সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬

অনুবাদ কবিতা * জয়িতা ভট্টাচার্য





নাজিম হিকমতের কবিতা

ভাষান্তরঃ জয়িতা ভট্টাচার্য 


নাজিম হিকমত শুধু তুরস্ক নয় বিশ্বের  অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ও নাট্যকার। জন্ম ১৫ জানুয়ারি ১৯০২ ও মৃত্যু মস্কোয় ৩ জুন ১৯৬৩। বামপন্থী আন্দোলন ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে তাঁকে কুড়ি বছর কারাগারে কাটাতে হয়। সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার জন্য ৫৬ বছরের জন্য সাজা ঘোষণা করা হয় এই তুর্কি কবির বিরুদ্ধে। তাঁর কবিতা গীতিময়তায় ঋদ্ধ। নাজিম হিকমতকে "রোমান্টিক কম্যুনিস্ট ",কখনও জেলখানার কবি বলা হয়। ১৯৫০ সালে তাঁকে শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়। গত সংখ্যার পর, এখানে আমরা নাজিম হিকমতের আরো কয়েকটি কবিতা পড়ছি, কবি জয়িতা ভট্টাচার্যের অনুবাদে---


জীবনের গান


কপালের ওপর নেমে আসা চুল চকিতে 

সরে গেল আর

কেঁপে উঠল মাটি

অন্ধকারে ফিসফিস করছে বৃক্ষসমূহ

তোমার অনাবৃত বাহু হয়ে হিমশীতল

এখন

আমাদের দৃষ্টির অগোচরে নিশ্চয়ই কোথাও 

জেগে উঠেছে চাঁদ 

সীমানা ছাড়িয়ে 

পাতার পিছল বেয়ে  নেমে আলোকিত কাঁধ

কিন্তু জানি

চাঁদ উঠলে সঙ্গী হবে বন্ধু বাতাস।

গাছগুলো ফিসফিস করে 

অনাবৃত তোমার হিম হাত 

ওপরের ডাল থেকে অন্ধকারে কী যেন 

খসে পড়ল তোমার পায়ের পাতায়

তুমি আরও সরে এলে আমার কাছে

গাছ আর পাখি কীট-পতঙ্গ সাক্ষী

আমার হাতের ভেতর ফলের খোসার মতো

তোমার নগ্ন চামড়া, আঁশটে এবং ঝাপসা

হৃদয়ের গান স্তব্ধ হয়েছে

সাধারণ বোধটুকুও কাজ করছে না,

আমার সঙ্গিনীর শরীরে হাত রেখে ভাবছি

আজ রাতে আমি আর কিছু লিখতে বা পড়তে পারছি না।

না প্রেম না অপ্রেম

যেন উল্লম্ফ নেকড়ের জিভ 

আঙুরের পাতায় 

শ্বাপদের থাবা.

নড়তে,শ্বাস নিতে খেতে বা পান করতে...

পারছি না কিছুই করতে

মাটির নিচে একটা বীজের মতোই ফেটে যাচ্ছে আমার হাত।

হৃদয়ের বোধ নয় এমনকি কমন সেন্স নয়

না প্রেম না অপ্রেম  

আমার হাত খুঁজছে তাহার শরীর

আমার হাত এখন আদি পুরুষের হাত ।

যেভাবে মাটির গভীরে শিকড় খোঁজে জল

সেই ভাবে সে বলল

শুধু খেতে পরতে,শীতে গ্রীষ্মে সংগ্রামে বা বর্ণের গন্ধে নয়__

মরণের জন্য এই জীবন নয়

জীবনের জন্য হোক এই মরণ..."

আর তখন

আমার ঠোঁট ছুঁয়ে যাচ্ছে মেয়েলি

লালচে চুল

কিছু একটা স্পন্দিত করছে মাটি

আঁধারে ফিসফিস করছে উদ্ভিদ 

দৃষ্টির অগোচর হয়ে গেলো চাঁদ 

দূরে, এখন অনেক দূরে....

আর আমার হাত স্পর্শ করে আছে আমারই 

নারীর শরীর 

সমস্ত গাছ আর পাখি আর কীট-পতঙ্গের 

সামনে,

এখন আমি বেঁচে থাকার অধিকার চাই 

যে জীবন নেকড়ের লাফের মত

যে জীবন বীজধান স্ফুটনের 

আমি অধিকার চাই আদি মানবের।

       ___________




আলোর মানুষ 


যখন ছোটো ছিল কখনও একটা মশাও মারেনি 

বেড়ালের ল্যাজে বেঁধে দ্যায়নি ক্যানেস্তারা 

কিম্বা দেশলাই বাক্সে বন্দী করেনি কোনও গুবরে পোকা,

এমনকি একটা পিঁপড়ের ঢিবিতেও সে কখনও লাথি মারতে 

পারেনি।

তবু বড়ো হয়ে  যাবার পরে

বিছানার চারদিকে যখন ছড়িয়ে ছিল মৃত্যু

সে তখনও এমনকি বলেছিল 

"আমাকে একটা কবিতা শোনাও

সমুদ্রের আর সূর্যের কবিতা

পরমানুর জ্বলন্ত ভাঁড়ার নিয়ে কবিতা শোনাও 

উপগ্রহ নিয়ে কবিতা শোনাও 


মানবজাতির গৌরবের কবিতা শোনাও" 

         


Optimistic man

 Nazim Hikmet

=============

as a child he never plucked the wings off flies

he didn't tie tin cans to cats' tails

or lock beetles in matchboxes

or stomp anthills

he grew up

and all those things were done to him

I was at his bedside when he died

he said read me a poem

about the sun and the sea

about nuclear reactors and satellites

about the greatness of humanity


দিশা


বাড়িয়ে দেয়া আলোয় দাঁড়িয়ে আছি।

একটি ক্ষুধার্ত হাত

আর অপূর্ব একটা পৃথিবী।

চোখে আঁটে না এতো বনস্পতির ভিড়  __

এত আশা,এত সবুজের সমারোহ।

মালবেরির বনের ভেতর দিয়ে চলে গেছে

রোদেলা পথ,

 বন্দী আমি হাসপাতালের জানলা দিয়ে দেখছি।

যুঁই ফুলের তীব্র সুবাসে ঢেকে গেছে ওষুধের গন্ধ 

কাছাকাছি ফুটে আছে কোথাও। 

কয়েদি হতে পারি কিন্তু

বিষয়টা হলো নতি স্বীকার নয়।



It's this way

Nazim Hikmet

===========

I stand in the advancing light,

my hands hungry, the world beautiful.


My eyes can't get enough of the trees--

they're so hopeful, so green.


A sunny road runs through the mulberries,

I'm at the window of the prison infirmary.


I can't smell the medicines--

carnations must be blooming nearby.


It's this way:

being captured is beside the point,

the point is not to surrender.



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন