বনশ্রী রায় দাস * দুটি কবিতা
ভালো-বাসা ও নীলকান্তমণি
পশমে পশমে অগ্নি বলয় নীলকান্তমণি
লাউলতা , কুমড়ো ফুলের সঙ্গমে
রেণু ছুঁয়ে কোন অরণ্যে চলে গেল পতঙ্গসেনা
বাকি পড়েছিল একটুকু আশা
ক্ষতি কি বলো যদি বাসি অনেকটা ভালোবাসা
যদি বাঁধি একখানি ভাল-বাসা
যেখানে পড়বে সুজন পায়ের ছাপ
তবু তার খাদের কিনারে যুদ্ধের প্রস্তুতি
টান মেরে খুলে নেয় বোধের বসন
আশ্রয় খোঁজে কারা মন্দিরে, মাজারে
লালন বলেন জাতের দোষ নেই সংসারে
অপেক্ষারত যেমন কবরের ঝুরো মাটি
কোথাও রয়েছে পড়ে সাড়েতিনহাত খাড়ি
সকালের রোদ
এই শীতের চিঠি লিখতে তোমাকে
জোনাক দিয়েছে আলো
তুষার-ঘন স্বপ্নমায়া মেঘের চাদরে
পাহাড়ের বুক ভরা পাইনের বনে
ঝিঁঝির বিলাপ একটি প্রগাঢ় চুম্বন
লজ্জার ভেতরে ভাঙে রাতের আলস্য
পাহাড়ের রোডোডেনড্রন
হাতে যাদুকাঠি
আহত সেনার ছাউনি
তর্জনী বেয়ে নেমে যায় রুপোলি নদীটি
নক্ষত্রের আলো শুশ্রুষার হলুদ বাগানে
বনমালি প্রথম ছোঁয় প্রিয়ার চিবুকখানি
সকালের রোদ প্রেমিকের মতো মাপে উষ্ণতা
**************************************************************************************************
জন্মস্থান: অখণ্ড মেদিনীপুর জেলার তামলদা গ্রামে। শিক্ষা : ইতিহাসে স্নাতক বিদ্যাসাগর ইউনিভার্সিটি।প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ছয়টি। নৈঃশব্দ্যের বতিঘর । অনন্তের স্পর্শধ্বনি । মগ্ন জলের অন্তরা । বেদুইন মেঘের ইশারা। শূন্য প্রহরের স্বরগ্রামে। আদিম স্রোতের সংলাপ। প্রবন্ধ গ্রন্থ প্রকাশের পথে। পুরষ্কার ও সম্মাননা : অনন্তের স্পর্শধ্বনি কাব্যগ্রন্থের জন্য " নবপ্রভাত " রজতজয়ন্তী সম্মাননা ও পুরস্কার ২০১৭ " মগ্ন জলের অন্তরা " লাভ করেছে " ডলি মিদ্যা স্মৃতি পুরস্কার "২০১৯ । দুই বাংলার অক্ষরকর্মী পদক । "যদি জানতে" সম্মাননা গ্রহণ ২০২১ সালে । "পাইওনিয়ার শ্রুতি সন্ধ্যা'র" পক্ষ থেকে জেলার শ্রেষ্ঠ কবি সম্মাননা ও পুরস্কার লাভ ২০২২ ।"শব্দরেণু " সম্মাননা --- ২০২৩ ইত্যাদি




কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন