বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬

সন্দীপন গঙ্গোপাধ্যায়

 



                 

সন্দীপন গঙ্গোপাধ্যায় * দুটি কবিতা 







আয়োজন


একটা হলুদ বিকেল রেখেছি তোমার জন্য । 


রাতের জ্যোৎস্না ঘর অন্ধকার দেখলেই 

ঢুকে পড়তে চায় 

সেও তো তোমারই জন্য । 


এই যে ঠিকানা বিহীন অচেনা রাস্তা 

চলে গ্যাছে আমার বাড়ির সামনে দিয়ে 

এর ধূলো অধীর অপেক্ষায় রয়েছে 

তোমার রাঙা দুটো পায়ের স্পর্শের জন্য। 


এখানে বাউল আসে না 

এখানে নদী বাঁধা শ্যাওলায় 

এখানে ফুল ফুটলেও 

গন্ধ নিজের কাছে রাখে  

এখানে বসন্ত প্রতি ঋতুতে খোঁজ নেয় 

কেউ এলো কি না ! 


এত সব আয়োজন 

বৃথা যাবে ----- বলো !! 













দিনলিপি  


অন্ধকার দাঁড়িয়ে আছে 

বাসস্টপে 

পেটে তার ক্ষুধার জ্বালা 


বৃষ্টি এলেই ধুঁয়ে যাবে তার 

রক্তের স্রোত  । 













************************************************************************************************************



সন্দীপন গঙ্গোপাধ্যায় 

১৯৮৫ সাল থেকে লেখালেখি শুরু। বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিনে লিখে থাকেন । দৈনিক বসুমতী, উত্তরবঙ্গ সংবাদ, আজকাল -এ একসময় নিয়মিত লেখা প্রকাশ হত। শুকতারায় গল্প প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় হয়েছিলেন। এখন স্থানীয় পত্র পত্রিকায় লিখে থাকেন ।

রবীন বসু








রবীন বসু * দুটি কবিতা 


ফিরে এসো ঘরে 



যথেষ্ট হয়েছে, এইবার ফিরে এসো ঘরে 

এত যে বাউন্ডুলেপনা, ছন্নছাড়া দূরে দূরে থাকা 

সব আজ বন্ধ করো,  ফিরে এসো ঘরে।

যদি মানি ভুল ছিল, তা কি শুধু আমার দায়?

তোমার তাতে দোষ কিছু ছিল না একটুও?

ঘরেতে আগুন দিলুম— ইন্ধন কে এনে দিল!

দু’ জনেই পুড়ে মরি, দু’ জনেই ভস্ম মাখি ছাই

দুই ত্বক জ্বলে গেল, দুটি ভিন্ন অনুভব ভয় 

আগুন তো এক! জ্বলনের সর্বনাশ ঘোর!


যথেষ্ট হয়েছে, এইবার ফিরে এসো ঘরে। 

এসে দেখো, পরিপাটি সাজানো সংসার

ঠান্ডাজল, যত্ন নিয়ে অপেক্ষা করে। 

অনুতপ্ত অশ্রুজল, বুকে ব্যথা—

তোমার আসার আশায় সারারাত 

জেগে আছে, দরজায় খিলও দেয়নি!





















ক্ষমাভিক্ষা



কি করে বলব আমি! কি করে স্বীকার করি আজ!

মেরুদণ্ড বন্ধক রেখে কাপুরুষ পালিয়ে এসেছি—

দায়িত্ব নিতে ভয় পাওয়া ভীতু সুচতুর এক প্রেমিক 

তোমাকে পথের পাশে দাঁড় করিয়ে, কার্যত ফেলে

আমি রং বদল করে লুকিয়েছি লোকালয়ে। যদি 

খুঁজে পাও, জুতসই একটা উত্তর খুঁজতে খুঁজতে 

এতদিন চলে গেল! কতটা দূরে যে চলে এলাম!

তুমি কি এখনও আমার কথা মনে করো? নাকি ঘৃণা আর কষ্টে ভুলে গেছ সবকিছু? মুখ ঘুরিয়ে 

নিয়েছ আমার স্মৃতি থেকে! আমি কিন্তু পারিনি 

লজ্জা আর সংকোচে অনুতপ্ত হতে হতে প্রত্যহ 

খুঁজে যাই পুরনো পথঘাট কলতলা নদীর পাড়

কোথায় যে আছো তুমি? পুরোনো ঠিকানা বদলে 

ফেলেছ? নতুন ঠিকানার খোঁজে রাত্রিদিন হন্যে 

হয়ে এপথ সেপথ, গ্রাম নগর চষে চলেছি, যদি একবার দেখা পাই, ক্ষমাভিক্ষা চেয়ে নেব হাতে!





  

**********************************************************************

                           

                            রবীন বসু 


জন্ম ১৯৫৮ দক্ষিণ ২৪ পরগনা। পিতা প্রমথনাথ ও মাতা রাধারানী বসু। কলেজে পড়ার সময় থেকেই লেখালেখি শুরু। প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ ৪, উপন্যাস ২, কবিতার বই ১২,  কাব্যোপন্যাস ১, সম্পাদিত গ্রন্থ ৪। গল্পের জন্য পেয়েছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা সেরা গল্পকার ১৯৮৭, মহাশ্বেতা দেবী স্মৃতি পুরস্কার ২০১৮, ধ্বজাধারী স্মৃতি পুরস্কার ২০১৮, প্রভাত কুমার সরকার স্মৃতি পুরস্কার ২০১৯। দুটি জীবনকৃতি সম্মাননা ২০১৯, ২০২০। সম্প্রতি ‘দ্রিমি দ্রিমি নৃত্য হবে’ কাব্যগ্রন্থের জন্য পেয়েছেন কবি রমেন্দ্রকুমার আচার্যচৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০২৩ ও ‘নির্জন সভ্যতার মার্চমাস’ কাব্যগ্রন্থের জন্য অন্নদাশঙ্কর রায় স্মৃতি সম্মাননা ২০২৩। নবপ্রভাত সাহিত্য সম্মাননা ২০২৪, নীলাক্ষর সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫, কবিতার আলো কবি-সম্মান ২০২৪।





বিকাশ চন্দ





বিকাশ চন্দ  * দুটি কবিতা 

আমার ছায়াকেও


মৃত্যু আর মুহূর্ত ছুঁয়ে আছে পরস্পর 

চলে যাওয়া পথের চিহ্নে

কোনো দায় নেই

কোন দায় নেই ছায়া দেখে

মানুষ চেনায় মানুষ 

আমার ছায়াকেও


এ পথে কেউ গান গাইতে গাইতে

হারিয়ে গেছে অক্ষয় বলয়ে

চিনচিনে শিরদাঁড়ায় কেউ খোঁজে 

ফকিরের গান 

বাউলের সুর

কেবল রাস্তার গাছগুলোর ছায়ায় 

নিরন্তর সুর তুলে 

পাখিদের সময় যেমন সকাল থেকে দুপুর


পৃথিবীর অভিমান নেই জল মাটি জানে 

মানুষের রক্তে ঘামে ঘ্রাণে জমে আছে অভিমান

অভিমান অপেক্ষায় খোঁজে স্বাধীকার 

দিনের সূর্য গ্রহণ কিংবা রাতের চাঁদের বলয়

কেউ বলে বরাভয় 

বুঝতে পারি প্রতিদিন কেবলই আত্মক্ষয়




মরীচিকা ফেলে গেছে


কোথাও নদী-চিহ্ন নেই 

কেবল শুধু চোখে মুখে ঝাপটা দেয়

বালি আর জলের আর্তনাদ 

অসহ্য কামনার ক্রোধে

বিন্দু বিন্দু রক্ত চোয়াচ্ছে মুখে

মরা শাঁখের আওয়াজের মতো 

অপেক্ষায় গৃহস্থ দালান জলের অপেক্ষায়


গরম পিঠে বানাচ্ছে ঘর গেরস্ত ফেলে

বে-পাড়ায় গেছে বৌ

শরীরের গন্ধ পুড়ছে উনুনে

নাভিকুণ্ড খুঁড়ে খাচ্ছে শরীরী উদ্দাম

ভাসান বেলায় ভেসে গেছে সব

এখনো মাঠে হেমন্তের মরা শীতে শুয়ে 

লজ্জা বস্ত্রহীন ব্যথাহত ফসল


নদী খাতে কেউ এঁকেছিল জলের চিত্রপট 

উবুড় নৌকা আঘাটায় শুয়ে মৃত শরীরে 

ধু ধু রোদে বালি খুঁড়ে যদি মেলে জল

দোর্দন্ড ক্ষমতায় রোদের অহমিকা 

ফেলে গেছে সকল অনাবৃত মরীচিকা 

সাক্ষী মাঝি গান সংসার দরিয়া




*******************************************************************************


                             বিকাশ চন্দ 

 জন্ম ১লা এপ্রিল ১৯৫৫
লেখা শুরু ১৯৭২ থেকেই। গল্প, কবিতা, কাব্য নাটক,
গল্প, প্রবন্ধ নিয়ে এখনো জীবনচর্যা। প্রকাশিত 
কাব্যগ্রন্থ  :  বীজে অঙ্কুরে বিনষ্ট শিকড়ে ২০০৭,
বর্ণবিহীন বর্ণবিকাশ ২০১৬, ঋতু বদলের ছবি ২০১৭,
আকাশ গঙ্গায় নক্ষত্র ভেলা ২০১৭, বিষণ্ণ দ্রোহ কাল ২০১৮,
শূন্য শরীরে স্থপতির হাত ১৪২৫, সাদা ফুলের কফিন ২০২০,
অনুচ্চারিত শব্দের কোলাহল ১৪২৭, হৃদয় বাঁচে আত্মার 
আড়ালে ১৪২৮, প্রকাশ অপেক্ষায় : কাব্য নাটক "ঝিনুকের
চোখে মুক্তা জল " কাব্যগ্রন্থ "কোন যতি চিহ্ন নেই, শরীরী দেয়ালে আলোর স্তব ২০২২,
জন্মের হৃদপিণ্ডে জীবন আঁকি ২০২৩। 
 প্রকাশ অপেক্ষায় " ছেঁড়া মানচিত্রের চিঠি"। 
কাব্যনাট্য - ঝিনুকের চোখে মুক্ত জল ২০২১। 
কলম আঁকড়ে বেঁচে থাকার প্রয়াসেই কালাতিপাত।


পঙ্কজ মান্না





পঙ্কজ মান্না * দুটি কবিতা 


বোকা রোদ


দ্বিতীয়ার চাঁদের মতো তোমার নাগরিক ভুরুর কাতান

আমি তো ছাপোষা লোক,

রেশনের চালে কাঁকর বাছতে বাছতে অকালেই কুঁজো হয়ে

গেছি;

আমি আর আমার জীবন 

যেন সাগর সৈকতে শীতকালের বোকা বোকা রোদের উৎসব,

সকলেই গা গতর সেঁকে নিতে চায় 


আর বাকিটা ?

কবিতা নয়, নীরস গদ্যের ছুরি


ক্ষতমুখ দেখতে চেয়ো না











কিছুতেই কিছু মেলে না


হিসেব মেলে না জীবন খাতায়

কিছুতেই কিছু মেলে না


ধ্বংসের দিনে ডেকেছি তোমাকে 

গোপন সৃজনে ডেকেছি

অনাদরে যাও অঙ্গুরী ফেলে সে 

ছবিও বক্ষে রেখেছি


সহসা এ ভাবে শোক কাঁখে নিয়ে 

চৈত্রের মতো দাঁড়ালে 

সন্ন্যাসীবেলা, চোখে জলমেঘ, জমেছিল গূঢ় আড়ালে


এত যে ডাকছি, কেন যে আমার 

মৃত্যুর দিনে এলে না !


আতিপাতি খুঁজি স্মৃতির পুঁটলি, কিছুতেই কিছু মেলে না













****************************************************************************************************



পঙ্কজ মান্না

 জন্ম ১৯৫১ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুরের জঙ্গলমহলে কদমডিহা গ্ৰাম।
ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক।
সরকারি চাকরি শেষে এখন অবসরপ্রাপ্ত।
বর্তমানে কলকাতাবাসী।
কবিতার সাথে বসবাস ও সহবাস বিগত  প্রায় ৫০ বছর।
প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ৯ টি---
শূন্যতেই ফেরা * ডাকনাম ভালোবাসা * ক্লান্ত ধ্রুবতারাকে বলি * রং রুটে কতদূর যাবে* প্রাক্তন ফাল্গুন জানে * উজান হাওয়া * আট পংক্তির জীবনকথা * ছায়ার সাথে এ-ঘর ও-ঘর * আলোপাখি
শেষ প্রকাশিত "আলোপাখি"
কাব্যগ্ৰন্থ ১৪২৮ সালের পয়লা বৈশাখ। 
প্রকাশক- কবিপত্র প্রকাশ



কবিতা * শীলা দাশ

 




শীলা দাশ * দুটি কবিতা









ঝড়


একটা ঝড়ের প্রতীক্ষা করছিলাম।

আশ্চর্য কোথায় ঝড়?

গাছ উপড়ে যাওয়া,টুকটুক করে আম ঝরে পড়া,হু হু বাতাস 

ধুলোময় 

শিউরে ওঠা মাঝরাতে। 

কোথাও কিছু নেই, 

ধূ ধূ নিশ্চল নীরবতা

ধীর স্থির পৃথিবী।

তবে কি আমিই চঞ্চল সুদূরের পিয়াসী?

ডুবে যাওয়া চাঁদ শেষ আলো

দিয়ে গেল।তারারা তর্জনী মুখে গা ঢাকা দিলো।

ভ্রু কুঁচকে মরে যাচ্ছে মেঘেরা 

তবু অপেক্ষায় আছি ঝড়ের

হঠাৎ বুকের ভেতর ধড়পড়

তবে কি অন্তরীণ ছিল ঝড়?

মুঠোয় মরীচিকা রেখে

জ্বলে ওঠে হাজার ওয়াটের 

হলুদ সূর্যমুখী আলো

ব্যর্থতার বীজ থেকে জন্ম নেয় কমলা রঙের শস্যরেখা।













একটি অবিনশ্বর মুহূর্ত

  

এক একটি মুহূর্ত আসে

যখন আলো আর অন্ধকার

একাকার হয়ে যায় 

সেই অনির্বচনীয় মুহূর্তে

জীবন আর মৃত্যু খুব দ্রুত

পরস্পরের কাছে এসে

সব ভেদরেখা লুপ্ত করে দেয়

এই দৃশ্য একটি অবিনশ্বর মুহূর্ত 

জীবন মৃত্যু নিরপেক্ষ কালজয়ী

কোন স্বপ্ন অথবা দুঃস্বপ্ন

যদি বাস্তবের সাথে মিলিত হয় 

অথবা প্রতিরোধে লুপ্ত হয়

তখনই জন্ম হয় জীবন কিংবা

মৃত্যুর অতীত এই

আশ্চর্য বিস্ময়কর মুহূর্ত।




******************************************************************************************



 শীলা দাশ 

জন্ম ৪ জানুয়ারি ১৯৫২,বারাসাত
পিতৃভূমি বাংলাদেশ
শিক্ষা এম এ বাংলা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
অবসরপ্রাপ্ত রাজ্যসরকারি কর্মচারী
নিবাস বারাকপুর
পশ্চিমবাংলায় বিভিন্ন জেলাসহ কলকাতার
কিছু বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকাতে নানা কাব্যসংকলনে কবিতা প্রকাশিত হচ্ছে। 
প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ :
গাঢ় নীল অন্ধকারে * সময় ফুরোবার আগেই * রোদ মেলেছে পা * বিস্মরণে ২৫শে বৈশাখ * নাম দিলাম প্রত্যয় * সেদিন সূর্যাস্তে *পৃথিবীর বয়সিনী মেয়ে* প্রেমকাব্য ও সনেটগুচ্ছ * বইমেলায় প্রকাশিত-- নির্বাচিত কবিতা 




                                                                           

সম্পাদকীয়

 




সম্পাদকীয়

স্বরবর্ণ * ২৮ 

১ বৈশাখ ১৪৩৩ * ১৫ এপ্রিল ২০২৬ 

ষষ্ঠ বর্ষ * প্রথম সংখ্যা 


*********************************************

পাঁচ বছর আগে যে-সম্পাদকীয়টি দিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল স্বরবর্ণের, ষষ্ঠ বর্ষের প্রথম সংখ্যায় সেটিই রেখে দেওয়া হল।

**********************************************


" বিস্ময়ই দর্শনের জনক " প্লেটো বলেছিলেন। আজ নয় । যিশু খ্রিষ্টের জন্মেরও চারশো  বছর আগে । তারপর পৃথিবী কত পথ পেরিয়ে এল। " হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে " । বিরামহীন । বিশ্রামহীন । কিন্তু , কথাটা  আজও সমান সত্যি । যে কোনো সৃষ্টির পিছনে কাজ করে এই বিস্ময়বোধ । বিস্ময়বোধ থেকে আসে আবেগ, অনুভূতি । আবেগ ধরতে চায় ব্যাখ্যাতীতকে শিল্পীর তুলিতে, কবির কলমে । কবিতা কী সংজ্ঞা দিতে গিয়ে পরবর্তীকালে ওয়ার্ডসওয়ার্থও  বলবেন, "Poetry is the spontaneous overflow of powerful feelings : it takes its orogin from emotion recollected in tranquility." কিন্তু সেই tranquility  বা মনের প্রশান্তির স্থিতাবস্থা আসবে কেমন করে, বিস্ময়বোধই যদি কাজ না করে ।


 এই যে চিরপরিচিত পৃথিবী, যেখানে আমি রয়েছি, হাসছি, খেলছি , মুহূর্তকাল পরেই হয়ত আর আমার এখানে থাকা চলবে না " কখন যে গাঙচিল ছিড়ে ফেলে শালিকের প্রাণ "। প্রশ্ন এই, তাহলে কোথায় ছিলাম আমি, এই জন্মের আগে ? থাকব কোথায় এই জন্মের পরে ? থাকব না যে , সে তো ধ্রুব সত্য । কিন্তু সত্য এ-ও, আমি না থাকি, আমার সৃষ্টিরা থাকবে এই ধুলায়, মৃত্তিকায়, " যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে " । এমন স্থির বিশ্বাসে, বিস্ময়বোধকে অন্য মাত্রায়  উস্কে দিয়ে সুধীন্দ্রনাথও  বলেন " রুপ যে অশেষ ! হেথাকার ফুল এমনি ফুটিয়া রবে  / আমাদের মত কত বিহঙ্গ কত বিচিত্র ক্ষণ পতঙ্গ / লোভী তার সেই রূপের সঙ্গ / বসন্ত উৎসবে লইবে বিদায় / ধরণীর ফুল এমনি ফুটিয়া রবে । "


  সৃষ্টির এমনই অমলিন ফুল তুলতে চায় স্বরবর্ণ। চর্বিতচর্বণ নয় । এঁটোকাটা নয় । সৃষ্টির অবিনশ্বর ফুল তোলার সেই অভিপ্রায়ে তার যাত্রা । কয়েকটি নির্দিষ্ট পথে । গল্প-কবিতা- প্রবন্ধের চেনা পথ তো রয়েইছে । সেই সঙ্গে রয়েছে অন্তত দু'টি নতুন বিভাগ । চেনা ছকের বাইরে । একটি "কবিতা উপন্যাস " যেখানে কবিতা ও উপন্যাসের মূল স্বর মিলেমিশে পৌঁছতে চাইছে অন্য এক উচ্চতায় , ভিন্ন  মাত্রায়, ভিন্ন  আঙ্গিকে ।  আরেকটি বিভাগ " তোমায় খুঁজে ফিরি " যেখানে আমরা খুঁজবো জীবন-মৃত্যুর অমীমাংসিত জিজ্ঞাসা । যদিও দুইয়েরই লক্ষ্য শিল্পের মধ্য দিয়ে স্বরবর্ণে পৌঁছনো।


এবার একটু চোখ ফেরাই চলমান সময় স্রোতে। সময়ের মতো উচিত শিক্ষক আর নেই, বলাইবাহুল্য । কখনো পার্থিব কোন ঘটনার অভিঘাতে, সে আমাদের দুটো চোখের বদলে হাজারটা চোখ খুলে দেয়। কখনো হাজারটা দূরে থাক, ঈশ্বরদত্ত দুটো  চোখকেই একেবারে দৃষ্টিহীন করে রাখে । যেমন রাখছে নির্বাচনের মুহূর্তে । দল বদল, ভোল বদলের সময় । অবশ্য শুধু নির্বাচনই  বা কেন, ব্যক্তিজীবনে কি সমাজজীবনে, অনেক সময়েই  আমরা দৃষ্টিহীন হয়ে যাই, অন্ধ ধৃতরাষ্ট্র সাজি, চোখের সামনে ন্যায়-নীতি -মূল্যবোধ বিসর্জিত হতে দেখলেও। আবার হাজারটা চোখ খুলে দেয় কোন কোন ঘটনা । যেমন দিল বিভীষিকাময় মহামারী কোভিড নাইনটিন । এই অভূতপূর্ব প্যান্ডেমিক  ভিতরে-বাইরে সহস্র চোখ খুলে দিল আমাদের। কী দেখলাম আমরা ? দেখলাম মৃত্যু মিছিল সমস্ত পৃথিবী জুড়ে । দেখলাম  লকডাউন সোশ্যাল ডিসটেন্স মাস্ক স্যানিটাইজ অর্ধাহার অনাহার পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু ইত্যাকার  অসহনীয় ঘটনাবলী । সাক্ষী হয়ে রইলাম এক ভয়াবহ দুঃসময়ের, যেরকম দুঃসময় এর আগে,  জ্ঞানত আমরা কোনদিন দেখিনি ।


 তবু আমরা বিশ্বাস রাখি, এই দুঃসময় কেটে যাবে, পৃথিবী আবার শান্ত হবে । সেই আশা নিয়ে আমরা দাঁড়াব মানুষের পাশে। মিথ্যা বুলিতে নয় । শিল্প-সাহিত্যের অমোঘ শুশ্রূষা নিয়ে । কেননা আমরা বিশ্বাস করি " Pen is mighter than sword  " যা আমরা দেখেছি ফরাসি বিপ্লবে, রুশ বিপ্লবে  কি আমাদের দেশে রামমোহন- বিদ্যাসাগর - মধুসূদনে । কবির সুরে সুর মিলিয়ে আমরা বলব, " এ কোন অন্ত্যেষ্টি যার লক্ষ বছর পরেও / আমাদের কোন ইতিহাস থাকবে না ! / আর বিবাহ একটা রাষ্ট্রের অরণ্যে স্বপ্ন দেখবে / নদী বেঁচে উঠছে ... তীরে তীরে ঢেউ লাগছে / শব্দ হচ্ছে...অবিরল শব্দে শব্দে লুন্ঠনের শস্য ভাসে... /  কতটা জরুরি তবে একটা হাত থেকে আর একটা হাতের দিকে যাওয়া " ( সব্যসাচী মজুমদার )। হীন রাজনীতি দলাদলির উর্দ্ধে, এই কঠিন সময়ে একটা হাত আর একটা হাতের দিকে এগিয়ে যাবে মমতায়, ভালোবাসায় এটাই কাম্য ।


 পরিশেষে কৃতজ্ঞতা জানাই সেই সব কবি-লেখকদের, যাঁরা তাঁদের মূল্যবান রচনা দিয়ে  সমৃদ্ধ করলেন বর্তমান সংখ্যাটিকে । আগামীতে যেমন তাঁদের প্রশ্রয় পাব, তেমনই , প্রিয় পাঠক, আমাদের পথ চলায় আপনাদেরও সঙ্গে পাব, আশা ।


                                    সম্পাদক --- স্বরবর্ণ 


**********************************************

স্বরবর্ণ *২৮ / নববর্ষ সংখ্যায় যাঁরা লিখলেন

 



নববর্ষ * ১৪৩৩ 

ষষ্ঠ বর্ষ * প্রথম সংখ্যা 


যাঁরা লিখছেন----


কবিতা 

শীলা দাশ * পঙ্কজ মান্না * তুষার ভট্টাচার্য * বিকাশ চন্দ * রবীন বসু * সন্দীপন গঙ্গোপাধ্যায় * নিমাই জানা * প্রবীর কোনার * প্রজ্যোতি গড়াই * লিটন শব্দকর * হামিদুল ইসলাম সুশান্ত সাহা * জবা ভট্টাচার্য * সন্দীপ ঘোষ * সৃশর্মিষ্ঠা * শিবালোক দাস  রাসবিহারী ঘোষ * সাধন চৌধুরী * জয়িতা ভট্টাচার্য * যুগল কিশোর দাস অধিকারী * শম্পা সামন্ত * নিশীথ ষড়ংগী * উৎপলেন্দু পাল * রহিত ঘোষাল * ছন্দা দাম * তীর্থঙ্কর সুমিত * প্রাণজি বসাক * তাপস কুমার দে * সুরজিৎ চট্টোপাধ্যায় 


গুচ্ছ কবিতা 

সুধাংশু রঞ্জন সাহা * দীপংকর রায় * আব্দুল রহমান * অর্ণব সামন্ত * গৌতম কুমার গুপ্ত  গৌতম রায় * দণ্ডী কুমার * রিজভী হাসনাত * পার্থসারথি মহাপাত্র * রতন পালিত 


ছোট গল্প 

কল্যাণ ভট্টাচার্য * দেবাশীষ মুখোপাধ্যায় * প্রদীপ কুমার দে 


উপন্যাস * কথা দিয়েছিলাম হেমন্তের নিয়রে * দীপংকর রায় 

রহস্য রোমাঞ্চ কাহিনি (ধারাবাহিক) * প্রভাত ভট্টাচার্য

প্রসঙ্গঃ স্বরবর্ণ

** পত্রিকায় ব্যবহৃত চিত্রাবলি নেট থেকে সংগৃহীত 

বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬

স্বরবর্ণ * ২৮




নববর্ষ * ১৪৩৩ 

ষষ্ঠ বর্ষ * প্রথম সংখ্যা 


যাঁরা লিখছেন----


কবিতা 

শীলা দাশ * পঙ্কজ মান্না * তুষার ভট্টাচার্য * বিকাশ চন্দ * রবীন বসু * সন্দীপন গঙ্গোপাধ্যায় * নিমাই জানা * প্রবীর কোনার * প্রজ্যোতি গড়াই * লিটন শব্দকর * হামিদুল ইসলাম সুশান্ত সাহা * জবা ভট্টাচার্য * সন্দীপ ঘোষ * সৃশর্মিষ্ঠা * শিবালোক দাস * রাসবিহারী ঘোষ * সাধন চৌধুরী * জয়িতা ভট্টাচার্য * যুগল কিশোর দাস অধিকারী * শম্পা সামন্ত * নিশীথ ষড়ংগী * উৎপলেন্দু পাল * রহিত ঘোষাল * ছন্দা দাম * তীর্থঙ্কর সুমিত * তাপস কুমার দে 


গুচ্ছ কবিতা 

সুধাংশু রঞ্জন সাহা * দীপংকর রায় * আব্দুল রহমান * অর্ণব সামন্ত * গৌতম কুমার গুপ্ত * গৌতম রায় * দণ্ডী কুমার * রিজভী হাসনাত * পার্থসারথি মহাপাত্র * রতন পালিত 


ছোট গল্প 

কল্যাণ ভট্টাচার্য * দেবাশীষ মুখোপাধ্যায় * প্রদীপ কুমার দে 


উপন্যাস * কথা দিয়েছিলাম হেমন্তের নিয়রে * দীপংকর রায় 

রহস্য রোমাঞ্চ কাহিনি (ধারাবাহিক) * প্রভাত ভট্টাচার্য

প্রসঙ্গঃ স্বরবর্ণ