সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

গুচ্ছ কবিতা * বাবলু সরকার




গুচ্ছ কবিতা * বাবলু সরকার 


স্বজন 

রৌদ্রে স্নান করার পর

তোমাকে দেখলাম তুমি স্নান করছো 

আর আমি রোদ ছেড়ে 

তোমার প্রেমে পড়ে গেলাম 

স্বল্প বাসে তোমার দেহবল্লরী যেন বিশুদ্ধ 

আস্তিক ধার্মিক করে তুলেছিল আমায় 

আমি চোখ তুলে দেখবো না তোমার 

নিরাভরণ স্নানের নিত্যপূজা আচার আচরণ 

তবুও চিররহস্যে আবৃত চোখ আমার 

তোমার বিশ্বলোক থেকে নিষ্কৃতি পায়নি 



তুমি একবার 

ফোনটাতো হাতে নিতে পারো

দেখতে পারো

আমার পুরনো লেখাগুলো 

কেমন ফ্যাকাসে হয়ে গেছে 

পুরনো ছবির মতোই

সে যাইহোক 

শুধু একটিবার হ্যালো বললে 

এই ঝড়বৃষ্টি এই বাধনভাঙা তুফান 

উপেক্ষা করে ছুটতাম তোমার অপেক্ষমান 

মুখের ছবিখানি নিভৃতে একবার দেখে আসতে

আদতে তুমি ভাবোইনি তোমার জন্মদিনে 

আমি উপস্থিত হই



আমার দুচোখ জেগে আছে 

তোমার ঘুমের পাশে 

আমার দুচোখ জেগে আছে 

কেন অন্ধ হবে তুমি বলো

কেন ডানা ভেঙে বৃষ্টি ভিজবে আমাকে বলো

এই নাও উপড়ে দিচ্ছি আমার দুচোখ 

আমার দুচোখ তুমি নাও

তোমার যা খুশি তুমি নাও

তার বদলে হৃদয়ে গভীর ঘুম দাও













সমুদ্রে মিশে যেতে যেতে ভাবি 

কত শক্তি আস্ফালন করলাম তার সমুদ্রে 

অথচ আদতে তার কিছুই নয় 

না বনভূমি না পাড় কিছুই উথাল

পাথাল হলো না 

তার আগেই জীবনে একটা উথাল 

ঢেউয়ের মতো জাহির করে কিছু নদীকে 

খরস্রোতা করে দিলাম 

এখন নদী কিভাবে শান্ত হবে নাকি 

সমুদ্র স্নানেই বাকিটা জীবন কাটিয়ে দেব 

জানি না 



দেহ গেলে 

পড়ে থাকে হৃদয় বৃন্দাবন 

ওই কুঁড়ের দাওয়ায়

ছোট্ট জলচৌকি 

তাতেই নড়বড়ে দেহ 

কাঠের নড়বড়ে চেয়ার টেবিল 

তাতেই বসে লিখছি

ঋতু বিষয়ক নড়বড়ে কবিতা 

তাতে উঠিয়ে আনার চেষ্টা করছি

একটা শ্লোক 

ঘুমাতে যাওয়ার আগে 

যদি তুমি একবার পড়ে দেখো

এ আমার ব্যর্থ কবিতা 



এই যে গোপনে 

আমি তোকে ভালোবাসি 

এটা একমাত্র তুইই জানিস

আর যেদিন থেকে এটা তুই জেনেছিস 

সেদিন থেকে তোর সঙ্গে আমার দূরত্ব 

তৈরি হয়েছে 

আসলে ঠিকই করেছিস 

তোর পক্ষে এ প্রেম যেমন স্বীকার করা 

কঠিন তেমনই কঠিন প্রকাশ করা 

তবুও একটা দুটো হাই হেলো তো 

অন্তত কথা যায় দিনে কিংবা দুপুরে 



********************************************************************



বাবলু সরকার 

 বাবলু সরকার বাদকুল্লা সুরভিস্থান নদীয়া থেকে লিখছেন। পেশায়  প্রাইভেট টিউটর ও এল আই সি কর্মী।  নয়ের দশক থেকে লেখা শুরু হলেও দুই হাজার থেকে পাকাপাকি ভাবে লেখা শুরু। সম্পাদিত পত্রিকা "সম্ভব "। মূলত লিটল ম্যাগাজিনের প্রতিই আগ্রহ। কাব্যগ্রন্থ নেই। লেখা পাঠানোয় ভীষণ অনীহা। এই অনীহার কারণেই হয়তো কাব্যগ্রন্থ হয়নি।




গুচ্ছ কবিতা * ছোটন গুপ্ত

 



কবিতাগুচ্ছ * ছোটন গুপ্ত 


শীত কবিতা 


শিরশিরানি বিকেল শীতের 

গরম পোশাক শরীর ভারী,

সূৰ্য ছটার দীপ্তি পেলে 

সেই যে দূরের স্বপ্নে পাড়ি ৷ 


রক্তগোলাপ প্রথম আলাপ 

সূৰ্যোদয়ের উজান জুড়েই 

তুই তো ছিলি উষ্ণ চা-য়ে 

ডাক পাঠালি আলোক সুরে !


কথার পিঠে কথার কথায় 

দাঁড়িয়ে থাকা শব্দ জোড়ে,

ফেরার কথা শেষ বিকেলে 

রক্তরাগের রং-এর ঘোরে ৷ 


অংশু প্রভাত একটা গোলাপ 

আলাপ-রাতের স্বপ্নে ডাকে,

আলোর দিশায় সোহাগ তৃষা

কবিতাদের ভুলেই থাকে ৷ 


সময় যখন হারিয়ে যায় 

তখন নদীর চরায় বালি

হাঁটতে হাঁটতে স্মৃতির ঘরে 

স্বপ্নে ভাঙন বসত খালি ৷ 


গোলাপ ফুলের পাপড়ি তখন

একটি দুটি ফুরোতে চায়,

বয়স বাড়লে বুকের মধ্যে 

রক্তঝলক থমকিয়ে যায় ৷ 


একটা কথা বলবো বলে 

তোর খোঁজে রাত জেগেছিলাম,

সূৰ্যভোরে হিম বাতাসে 

আলোর রেণু সাজিয়ে দিলাম ।



আনাড়ির কথা 


কেউ বলে যায় বিদঘুটে আধবুড়ো

যাক কটা দিন, ভাঙবে দাঁতের  নুড়ো,

বয়স কি কম ? ধবধবে চুল সাদা !

ক্যামনে বোঝাই সত্যি বেজায় হাঁদা ।


শিখতে নারাজ শয়তানি খল ছল 

তাও তো ভাবিস লোকটাকে অচল,

আসল যে সে বেকার বা আনাড়ি 

স্বপ্ন দেখার শখ আছে তার ভারী ।


দৃষ্টি নেহাত ঝাপসা চোখের কাচে 

কেউ মেলে না ভরসা রঙিন আঁচে

ইচ্ছে হলেই যা তা বলাই ঠিক 

নেই প্রেমিকা, তাই দেখে দশদিক ।


আবোল তাবোল লেখার বাতিক জুড়ে 

ছুট্ ছুট্ ছুট্ পাটনা মধুপুরে 

পোশাক মানে লাল জামা নীল জামায় 

কেউ তো থাকেই নিষেধ জরিমানায় ।


সমস্ত দিন পদ্য খাতায় আঁকা 

একটি মেয়ের টলমলে চোখ ঢাকা 

কোথায় গো সে ? দূরের খেয়ালবাসি, 

বলছিল কাল, তাকেই ভালোবাসি ।













রাতজাগা কবিতা


দুরূহ শব্দমালা ছড়িয়ে ছিটিয়ে

বসে থাকে হিম ঋতু শূন্যের চরে

গাছেদের শুখা পাতা আনমনে ঝরে

সারারাত জেগে থাকা হিসেব মিটিয়ে 


এক দুই তিন শুরু শূন্যের পরে

ঝরে যাওয়া ভাবনার জট জটিলতা

ভূমিতল মেনে নেয় ক্ষয় অধীনতা

শেকড় জলের আশে তলাতল ঘোরে


আপাতত বিরতির কথা জেগে থাক

অনন্ত খুঁজে ফেরে কবিতার স্মৃতি

খুঁড়ে দেখো কোন পথে চেতনার ইতি

পুষে রাখা শূন্যতা জ্বলে পুড়ে খাক্


ঘাম টুপ করে ঝরা চিমনির ঘরে

তোমাদের বাসা ছিল তোমাদের জোত

তোমাদের চোখে ছিল সাগরের স্রোত

তোমাদের ভালোবাসা দাউদাউ পোড়ে


ভোর এলেই ডানা মেলে পাখির উড়াণ

শূন্যের কাছে ওরা হার মানেনি তো

মেনে নিই সুর তাল লয় অপহৃত

ভোলা কি সহজ নাকি জীবনের গান ?



নদী যদি


অভিমানী শ্যাওলার কাছে

সীমিত শব্দ জেগে আছে

চেনা নদী পারে তার সবুজাভা ছায়া হয়ে বাঁচে ।


নদী তো একলা বয়ে চলে

শত ঢেউ কলকল কত কথা বলে 

ভালোবাসা নদী হলে ফিরে চায় শাওনের জলে ।




***********************************************************



ছোটন গুপ্ত

পোশাকি নাম প্রবীর দাশগুপ্ত। কবিতা লেখেন ভালোবেসে। মানুষ সময় সমাজভাবনা তার লেখার উপজীব্য। কবিতায় বার্তা থাকে একসাথে হাতে হাত বেঁধে পথ চলার। বিশুদ্ধ ভালোবাসা প্রত্যাশা ছড়িয়ে যায় কলমে। সুচেতনার ভরসায় কবিতা কথা বলুক, এটুকুই চাহিদা। এ পর্যন্ত প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ পাঁচটি। 'আগুন বৃষ্টি ভালোবাসা', 'ফিনিক্স আয়', 'দহনকালের কবিতা' 'নীরবতার শব্দমালা' এবং 'অশোক লিপি'। ষষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'ছেঁড়া স্বপ্ন অথবা' যন্ত্রস্থ। পেশায় উচ্চমাধ্যমিক স্কুল শিক্ষক। জন্ম- ০৬/১২/৬৪।


গুচ্ছ কবিতা * শীলা দাশ




কবিতাগুচ্ছ * শীলা দাশ














মুঠোয় মরীচিকা রেখে
জ্বলে ওঠে হাজার ওয়াটের
হলুদ সূর্যমুখী ঝলক।
ব্যর্থতার বীজ থেকে জন্ম নেয়
কমলা আলোর শস্যরেখা।


তোমার চোখের কোটরে
গাঢ় ভয় সঙ্কোচ বেদনা
বিচ্ছেদের কান্না নদী হয়ে 
ভেসে যায় কোন মোহনায়?
বিষাদ শাড়িতে ওড়ে এক
বুক বাতাসের জন্য হাহাকার।


সময়ের ঘোড়া ছুটে যায়
হাঁ করা খাদের পথ দিয়ে
খুরের শব্দ টগবগ টগবগ।
পাহাড়ী নদীতে শব্দ কুলকুল
বাতাসে পচন ঘ্রাণ।কখন যে
আয়ুর গর্ভে ডুবে যাবে পতঙ্গ সঙ্গীত?


শেকড়গাড়া কর্কটের ভেতরে 
আজন্ম পাপ অভিশাপ
জন্ম তিল, জোড়ুল অস্পৃশ্যতা
ভীরুতা একদিন উড়ে চলে যাবে
উড়ন্ত সাহসী চিলের মতো।


যখন নিজস্ব বিশ্বাস ভেঙে যায়
নিহত হয় প্রাচীন গ্রহ ,কুমারী
ফুলের ঠোঁটে বাসনার বীজ
মরে যায়,ঠান্ডা জলে ভেসে আসে
নিরীহ কাকের মৃতদেহ।তখন
বিষ পান করে শরীরে জমে ওঠে
নীলকন্ঠ ঘাম আর দাবানলের বুকে
আত্মহত্যা করে মৌতাতে মাতাল বাতাস।


রাত নিরাবরণ। নীল জলের আকাশে
ভাসছে নৌকার মত আধখানা ভাঙ্গা
চাঁদ।প্রেম জানে ভালোবাসার মানে
শরীর বুনন আর পরমান্ন সুধা।


আকাশ ছুঁয়েছে নক্ষত্রের হৃদয়। 
নক্ষত্র আকাশের বুক ছুঁয়ে মেপেছে 
মেঘের ধূসর শাড়ি আর আলুথালু প্রেম।
এদিকে রাতের যত বয়স বাড়ে নক্ষত্রের 
কাছে নিবিড় হতে হতে আকাশ অন্তঃসত্ত্বা 
আর মেঘেরা গর্ভবতী হয়। তারপর হঠাৎ
বজ্রপাত সাথে সাথে আকাশের গর্ভপাত। 


হে অলৌকিক পৃথিবী 
তুমি শঙ্খ হয়ে বাজো 
সন্ধ্যার ময়ূরী হও 
চন্দ্রকলায় তরুণী হয়ে 
নরম আঁচল পেতে 
এসে বসো শস্য খেতে। 
তোমার চোখে প্রিয় 
জলধর এক পুকুর
চাঁদ খুঁজে খুঁজে হন্যে
হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। 


তোমার চোখের ঝলক যেন
অপলক কিশোরবেলা অবুঝ
নাবালিকা খেলা অলিভ চিকন
কোমলতা।কবে ফলবতী হবে
বৃক্ষ আর পুষ্পবতী নারী ?


বৃক্ষ পুরান থেকে ঝরছে জল
অবিরল।জলের গায়ে দাগ 
পড়ে না।গড়িয়ে যায় টুপটুপ। 
জলে ভেসে যায় হৃদয়পুর ।




          









******************************************************************************************



 শীলা দাশ 

জন্ম ৪ জানুয়ারি ১৯৫২,বারাসাত
পিতৃভূমি বাংলাদেশ
শিক্ষা এম এ বাংলা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
অবসরপ্রাপ্ত রাজ্যসরকারি কর্মচারী
নিবাস বারাকপুর
পশ্চিমবাংলায় বিভিন্ন জেলাসহ কলকাতার
কিছু বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকাতে নানা কাব্যসংকলনে কবিতা প্রকাশিত হচ্ছে। 
প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ :
গাঢ় নীল অন্ধকারে * সময় ফুরোবার আগেই * রোদ মেলেছে পা * বিস্মরণে ২৫শে বৈশাখ * নাম দিলাম প্রত্যয় * সেদিন সূর্যাস্তে *পৃথিবীর বয়সিনী মেয়ে* প্রেমকাব্য ও সনেটগুচ্ছ * বইমেলায় প্রকাশিত-- নির্বাচিত কবিতা 




                                                                           

শুভশ্রী রায়

 



শুভশ্রী রায় * দু’টি কবিতা


আনন্দিত কানন 

মাটি-জল-আগুন-বায়ু-আকাশ,

পরস্পরের সঙ্গে মিশে যায়....

জুঁইমুহূর্তগুলো কুড়িয়ে নিই,

সংরাগস্থলের ধারে ধারে বিকশিত হয় আনন্দিত কানন।


এ জন্ম পেরিয়ে যাওয়া ভালোলাগা,

সমস্ত জীবন অতিক্রম করা সুখ অসহনীয়

তাই তো অনিত্য ;

নশ্বর এ আধার কী করে বেশি ক্ষণ রাখে ব্রহ্মান্ডের তুঙ্গসুখ!













বহুমাত্রিক

যে কবিতাটা শুরুই হয়নি

কোথায় কোথায় সে নেই?

খামখেয়ালি আকাশের নীলের এ পরত ও পরত,

ছাদের ওপর রোদ-ছায়া নিয়ে তিনটে বেড়ালের কুরুক্ষেত্র,

রাস্তায় উনুনের বিচ্ছিরি ধোঁয়া, ভাঙা কাচের চুড়ির সোহাগ,

মাছওয়ালার সঙ্গে পাড়ার বৌদিদের বাগযুদ্ধ;

সবের ভেতরেই সে কিছুটা কিছুটা রয়েছে।


তাকে আমি আরম্ভ করি না করি,

ছিটেফোঁটাও যায় আসে না তার,

বলেকয়ে অথবা চুপিসারে পাড়াসুদ্ধু লোকের জীবনের সঙ্গে 

সে জড়িয়ে,

এই আনন্দেই সে আরো অধরা হয়ে যায়;

পেছন পেছন আমি ছুটি।


ছাদে তীব্র কমলা একটা শাড়ি ঝুলছে,

সেটার পেছন থেকে সে উঁকি মারছে আপাতত,

আমার চোখেও লেগে গেছে কমলার ব্যাখ্যাতীত ঘোর....

যাই দেখি ছু্ঁতে পারি কিনা

কবিতার অনিয়মিত, অনিশ্চিত অবয়বের উজ্জ্বলতা খানিক!













********************************************************************************************




শুভশ্রী রায়

জন্ম: ১২ জানুয়ারি, ১৯৭১, কলকাতা ;পনেরো / ষোল বছর বয়স থেকে নিয়মিত লেখালিখি করছেন । থাকেন  উত্তর কলকাতার পাইকপাড়া এলাকায়। প্রকাশিত বই, একটি: অলক্ষ্মীর পাঁচালি ।


নজর উল ইসলাম




প্রণয়বন্ধন

নজর উল ইসলাম



কত গভীরে ফুলের অনুনয় অনুরাগ জোড়ে দেহঘরে 
হার না মানা আকুতি ভেতরে খেলাঘর সাজায় 
সম্পৃক্ত ডানায় ফুট উঠলেও জাতীয় ক্যানভাসে লঙ্ঘিত
কেন না ধারাপাতে নেই এমন ভাঙাচোরা অনভিপ্রেত 
পরম্পরা আড়াল খোঁজে দিন যায় অদমনীয় প্রণয়বন্ধন 
জলের নেশাতুর কৌতুকবোধে ভাসে অথচ দু'জন দু'জনের 
গাঢ় সংলাপে সূর্যের রামধনু খোঁজে আগুনে 
প্রতিশ্রুতির চরাচর দিব্যি মায়াময় হৃদয় সঞ্চিত 
কতবার ভেসে গেছে বাউলের একতারায় দরাজ নদী যেন 
বুকের ভাঁজে ভাঁজে তুলে রেখেছে হলুদাভা উৎসব 
মেঘ-শরীর যেমন ঘামে জলটোপ সযত্ন স্নেহে 
জোছনার জামায় লেখা অভিমানের সংগত উচ্চারণ 
যা নিশিপদ্মে রাগ-রাগিনীর কথকতায় হাসে...





















*******************************************************************************



নজর উল ইসলাম

কবিতা এবং কবিতাকেই আঁকড়ে বাঁচতে চেয়েছেন নয়ের দশকের কবি নজর উল ইসলাম।১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দের ৩১ ডিসেম্বর বসিরহাটের পশ্চিম বিবিপুর গ্রামে জন্ম। হাদরিদ্র পরিবারে প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছেন নজর উল কবিতার হাত ধরেই।

দারিদ্র্যের কারণেই উচ্চ মাধ্যমিকের পর উচ্চশিক্ষার কৌলিন্য অর্জন না-করলেও নজর উল ইসলাম নিরন্তর কবিতাচর্চার কবি হিসেবে সমুজ্জ্বল দু-বাংলায়। তাঁর ক্রমান্বয়ে প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলি হল ‘নদী এলেই তুমি এসে যাও’, ‘রাতপাখির দেহলি’, ‘আমিই সেই পথ’, ‘ ও বৃষ্টির মেঘ’, ‘মুখ লুকনো হৃদযমুনা’, ‘ মেঘপাখির আগুনলিপি’ প্রভৃতি। বাংলা সাহিত্যের প্রাতিষ্ঠানিক ও অসংখ্য লিটল ম্যাগাজিনে প্রবহমান তাঁর সৃজনশীল কাব্যকৃতির জন্য নজর উল ইসলাম পেয়েছেন চন্দ্রকেতুগড়, রিয়া ইন্ডিয়া এবং এখন বঙ্গদেশ সন্মাননা। 



তাপস কুমার দে




তাপস কুমার দে * দু’টি কবিতা 


বীজমন্ত্র 

ডানার শব্দে অবাক বিচরণ 

বৃষ্টি ব্যঞ্জনায় সৃষ্টিকে আনন্দ দিতে পারে।

কৃষ্ণলীলা ছড়ানো  বিভূতিতে

 

ঘুরেফিরে হারিয়ে সেই পথে

যে পথে হারিয়ে যায় সূর্যের গঠন


দৃশ্য সংক্রান্ত তৃষ্ণার ছাপ 

রক্তবীজ নিয়ে দাঁড়িয়ে অন্ধকার 


ঘন-জঙ্গল জলের কোন কিনারা নেই 

খোসা ছাড়িয়ে সরে যাচ্ছে শাপের শরীর 


 উবে যায় ঘ্রাণভস্ম

ধারণের শঙ্কায় ঝলসে ওঠে পাপের মিথ


উচ্ছিষ্ট আহার ব্যবহার হয়

আকাশ নীলে হাওয়াই পিঠা   


আলোয় ধারণ করা বিদীর্ণ ঘুমের পারদ

বিচ্ছিন্ন ভৃগ ভঙ্গিমায় উঠে আসে শিরার জল


সবুজ বসন্ত 

মুছে দেয়  রক্তপাতের দূরত্ব।।













তৃতীয় পক্ষ 

শীতের স্পর্শ মায়া কাতর 

লিখে রাখি ঝরে পড়া পাতার দুঃখ 

স্মৃতির আয়নায় বসন্ত উকি দিলো 


দৃশ্যের অন্তরে পাখি দৃশ্য ওড়ে

কবিতা বোনা সন্ধ্যায় জড়িয়ে আছে দিব্য আলো 

ভ্রমন উপেক্ষা করে পাঠকের লাইনে বসলো পথ


মেঘের মত জলের বইয়ে শুয়ে আছে  পরিণতির প্রাণ

ব্যর্থতা লুকানো কনকনে ঠান্ডা ছিল তরুণ বাতাসে


বোধের সয্যায় স্বপ্ন ছড়ানো ঘর

বুকের ওপর প্রচ্ছদ ছাপানো আলো 

শীতকালিন সুর দরজার শব্দে

সময় ভাঁজ খোলা অতিথি পরায়ন


আড্ডার ওম ঘুমিয়ে পড়ে

অলক্ষ্যে রোপিত হয় কবিতার বীজ 


কবি এক সূর্য 

আমি দূরে সরে যাওয়া রাত্রি।। 



**************************************************************


তাপস কুমার দে 

 লেখালিখি শুরু--সেই স্কুল জীবন থেকে লেখালেখির হাতেখড়ি। 
 স্কুল জীবন থেকে বিভিন্ন রকম গল্পের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে এটা প্রবল হয় যখন আমার এক সহপাঠী বিভিন্ন রকম বই সংগ্রহের উদ্যোগ নেই কারণ সে পাঠাগার গড়ে তুলবে। আর এ কার্যক্রমে অংশ গ্রহণ করতে গেলে একটি বই দিয়ে অংশ গ্রহণ  করতে হবে। আমি অংশ গ্রহন করলাম এবং গল্প পড়তে পড়তে লেখার ইচ্ছে জাগে এবং একটি গল্প লিখেও ফেলি ওটাই আমার প্রথম লেখা। 
প্রভাব সৃষ্টিকারী লেখক অথবা কার কার লেখা পড়তে ভালো লাগে---- আমি যখন বেড়ে উঠি তখন হুমায়ুন আহমেদের যুগ তারপরও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শরৎচন্দ্রের মতো লেখকদের লেখা ভালো লাগার তালিকায় উঠে আসে। 
আমি কেনো লিখি---- আত্মতুষ্টির জন্য খানিকটা তারচেয়ে বড়ো ব্যপার হলো মনুষ্যত্ব বিকাশের অবিচ্ছেদ্য অংশ যে সাহিত্য, তা নিজেকে ও সমাজকে বুঝাতে। যার ভেতর রয়েছে মহাজাগতিক আনন্দ। 
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়নের  পদক্ষেপ ---- লেখালেখির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বলতে নিজের বই প্রকাশ করার আপ্রাণ চেষ্টা আর সেই লক্ষ্যে পান্ডুলিপির কাজ চলমান।  
 বেশকটি সাহিত্য সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম তার মধ্যে অন্যতম খুলনা সাহিত্য মজলিস,  খুলনা কালচারাল সেন্টার। এখনও সম্পৃক্ত আছি খুলনা কালচারাল সেন্টারর সাথে।  

লালন চাঁদ

 



লালন চাঁদ * দু’টি কবিতা 


যুদ্ধ নয় শান্তি চাই 

রাতের ভেতর গহীন রাত 

অনন্ত চেতনায় জেগে উঠে মশাল মিছিল 


কিংবদন্তির কঙ্কাল খুঁড়ি 

ধর্মের ভেতর হানা দেয় বক ধার্মিক 

রক্তে ভেজে কুরুক্ষেত্র 

বিবর্ণ ফরহাদে ভাসে অজস্র মৃত্যুহীন লাশ 


প্যালেস্টাইনের মুমূর্ষু শিশু মৃত্যু হাতে নিয়ে

বেচে দেয় সোনালী শৈশব 

যুদ্ধের বিভীষিকা সারা পৃথিবীময় 


তবু আমরা বৃথা স্লোগান তুলি 

যুদ্ধ নয় শান্তি চাই 













সর্বহারা 

জীবন যুদ্ধে জীবনের গান গাই 

দেবালয়ে ঈশ্বর খুঁজি 

মুখ থুবড়ে পড়ে থাকে এ যুগের মৃত শতাব্দী 


হাওয়ায় জ্বলে ওঠে আগুন 

কবিতাগুলো গান গায় 

কবিতাগুলো বিপ্লব হয়ে যায় 

শিরায় শিরায় জেগে ওঠে অনন্ত রক্তবীজ 


তোমার হাতে আমার হাত 

পাঁজরে বিপ্লবের শব্দ। সর্বহারার গান 


*****************************************************************************************************



 লালন চাঁদ 


জন্ম পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝি। ছোটোবেলা থেকেই লেখালেখি। স্কুলের একটি ম‍্যাগাজিনে প্রথম কবিতা প্রকাশ। কলেজ লাইফে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় অনিয়মিত লেখালেখি। স্নাতকোত্তর শেষে একটা ছোটো কাজ। লেখা নেশা। রক্তের সাথে মিশে আছে । এ যাবৎ এগারোটি একক কাব‍্যগ্রন্থ---- @ হৃদয়ে তুমি @ প্রথম কদম ফুল। @ কেষ্টপুরের কেয়া মল্লিক। @ এই সময় অস্থির সময়। @ রমা রায়। @ শব্দে সাজাই কবিতা।@ বেলাভূমি। @ ঈশ্বরের হৃদয়ে জলের শব্দ। @ নীল সমুদ্র। @ অতল জলের বসত। @ বলয় গ্রাস। 

তিনটি ই কাব‍্যগ্রন্থ। @ এখানে আকাশ।@ হৃদয়ভূমি @ আরশিনগর। এছাড়া আছে বেশ কিছু অপ্রকা


গোবিন্দ মোদক

 





গোবিন্দ মোদক * দু'টি কবিতা 

১.


উদাসী জ্যোৎস্নার কারসাজি

গোবিন্দ মোদক


দুঃখকে তরল করতে চাইলে 

একটা রাতকুয়াশা নিশ্চিত নেমে আসে 

সারেঞের লঞ্চে 

তখন উদাসী হাওয়া আর 

     লবণাক্ত জলের মাতামাতি

উপকূল জুড়ে 

লাইটহাউসের নির্নিমেষ আলো

আর হিমায়িত জ্যোৎস্নার নিপুণ কারসাজি।

এসবে মোহিত হওয়ার আগেই টের পাই

বুকের প্রতিটি প্রকোষ্ঠে 

     একটু একটু করে প্রেম জমছে 

আর অনিবার্য একটি শরীরী আবেদন 

দোল খাচ্ছে লঞ্চের মাস্তুলে। 

হে প্রেম… হে নৈঃশব্দ… 

কিছুটা আলুথালু রমণ দাও!




২.


অলৌকিক সাঁতার

গোবিন্দ মোদক


গভীর থেকে গভীরতর কোনও নদীতে

সাঁতার কাটছি 

ফিকে নীল, গাঢ় নীল, নীলিমা 

তারপর অন্ধকার... 

ঠিক জন্ম-প্রকোষ্ঠে থাকা 

নিবিড় এক লাবণ্যময় উষ্ণতার মতো 

অর্ধতরল একটা সাপ-নেশা 

আমার পিছনে পিছনে আসছে 

অনুসরণকারীর মতো;

আমার সামনে তেমন কোনও 

জ্যোৎস্না নেই যার নাভিতে হাত রেখে 

আমি কিঞ্চিৎ উষ্ণতা পেতে পারি,

কোনও নারী, সুরা অথবা 

টাকাকড়ির গল্পও নেই 

যা আমাকে প্রলুব্ধ করতে পারে, 

তবু আমি সাঁতার কাটি 

সাঁতার কাটতেই হয় 

গতিজাড্যের অলৌকিক নিয়মে।



*********************************************************************************************************************************************************




                                       গোবিন্দ মোদক 

কথা:- জন্ম 05-01-1967 
শিক্ষাগত  যোগ্যতা :- M.Com (C.U.)।  
পেশা :- প্রথম জীবনে অধ্যাপনা, পরবর্তীতে India Post (ডাক বিভাগে) কর্মরত।
বাণিজ্য বিভাগের ছাত্র হওয়া সত্বেও ছোটবেলা থেকেই সাহিত্যের প্রতি ঐকান্তিক অনুরাগে হাতে তুলে নিয়েছেন কলম। কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, রম্য রচনা, উপন্যাস ইত্যাদি লিখলেও ছোটদের জন্য ছড়া-কবিতা ও গল্প লেখার মধ্যেই খুঁজে পান অধিকতর তৃপ্তি। প্রচারবিমুখ আত্মমগ্ন এই মানুষটি লেখালিখি ছাড়াও ভালোবাসেন:- বই পড়া, গান শোনা, পত্রিকা সম্পাদনা, অনুষ্ঠান সঞ্চালনা, বেড়ানো, সাহিত্য বিষয়ক নির্ভেজাল আড্ডা, এলোমেলো ভাবনায় নিমগ্ন হওয়া।

প্রথম লেখালিখি: প্রথম কবিতা "প্রেম" প্রকাশিত হয় শারদীয়া অভিষেক (1397) পত্রিকায়। প্রথম গল্প ছাপা হয় তটরেখা পত্রিকায় (হরিপদ'র গল্প) 1989 সালে। প্রথম কিশোর উপন্যাস "গুপ্তধনের খোঁজে" প্রকাশিত হয়েছে 1989 সালে শারদীয় "আসানসোল হিতৈষী" পত্রিকায়।

    প্রকাশিতব্য গ্রন্থ:- পদ্য ভরা আমার ছড়া * ছন্দ ভরা আমার ছড়া * রূপকথার রূপ-কথা * ভয়ঙ্কর প্রতিশোধ *  গুপ্তধনের সন্ধানে * জীবনের রোদ-রং ইত্যাদি  সম্মাননা: পাঠকের ভালোলাগা এবং ভালোবাসা-ই সবচেয়ে বড় পুরস্কার।