সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬

ধারাবাহিক রহস্য রোমাঞ্চ কাহিনি * প্রভাত ভট্টাচার্য





প্রভাত ভট্টাচার্য 

পর্ব * 

রাজ্যাভিষেক 


পরদিন সকালে সাজো সাজো ভাব। সামনের খোলা জায়গাটায় একটা লাল ভেলভেটে মোড়া সিংহাসন এনে রাখল শার্দুল ,আর একজনের সাথে। সবাইকে ডাকা হল সেখানে । 

    সবারই মনে প্রশ্ন, কি ব্যাপার?কিসের এত আয়োজন  ? 

     সেইসময় বিতান এসে বলল, সবাই চুপ করুন এখন। রাজামশাই আসছেন। একটু পরেই অভিষেক হবে। 

     রাজামশাই  ! বলে উঠলো অর্জুন। 

   বিতান কড়া চোখে তাকালো তার দিকে। 

    এবারে দেখা গেল শার্দুল একটা ড্রাম বাজাতে বাজাতে আসছে। আর তার পরেই দেখা গেল অজয় আসছে রাজার বেশে, গায়ে ঝলমলে পোষাক, মাথায় মুকুট, কোমরে তরবারি। 

    সে গটগট করে এসে সেই সিংহাসনে বসল। মুখে স্মিত হাসি। 

    বিতান তার কপালে পরিয়ে দিল রাজটীকা। তারপরে সবাইকে বলল, বলো, রাজামশাইয়ের জয়। 

  সবাই তাই বলল। 

   হয়ে গেল রাজামশাইয়ের রাজ্যাভিষেক। 

    তোমাদের মত প্রজা পেয়ে আমি খুব খুশি। এবারে সবাই মিলে নতুন উদ্যমে আমাদের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আজ এই শুভদিনে তোমাদের জন্য বিশেষ খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই বলে অজয় প্রস্থান করল। শার্দুল চলল তার সঙ্গে। 

    চলো সবাই খেতে চলো। আর আজ থেকে সবাই ওনাকে রাজামশাই বলে ডাকবে। বলল বিতান। ভুল যেন না হয়। 

    আর তুমি বুঝি মন্ত্রীমশাই  ? বলে উঠলো অতীশ। 

    ধরে নাও তাই। 

     ভালোই হল খাওয়াদাওয়া । এবারে সবাই যে যার ঘরে চলে গেল। এই অভিনব ব্যাপারটা সকলের মনেই রেখাপাত করেছে। 

    এদিকে অজয় বসে বসে ভাবছে  এই তো শুরু। এইবার আস্তে আস্তে সে চারিদিকে তার রাজত্ব কায়েম করবে। আর একবার তার পরিকল্পনাগুলোকে ঝালিয়ে নিতে লাগল সে। 

    অতীশ সুমিতের দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে বলল, কেমন দেখলে যাত্রাপালা? 

    আরে পাগল, চুপ করো! কে কোথা থেকে শুনে ফেলবে। বলে সুমিত ঘরে ঢুকে গেল। 

   অতীশের মুখে হাসি লেগেই রয়েছে। সত্যিই পাগলই বটে। এবারে সে এগোল ল্যাবরেটরির দিকে। রবিনসনের সঙ্গে একটু দেখা করা যাক। 

    বাবলু ভাবছে, এক আজব জায়গায় এসে পড়েছি। এখানে না এলেই ভালো হত। 

    ওদিকে কৃষ্ণ তার মনের অস্থিরতা দূর করার জন্য নতুন ছবি আঁকতে শুরু করল। সামনে একটা এক্সিবিশন আছে,  সেখানে দেওয়া যায় ছবিটা। 

    আর সবার অলক্ষ্যে চলেছে ষড়যন্ত্রের জাল বোনা।


অতীশ ল্যাবরেটরির দরজার সামনে গিয়ে বেল বাজল। পিপ হোল দিয়ে দেখে রবিনসন দরজা খুলে দিতেই সে ঢুকে পড়ল। 

     কি চাই  ? বলল রবিনসন। 

     কি আবার। কাজ করবো। 

     এখন নয়, পরে। 

     তাই বুঝি। ঠিক আছে, রাজামশাইয়কে গিয়ে বলছি যে তুমি এই কথা বলেছো। 

     না না, কিছু বলতে হবে না ।আপনি আপনার মত কাজ করুন। 

     পথে এসো বাবা। বলে অতীশ লেগে গেল তার কাজে। রবিনসন একটু তফাতে দাঁড়িয়ে দেখতে লাগল। 

     একটু পরেই অজয় চলে এল সেখানে । রবিনসনের দিকে তাকাল জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে। 

     উনি কি সব কাজ করছেন। 

      গলার আওয়াজ পেয়ে অতীশ মাথা তুলে তাকাল আর বলল, আরে, রাজামশাই এসে গেছেন যে। 

     অজয় একটু লজ্জা পেয়ে গিয়ে বলল, আপনাকে আর রাজামশাই বলতে হবে না। এই একটু  দেখতে এসেছিলাম সবকিছু । তা নতুন কিছু কাজ শুরু করলেন। 

     বলছি। তুমি আগে ঐ রবিনসনকে সরিয়ে দাও এখান থেকে । 

     অজয় রবিনসনকে বলল ওখান থেকে চলে যেতে। অতীশ তুমি করে বললেও সে কিছু বলল না। 

      এবারে শোনো। আমি আমি একটা নতুন রশ্মি, মানে রে, আবিস্কার করেছি, যেটা খুবই কাজের। 

      গ্রেট।  তা সেটা কিভাবে কাজে আসবে  ?

     রামায়ণ পড়েছো নিশ্চয়ই  ?

     হ্যাঁ, অবশ্যই। 

     সেখানে আছে যে ইন্দ্রজিৎ রাম লক্ষণকে নাগপাশ দিয়ে বেঁধে অচেতন করে দিয়েছিল। আমার এই রে দিয়েও তাই করা যাবে । এর প্রভাবে সবাই অচেতন হয়ে পড়ে থাকবে। কি, কাজের জিনিস তো  ?

     দারুণ কাজের জিনিস। আপনি একজন জিনিয়াস। 

    থ্যাঙ্ক ইউ। তবে এটা পুরোটা করতে আমার একটু সময় লাগবে। আর একজন ভালো কম্পিউটার জানা লোক আমার দরকার। 

       সে পেয়ে যাবেন। বলে অজয় সুমিতকে ডেকে পাঠালো। 

      সুমিত আসতে অজয় তাকে বলল অতীশকে সাহায্য করতে। 

     আচ্ছা রাজামশাই। বলল সুমিত। 

     আর ওই রবিনসন লোকটাকে খুব একটা সুবিধের বলে মনে হচ্ছে না। বলল অতীশ। 

    ঠিক আছে, ওকে আমি চোখে চোখে রাখছি। আমি এখন আসি। কিছু দরকার হলে বলবেন। 

     অজয় চলে যেতে অতীশ হাসিমুখে তাকিয়ে রইলো সুমিতের দিকে। 

     আপনি শুনলাম সায়েনন্টিস্ট । 

     হ্যাঁ, ওই আর কি। একটু কফি আনতে বলো তো। 

    বলছি। 

     একটু পরে শার্দুল কফি নিয়ে এলো। অতীশ তাকে বলল, তা তোমার কি পোস্ট জুটলো,  বিদুষকের?

      কিছু না বলে চলে গেল শার্দুল। 

     এসো, এবারে একটু কাজকর্ম করা যাক।


( আগামী সংখ্যায়)




************************************"**************************************************************



প্রভাত ভট্টাচার্য  

তিনি সব্যসাচী--- এক হাতে সামলান চিকিৎসকের গুরুভার দায়িত্ব আর এক হাতে ফোটান সাহিত্য সৃষ্টির ফুল। দ্য হার্ট, মিশন পসিবল, মাই ডটার, রাজবাড়িতে রক্তপাত , ডিটেক্টিভ সূর্য এবং কবিতা সংকলন - কাগজের মানুষ এবং ফিনিক্স পাখি তাঁর উজ্জ্বল সাহিত্যসৃষ্টি । সম্প্রতি প্রকাশিত তাঁর  তিনটি ভিন্ন ধরনের উপন্যাস - দশভুজা, কাগজের মানুষ ও মায়াবী গ্রাম। এছাড়াও তাঁর আর একটি মনভোলানো সৃষ্টি 'গুহা মানবের ডায়েরি'  





কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন