শিবালোক দাস * দুটি কবিতা
যুদ্ধাপরাধের পর
একটি যুদ্ধাপরাধের পর বুক ভেঙে ওঠে না চাঁদ,
ওঠে না ঢেউ…
তবুও নিভৃতে কার জন্য নরম নোনাপথ ছড়িয়ে রাখি ?
উর্ধ্বমুখী স্বরের কাছে রাখি ফুল?
অথচ যা রক্তিম, তাই বড় হয়ে ওঠে।
একটি যুদ্ধাপরাধের পর শব্দহীনতায় ভেসে
ওঠে ঘাসের পরিণাম, রূপোলী হয়ে ওঠে ছাই..
তবুও কেন কবিতা লিখি, পাল্টে ফেলি ছেঁড়া জামা ?
পায়ের কাছে কেন এসে বসে থাকে ছিন্নমূলের পাখি ?
অথচ এইমাত্র শূন্য থেকে শূন্যে উড়েছে বাতাস ও তার
মাংসাশী ঘ্রাণ, পুড়ে যাওয়া ডানার রৌদ্রে দেখো ফুটে উঠেছে
কৃষ্ণাক্ষর…
তাদের কেউ বলেনি চুম্বনে ক্ষত মুছে দিতে !
শঠ
প্রার্থনায় ছড়িয়ে পড়েছে রোমাঞ্চ তোমার,
অথচ প্রায়শই শীতল হবে জেনে পুনরায়
যে রোমন্থনে আমাকে ছুঁয়ে দিলে রোমশ মূলে,
মুঠো প্রান্তে উড়িয়ে দিয়েছ বুদবুদ ও স্তিমিত
বিস্ময়, ভেঙে দিইনি…
ভেঙে দিইনি অস্থি-মজ্জা, সরিয়ে রাখিনি কালপুরুষের
টান—
কিন্তু যাবতীয় উত্থানে শরীর খুলে রেখে যে মধ্যরাত
স্পর্শ করো বিগ্রহে, ডুবিয়ে রাখো লবণ-স্বাদ,
কেন বলো তাদের শঠ হতে ? মণিময় স্থিরতায় ?
গোপনে ক্ষীণ হয়েছে অলক্ষ্যে ঈশ্বর আমার…
ছিঁড়ে গিয়েছে, পবিত্র শ্বেতে।



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন