জয়িতা ভট্টাচার্য * দুটি কবিতা
ছায়া
একদিন আমিও ভেবেছিলাম। হুবহু
তোমার মতো। চিরঅক্ষয় বট হবো।
সাজানো সরোবরে। পদ্মের মতো করে
ডুব দেবো। সুসুপ্তি শরীর। জলতলে।
একদিন আশরীর। ছায়া হয়ে। মিশে
যাব ফসলকাটা মাঠে।সাবলীল।
এই গ্রহে ।ভরিয়ে দেব আমি শস্যের বীজ।
এখন ঘাসের মাঠে। পড়ে আছে ফেলে
যাওয়া খোলস। তোমার।বাতাস ।নেই।
নদীর ওপারে যাওয়া বুঝি জরুরি ছিল এত!
পড়ে আছে শঙ্খ লাগা দাগ।
এখানে সেখানে।অহংকারী রাত।
অক্ষয় বট আমি হতে পারিনি।
শুধু খসখসে ডানার তলায়। ঢেকে রাখি।
বিষাদের জটিল সূত্রগুলো।গোপনে।
স্বপ্নেরা স্বাধীন নয়।দিন।কালো।
এখন মঞ্চ জুড়ে। শুধু রক্তের দাগ।
ক্ষুব্ধ মরিচঝাঁপিরা। এসেছে আবার।
তুমি গাছ নয়। হয়েছ সন্ত্রাস।
অবিকল তোমার মতই। আজকাল।
আমি বিষধর সাপ।দংশন অপেক্ষায়।
বিনিময়
প্রতি বাঁকে রক্ত।প্রত্যেকে।জবাই। হবে।
কাল।অথবা পরশু। নয়ানজুলির পারে।
খুন।এখন সহজ। বিনিময়।
একের বদলে এক।জিতে যাবে।
ওরা।আমরা।সবাই।একটু চাপ।
দিলেই ফিনকি দিয়ে। বেরিয়ে আসে দিন।
বৃদ্ধা অথবা শিশু।বাদ যাবে না কেউ।
সহজে।কেটে ফেলে ভালোবাসা।
শুধু অপেক্ষা।এক কোপে।নামিয়ে দেয়া ধড়।
রক্ত দিয়ে লিখছ। মায়ের নাম।
রক্ত নিয়ে শোধবোধ।প্রণয়ের দাম।
কিছুই নয়। এমন কিছু নয়।জিতে যাওয়া।




কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন