প্রবীর কোনার * দুটি কবিতা
কেউ বোঝে না
বিরল জাতের একখানা মেঘ,অন্যরকম
তালগাছেরা এমন সময় হেঁট করে ঘাড়
আমার পাড়ার যে মেয়েটি তোমার মতন
মেঘের দেশে সেই মেয়ে হয় ভাষ্যকার।
বৃষ্টি কাতর নদীর তীরে রওনা দিলাম
সেই মেয়েটি খুব জানে গো মেঘের খবর
আকাশ থেকে অসংখ্যবার মেসেজ পেলাম
তৃষ্ণা ভারে গান হয়ে যায় তোমার শহর।
শেষ চিঠিতে বানান ভুলের বদভ্যাসে
হয়তো তুমি ঠাহর করো বিদ্যে আমার
সময় যখন ফুলের তখন নানান বেশে
সব ঋতুরাই ইচ্ছে জানায় স্বপ্ন বোনার।
যে পথেরা মোড়ের আগেই ভীষণ মরে
গায়ে ধুলো দুঃখ রঙের এক কাহিনি
যে পোড়া দাগ কাঠের উনুন আড়াল করে
তোমার মতো কে বোঝে গো কমলিনী?
ঝড় এক সমাজকর্মী
আজকাল ঝড়ও সামাজিক
আগে থেকেই চলে আসছে সে দরদী মন নিয়ে
উঠোনে পিঁড়ি রাখতে ভুলে যায় মা
হয়তো কিছু লক্ষ্য করেছে, হয়তো কিছু নির্দিষ্ট গুণ তার
কাউকে বলিনি আমি, কী মনে হল একবার রাস্তার দিকে যাই
ধুলো,দুঃখপাতার যানজট ঝড় এসে না সরালে
তার তৃষ্ণার্ত মুখে কে জলপথ গড়ে দেবে বলো
গাছই বা কী করে দেখাবে তার বকুল হাসি
ঘরের গুমোট বাতাসে শ্বাসকষ্ট হয় আমাদের
শরীর খারাপ লেগেই আছে সবার একরকম
সন্ধে কাশি, রাত জাগরণ, স্বল্পমেয়াদী মেঘ
আজ যেভাবে ঝড়টা এল আর খিড়কি দরজা দিয়ে টেনে
নিয়ে চলে গেল ভাড়াটে বাতাসটাকে
আমার খুব শীত শীত করছিল তখন
তারপর থেকে আর কালবৈশাখী নামে ডাকিই না ঝড়কে
ঘরে বাইরে সে আজ সমাজকর্মী।
***********************************************************
জন্ম পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়না থানার রামবাটী গ্রামে । পেশায় শিক্ষক । সাহিত্য তার কাছে অবসরের শুশ্রূষা ,তার নিকটতম উপশম ।





কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন