বিকাশ চন্দ * দুটি কবিতা
আমার ছায়াকেও
মৃত্যু আর মুহূর্ত ছুঁয়ে আছে পরস্পর
চলে যাওয়া পথের চিহ্নে
কোনো দায় নেই
কোন দায় নেই ছায়া দেখে
মানুষ চেনায় মানুষ
আমার ছায়াকেও
এ পথে কেউ গান গাইতে গাইতে
হারিয়ে গেছে অক্ষয় বলয়ে
চিনচিনে শিরদাঁড়ায় কেউ খোঁজে
ফকিরের গান
বাউলের সুর
কেবল রাস্তার গাছগুলোর ছায়ায়
নিরন্তর সুর তুলে
পাখিদের সময় যেমন সকাল থেকে দুপুর
পৃথিবীর অভিমান নেই জল মাটি জানে
মানুষের রক্তে ঘামে ঘ্রাণে জমে আছে অভিমান
অভিমান অপেক্ষায় খোঁজে স্বাধীকার
দিনের সূর্য গ্রহণ কিংবা রাতের চাঁদের বলয়
কেউ বলে বরাভয়
বুঝতে পারি প্রতিদিন কেবলই আত্মক্ষয়
মরীচিকা ফেলে গেছে
কোথাও নদী-চিহ্ন নেই
কেবল শুধু চোখে মুখে ঝাপটা দেয়
বালি আর জলের আর্তনাদ
অসহ্য কামনার ক্রোধে
বিন্দু বিন্দু রক্ত চোয়াচ্ছে মুখে
মরা শাঁখের আওয়াজের মতো
অপেক্ষায় গৃহস্থ দালান জলের অপেক্ষায়
গরম পিঠে বানাচ্ছে ঘর গেরস্ত ফেলে
বে-পাড়ায় গেছে বৌ
শরীরের গন্ধ পুড়ছে উনুনে
নাভিকুণ্ড খুঁড়ে খাচ্ছে শরীরী উদ্দাম
ভাসান বেলায় ভেসে গেছে সব
এখনো মাঠে হেমন্তের মরা শীতে শুয়ে
লজ্জা বস্ত্রহীন ব্যথাহত ফসল
নদী খাতে কেউ এঁকেছিল জলের চিত্রপট
উবুড় নৌকা আঘাটায় শুয়ে মৃত শরীরে
ধু ধু রোদে বালি খুঁড়ে যদি মেলে জল
দোর্দন্ড ক্ষমতায় রোদের অহমিকা
ফেলে গেছে সকল অনাবৃত মরীচিকা
সাক্ষী মাঝি গান সংসার দরিয়া



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন