বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬

বিকাশ চন্দ





বিকাশ চন্দ  * দুটি কবিতা 

আমার ছায়াকেও


মৃত্যু আর মুহূর্ত ছুঁয়ে আছে পরস্পর 

চলে যাওয়া পথের চিহ্নে

কোনো দায় নেই

কোন দায় নেই ছায়া দেখে

মানুষ চেনায় মানুষ 

আমার ছায়াকেও


এ পথে কেউ গান গাইতে গাইতে

হারিয়ে গেছে অক্ষয় বলয়ে

চিনচিনে শিরদাঁড়ায় কেউ খোঁজে 

ফকিরের গান 

বাউলের সুর

কেবল রাস্তার গাছগুলোর ছায়ায় 

নিরন্তর সুর তুলে 

পাখিদের সময় যেমন সকাল থেকে দুপুর


পৃথিবীর অভিমান নেই জল মাটি জানে 

মানুষের রক্তে ঘামে ঘ্রাণে জমে আছে অভিমান

অভিমান অপেক্ষায় খোঁজে স্বাধীকার 

দিনের সূর্য গ্রহণ কিংবা রাতের চাঁদের বলয়

কেউ বলে বরাভয় 

বুঝতে পারি প্রতিদিন কেবলই আত্মক্ষয়




মরীচিকা ফেলে গেছে


কোথাও নদী-চিহ্ন নেই 

কেবল শুধু চোখে মুখে ঝাপটা দেয়

বালি আর জলের আর্তনাদ 

অসহ্য কামনার ক্রোধে

বিন্দু বিন্দু রক্ত চোয়াচ্ছে মুখে

মরা শাঁখের আওয়াজের মতো 

অপেক্ষায় গৃহস্থ দালান জলের অপেক্ষায়


গরম পিঠে বানাচ্ছে ঘর গেরস্ত ফেলে

বে-পাড়ায় গেছে বৌ

শরীরের গন্ধ পুড়ছে উনুনে

নাভিকুণ্ড খুঁড়ে খাচ্ছে শরীরী উদ্দাম

ভাসান বেলায় ভেসে গেছে সব

এখনো মাঠে হেমন্তের মরা শীতে শুয়ে 

লজ্জা বস্ত্রহীন ব্যথাহত ফসল


নদী খাতে কেউ এঁকেছিল জলের চিত্রপট 

উবুড় নৌকা আঘাটায় শুয়ে মৃত শরীরে 

ধু ধু রোদে বালি খুঁড়ে যদি মেলে জল

দোর্দন্ড ক্ষমতায় রোদের অহমিকা 

ফেলে গেছে সকল অনাবৃত মরীচিকা 

সাক্ষী মাঝি গান সংসার দরিয়া




*******************************************************************************


                             বিকাশ চন্দ 

 জন্ম ১লা এপ্রিল ১৯৫৫
লেখা শুরু ১৯৭২ থেকেই। গল্প, কবিতা, কাব্য নাটক,
গল্প, প্রবন্ধ নিয়ে এখনো জীবনচর্যা। প্রকাশিত 
কাব্যগ্রন্থ  :  বীজে অঙ্কুরে বিনষ্ট শিকড়ে ২০০৭,
বর্ণবিহীন বর্ণবিকাশ ২০১৬, ঋতু বদলের ছবি ২০১৭,
আকাশ গঙ্গায় নক্ষত্র ভেলা ২০১৭, বিষণ্ণ দ্রোহ কাল ২০১৮,
শূন্য শরীরে স্থপতির হাত ১৪২৫, সাদা ফুলের কফিন ২০২০,
অনুচ্চারিত শব্দের কোলাহল ১৪২৭, হৃদয় বাঁচে আত্মার 
আড়ালে ১৪২৮, প্রকাশ অপেক্ষায় : কাব্য নাটক "ঝিনুকের
চোখে মুক্তা জল " কাব্যগ্রন্থ "কোন যতি চিহ্ন নেই, শরীরী দেয়ালে আলোর স্তব ২০২২,
জন্মের হৃদপিণ্ডে জীবন আঁকি ২০২৩। 
 প্রকাশ অপেক্ষায় " ছেঁড়া মানচিত্রের চিঠি"। 
কাব্যনাট্য - ঝিনুকের চোখে মুক্ত জল ২০২১। 
কলম আঁকড়ে বেঁচে থাকার প্রয়াসেই কালাতিপাত।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন