কথা দিয়েছিলাম হেমন্তের নিয়রে
পর্ব * ২২
দীপংকর রায়

জীবনের নানা ঘটনার আলোটুকুকেও মনে হয় তেমনই যেন… সেই কলার ভেওয়ায় ভেসে চলা দূরের আলোটুকুরই মতো,… যাতে কত নান্টু.. মন্টু.. মিষ্টি.. জ্যোছনা.. মায়া.. মিনু …. ইতিরা যে কত আলো জুগিয়েছিল পরস্পর এক একটি অধ্যায়ে এসে, তার সকল মুগ্ধতা অমুগ্ধতার কথা কি ভুলে যেতে পারবো কোনোদিনও এই জীবনে?সেই কথাটাই ভাবি মাঝে মাঝে।
গোপরিচর্যায় এতটাই মন দিয়েছি, যে, যেকোনো উপায়েই হক কালো গোরুটিকে গাভিন না করে ছাড়া যাবে না কিছুতেই। তার জন্যে যেমন এ খাটালে ও খাটালে ঘুরে বেড়াচ্ছি, তেমন যাঁরা একটু গুছিয়েগাছিয়ে বিজ্ঞানসম্মত ভাবে এই ধরণের খামারী হয়েছে, তাঁদের ওখানেও জিঞ্জির ডাক্তারের দৌলতে একেকদিন যেয়ে ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে আসছি, তাঁরা এই সব বিষয়গুলি নিয়ে কীভাবে ভাবনাচিন্তা করছে। ইদানীং একরকম প্রতিদিনই সন্ধ্যাবেলা হলে জিঞ্জির ডাক্তারের ওখানেই কেটে যাচ্ছে। নানা অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে সময়গুলি কাটিয়ে দিচ্ছি। সেখানে নানাধরণের আলোচনাই হয়। যদিও একেক সময় সেগুলিতে আর শুধুই গোরুবাছুরের বিষয়ই থাকছে না শুধু, সেখানে শিল্প-সাহিত্য রাজনীতি সমাজনীতি দেশ ভাগ উদ্বাস্তু সমস্যা একাত্তরের দিনগুলি রাতগুলি ও কাব্য ধর্মের নানা প্রসঙ্গ ও আলোচিত হয়, জিঞ্জির দাই আমাকে উৎসাহিত করে একখানি কবিতার গ্রন্থ তৈরি ছাপতে দেবার জন্যে। আমি অবশ্য ইতিমধ্যেই কিছুটা অন্তত জানতে পেরেছি, সে কাজ কতটা কঠিন। প্রেস, ছাপাছাপি, এসবের কোনো ধারণাই আমার যে সে অর্থে নেই, সে কথা তো তাঁকে বলি না খুব পরিস্কার করে। তবে তাঁর দেওয়া উপদেশটি মাথায় রাখি, এবং নিজের মনে নিজেই যেন এই কথা বলতে বলতে পথ হাঁটি, তাঁর বাড়ির থেকে ফেরার পথে, কীইবা লিখেছি এমন, যাতে এখনই বই ছাপতে পারা যায়? নিজের লেখালিখি নিয়ে এই ভয়ই-তো এখনো কাটেনি!
কিন্তু একথাও তো সত্যি, জিঞ্জির দার প্রচেষ্টাতেই তো শেষপর্যন্ত কালো গোরুটিকে গাভিন করা সম্ভব হয়েছিলো! যাইহোক এযাত্রায় কশাইএর হাত থেকে রেহাই পেলো সে। যদিও সেই চেষ্টাতে বিষনিভাইও বিশেষ সহকারী হয়েছিলো। আর একজন ডাক্তার সরকার দার তত্বাবধানে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ষাঁড় ধরিয়ে আনতে যেয়ে কী মুগ্ধই না হয়েছিলাম, ওখানকার খামার পরিচর্যার ধরণ ধারণ দেখে! মনে মনে ভাবতে থাকলাম, এমন ভাবে যদি খানিকটা সবুজ ঘাস পাতা খাইয়ে, খোলা জায়গায় ওদের বিচরণ করিয়ে খামার তৈরি করতে পারতাম বড়সড় একটি জায়গায়, তাহলে কি ভালোই না হতো! কিন্তু সেটা কীভাবেই বা সম্ভব ? অতটা পরিসর কোথায়ই-বা পাবো, যাতে অন্তত ওইরকম ঘাস জন্মানো যেতে পারে ! সেই পরিমান অর্থ কেই বা জোগাবে আমাকে?
যদিও সে সময় এই অঞ্চলে জমির দাম খুব একটা বেশি নয়। তবুও হাজার পাঁচ ছয় তো হবেই কাঠা। সে যাই হোক, কোথা থেকে আসবে তা?
সংসারে একটা অনটন তো লেগেই থাকে, তাতে এতগুলি দিন একটি গোরুর উপরে আর কতোই বা চালানো যায় ?
তাই স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়। শুধু এইটুকুই এগোয়, ইদানীং বিষনি ভাইকে ছেড়ে দিই রানিয়ার মাঠের থেকে খানিকটা ঘাস কেটে আনতে। কিন্তু তাকে ওদিকে পাঠানোও-তো বিপদ, সে আবার টানে টানে বাগদি পাড়ার দিকে চলে না যায় যদি!
যদিও যায় অবশ্য মাঝে মাঝে সে কথাও ঠিক। এবং যথারীতি একেকদিন গরম চোলাই মদ খানিকটা ঢেলে দিয়েও আসে
গলায় । এসে প্রথমটায় চুপচাপ থাকে, তারপরেই শুরু হয় তার উল্টোপাল্টা বকবক। এরকম দেখলে তাকে সামনের মাঠের মধ্যে নিয়ে যেয়ে বন্ধুবান্ধবরা মিলে তার মাথায় কয়েক বালতি জল ঢেলে দেওয়া হয় । সে তখন, জয় সিয়ারাম, জয় সিয়ারাম বলে নিজের মনে নিজেই কানতে থাকে।
তখন তাকে দেখে আবার কষ্ট ও হয় খানিকটা। মনে মনে বলি, কেন যে এই সব ছাইপাঁশ খাও বিষনি ভাই? একথা বলেও তাকে তার গাহাতপা মুছিয়ে তাকে তার শোবার জায়গায় পাঠিয়ে দি।
সে বলে, আর না পিয়েঙ্গে, ইবারের মতো মাফ করে দেও গো বড় বাবু।
বড় কষ্ট হয় তখন তাকে দেখে। হাতজোড় করে বারবার সে তার অপরাধের জন্যে ক্ষমা চেতে থাকে।
ইদানীং আমাদের বড় ভাগ্নেটি আমাদের এখানেই থাকছে কদিন হলো । দিদি তাকে রেখে যায়। বাড়িতে একটি বাচ্চা থাকলে ভালোই লাগে । ও এখানে থাকলে মাও অফিস কামাই করে। ওকে আমরা সকলে মুনাই বলে ডাকি। ভালো নাম কী রেখেছে, সেটা অবশ্য তখনো পর্যন্ত আমিও জানতাম না কিছুই। জানতে পারলাম ও যখন স্কুলে ভর্তি হলো। দিদির একমাত্র নেশা হলো ভারতবর্ষের এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ানো। অশোকদারও এক-ই বাতিক। সময় সুযোগ পেলে, কারখানার ভার কদিনের জন্যে ছোটো ভাইএর উপর দিয়ে বেড়িয়ে পরে তাঁরা। কখনো ছেলে তাঁদের সঙ্গে যায়, কখনো ও এ-বাড়িতেই থাকে। ওকে নিয়ে বিশেষ অসুবিধা নেই, হাতের মধ্যে একটুকরো কাপড় ধরিয়ে দিয়ে ঘুম পাড়ালেই ও ঘুমিয়ে যায়। সেই কাপড়ের টুকরোটিকে নিয়ে ও মুখের কাছে নাড়াচাড়া করতে করতে হয়ত সুরসুরি অনুভব করে ও,তারপরেই ঘুমিয়ে যায় আপন মনে নিজেই ।
সময়গুলিকে নিয়ে আজকাল প্রায়শই ভাবতে বসি, কীভাবে কাটাচ্ছি এই যে এই সব সময়গুলো!
এইটা বেশ কিছুদিন যেন ভেতরে ভেতরে একটা তাড়না তৈরি করছে দেখতে পারছি। আগেও ছিলো না এই তাড়না, তা না, ছিলো, তবে ভেবেছি এই কথাই— ও হয়ে যাবে, চলুক না যেভাবে চলছে সেভাবে।
রসিক দাদুর বলে দেওয়া সেই কথাটা বারবার মনে হয়: রোজ কী করলে, সে তুমি যাই করো না কেন, তার একটি পর্যবেক্ষণ তুলে রাখবে খাতায় কলমে অন্তত। না পারলে নিজেকে নিজে একবারের জন্যে হলেও প্রশ্ন করবে এই বিষয়ে।
এর পরে বিষয়টিকে মনে হলো, তাহলে তো হিসাব রাখা বলে তাকে? এত হিসেব করে কি চলা যায় ? না জীবন চলে কখনো? কোনোদিনও কি সেটা মনে করেই চলা যায় কি সব সময়?
দ্বন্দে পড়ি। কোনটাকে কী বলে! কেবলই মনে হয় সত্যিই তো, কিছু কি করেছি আদেও ইতিমধ্যে? কোনটা আমার সঠিক কাজই বা!
এই যে সকালবেলায় ঘুম থেকে উঠলাম, তারপরে নিত্য কর্মের মধ্যে যা যা পড়ে, সেগুলি করা হলো, সঙ্গে সঙ্গে গোপরিচর্যাও হলো। তাদের জন্যে প্রাথমিক কাজকর্মও সারা হলো। এর পর বাজার । বিষনিভাইএর সঙ্গে সঙ্গে গোরুগুলির স্নান-ধান পর্ব সারা হলে তাদের বাড়ির পাশের মাঠে বেঁধে দেওয়া। এরপর নিজের স্নান-ধান পর্ব সারা। ইদানীং স্কুলের কলে, না হলে মাখন সাহার পুকুরে ডুবিয়ে স্নান করতে ইচ্ছে হলে নেমে যাই সেখানে। জল সংকট এখনো কাটেনি এদিকে। সাপ্লাইয়ের জলও ইদানীং রাস্তার মোড়ে মোড়ে। বাড়িতে বাড়িতে জলের লাইন এলেও সাপ্লাই ভালো হয়নি এখনো। বলছে সমগ্র কাজটি সড়গড় হতে হতে সময় লাগবে এখনো। আরো দুবছর নাকি এইভাবেই কাটবে। সবজায়গায় পাম্পিং স্টেশন এখনো করে উঠতে পারা যায়নি কেন সেটা জানা যায় না যদিও এখনো। তাই মানুষজনের জলের ভরসা বলতে সেই রাস্তার টিউকল, ছশো ফুটের যেগুলি বসানো আছে সেগুলিই খানিকটা। আর যাদের বাড়িতে কুয়ো আছে তাদের স্বস্তি। তাই, জল নিয়ে টানাপড়েন এখনো এই অঞ্চলে আছেই লেগে ।
তারপর স্নানধান শেষ হলে রোদের দিকে কিছুক্ষন চেয়ে থাকা। বিশেষ করে ফাল্গুন চৈত্রের রোদ-ছায়ার এই এগারোটা বারোটার দিকের খেলাটা বেশ কিছুক্ষণ চেয়ে চেয়ে দেখতে থাকি…। এটা যেন খানিকটা ব্যাধির মতোন হয়ে গেছে । আসলে ঐ সময়টার আলোর দিকে চেয়ে থাকাটায় বেশ একটা অন্যরকম বোধ তৈরি হয়ে ওঠে ভেতরে ভেতরে। বিশেষ করে এই সময়ের ঋতুকালীন আলোছায়ার ভেতর কোথাও যেন এক নতুন জন্মের সম্ভবনা তৈরি হয়ে ওঠে । যদিও এটা হয়ত নিজের সঙ্গে নিজেরও একটা বোঝাপড়ার বিষয় হয়ত। আর সেখানেই যেন কোথাও একটা ধরা পড়ে যাওয়া থাকে হয়ত। যে আরাধ্য অবাধ্য অনিয়মের পথে জীবনের সেই মোক্ষকে খুঁজে বেড়াবার সংকল্পে তথাকথিত পথে চলতে চাইলাম না, অথচ তারই অধ্যায়নের চেতনায় অন্য এক নিয়মের মধ্যে দিয়ে যে অনিয়মের ডাক শুনতে চাওয়া, তাঁর সেই অসহায়োতাতেই কখনো কখনো ভেঙে পড়ি যেন ভীষণভাবে। তবে তা বেশিক্ষণ আমার মনখারাপ তৈরি করতে পারে না। আবার একসময় উঠে দাঁড়াই, নিজের মধ্যে নিজেই যেন এক বিশ্বাস তৈরি করে নিই এই বলে, কেন আমি ভেঙে পড়বো সেই সব কে দেখে…?
শংকর কাল্টু উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পরে চলে গেল শহরের ব্যাস্ত এক দিকে পড়াশোনা করতে। শুনেছি সেই কলেজ নাকি খুব নামকরা ।
দিদিমার চিঠি পাই, তাতেও জানতে পাই সঞ্চয় চুয়াডাঙ্গায় কলেজে ভর্তি হয়েছে। জ্যোস্না মাসির ওখানে থেকে পড়াশোনা করছে। সে চলে গেছে বলে দিদিমার চিঠিপত্র লেখার লোকের অভাব হয়েছে বড়োই। কাইলে মামাও খুব ব্যাস্ত। তার ও সময় হয় না । একমাত্র বড়ো দাদুই ভরসা এখন যেটুকু। যদিও তাঁরও হাটঘাট আছে তো। সবদিন তাঁকেও পাওয়া সম্ভব নয় । যেদিন হাটঘাট থাকে না সেদিনটাই বুঝে তাঁর অবসর থাকলে তবেই লিখে দেয় সে।
দিদিমা এই বিষয়ে মায়ের কাছে অনুসচনা করে লেখে, এই সময়টাতে আমিও যদি ওদেশে থেকে পড়াশোনার মধ্যে থাকতাম, তাহলে আমারও-তো এইসময় গ্রামের বাইরে থেকে পড়াশোনা করারই কথা ছিলো তো !
তারপরেই লেখে এই বলে, যদিও সে সব বিষয় নিয়ে দুঃখ করেই বা কী আর হবে!
এইরকম সব কথাই দিদিমার চিঠির মধ্যে থেকে উঠে আসে… তার অর্থ হলো তার ভেতরে ভেতরে একটা চাপা বেদনার বহিঃপ্রকাশই তো এই সব কথা !
এমনই সব ইঙ্গিত থাকে সব সময় সেই সব চিঠির মধ্যে বেশিরভাগটা জুড়েই….. ও বুঝলো না, ও এখন কী করছে? তোমার সংসারের দেখভাল করবার জন্যেই তো ওকে নিয়ে গেলে তুমি? তাহলে আর বিলম্ব কেন, সংসার করে দেও এবারে। গ্যানেনদির ও নানা সময় একথাই বলে, বলে, ও দিদি, আমি তোমাগের একটা কথা না পালি, কিছুই তো ভাবতি পারি নে বলো? তাই কোই কি শোনো, তারেই বা আর কতকাল কথা দিয়ে ভুলোয়ে রাখতি পারি, তাই কও তো?
মনে মনে ভাবি, পড়াশোনা করে স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় এসব না করতে পারলে কি তার বিধান হলো, একটা বিয়ে করা? যেকোনো কাউকে গ্রহণ করে সংসারি হয়ে যাওয়াটাই কি তাঁর এখনকার বিধান!
মানুষের জীবনের এই সহজ সরল ধারাবাহিকতার বাইরে আর কোনো জীবনের ধর্ম নেই ?
একটি মন যেন প্রতিবাদ করে উঠে বলতে চায়, কে বলেছে নেই? আছে তো, তাহলে সেই কথা মানুষ বুঝতে চায় না কেন? আমি কোন পথ ধরে এগিয়ে চলেছি তাহলে এখন?
কোনোটা ধরেই তো ভেবেচিন্তে চলতে পারিনি আমি! তাই যদি না হবে তাহলে শঙ্কর কাল্টু ওরা নতুন বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে আমার পরিচয় করাতে যেয়ে অত দ্বিধায় পরে কেন? কত থতমত খাবারইবা কী আছে! কই সহজ সরল ভাবে বলতে পারে না কেন, আমি কবিতা লিখিই শুধু?
কবিতা লিখে পাড়ার জলসায় তা পাঠ করলে বাহবা পাওয়া যায়। অথচ সামাজিক পরিচয় দিতে গেলে
কোনো স্বীকৃতি নেই কেন? শিল্প সাহিত্যের কোনো শ্রেণী নেই, ইস্কুল কলেজ নেই, ডিগ্রি নেই, যা আছে তা ওই বিশেষ একটা দিক নিয়ে উচ্চ স্থানে যাবার জন্যে গবেষনা করা বলে যাকে, তাঁদের জন্যেই কিছু একটা উপাধিটুপাধী হয়, এই আর কি। অর্থাৎ নিম্ন মানে তাঁর যদি কোনো পরিচয় নাই থাকে, তাহলে সমাজে সে ওই নিম্নমানেরই শুধু ? নিজের পরিচয় দিতে যেয়ে অন্য কোনো ভাবে বোঝাতে মন চায় না। আর কেনোই বা ঘাড় ঝুঁকিয়ে এমন একটা যেন অপরাধবোধে মুখটিকে ম্লান করে দাঁড়িয়েই বা থাকতে হবে কেন অমন ভাবে ?
যদিও এ সবের কোনো আলোড়ন সামনে আসতে দিই না। সেই সব জায়গায় পরিচিত করতে এত দ্বিধায় পড়ে যায় যখন, তখন আমি খুব সহজেই তাঁদের মুখের কথা কেড়ে নিয়ে নিজের পরিচয়টা খুব পরিস্কার করে দিয়ে বলি, আমি বলছি, ওঁরা একটু দ্বিধায় পড়ে যাচ্ছে তো? বিষয়টা এরকম, আমি কোনো ধারাবাহিক পড়াশোনার মধ্যে এখন নেই। নিজের মতো লেখাপড়া করি কিছু অবশ্য। যাতে কোনো পরিক্ষার ঘর নেই। খাতা নেই। নম্বর নেই। সার্টিফিকেট নেই। নেই সমাজে বড় ছোটো কোনো বিশেষ স্বীকৃতির তকমা। যা বলতে যেয়ে মুখটা খুব উঁচু করে বা বুক টান করে বিশেষ ভাবে কিছু একটা বলা যায় না, তবুও এই সমাজে তেমন কোনো পরিচয় নেই সেই ক্ষেত্রে এ কথাটা তো বলা যায় খুব সহজ ভাবে! যদিও যেটা আছে সেটা সংসারের কোনো বিশেষ কাজেই লাগে না।
এতে কারো কাছে বিশেষ বাহবা পাই, আবার কারো কাছে নেহাত সৌজন্যতাবসত তাদের বলতে শুনি, না না তাতে কি, যে যেভাবে চায় সেটাই তো শিক্ষা; তবে আপনাকে দেখে কিন্তু সে কথা কখনোই মনে হয় না, আপনি কিছুই করেন না যে।
এসব শুনে আত্মতৃপ্তি পাওয়া গেলেও, তা যে প্রকৃত আত্মতৃপ্তি না তাকি জানি না আমি ! বেশ ভালো করেই জানি। তাতে কি আমার ভেতরের সংকোচ বোধ সবটা চলে যায়? না, ইদানীং মনে হয় কেবলই সত্যিই তো, এখানে আমার কোনো যোগ্যতাই তো নেই, পরিচয় দেবার মতো তেমন কিছু আছে কি ?
এইসব কিছুর সামনে সব সময়ই পড়তে হয়। সে একেবারে পরিচিত অপরিচিত আত্মীয় স্বজন পরিজন সকলের সামনেই।
সকলের ভেতরে থেকেও সকলের থেকে একেক সময় আলাদা হয়ে যাই। নিতান্ত এক ছদ্মভদ্রতাবসতোই মনে হয় নিজেকে। আর এটা ভালো করেই মনে হয়, এই জিনিস সমস্ত জীবনই বহন করতে হবে, যত দিন বেঁচে থাকবো এই শরীরে।
( আগামী সংখ্যায় )


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন