বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬

প্রাণজি বসাক





প্রাণজি বসাক * দুটি কবিতা


অশ্বজন্ম 


যতদূর মনে পড়ে পাসওয়ার্ড ছিল রতনলাল

সঙ্গে কয়েকটা ডিজিট সংখ্যাগুলো মনে নেই

অথচ ভাঙা পাসওয়ার্ড নিয়েই   বাসে বসলে

ছিঁড়ে ফেললে ফলিত সৌরভ ও রাষ্ট্রের বানান

এক আশ্চর্য মানুষের নাম হতে পারে দেবাশীষ


চোখ বন্ধ  মুখ বন্ধ রেখে শুনতে পাও খুরধ্বনি

মনে হয় পৃথিবীর সব মানুষ পেয়েছে অশ্বজন্ম

অন্য কোনো গ্যালাক্সির অপেক্ষায় এই মুহূর্তে

যতদূর মনে পড়ে পাসওয়ার্ড ছিল   রতনলাল

এক আশ্চর্য মানুষের নাম হতে পারে দেবাশীষ













প্রাণজি বসাক এর কবিতা


আত্মহত্যা 



মন করে    আত্মহত্যা করি

আমি-কে ঝুলিয়ে ঝুলে পড়ি 

ডিপ্রেশন একটি অসহজ শব্দ

অসঙ্গতি তুলে    মনখারাপ

সারাটা বিকেল বোঝাপড়া


পুরান রাস্তায় নেমে বুঝি

শহরে আমার একটি নাম

পুলিউশন খেয়ে মরে আছে

খুঁজি আমার অনুপযুক্ত শব

রেখা টেনে বের করি আমি-কে


গুণন করে দেখি    হেরে গেছি 

সিঁড়ি ভেঙে দুঃখকে ভাগ করা

অচেনা দুপুরের ইতিহাস কাঁপে

দরজার ওপাশে শীর্ণ হাত দুটো

মন করে আত্মহত্যা হনন করি 












*************************************************************************




প্রাণজি বসাক 

পেশায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসক ও নেশায় কবি। হিন্দি বলয়ে বাংলা ভাষার কবি। কবিতাই একমাত্র জীবনের ওষধি, একথায় বিশ্বাসী। স্কুল ও কলেজ জীবন কেটেছে উত্তরবঙ্গের তুফানগঞ্জ তথা কোচবিহার শহরে। চাকরিসূত্রে রাজধানী দিল্লিবাসী প্রায় ৪৩ বছর। আইআইটি দিল্লির ক্যাম্পাসে এবং আশেপাশে কাটালেন দীর্ঘ জীবন। কবিতা আড্ডা জমে ওঠে এখান থেকেই। খোলবাদক পিতা ছিলেন তার কবিতার প্রেরণা। মূলত লিটম্যাগের কবি। কবিতা ছোটোগল্প অণুগল্পে তিনি স্বতঃস্ফূর্ত। দেশবিদেশে বহুবার সম্মানিত। বাংলা কবিতা নিয়ে বহুবার বাংলাদেশ এবং দুবার ইউরোপ ভ্রমণ করেছেন। রূপসী বাংলা পুরস্কার, বনানী পুরস্কার , ভারত- বাংলাদেশ সাহিত্য সংহতি পুরস্কার, শৃন্বন্তু সারস্বত সম্মান, উত্তর বাংলা পুরস্কার,তিনবাংলা সম্মাননা  উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন সময়ে তিনটি পত্রিকা এবং দুটি কাব্যসংকলন সম্পাদনা করেছেন। তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ২২ টি।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন