কবিতাগুচ্ছ * সুধাংশুরঞ্জন সাহা
যে পারে সে পারে
যে পারে সে পারে।
ঘুণ ধরা বিধিনিষেধ ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে,
কিংবা বাধার সব প্রাচীর চুরমার করে
সে বেরিয়ে আসতে পারে নতুন পথের সন্ধানে।
যে পারে সে পারে।
সবাই কি সব পারে?
ক্ষত
আগুনে পুড়ে পুড়ে হয়েছি দগ্ধ,
কী দিয়ে ঢাকব বলো সেই ক্ষত!
একা একা বসে থাকি
সমান্তরাল দুটি রেললাইনের ফাঁকে
শেষ বিকেলের মরা রোদ
খেলা করে আপন খেয়ালে।
আমি একা একা বসে থাকি
রাতের অন্ধকারে কামিনী ফুলের গন্ধ মাখব বলে।
মানুষ যা পায়, হারায় তার অনেক গুন বেশি
কীভাবে ফিরব?
যদি আমার ঘরে ফেরার রাস্তাই উধাও হয়ে যায়,
কিংবা লুপ্ত হয় নদীগর্ভে!
আমি কি হন্যে হয়ে খুঁজব সেই রাস্তা,
নাকি বিকল্প রাস্তা খুঁজব?
যদি মেনে নিই -- এটাই জীবন,
একটা রাস্তা চুরি হয়ে গেলে বিকল্প রাস্তা
খোঁজাই একমাত্র রাস্তা।
ভুলে গেলে চলবে না --
মানুষ যা পায়, হারায় তার অনেক গুন বেশি।
ভালোবাসার কোনো দাবি নেই, শর্ত নেই
অন্ধকারের গল্প চেপে রাখি প্রাণপণে।
জানি, ভালোবাসা লুকিয়ে থাকে শীতের রোদে,
তপ্ত দুপুরের গাছের ছায়ায়,
অলীক নদীর বাঁকে,
বালিমাখা ঝিনুকের গায়ে,
যুদ্ধশেষের বাউলগানে,
বুনোলতা অথবা মাটিতে,
যার কোনো দাবি নেই, শর্ত নেই।
আমাদের জোরের জায়গা
আমাদের জোরের জায়গা
আমাদের কৃষক আর ফসল ঘিরে।
আশ্বিনের উৎসব বলো,
কিংবা কার্তিকের শীত
দরজা খুলুক, না-খুলুক
প্রতিদিন ধাক্কা মেরে যেতে হয়।
আমাদের কৃষক আর তাদের রক্ত জল করা
ফসলের গান শুনতে চাইলে,
ধাক্কায় ধাক্কায় নিজেকে ভাঙতে হয়।
নিজেকে যোগ্য করে তুলতে হয়।
যতদিন দুঃখ থাকবে ততদিন মানুষ কবিতা পড়বে
গল্প নয়, কবিতাও নয়,
ঘুড়ি নেবে নাকি, ঘুড়ি!
নানা রঙের ঘুড়ি আছে আমার কাছে।
বলো, ঘুড়ি নেবে নাকি, ঘুড়ি?
পাহাড়ি নদী রঙের ঘুড়ি,
আকাশ রঙের ঘুড়ি,
উদ্ভিদ রঙের ঘুড়ি,
অথবা পাখি রঙের ঘুড়ি আছে।
ভেবে দেখো, ঘুড়ি নেবে নাকি!
এসব ঘুড়ির পরতে পরতে লেগে আছে দুঃখ।
ব্যর্থ জীবনের দুঃখ,
চূড়ান্ত অবহেলার দুঃখ,
কিংবা পাথরচাপা ঘাসের দুঃখ।
অকপট কবিতা তো মানুষের দুঃখে কাঁদে।
দুঃখ ভুলে থাকতে আজও কেউ কেউ কবিতা পড়ে থাকে,
যতদিন দুঃখ থাকবে, মানুষ ততদিন কবিতা পড়বে।
************************************************************
সুধাংশুরঞ্জন সাহা
জন্ম ৩০ ডিসেম্বর ১৯৫৭। বেড়ে ওঠা পূর্ব কলকাতায়। ভারতীয় স্টেট ব্যাঙ্কের অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিক।আটের দশক থেকে লিটল ম্যাগাজিনে কবিতা লিখেই তার যাবতীয় পরিচিতি । কবিতা ছাড়াও গল্প, ছড়া, প্রবন্ধ এবং বিদেশি কবিতা অনুবাদ করতে ভালোবাসেন। সম্পাদনা করেন একটি অনিয়মিত লিটল ম্যাগাজিন 'অন্যসাম্পান' । প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ : ১৬, গল্পগ্রন্থ : ২, ছড়াগ্রন্থ : ২ উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে : অপহৃত রাত্রির চর্যাকথা * নিরুত্তর তারার স্বপ্ন * পূর্বাভাস * পাগল চাকা ঘুরছে অবিরাম * একা দুপুর * শ্রেষ্ঠ প্রেমের পদ্য * সময়ের এস্রাজে বেজে যায় অবুঝ দুপুর * বেলুনের কোন জন্মদিন নেই * নির্বাচিত কবিতা ১০০ ইত্যাদি।




কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন