বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬

প্রজোতি গড়াই





প্রজোতি গড়াই * দুটি কবিতা







ক্ষমতার পশু

 

আজ সৈনিকেরা বড্ড ক্লান্ত—

যুদ্ধের ধোঁয়া বুকে নিয়ে তারা দাঁড়িয়ে থাকে নীরব পাহারায়।


চিন্তায় ডুবে থাকে তাদের ঘর,

দূর কোনো জানালায় হয়তো কেউ অপেক্ষা করে নিঃশব্দে।


সহ্য করতে করতে আজ ক্লান্ত সাধারণ মানুষ,

ভয়ের ছায়ায় কাঁপে শহর আর গ্রাম।


কখন যে আকাশ ফেটে নামবে আগুনের বৃষ্টি—

এই আশঙ্কায় নিঃশ্বাস নেয় দেশ।


আজ আকাশ বড্ড নিশ্চুপ, নিরীহ,

তাই তাকে দখল করা বড় সহজ।


যেমন সহজ মানুষের মন দখল করা,

ভয় আর ঘৃণার কালো ছায়া দিয়ে।


যুদ্ধ হয় রাজাদের অহংকারে,

কিন্তু ক্ষত বয়ে বেড়ায় প্রকৃতি আর মানুষ।


রাজা, তুমি কি জানো কত নামহীন মানুষ মরে?

না কি জানতে চাও না— কারণ তুমি মানুষ নও, কেবল ক্ষমতার পশু।












আমি ঋতুচক্র


মাঝে মাঝে আমি বসন্তের পলাশ—

শহরের বুক জ্বালিয়ে দিই আগুনরাঙা স্বপ্নে,

আমার রক্তিম হাসিতে

দেয়াল ভেঙে পড়ে,

পুরনো ভয় ছাই হয়ে উড়ে যায়।


মাঝে মাঝে আমি শীত—

নিঃশব্দ, ধূসর, দীর্ঘশ্বাসের মতো ঠান্ডা,

আমার স্পর্শে কেঁপে ওঠে জানালার কাচ,

মানুষ নিজের ভেতরেই খুঁজে ফেরে

হারিয়ে যাওয়া উষ্ণতা।


মাঝে মাঝে আমি হেমন্তের ভোর—

শিশিরভেজা ঘাসের ওপর খালি পায়ে হাঁটি,

প্রতিটি বিন্দুতে জমা রাখি

অপ্রকাশিত ভালোবাসা,

যা সূর্য উঠলেই মিলিয়ে যায়,

তবু থেকে যায় স্মৃতি হয়ে।


মাঝে মাঝে আমি শরতের হিমঝুরি—

নির্মল আকাশের নিচে এক মুঠো সাদা নীরবতা,

আমার ভেতর দিয়ে ভেসে যায় মেঘ,

আর আমি শিখে নিই—

সব ছেড়ে দিয়েও কেমন করে হালকা থাকা যায়।


মাঝে মাঝে আমি বর্ষার শাপলা—

জলের গভীরে শেকড়,

মাথার উপর কচুপাতার ক্ষণিক আশ্রয়,

ঝড় এলেও ডুবে যাই না,

শুধু ভিজে উঠি আরও গভীরে।


আর মাঝে মাঝে—

আমি রুদ্র প্রখর তাপ,

দহন আমার ভাষা,

অন্যায় দেখলে সূর্যের মতো জ্বলে উঠি,

পুড়িয়ে দিই মিথ্যার আবরণ।


আমি একরঙা নই—

আমি ঋতুচক্রের মতো পরিবর্তনশীল,

আগুন, কুয়াশা, শিশির, ঝড়—

সবই আমার ভেতরের আলাদা আলাদা সত্য।


আমি ভাঙি, আমি গড়ি,

আমি পুড়ি, আমি ফুটি—

আমি মানুষ,

আমি অনন্ত রূপে নিজেকেই লিখে চলি।



*******************************************************



প্রজোতি গড়াই 

কৃষ্ণনগর, নদিয়া থেকে লিখছেন।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন