উকিলবাবু
প্রদীপ কুমার দে
পেশায় উকিল। বাজারে যথেষ্ট কাজের সুনাম আছে। পাড়ার ওষুধের দোকানে যাওয়ার সময় একটা বাইকের ধাক্কায় আমার একসিডেন্ট হয়। খুবই অসুস্থ, এরমধ্যে আজ একটা চিঠি পেলাম কাজের মাসির হাত হয়ে, ওনাকে কেউ দিয়েই পালিয়ে গেছে, উনি চিনতে পারেননি। কার চিঠি, কাকে দিল, আমার নিশ্চয় নয় এসব ভেবে চিঠিটা টেবিলে রেখে দিলাম অনাগ্রহে।
সেদিন একটা বাইক সজোরে আমার কোমরে এসে ধাক্কা মারে। মনে পড়ে সন্ডা মার্কা একটা ছেলে বাইক চাল্লাচ্ছিল, পিছনে একজন মহিলাও ছিল। আমি পড়ে গেছিলাম তাই পিছনে তাকানো সম্ভব ছিল না। শুধু অনুভব করেছিলাম কোমল হাতের স্পর্শ আর কিছু কথা। অজ্ঞানতা কাটলে দেখি আমি বাড়িতেই। চিকিৎসা আর সেবার পর আজ কিছুটা ভাল।
চিঠিটা আমায় কেমন যে আকর্ষণ করে নিল। আমি চিঠিটা খুলে ফেললাম। সামান্য কাগজে অসামান্য চমক পেলাম যখন নিচে লেখা নামটা দেখলাম, ' কুহেলি '!
............
" উকিলবাবু
আমাদের ডিভোর্স হয়ে গেছে তা প্রায় তিন বছর হল। মিউচুয়ালি তুমি আমায় যথেষ্ট সন্মান দিয়েছ। আজ আমি সেটা বেশি করে অনুভব করি। বয়সের টানাপোড়েন থেকে লোভ আমায় অসহিষ্ণু করে তুলেছিল। আজ আর বলে লাভ নেই তবুও সত্যি কথাটা না বললে আমি অখুশি থাকতাম। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ আমাকে সেটা সুযোগ করে দেওয়ায়। ডিভোর্সের পর আবার নতুন করে পুরোনো প্রেমিককে বিয়ে করেছিলাম যাকে তুমি জানতে না। তোমাকে সেদিন যে ধাক্কা মেরেছিল সেই বাইক সোওয়ারীই ছিল সে। যার পিছনর সিটে বসে ছিলাম সেই আমিই। তুমি ভাল করে দেখোনি।
ভাল হয়েছে দেখোনি, তাহলে হয়তো....
থাক, যে কথাটা তোমাকে জানানো বড় জরুরী, সেটা জানাই, আমি আমার দোষেই, আমার মোহেই সব হারিয়েছে, অমৃত ছেড়ে গরল গিলেছি। আমার নগ্ন দেহটা দেখলে তুমি দেখতে পাবে ওই শয়তানটার প্রহারে আমি কতটা ক্ষত বিক্ষত। আমি ডিভোর্স চাইছি। শয়তানটা সহজে দেবে না।তুমি আমাকে আরো একবার সাহায্য করতে পারো কি? ক্ষমা করে দাওনা আমায়? বড় বাঁচতে ইচ্ছে হচ্ছে আবার তোমাকে দেখার পর থেকেই ....
ফোন নম্বর দিলাম।
কুহেলি "
------------------------------ ----------
প্রদীপ কুমার দে

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন