বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬

গুচ্ছ কবিতা * গৌতম রায়

 

 



কবিতাগুচ্ছ * গৌতম রায়

অন্য যুদ্ধ


১.

আসে গলানো বিভা– পলাশবিভা,

চুম্বকত্বে দাঁড়াই তোমার পাশে,

নেক্টার করি পান,

কন্ট্যুরে কন্ট্যুরে হেসে ওঠে ডোপামিন।

জলাঘাসের আশরীর পেরিয়ে তেলকূপীর ঘাটে যাই

সে ঘাটে নৌকো বাঁধা।

চিরকাল আমাদের জলযাত্রায় ধন্য নৌকো,

অর্ধমগ্ন দেবদেউল পেরিয়ে মাছেদের অদ্ভুত 

সাঁতার,

জেলেদের পাতা জাল ছাড়িয়ে

অনন্তের দিকে এ বাউলিয়ানা যাত্রা।

ইন্ধনের জন্য প্রতীক্ষিত

শুধু মানুষ নয়, আস্ত বাস্তুতন্ত্র পৃথিবী।

বন্দরে বন্দরে বাঁধি নোঙর,

ওড়ে শঙ্খচিল

ওড়ে শামুকখোল

দীঘল বনে যাদের সংসার।

বারুদ নয়

আমাদের দাঁড়ে ডানায় ওড়ে

রামধনু পলাশবিভা।

খোসা খুলে ঠোটে বীজ করি বহন,  

বপন করি পলাশ, এও যুদ্ধ

অন্য যুদ্ধ বিশ্বময়।


২.

গ্রিলের ফাঁক দিয়ে দেখি

শত হার্ডেলের পরেও ফুটে আছে আকন্দ।

অপরাধবোধ থেকে মনুষ্যকৃত কাইগুলি ধুয়ে ফেলি 

ক্রিস্টাল ক্লিয়ার জলে,

বসার ঘরে পড়ার ঘরে আকন্দ ফোটাই,

ব্রহ্মপুত্র জল এসে পূর্ণ করে গর্ভগৃহ,

আকন্দের হাত ধরে হরপার্বতী পলাশ,

ছড়িয়ে পড়ে তেলকূপী থেকে তমলুক এ ধরিত্রীময়।


৩.

পলাশ-এন্টিবায়োটিক শরীরে মাখি।

স্নায়ু ধমনীতে এন্টিবডি কমান্ডো জেগে থাকলে 

দুর্গাস্ত্র আঘাতে যুদ্ধবাজ মহিষাসুরেরা হয় ভূপাতিত।

এতো সুপারসোনিক মিসাইল

এতো বারুদ-উত্তাপ

দহনের সর্বগ্রাসী এতো অন্ধ আলো উত্তাপ– তার 

মাঝে আমাদের পলাশ কৃষ্ণচূড়া রাধাচূড়া মহুল মায়া-

ছায়া–

এ বিকলাঙ্গ সময়ে কোথায় রাখবে প্রাণায়াম?

আজ টিব্যাক্ট মলম একা একা গাইতে পারবেতো 

ঝুমুর-উপশম

অপরিহার্য উচ্চারণ?


৪.

আমি পৃথিবীর রাখাল হবো,

কাউবয় লিপস্টিক ফলের নির্যাস মর্দন করে

রাঙিয়ে দেবো তোমার নৌকো।

এ আগুন লাগা অরণ্য

রাখালিয়ানায় এ গাছ শুশ্রূষায় তোমাকেও চায় 

শোভাযাত্রার অনুতাপ দহনে।

তুমি কী আসবে শ্রেয়সী?


৫.

পলাশ নামে দিই ডাক

সে ডাক হয় না বিফল,

অজর অমর শক্ত শেকড়

তার কাছে মরণ ঘেঁসে না,

অক্ষরচাষী এমন স্বজনসৃজন ছাড়ি না।

মার্কিনসিয়ার মতো ছড়িয়ে যাই শেকড় পত্রবাহার,

চূর্ণ করি শক্ত শিলা

কর্ষিত বুকের ওপর উঠে দাঁড়ায় আবলুস বৃক্ষ।


৬.

গঙ্গাপাখির মতো পালকে জল ভরে দিলাম উড়ান–

উত্তরসূরির তেষ্টা মেটানোর জন্য

ঘরে ঘরে ছড়িয়ে দিলাম পলাশ শিমুল রডোডেনড্রন,

সাঁকো বাঁধা কাজটি পোক্ত হলে

সিঁদরি-চেলিয়ামা ঋষিখোলা-পেডং এক হয়ে যায়।

দামোদর কিম্বা ঋষিখোলার ভাষায় ছড়িয়ে থাকে 

ফুলেল বসন্ত।




********************************************************************************



                                গৌতম রায়

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন