তৃতীয় আশ্রম
গার্হস্থ্যের চাঁদ খরচ করে ফেলেছি
সূর্যোদয় সূর্যাস্তও
নদীর সুদৃশ্যে নৌকযাপন রমণীয় ছিল বেশ
পদব্রজগুলি ছিল জনতান্ত্রিক
দৌড়ে কুশলী ক্রীড়াসুলভ
নাগরিক যোগ্যতায় এসবই ছিল দৈনন্দিন
প্রত্যক্ষ ভাষাকুশলে কয়েকটি নান্দীপাঠ
আন্তরিক নিন্দার্হে শুভ ইচ্ছার কলম
সে ও তো ছিল কুসুম কল্পনা প্রবল মোহিনী
ব্যত্যয় রাখি নি প্রকরণে
সুকৌশলে ছুঁড়ে দিয়েছি লোষ্ট্রবৎ প্রহসন
অর্জিত কিছু দায় আছে উত্তরাধিকারে
ফেলে দিতে পারি নি স্বাস্থ্যবান আবর্জনা
প্রার্থনায় জপেছি সংস্কারশুদ্ধ সাহস
নিংড়ে দিয়েছি ম্বেদ চোঁযানো কষ্ট
পরিবর্তে আরো কিছু আমার চাঁদ সংগ্রহ
আগামী আয়ু থেকে বেছে নেবো অনুধ্যান
গৃহস্থালী তেঁতুল চন্দন ও অম্লক্ষারক ব্যসন
অনুষ্ঠান
পঞ্জিকার একটা দিনক্ষণ দেখে
ভালবাসাবাসি হবে
তিথিনক্ষত্রে শুদ্ধসত্ব আত্মনৈপুণ্যে
একটি চাঁদপানা উজ্জ্বলতা ঘিরে
পবিত্র সামিয়ানার নীচে
হৃদয়ঘটিত আমাদের আয়োজন
বেজে উঠবে বিসমিল্লা সানাই
পাখিদের ঠোঁটে ঠোঁটে প্রবাহ
মুছে যাবে মেঘে ঢাকা জলবায়ু
পংক্তির ভূরিভোজ প্রণীত আসরে
ভা ল বা সা
কি ভাবে উক্ত করি দিলরূবা চাঁদ
ওড়নাবৃত পয়োধরা সুচারু সুবাস
মহার্ঘ্য মাংসশরীরে লাবণ্যপ্রিয় নাসা
দূরে ভাসে নদীর তরঙ্গ যেন ঝিলিক
আয় চোখ ভেসে যা নদীর নাব্যতা
পাড় থেকে দীপ্যমান নধর জলৌকা
তিরতির জলে হাওয়া নাচে নাচে
আমিই তো কবেই ডুবে গেছি অতল গহ্বরে
গভীর গভীরতর সমৃদ্ধ এই বিশ্বাসে
ভালবাসা মেপে নিই প্রবল মোহনায়
চাঁদ নিয়ে চলে যায় পারাপার ছুঁয়ে
ফিরে আসে অহর্নিশ আকাশের গায়ে
ডাক
দুরত্ব
পড়ে নিচ্ছে ঠোঁট
চোখের সীমারেখা
গন্তব্যে অগম্য নয়
কাঁটাতার চোরাপথ উঁকিঝুঁকি
কানাগলি খানাখন্দ শীর্ষপথ
নদী ও সমুদ্রবন্দর
চাঁদমারি আভাসে
মুখস্থ শাড়ির ঘেরাটোপ
পড়ে পড়ে লিখে নেয়
চিঠির স্বরবর্ণ ব্যঞ্জনবর্ণ
নিকটবতী নেপথ্যের ডাক
একলা চলো রে
ভোজালির শান চাবুকের কষাঘাত
কার্তুজের বারুদ বোমার বিস্ফোরণ
তীরের শনশন..........
সবকিছু শত্রুর কথাতে ছুটে আসে
বুকে বর্ম নেই জুতসই
কিসে সামাল দেবো
তবু পরাক্রান্ত থাকতে চাই
একলব্যের নির্বাক সশস্ত্রে
আচার্য্য বিহীন
শুধু নিজস্বী কৌশলে
যে কোনো যুদ্ধের মুখোমুখি
পরাজয়ের ভ্রূকুটি জয় পরাহত
রক্তের ভেতর আগুন দাউদাউ
সজাগ চোখে নির্ভয় নির্ভীক
যাত্রাপথে
বুকের ভিতরে কষ্টের হাওয়া
শোকের দুঃখনাদ
এ ভাবে আমার যাত্রাপথে
অনসূয়া সংরাগ ও স্বপ্নের মন্তাজ
তবু মুখবিবরে অনর্গল অন্ধকারের স্রোত
বুকপকেটে কয়েকটি রেস্ত
ও রোদচশমার আপাত অাড়ালে
প্রতি মুহুর্তে খুজে নিতে হয় হ্যাঁ-গুলি
আর না-গুলি ক্রমশঃ ধারাপাতে
বাড়তে থাকে
সুখবৃষ্টির জন্য একটি ছাতা
তার নীচে
অসংখ্য ঘুণপোকার ছিদ্রে রিপুর প্যাঁচ
কষ্টার্জিত একটি রৌদ্র অনুভব
আমাকে বাঁচতে শেখায়
প্রতিদিন ভাত ও লবণের জন্য যুদ্ধে
একটি বসন্ত রাঙা মেঘের উড়োজাহাজ
মাঝে মাঝে খুব কাছ দিয়ে উড়ে য়ায।
স্বীয়
আমিটি প্রখর প্রবল উদ্দীপনে
কর্তৃকারকে একক
যে ভাবে বাঁশিটি বাজে জন্মগত
কর্মে করণে দোষেগুনে বহুব্রীহি
অধিকরণে থাকাটাই জরুরি
সম্প্রদানে সত্ত্ব ও শর্তস্বরূপ হয়
একটি আনন্দের অনুধ্যানে
অতীত থেকে ভুলভ্রান্তির বর্তমানে
সে যতো বড়োই কঠিন অঙ্ক হোক
সমাধানের দায়ভার নেই
বৃদ্ধ অঙুলিহেলনে ম্রেফ ফক্করবাজি
স্বীয় আবাসে অধিক মধু ও খননের কারুকাজ
ব্যতিক্রমী নয় ছিল না কখনো
ওইসব ধামাধরা প্রভুত্বসকল
স্মরণিকা
তুই কি দেখিস কখনো সখনো তোকে
চোখের কাগজে আছে তোর কিছু লেখা
বিপরীতে কোন চোখ নেই যদি তোর
বাতাসে টানিস হিজিবিজি কিছু রেখা
একা একা গুনিস আকাশের কিছু তারা
স্মৃতিরা গোপন কথাদের অবকাশে
ভাবনার ডানায় হৃদয় সত্তা দূরে
টের পেলি তুই ব্যথাটুকু আজ ভাসে
আজ মুলতবি থাক কথাগুলি একা একা
শ্রাব্য দৃশ্যে গাঁথা থাক তোর একান্ত স্মরণিকা
**********************************************************************************
গৌতম কুমার গুপ্ত
জন্ম ১৩৬৭ বঙ্গাব্দে বাঁকুড়া জেলার শালতোড়া থানার গোপালনগর গ্রামে।বর্তমানে পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের বাসিন্দা।প্রথম জীবনে সাংবাদিকতা পরে ই সি এলে কেন্দা এরিয়া বিভাগের কর্মী ছিলেন।২০১৯ সালে চাকুরিজীবন থেকে অবসর গ্রহন করেন।শিক্ষাগত যোগ্যতা বিজ্ঞান এবং কলা বিভাগে স্নাতক।পরে পার্সোনাল ম্য্যানেজমেন্ট ইনডাসট্রিয়াল রিলেশনে স্নাতকোত্তর পাশ করেন।আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে লেখালেখি শুরু।'কালকেতু' নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় তো বটেই ওয়েব ম্যাগাজিনেও গল্প কবিতা প্রবন্ধ লিখে থাকেন।এ পর্যন্ত তাঁর চারটি কাব্যগ্রন্থ " সময়ের এই জলসাঘরে,'স্বভাবের সিলেবাস','অক্ষর ভাইরাস' এবং 'বিষুবরেখার পাখি' প্রকাশিত হয়েছে।কয়েকটি নাটকও লিখেছেন। ইতিমধ্যে "কয়লাক্ষেত্র "এবং কৃষ্ণগহ্বর নামে দুটি উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে।।শীঘ্র একটি কাব্যগ্রন্থ 'যদি হৃদয়ের কথা বলো'প্রকাশিত হতে চলেছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন