শম্পা সামন্ত * তিনটি কবিতা
ভুলভুলাইয়া
আলোর ভুলভুলাইয়া
অনেক যন্ত্রণার গোপন
অস্ত্রের শলমা জড়ির কারুকাজ
মেয়েটিফ পায়েস কখনো বদল করতে চায় প্রেমের
আত্মনিবেদন
রামকিঙ্করের মূর্তির সুজাতা বড্ড বেশি ক্লিশে
বালিকার নাম কেউ ভুলে যাবে যে একদিন অনন্ত জ্ঞানের
তলায় দেখেছিল সুতীব্র জল
নিপাট দারোয়ান এসব স্মৃতিচিহ্ন পাহারা দিতে দিতে ঘুম ভুলে
গেছে
আনজানি শিক্ষার্থী ভিক্ষুকের বেশে আজো নতজানু
অষ্টপ্রহর।
অস্বাভাবিক
অস্বাভাবিক দেহ থেকে ঝরে পড়ছে অভাব
স্বভাবের মূল্যহীন জবান
সামুদ্রিক লবন হাওয়ার ক্ষরণ
ভিজিয়ে দিচ্ছে গা গতর
বহুদিন জঠরের খিদে সয়েছি
মিলনের কামনায় জর্জর কতকাল
বহুদিন তাম্রপত্রে দান দেখিনি
শুধু অভাবে নষ্ট করেছি স্বভাব
আর জলকে নির্বাচিত আগুন থেকে রেখেছি দূরে
প্রাগৈতিহাসিক কুষ্ঠ রোগ
আর রোগগ্রস্ত স্বামীর সুশ্রুষায় বেচেছি যৌবন।
ব্যথা
আমার সর্বস্বে ব্যথা জাগিয়ে অপক্ষায় থাকব
সেইদিন তুমি বারবার ডাকনাম ধরেডেকো
আর শুধ জানব এ আদর আর কেউ করেনি তুমি ছাড়া
কেউ এমন করে পাগলি বলে ডাকেনি
চায়নি পাগলের মতো
তখন থেকেই দু:খের বিরুদ্ধে আমরা দুজন
কষ্টের বিরুদ্ধে আমরা দুজন
ভাল বাসার জন্য আমরাই দুজন
উড়ন্ত পলাশ মধুমাস ঢেকে ফেললে
সর্বত্র এক পাগল জেগে আছে দেখ পাগলির সঙ্গে
তোমার চোখের ভিতর রাখি ঠোঁট
আমার কটিদেশ ঘিরে জন্মান্ধ হয়েছো তুমি
যে বৃক্ষের ছায়া পড়েছে আদের ছায়ায়
তখন বৃক্ষটি আমাদের গোপন প্রেমের সাক্ষী মেনেছি
কালো রঙের নদীর মেঘলা আকাশের বুকে ধূসর ধূসর খেলা
শক্ত মাটি ফুঁড়ে জেগে উঠছে অঙ্কুর
তোমার আঙুলগুলি আমার আঙুল জড়িয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে
ছায়া না দিলে এক মুহূর্ত বাঁচবনা জেনো।
***********************************************************************************





কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন