি আরোতি টীক্কা দিলে,
এগিয়ে দিলাম করজোড়,
সৌজন্য ছাড়িয়ে
লেহেঙ্গার জাদুঘুমর।
তোমার আত্মদহনের বিনিময়ে আকাশে পুড়তে থাকে উল্কা জীবন।

মনোরঞ্জনরাতের আরোরা ছাড়িয়ে মুক্তি চাই 
ফেরি মাসিক বেতনের অধিক
এ অন্য কোহিনূর।
খোদাওয়ান পাখির মতো তুমি 
জানো ডানা মেলে ওড়া,
জানো ওষ্ঠ অধরের সাদা পাতা হাসি।


বারুদ অবনত হলে 


বারুদ অবনত হলে ডাললেকের রাস্তায় ওড়ে সহস্র পায়রা।



মাতৃভাষা 


মাতৃভাষা মানে একদিকে জর্ডান 
অন্যদিকে ইজরাইল 
মাঝে জর্ডান নদী, 
মানবতার সেতুবন্ধন 
দুদেশের মানুষকে এক করে 
পবিত্র স্রোতস্বিনী।

অবগাহন করি
বোধের ঘরে দিই সান,
অধিকার অর্জনে বাংলাভাষী সুবর্ণরেখার উভয় তীর এখনও গায়–
'শুন বিহারী ভাই তোরা রাখতে লারবি ডাং দেখাই,
তোরা আপন তরে ভেদ বাড়ালি
বাংলাভাষায় দিলি ছাই।------'
-------------------



                             গৌতম রায়

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন