কবিতাগুচ্ছ * তাপস কুমার দে
ভেজা চুমু বিষয়ক দূরের আকাশ
বোঝে না, প্রতিবাদ হৃদয়ে বিদ্ধ সেলাই যন্ত্র কেন্দ্রিক প্রেম পরিণামের রোষানলে অস্ত যাওয়া মায়ার বৃষ্টি মাতানো ফুলের কুয়াশা শুয়ে থাকা জল আয়নার মতন অনাবিল প্রতিচ্ছবি সংযত রূপক কর্ম পর্ব গুলোর নেতৃত্ব দিচ্ছেন এমন কিছুর উজ্জ্বল ঐশ্বর্য। ভুলগুলো দোল খাওয়া নাগরিক লেনদেন সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে চায় তখন। যাবতীয় অবকাঠামো ভুলে যায় যান্ত্রিক আকাশ স্পন্দিত, মুদ্রিত পরিনামের সংস্করণ। অথচ ভালোবাসায় ঝুলে থাকা মানুষ মানুষকে বিবর্তিত প্রজাতি হিসেবে গড়ে তোলে রংহীন আকাশ জারি করে। দিকে দিকে ছড়িয়ে গেছে গল্প হাওয়ার মুখ হীন অপরাধের পুনরাবৃত্তি। ভারি করে তোলে বিরহ বৃষ্টির বর্ধিত নির্ভর নদী আত্মকেন্দ্রীক অনেকটা বর্ষার ধারা। মনে হয় আরোপিত মেঘের মতন শুতো কাটা ঘুড়ি আদ্রবাতাসের উৎসবে মেতে থাকে। বৃষ্টি বাহিকা প্রেমে শ্বাস ঝরা খুন ফুটে ওঠা রোদ ছায়া গুপ্ত অসুখের সুপ্ত সুখ। অন্ধকার থেকে যায় জল গোপন গ্রীস্মের গান মোহনায়। শুভ্র সুত্র ভাঙা চোখে তার নববধূর শঙ্খসুর যেমন পাতায় পাতায় ঝরে যায় আর দ্রোহের মুদ্রায় জড়ো হওয়া ভেজা চুমু বিষয়ক দূরের আকাশ থেকে যায় গ্রীস্মহীন!
ঝাপসা নিঝুম রাত্রি
বিদায়ের ঘ্রাণ কি একটি নদীর মত স্মৃতি বিজড়িত ঢেউ ভাঙতে ভাঙতে বেড়ে ওঠা হইচই! কাউকে চিনলে সহজে জমে যায় কৃষ্টাল চাপা ঘরের মাঝরাত্রি কান্না। তখন মানুষজনের পরসা কাঁচা দামের তরকারির মত ধুয়ে ধুয়ে রুক্ষতা প্রসন্ন ভাব বহতা শরীর। পোষমানা শান্ত স্বভাবের উত্তরীয়। নতুন কোনো সঙ্গ ঘ্যাঁঘ্যাঁ সুরে বলবে অনেক দিন পরে অনামিকার আলো দেখলাম আবার আসবেন। শোরগোল পড়ে যায় গোধূলি নাকি এক শতাব্দী পর পরস্ত্রী , হাল দরজায় ছেড়ে দেয় খোলা চিঠি। প্রহর প্রান্তের প্রেম-লাবণ্য কমে রুক্ষ-ব্যঞ্জনায় আসক্তি নাকি ক্রমশ সংসারে প্রভাব বিস্তার করছে এমন কিছু। উজ্জ্বল বৃষ্টিপাত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। রহস্য সামনে আসার পর হতবাক প্রান্ত হঠাৎই চুলকাই নিরুদ্দেশের মাথা। বোধহয় চিন্তাগুলি সফেদ সমুদ্র অভিযানে উৎসব উন্মোচন চোখের রঙফুল জন্মানো আদি পুরুষ। ভেতরে উল্কার ছায়া, অস্থির কসাইখানার মাংসআলো যার পরতে পরতে আলাদা গল্প দিনের উজ্জ্বল ঐশ্বর্য সঞ্চয় করেও অন্ধকার পঁচা নারী ভাসছে ঝরা পাতার মত। দার্শনিক অশ্রুর দু এক ফোঁটা জল ঝাপসা করে তুলছে তৃষ্ণার্ত নিঝুম রাত্রি। তখন নক্ষত্র প্রেমে মহাজাগতিক স্রোত হৃদপরাজয়ের ধ্রুব আগুনে ছোঁয় জীবনের সব ভুল। জলের যৌবন পার হওয়া সমুদ্র পথিকের বেশে মানুষের রূপ। হ্যাঁ, বিলাসী চাওয়া ছিল সুগন্ধি ভেসে আসা সেই রূপের। শানবাঁধানো জলের নামতায় গাঢ় হয়েছে জ্বলন্ত বাতাসের উনুন-হৃদয়। তাকে কি নরম কপাটে আটকে রেখে হৃদয়স্থ করা যায়! শেখানো যায় প্রেমলাবণ্যের রূপকথা।
ব্যথাতুর বাতাস
সাতসকাল
ফলাফল শূন্য যোগবিয়োগের প্রান্ত
অচেনা কতো পথ শিশিরে জমিয়ে রাখা
অস্তাচল দৃষ্টি কোঠায় বয়স বাড়ছে
নগ্ন জানালার ওপাশে সমুজ্জ্বল স্মৃতি
রোদ মগ্ন একমুঠো সুখ ছড়িয়ে দিলে বসন্ত নামে
হেলাফেলা দৃশ্যে ভেসে থাকতো চাঁদ
জোছনা ছায়ায় ফোঁড় খাওয়া অন্ধকার ক্লান্ত শিকারি
পাখি উড়িয়ে তেষ্টায় পরিষ্কার আকাশ গেলে
হাঁটছি আমি না-কি পথ
বুঝতে বুঝতে ছুঁয়ে ফেলি চার যুগ
হঠাতই কান্নার মত ঝরে পড়লো পাতা সকল
পরতে পরতে অভিমান, জলভরা অবিশ্বাসে পেঁয়াজের খোলস খোলা সূর্য
নির্দয়তায় জ্বলে ওঠে জল দু’চোখে
শব্দহীন চিৎকারে ডেকে গেলো কি কিছু ব্যথাতুর বাতাস।
শীতের বাহুডোর
কুসুম আলো
সময়ের সব অভিমান নিয়ে দুঃখের গলা জড়িয়ে ধরে রাখে
অভিশাপের মত মিথ
ভেতর খোলা নৈঃশব্দের নাম ধরে চুপিচুপি ডাকে
খুব একটা গল্প রয়েছে এমনটা ভাবা অস্বাভাবিক।
একটা কবিতা পড়লাম
কিছু ছায়া রেখে যেতে পারে সভ্যতার সৌন্দর্যের ওপর
মন মাচায় দুপুর টার দিকে এগিয়ে গেছে বোধের সবুজ
সুখ-শান্তি কান্না কুসুমের জলে ভাঙা ঢেউ ভোর হতেই জ্বলে উঠবে ঘরের দরজায়
আস্তে আস্তে অশ্রুর ওপর থেকে রক্তের সুবাস নিয়ে স্রোতের নদীর মত হেঁটে যাবে মৃত অন্ধকারের বাড়িতে
উত্তরে বাতাস
কুয়াশায় চেপে ধরা দৃষ্টির ক্লান্তি মুছিয়ে সতর্ক স্নেহ-মায়ায়র সংসার দিতে চাইছে
রোদের উজান জুড়ে উত্তাল হয়ে ওঠে দোদুল্যমান গাড়ো গোলাপি আকাশ
যেখানে হৃদয় হাঁটে আকস্মিক আঘাতে
আকাশ খোলা স্মৃতি শেষের বৃষ্টি আনন্দ নিয়ে জীবনের জানালায় অকৃত্রিম অমল বিশুদ্ধ রেখা সংযত প্রকৃতির মোহে স্বপ্নের অকৃত্রিম গ্লানি ছড়াবে
যেন দূরত্বের শ্বাস করুণায় ঢুকে পড়ে শীতের বাহুডোরে।
**************************************************************



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন