দুটি কবিতা * লিটন শব্দকর
বাদামি হরিণের গ্রাম
দায় হালকা হয়ে ভেসে ওঠে ভাঙা দেওয়ালের ফাঁকে
বাতিল কাগজের ভাঁজে এখন হরিণের শরীরের গন্ধ
ছড়াই অচেনা দাগ, আঙুলে লেগে থাকে মাটির রঙ
জেনে যাবে একদিন, এই বাদামি ক্ষতও ভাষা খুঁজে
নেয় তামাটে সঙ্গোপনে ; শুকোয় দেবদারুর পাতায়
উপহার হয়ে ফিরে আসে ভুলতে বসা ঘাসের শিশির
অন্তর্গত শব্দেরা একটিই বৃত্ত এঁকে যায় শূন্যের গায়ে
অসন্তুষ্ট ভুগোলের গ্রামগুলি নীরবে পুনর্লিখিত হয়
আমাদের দেবদারু গাছগুলি
আমাদের দেবদারু গাছগুলি বড় হচ্ছে—ধীরে, নিঃশব্দে,
সময়কে পিঠে নিয়ে মেপে নিচ্ছে নিজেদের উচ্চতা।
নিছক বৃদ্ধি নয়—মাটির গভীর থেকে ওঠা এক বাহাদুরি,
ঝড়-রৌদ্র পেরোনো আত্মবিশ্বাস।
কুড়ুল-কাটা কাঠের গন্ধ ভেসে আসে—
অদৃশ্য হাতের ছায়া ঘুরে বেড়ায় জনপদে।
দূরে দেউল—অর্ধেক ভাঙা বিশ্বাস,
স্থির থাকা কি বেঁচে থাকা—এই প্রশ্নে দাঁড়িয়ে।
বীতশ্রদ্ধ হাওয়া ডাল নাড়ে,
খরা নামে ভাষা ও স্পর্শে।
তবু দেবদারু বড় হয়—
নিঃশব্দ এক প্রতিবাদের মতো।
***************************************************************************************************************






কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন