জবা ভট্টাচার্য * দুটি কবিতা
অনন্তের পথ
এই শান্ত, নির্জন রাস্তা দিয়েই
কোনো এক ব্রাহ্ম মুহূর্তে
বাবাকে নিয়ে ফুলে সাজানো
গাড়িটা চলে গিয়েছিল।
তখন আমি স্পষ্ট
রাস্তাটার কান্না শুনেছিলাম
মায়ের হাহাকারের মতো।
তারপর থেকে,
বাবার হারিয়ে যাওয়া পথ ধরে
মা আর আমি বারবার হেঁটে গিয়েছি
রোদ ঝলমল, বৃষ্টি ধোয়া, হাওয়াসচল
রাস্তা দেখার নেশায় বুঁদ হয়ে।
পাইনি
দিনমানেও, রাস্তাটা জুড়ে এক অদ্ভুত আঁধার যাপন ।
একটা খারাপ ছেলের গল্প
ছেলেটাকে সবাই চেনো---
আধুনিক সভ্য সমাজের অর্জুন রা যখন নির্বিকার অচল
তখন সে ছেলে উদ্দাম, উচ্ছৃঙ্খল,লাগামছাড়া দামাল।
ভালো মানুষের দল,তীব্র শ্লেষে আড় ইশারায় বলো
পাক্কা বদমাইশ একটা।
সবাই যখন ধর্ম বকের ছদ্মবেশে জীবন চালায়
ভালো ছেলের দল, বইয়ের সাথে কুস্তি লড়ে
কবিতা লেখে অবসরে, ভারি গলায় গান ধরে
তখন তুই, বেমালুম বেপাত্তা-- গোপনে বিয়ে
দিয়ে এলি--ইকবাল ঈশিতার, বিদ্বজ্জনের
রোষের মুখে বললি--শাস্তি দিতে হলে আমায় দাও,
ভালোবাসত ওরা--দুটো জীবন নষ্ট হবে নাকি?
মিনুর সদ্য কৈশোরের পাপড়িগুলো তেলিপাড়ার মাঠে
যারা নির্মম ভাবে ছিঁড়ল, তাদের সাথে মারামারিতে
জড়িয়ে পড়ে--- তিনশো সাত, খুনের চেষ্টার অভিযোগে
পাক্কা পাঁচ হপ্তা কাটিয়ে এলি জেলে
অথচ মেয়েটাকে তুই চিনতিস ও না,
বাড়ির পাশের বস্তির ময়না বুড়ির নাতনি
বুড়ি কাঁদছিল আছাড়িপিছাড়ি
ব্যাস্ এইটুকুই---
অনির বোনের প্রসব বেদনা উঠল মাঝরাতে
অনি বিদেশে চাকরিসূত্রে, ওর ভালো ছেলে
বন্ধুদের মুঠোফোনগুলো বোবাকালা
নিকষ কালো অন্ধকার ঠেলে তুই এলি--তুই ই
-- চল বোন, বাইকের পেছনে আমাকে শক্ত করে ধরে বোস।
কালচারের জামা পরা ভালো ছেলে না,
খারাপ হয়েই তুই থাক
আজ তোর মত খারাপ ছেলেই চাই।
আঠালো জ্যোৎস্নার গাঢ় অন্ধকার ঠেলে
ভোর আনতেই দরকার
তোর মত হৃদয়বান বদমাইশ।
**************************************************************************
জন্ম, বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা সবটুকুই কলকাতায়। বিবাহ সূত্রে উত্তরবঙ্গে আসা। ভালোবাসা থেকে লেখালিখি করা। এ পর্যন্ত সাজি, মান্দাস, বিবর্তন, সহ বহু ছোট বড়ো লিটল ম্যাগাজিনে লেখা প্রকাশিত হয়েছে। নিজের দুটি কবিতা সংকলন আছে "মাধুকরী মন" এবং “এক টুকরো ডাঙা”।





কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন