কবিতাগুচ্ছ * দীপংকর রায়
যে-মহাবৃক্ষে সকল মানত বাঁধা আছে
১.
সেই বৃক্ষে বেঁধে রাখলাম সকল মানত
পারলে পড়ে দেখো
জাত-গোত্রহীন ঐ তো
একটি নিশান উড়ছে....
যা-কিছু বলার বলা হলো
যা-কিছু শোনানোর
শোনা হলো কি হলো না
খুঁজি নি তো!
লাল নীল সে-সুতোর বাঁধন যদি কেউ দেখে খুলে
না খুললেও সেই মহা বৃক্ষের
কাছে একদিন না একদিন দাঁড়াতে হবেই;
রাখা আছে সব মানত---
ফলাফল জেনে নিও
এঁকেছি চোখ নাক কান সবই,
বোঝার যদি হয় বুঝে নিও,
নাহলে ফেলো ছিঁড়ে
একটুকরো কাগজ ছাড়া
সেতো অন্য কিছু না !
২.
যে তিমিরেই যাই
মিথ্যে আলো বিপরীতেই হারায়,
যতোই বদলাই
পথের অদেখা পথেই হয় শেষ
দিন যে আমার যাওয়া আসার ধন্দেই কাটে,
যে তিমিরেই যাই
সে যে আমার অকূলেই ভাসে...
৩.
পথ যাকে কুড়ায়
ভোলায় পথের ঘোরে
সেও কি জানে না
ছায়ার মায়ায় কেন এতো
মাখা হলো পথের ধুলা
আলোয় ছায়া ফেলে
কায়ায় সরে যে আঁধার ঢেউ
সেও কি কখনো চেনে
যে বাতাসে ডুকরেছিলো প্রেতিনী
জলে জলে খানখান সবই...
সেও যে পথের টান
অবুঝ মনের ভ্রম সকলই
জানা হলো না তার!
৪.
তৃতীয়কে খুলতে না জানলে
আকাশও দৃশ্যমান না।
মন খুলে বয় না যেমন নদী
স্রোতের বিহ্বলতায়
তোমার সহজ শরীরটি ডোবাতে না চাইলে
গঙ্গা ছোঁয় না যেমন
গায়ে লাগিয়ে দেয় খানিকটা পাঁক,
ঠিক তেমনি তৃতীয় না থাকলে
দেখাতে পারো না অবরুদ্ধ স্রোতের সব গতি;
যতোই কৌশলী হও
ছলাকলা করো মুখস্থ
জানবে যার আছে সেই চোখ,
সে এতটাই দেখে, যা অন্তর্ভেদী--
শেষ হাসিটিও তারই
যা দেখে তুমিও স্তম্ভিত
পর্যায়ক্রমিক অন্ধ!
৫.
এঁদের ভেতরে আজও দৌড়াই...
নাম লেখাই ক্যাম্পে
ত্রস্ত চলি...
হে আগামী, তুমি কি জানো আজও বড়ো হলাম না কেন?
পরাধীনতার শেকল ঝনঝনিয়ে জানান দেয়
রক্তাক্ত একটি খারিজ নাম... শরণার্থী... শরণার্থী...
***********************************************


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন