কোয়ান্টাম মেথোডিক্যাল শ্মশান ,পরাবিদ্যা ,পারমানবিক অস্ত্রের কবিতা, যুদ্ধাস্ত্রের ইঙ্গিত নীল নিসর্গের চিন্তাশীল কবি গৌরীশংকর দে
নিমাই জানা
অলীক জন্ম নক্ষত্রের ভেতর মহাকালের অতিকল্পকালীন গাণ্ডীব হাতে নিয়ে অদৃশ্য জগতের এক মহাভৈরবীয় কথা লিখে যাওয়া পারলৌকিক অন্তরীক্ষের গিটার হাতে নিয়ে নিজেই নিজের সুচিত্রিত আগুনে জ্বেলে দেয় মহাপুরুষের অতৃপ্ত সঙ্গম মুহূর্ত, যার মহা ক্ষুরধার লেখনীতে কোয়ান্টামের ক্যাসপিড নীল নির্যাস বের করে অতি লিটমাসের ঘনত্ববিহীন প্রাগৈতিহাসিক সমর্পণের অন্তরীক্ষে বসে সুনিপুণভাবে চিত্রাংকন করতে পারেন তিনি আর কেউ নন তিনি পদার্থবিজ্ঞানের একনিষ্ঠ পারমাণবিক অন্তরীক্ষে হাঁটতে থাকা অজস্র মহার্ঘ পুরুষের হিরন্ময় দ্যুতি গুলো ছড়িয়ে পড়ছে আলোকিত ঝর্ণাধারার মতো তিনি কবি গৌরীশংকর দে । যিনি কবিতার অক্ষরকে বিভিন্ন মোটিভ বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল বিভিন্ন ডাইমেনশনে পরীক্ষামূলক সচেতনভাবে বিভিন্ন খাতে বইতে দিয়েছেন যেহেতু তিনি পদার্থ বিজ্ঞানের একনিষ্ঠ অন্তঃসলিলায় সম্মোহিত হয়ে আছেন পেশাগতভাবে তাই তিনি পারমানবিক কোয়ান্টামের কুঠুরিতে স্নান করে উঠে আসা ঘর্মাক্ত লোমকূপে বয়ে যাওয়া শোণিত শিরাপথে তিনি বারবার আন্দোলিত হয়েছেন ব্রাউনিয়ান মোশানের মতো তাই তার প্রতিটি কবিতার অক্ষর আলাদা পৃথিবীর দিকে বয়ে যায় প্রতিটি কবিতার ভিতরে মহা দীর্ঘ চেতনার ভাব মহাজগতের দিকে নিয়ে যায় রজস্বলার গ্ৰহ থেকে বেরিয়ে জাইগোটিক এসেন্স অবধি তিনি কোয়ান্টামের তারা উপগ্রহ নক্ষত্র কক্ষপথ চাঁদ মহীয়সী মিল্ক অফ গ্যালাক্সির ফটো নিউট্রন হিলিয়াম সূর্যের কঙ্কাল ভৌতিক অস্তিত্বের আয়তন লাভা অস্তিত্বের ভূমিকা ক্ষেপণাস্ত্র নীলগিরির শ্মশান শৈলোৎক্ষেপ প্রদাহ ব্রহ্মাস্ত্রের ঢেউ রহস্যের অগ্নিবর্ণ পুরাণ মহাপুরাণ শিব পুরাণ উপনিষদ নৈঃশব্দের অদৃশ্য আকাশযাপন সমগ্র মস্তিষ্কে হিউমারের হেমারিং , "শংকর আকন্ঠ পান করলে নীল বিচ্যুতির বিষ/ গৌরী রণে রক্তবর্ণা বিদ্ধ হলো আঁধার মহিষ"
কবিতায় পুরাণের ইঙ্গিত কবিতায় শিব নীল বিচ্যুতের বিষপান করে এ পৃথিবীকে শস্য শ্যামলা সুন্দর মহার্ঘ্য অনন্ত গ্রহে পরিণত করেছে ঠিক তেমনি রক্তবর্ণে গৌরী সজ্জিত হয়ে চতুর্দিকে ধ্বংস হয়ে যাওয়া পাপের আচরণকারী তৃতীয় নয়নের অধিষ্ঠাত্রী দেবী তার সুনিপুণ নৃত্যের মুদ্রা কলার সাহায্যে তিনি প্রহার করছেন এ পৃথিবীর সমগ্র পাপাচার অপরাধীদের স্বৈরাচারীদের বলাৎকারীকে তিনি ধ্বংস করে দেবেন এ পাপের পুরী ছারখার করে দেবেন অগ্নি সংযোগ করবেন আবার পরক্ষণে তিনি রোপন করবেন পবিত্র অন্তঃসত্বার নীল শব্দের চন্দন বৃক্ষ। তপস্যার বৃক্ষ জ্ঞানবৃক্ষ , আবার কখনো কবি বলেন ""বৃক্ষলতার ফাঁকে / কখন যেন ভুলে গেলাম জীবন যন্ত্রণাকে "" অসাধারণ জীবনবেদ উপনিষদের বাক্যাংশ প্রক্ষেপণ করে যাচ্ছেন তার বিভিন্ন কবিতার ভিতর তিনি আসলে জ্ঞানযোগী নিস্তব্ধ নীরবে জ্ঞান পাঠ করেন তিনি সান্দীপনী মুনির মতো অনন্ত জ্ঞান আহরণের বৃক্ষলতার এক সংসার এমনই যৌনচেতনা যে সমগ্র জীবন যন্ত্রণাকে ভুলিয়ে দেয়। যেখানে কোন পাপ নেই পুণ্যের নীলকন্ঠ সাপ তৃতীয় রশ্মি মন্ডল ভেদ করে নেমে আসেন পরশমনির পার্থিব স্ফটিক দণ্ড নিয়ে
কবি কখনো বলেন ""নিঃশব্দের মাঝে প্রেমের রং / অদৃশ্য আকাশে ভাসে / অন্তহীন স্বপ্নে দুরাভাষে/ অজানা গন্তব্যে ফিরে আসে""
কবি সেই প্রেমের কথা বলেছেন যে প্রেমে মানুষ বন্ধন মোহ কামনা বাসনা সমগ্র জরার ভয় মৃত্যু সবকিছু উপেক্ষা করে অনন্ত শীর্ষে বসবাস করতে পারেন সব ছুঁড়ে ফেলে দিতে পারেন সবকিছু ফুৎকারে উড়িয়ে অনন্ত জীবাত্মা পরমাত্মার সাথে অনন্ত শরীর দেহের সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় যে অদৃশ্য অন্তহীন স্বপ্নে বারবার উচ্চকিত আলোর মেরুজ্যোতি বিস্তার করে যার কোন গন্তব্য নেই যার কোন অস্তিত্ব নেই যার কোন সীমা নেই যার কোন পরিসীমা নেই তিনি নিঃশব্দের মাঝে পরম প্রেমময় সেজে বসে আছেন অনিত্য কাল ধরে সেই প্রেম সেই পরমাত্মা নীল নির্জন অভয়ারণ্য যাকে নিয়ে গেছেন নিঃশব্দের অমরাবতী বরাবর ,
ল্যান্ডস্কেপ ইন দ্যা মিস্ট কবিতায় তিনি সেই অতীত লুপ্তপ্রায় ঝিনুকের কথা বলেছেন যে ঝিনুক নিজস্ব রেতঃকাঠের ভেতর মুখ ঢুকিয়ে লুব্ধকের মতো যমজ অন্ধকারে নীল চুম্বকের শব্দ নিয়ে শব্দেত্তর তরঙ্গের জলকেলির আঘাতে অতি নির্ণেয়মান কুয়াশার দিকে নিয়ে যায় কুয়াশা বড় প্রাচীন দুর্ভেদ্য অথচ আর্যাবর্তের মতো দক্ষিণায়ন সমগ্র যুদ্ধক্ষেত্রের ঔষধি লতার মতো ভেষজ অনুপ্রবেশ নিয়ে পাখনাময় জেগে থাকে কক্ষপথ বিহীন অন্তরীক্ষের ভেতর , এখানে নিশি জাগরনের এক ভয়ানক বিরজাক্ষেত্র জেগে ওঠে কবিতা সূক্ষ্ম পদার্থবিজ্ঞানের ব্ল্যাক হোল, কৃষ্ণগহ্বর জায়মান তারা চুম্বকের শব্দ মৃত্যুর কুয়াশা ট্রাম্পেট এঞ্জেলোপোউলুস ল্যান্ডস্কেপের মতো শব্দগুলো সূচতুর ভাবে তিনি ব্যবহার করেছেন কবিতার যান্ত্রিকতাকে কবিতার মহানুভবতাকে আরো ঊর্ধ্বমাত্রায় নিয়ে যাওয়ার জন্য, নিয়ে গেছেন পরীক্ষা মূলক নিবিষ্ট কোয়ান্টাম হাসপাতালেয দিকে সেখানেই কবিতার অক্ষর শব্দ কবিতার অনুভব অনন্য মাত্রায় মহাভার্গবের মতো দক্ষিণমুখী যাত্রা সেরে সূর্য গমনের পেন্ডুলাম দোলাচ্ছে ।
কবি বলেন ""তোমার অনন্ত মুখ গহ্বরের কৃষ্ণ গর্ভ থেকে / উৎক্ষিপ্ত হয়ে সাজাচ্ছে নিশ্চিত আকাশ / জন্ম মৃত্যুর কুয়াশা খসে পড়ছে খসছে রহস্যমালা/ মায়াবী পর্দার আড়ালে বাজছে ট্রাম্পেট একটানা অ্যাঞ্জেলপউলুস "" এখানে অনন্ত গর্ভের থেকে উৎক্ষিপ্ত লালা লাভার কথা বলা হয়েছে যেখানে কৃষ্ণ গহ্বরের সাইক্লোট্রন বিগ ব্যাং থিওরির মৈথুন অন্তরীক্ষের নিউট্রন কণা ভয়ানক ফোটন দাঁতের মতো সূর্যের কঙ্কাল পোড়াচ্ছে সারারাত জুড়ে , মৃত্যু জেগে থাকে ঝিনুকের ভেতর অনন্ত মৃত্যুর প্রহরের তাণ্ডব নিয়ে সারারাত অতীতের ম্রিয়মান জাগরণ চলছে , সুষুম্না মন্ডলে আচ্ছন্ন হয়ে থাকে নিদ্রার মতো মহাভৈরবী দাঁত , যে সারারাত নিস্তব্ধ ছদ্মবেশে মাথার ভিতরে ঘুরপাক খেতে খেতে মহাপ্রলয়ে ছিঁড়ে ফেলে অনন্ত সজ্জার যুদ্ধ ভৈরবীর যুদ্ধের দামামা , প্রতিটি কবিতায় কবি গৌরীশংক দের এক অনন্ত যাত্রা রয়েছে যা মায়াময় কুয়াশা ভেদ করে এক অনন্ত বিন্দু ছুঁয়ে ফেলার করুণ ও কাতর আর্তি ও তীব্র জিজ্ঞাসাবাদ রয়েছে জল তরঙ্গের কাছে তীব্র জিজ্ঞাসা সমস্ত আঘাতের কাছে সমস্ত জিজ্ঞাসা এ প্রাণময় ঘুমের কাছে সমস্ত জিজ্ঞাসা রহস্যময়ের কাছে সমস্ত জিজ্ঞাসা অধাতব পর্দার কাছে যার আড়ালে থেকে সমস্ত সৃষ্টি তত্ত্বের নীল নীহারিকা ধূমকেতুর মতো ফুলে উঠবে আর আমাদের শরীরে মৃততান্ত্রিক এক পেন্ডুলাম বাজাবে । কবি গৌরীশংকর দে আমাদের কাছে এক আলাদা প্রাপ্তি যিনি প্রতিটি অক্ষরে এক অনন্ত জিজ্ঞাসা রেখে যান , প্রতিটি জিজ্ঞাসা বোধহয় সেই একটি ফিজিওলজিক্যাল পার্টিক্যালের কাছে যার সমগ্র অঙ্গাণু জুড়ে স্পিরিচুয়াল বিষাদের নীল মহিষগুলো দাগ দিয়েছিলে নীলদর্পণের সমগ্রশীলতার কাঠে কবি মৃত্যুকে এলাচ দিয়ে পুষেছেন কবি তাইতো তিনি বলতে পারেন ""চিন্তা করো অবস্থাটা মৎস্যগন্ধা নারী /কোমর কোথায় ভ্রমর কালো রং বাহারী শাড়ি / জয় করে তবু ভয় কেন তোর যায়না চুপ করো/ এমন গোপন রঙিন আয়না বলছে ভেঙে পড়ো "" এটাই এক মস্তিষ্কের পিটুইটারির খেলা এটাই একটি সজীবতার অনঙ্গতার খেলা নিশাচর শরীরের ভেতর বোধহয় লোমশ কাঠের পোকাগুলো কিলবিল করবে আর সমগ্র শ্মশানের কথা শোনাবেন কবি গৌরীশংকর দে'কে যিনি মৃত্যুর শরীরে কাঁটার ঝোপ লাগিয়ে রেখেছেন মৃত্যুর শরীরে , কুয়াশার শেকল পরিয়ে দিয়েছেন। তাই তিনি চোখের নিমেষে এতগুলো কথা অকপটে বলতে পারেন।
ভয়ানক এক বাস্তববাদী অতি চিন্তাশীল কবিকে সাম্প্রতিক সময় আমরা হারিয়েছি কিন্তু কবির কবিতার অক্ষর তীব্রতম কোয়ান্টামের ধারালো তরোয়াল নিয়ে কেটে যাচ্ছে এক একটা যুদ্ধাস্ত্রের ঘোড়া ।
#########################################


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন