বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬

ধারাবাহিক রহস্য রোমাঞ্চ কাহিনি * প্রভাত ভট্টাচার্য

 



প্রভাত ভট্টাচার্য

পর্ব * ৯

প্রস্তুতি 


অজয় বসে আছে চুপ করে। আজকে তার সব পুরোনো সব কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। পড়াশোনায় সে মোটেই খারাপ ছিল না। একটা বড় কোম্পানিতে ম্যানেজারের চাকরিও পেয়ে গিয়েছিল । বেশ ভালোই দিন কেটে যাচ্ছিল। কিন্ত হঠাৎ করেই তাদের কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেল। চাকরি হারিয়ে যেন অথৈ জলে পড়ল সে। নতুন কোন কাজ আর খুঁজে পেল না। বিয়ে থা তো আর করাই হয় নি ।  মা বাবাও অসুখে ভুগে পরপর মারা গেলেন। তারপর থেকেই অজয় ডুবে গেল তীব্র বিষাদের মধ্যে । আত্মীয় স্বজনরা সবাই তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতে লাগল। একসময় আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিল সে। 

     তারপর তার মনে এক পরিবর্তন আসে। সে ভাবে যে তাকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। এমন কিছু করবে যাতে সবার ওপরে আধিপত্য বিস্তার করা যায়। কিন্ত তার ক্ষমতাই বা কতটুকু। 

     কিন্ত হঠাৎ করেই অবস্থার পরিবর্তন হল। তার এক নিঃসন্তান কাকা, যিনি ছিলেন একজন বৈজ্ঞানিক, মারা যাবার আগে তার সমস্ত সম্পত্তি অজয়ের নামে লিখে দিয়ে যান। কলকাতার বাড়ি ছাড়াও নির্জন জায়গায় এই বাড়ি ,ল্যাবরেটরি  এবং কিছু টাকা পেয়ে গেল সে। এর ফলে অবস্থা ফিরে গেল তার। সে সেই টাকা দিয়ে ব্যাবসা শুরু করল। আর দারুণ সফল হল সেই ব্যাবসা । হাতে প্রচুর টাকা চলে এল তার। 

    কিন্ত তার লক্ষ্য তো অন্য। তার মনের বাসনা সকলের ওপরে আধিপত্য বিস্তার করা। কাকার কাজ ছিল রোবট নিয়ে, আর বেশ কয়েকটা রোবটও ছিল তার ল্যাবরেটরিতে। একদিন ঘটনাচক্রে যোগাযোগ হয়ে যায় রবিনসনের সঙ্গে, যার  রোবট এবং বিজ্ঞানের নানা বিষয়ে ভালোই দখল আছে। তাকে এখানে নিযুক্ত করে সে। শার্দুলের সঙ্গেও একইভাবে পরিচয় হয় আর সে তার বিশ্বস্ত অনুচর হয়ে দাঁড়ায়। তারপর তার ব্যাবসা গুটিয়ে সবকিছু নিয়ে সে এখানে চলে আসে আর পরিকল্পনা করতে থাকে ভবিষ্যতের জন্য। তার উদ্দেশ্য সফল করার জন্য প্রয়োজন কিছু লোকজন নিয়ে এক বাহিনী তৈরি করবার। সে হবে সকলের রাজা। বাকিরা তার প্রজা । সে হুকুম চালাবে সকলের ওপরে। 

     সেই উদ্দেশ্যে সে বিজ্ঞাপন দিল এবং লোকজন চলেও এল অনেকে। আর কদিন পরেই শুরু হবে অ্যাকশন। তারপর তার রাজত্ব ক্রমশ বিস্তৃত হতে থাকবে । ঠিক পথেই এগোচ্ছে সে। আর আজ তো রাজ্যাভিষেক হয়েই গেল। তবে জঙ্গলের এই অদ্ভুত জীবটা একটু ভাবনার বিষয়। যাকগে, ও কোন ব্যাপার নয়। আর এই পাগল বিজ্ঞানীর অভিনব অস্ত্র তো দারুন। 

    অজয়ের মুখে হাসি ফুটে উঠল।


এদিকে অতীশ পুরোদমে কাজ করে চলেছে ল্যাবরেটরিতে। সুমিতকে থাকতে হচ্ছে তার সঙ্গে। সে খানিকটা অধৈর্য্য হয়ে পড়েছে। 

    আমার কাজটা কি এখানে? বলে উঠল সে। 

   অত ছটফট করো কেন। সময় হলেই সব জানতে পারবে। হাসিমুখে বলল অতীশ। 

    সুমিত চুপ করে গেল। এখন সে খানিকটা খাতির করছে অতীশকে, কারণ সে দেখেছে যে অজয় বেশ পাত্তা দিচ্ছে অতীশকে। মনে হচ্ছে পাগল হলেও এ বেশ ট্যালেন্টেড ।

    সেদিন অজয় ল্যাবে এসে অতীশকে বলল, কাজ কতদূর এগোলো?

    প্রায় শেষ। আর দুদিনেই সবকিছু তৈরি হয়ে যাবে। 

     সত্যিই আপনি জিনিয়াস। এবারে আমরা পূর্ণ উদ্যমে কাজ শুরু করবো । 

      এদিকে বাবলু, আবদুল আর রমেশ আলোচনা করছে নিজেদের মধ্যে ।

    দু একদিনের মধ্যেই কিছু একটা হতে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।  আবদুল বলল। 

     কিন্ত আমরা এই কজন মিলে কিই বা করতে পারি। পুরোটাই মনে হচ্ছে পাগলামি । আর এদের পাল্লায় পড়ে আমরা ফেঁসে গেলাম। বলল রমেশ।


একটু অ্যাকশন হলে তো ভালোই লাগে। বাবলু বলে উঠল। 

     দেখা যাক। এখন ঘরে যাই। সেই শার্দুলটা আবার কখন চলে এসে ধমক দেবে। 

   ওরা যে যার ঘরে চলে গেল। 


     অজয়ের তো পুরো পরিকল্পনা করাই আছে।প্রথমে আশপাশের অঞ্চল, পরে অন্যান্য জায়গা দখল করা হবে।  যারা বশ্যতা স্বীকার করবে না,  তাদের  জন্য যথাযথ ব্যবস্থা করতে হবে। আস্তে আস্তে বাড়বে  তার রাজত্বের বিস্তৃতি, বাড়বে লোকলস্কর ,আর সে হয়ে উঠবে অপ্রতিরোধ্য সম্রাট। রোবটেরা তো আছেই, আর রয়েছে পাগল বিজ্ঞানীর অভিনব অস্ত্র। রয়েছে অনুগত লোকজনও । 

    এইসব ভেবে তার মনে বেশ একটা খুশি খুশি ভাব এল।



 আগামী পর্বে 

************************************"**************************************************************



প্রভাত ভট্টাচার্য  

তিনি সব্যসাচী--- এক হাতে সামলান চিকিৎসকের গুরুভার দায়িত্ব আর এক হাতে ফোটান সাহিত্য সৃষ্টির ফুল। দ্য হার্ট, মিশন পসিবল, মাই ডটার, রাজবাড়িতে রক্তপাত , ডিটেক্টিভ সূর্য এবং কবিতা সংকলন - কাগজের মানুষ এবং ফিনিক্স পাখি তাঁর উজ্জ্বল সাহিত্যসৃষ্টি । সম্প্রতি প্রকাশিত তাঁর  তিনটি ভিন্ন ধরনের উপন্যাস - দশভুজা, কাগজের মানুষ ও মায়াবী গ্রাম। এছাড়াও তাঁর আর একটি মনভোলানো সৃষ্টি 'গুহা মানবের ডায়েরি'  





কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন