বৃহস্পতিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২২

জুয়েল মাজহার



জুয়েল মাজহারের কবিতা

বাতাস-দোলানো নদীতীরে 


কদমের ফুল, তুমি 

ফুটেছিলে রাত্রিভরে অন্ধকারে ধ্যানে

আশ্চর্য গ্রহের এই বাতাস-দোলানো নদীতীরে


প্রতীকী আকাশে কত দ্রুতচারী মেঘের সঞ্চার

দিগন্তে মাস্তুল আর ঝিকিমিকি সাংকেতিক রেল

--------সকলই অদ্ভুত আর সকলের তুমি


অজস্র পাতার ফাঁকে স্বপ্নভেদী, চিন্তাভেদী প্রার্থনার বল


আমার সংশয়, প্রেম, যাবতীয় মর্মব্যথা নিয়ে

তোমাকে জড়াই আর আমাকে জড়িয়ে থাকে

                 বালি আর ঝড়ের সংকেত


আকাশগঙ্গার তলে 

লুটেরা ডাকুর হাতে বাজিতেছে বাঁশি আর

                 পাখিসব করিতেছে রব


 এসবের মধ্যে তুমি চিরকাল ফুটে থাকো ফুল

ধ্যানে আর আশ্চর্য গ্রহের এই বাতাস-দোলানো 

নদীতীরে 








*************************************************************************************************



 জুয়েল মাজহার


জুয়েল মাজহার বাংলা কবিতায় একটি পরিচিত নাম। তাঁর কবিতাস্বর এতটাই মৌলিক ,নিবিষ্ট পাঠক পাঠমাত্র মোহাবিষ্ট হন। এই কবির কবিতাচর্চা বহুমাত্রিক । তাঁর সৃজনশীল মন কবিতার অনুবাদকর্মেও সমান ক্রিয়াশীল জুয়েল মাজহারের  কয়েকটি জনপ্রিয় বই : 
  কবিতা— দর্জিঘরে একরাত [আগামী, ঢাকা, ২০০৩] মেগাস্থিনিসের হাসি [বাঙলায়ন, ঢাকা, ২০০৯] দিওয়ানা জিকির [শুদ্ধস্বর, ঢাকা, ২০১৩] রাত্রি ও বাঘিনী [বাতিঘর, ২০২০] নির্বাচিত কবিতা [বেহুলা বাংলা, ঢাকা, ২০১৯] অনুবাদ— কবিতার ট্রান্সট্রোমার (নোবেল সাহিত্যপুরস্কারজয়ী সুইডিশ কবি টোমাস ট্রান্সট্রোমারের বাছাই করা কবিতার অনুবাদ সংকলন) [শুদ্ধস্বর, ২০১২] দূরের হাওয়া (বাংলা অনুবাদে ২০০ বিশ্বকবিতা)

উমা বন্দ্যোপাধ্যায়



উমা বন্দ্যোপাধ্যায় / দু'টি কবিতা 

ভাসানে


সমুদ্র ভাসানে গিয়ে জলের নূপুর ছন্দ গুনি

চাঁদের উথালি টান চকোরের বিরহ বুঝিনি

তাই কাঁদে মনান্তরে , তাই কাঁদে বিরহী গুহায়

কাঁকড়ার রঙ-খেলা মোহনায় ডোবে স্তব্ধতায়

শেষ হল কোনখানে, শুরুর আগেও আরও ভোরে

জেলেডিঙি খেলা জানে, শব্দগুলি বাঁধে বাহুডোরে

বহুদূর দিগন্তে এলোমেলো জলের রেখায়

জল আসে ,বালি সরে, সন্ত্রস্ত চর ভেসে যায়

উথলায়  ঝাউবন অন্তরীক্ষে পরিত্রাণ নাই

ভেসে গেছে যত ঘর , সব রাত্রি সাগরে ভাসাই....











চেনা

মুঠো খুলে দিলে, ঝরে গেলো বালি

কাছে আর দূরে, চেনা চতুরালি

ঘুম ভেঙে গেলে মিছে বসবাস

আকাশে মাটিতে মেঘের আবাস


সব বেঁধে রেখো চেনা বটগাছে

অক্ষয় স্নেহ, ঝুরিরা নেমেছে

ফেলে গেছে কে যে আধ-খাওয়া  ফল

সব আসে ফিরে হাওয়ার বদল


দেখো বসে আছে সুবেশা পাখিটি

রঙ মুছে নিয়ে মেলে ডানা দু'টি

নির্ভার ওড়ে অবারিত নীলে

সবই তো জেনেছ! তবু ডেকেছিলে!...


****************************************************************************************************


********************************************************************************************************


উমা বন্দ্যোপাধ্যায়

জন্ম ১৯৫৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়ায়। ছেলেবেলা কেটেছে বর্ধমান জেলার রূপনারায়ণপুরে। সাহিত্যের ছাত্রী উমা ছোটবেলা থেকেই কবিতার অনুরাগী । প্রথম কবিতা প্রকাশ হয় ১৭ বছর বয়সে ।  ইংরেজি কবিতার অনুবাদের শুরু কম বয়স থেকেই । স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক , তারপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৮ -এ ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর । ১৯৯৬ তে  প্রথম বই , কবিতা সংকলন ' হৃদপিণ্ড শব্দ খোলে ' । পরবর্তীতে ১৯৯৭ তে ছোটগল্প সংকলন ' ছায়াময় ও দু-একটি মানুষ ,  চেনামুখের ধারাভাষ্য ' ২০১৩ তে প্রকাশিত হয় । ২০১৭ য় প্রকাশ হয় কবিতা সংকলন 'জারুলের নিচে সন্ধ্যা '  আর গল্প সংকলন ' রম্যগীতির দিনগুলি '।উমা কিছু অনুবাদের কাজও করেছেন । সাম্প্রতিককালে  কবি অগ্নি বসুর ইংরেজি কবিতার অনুবাদসহ Frozen Music বইটি প্রকাশিত হয়েছে । আর সাম্প্রতিক প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ              'অক্ষরভূমি মধুপর্ণা' 


পঙ্কজ মান্না



পঙ্কজ মান্না / দু'টি কবিতা 

স্মৃতিকণা.........


ভাবো না এসব সত্যি যেন -

বৃষ্টি ভেজা চারটে বিকেল কৃষ্ণ -ভ্রমর মেঘ 

সেজেছে ঈশানকোণে 

অন্ধ আকাশ দেখছে না কেউ,কেবল আমি 

রাত্রি-খেচর কান পেতে রই বন্ধ ঘড়ির নাড়ির গানে 


বোতাম খোলা মেঘের বুকে হঠাৎ ছুরির রক্তপাতে

ঘর বাহিরে বৃষ্টি আসে , কেউ বা কাঁপে গভীর ত্রাসে

কেউ বা কাঁপতে ভালোই বাসে আমার মতন

পথ ভেসে যায়, পথিক ভাসে, ভিজতে থাকা 

সদানন্দ বৃক্ষ যেন প্রেম শিখেছে বৃন্দাবনে 


ওই কী মিতু! লাগামছাড়া বর্ষাঋতু , নৃত্যপরা..!

হঠাৎ মেঘে ভিজবো বলেই উপুড় করে মেঘের ঘড়া! 


আপন মনে গাইছে মিতু,ডাকনামে সে পান্তাবুড়ি

বৃষ্টি ভেজা চারটে বিকেল, ঘরের মধ্যে ভিজছি আমি 


ভাবো না এসব সত্যি যেন-

একলা কবি বাহাত্তরেও ভিজতে জানে ...

আয়ুর মূল্য ষোলোআনা, সব খুইয়ে বর্ষা কিনি 










মন বলে.....

এভাবে ডেকো না ঝরা ফুল 

এখনই ডেকো না চিতাকাঠ

দু'চোখে জলধারা মেঘে 

বীজমন্ত্র বুনি সারা মাঠ 


এখন ডেকো না রূপকলা 

এখনই বোলো না থেমে যেতে

থামবার সময় যে নেই 

পথ ডাকে অচেনা সংকেতে 


আমি তাঁর গোপনতা চিনি

সে নাচায় পুরনো অভ্যাসে

এখনই ডেকো না মহাকাল

মন বলে -সে আসে , সে আসে 


****************************************************************************************************



পঙ্কজ মান্না

 জন্ম ১৯৫১ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুরের জঙ্গলমহলে কদমডিহা গ্ৰাম।
ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক।
সরকারি চাকরি শেষে এখন অবসরপ্রাপ্ত।
বর্তমানে কলকাতাবাসী।
কবিতার সাথে বসবাস ও সহবাস বিগত  প্রায় ৫০ বছর।
প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ৯ টি---
শূন্যতেই ফেরা * ডাকনাম ভালোবাসা * ক্লান্ত ধ্রুবতারাকে বলি * রং রুটে কতদূর যাবে* প্রাক্তন ফাল্গুন জানে * উজান হাওয়া * আট পংক্তির জীবনকথা * ছায়ার সাথে এ-ঘর ও-ঘর * আলোপাখি
শেষ প্রকাশিত "আলোপাখি"
কাব্যগ্ৰন্থ ১৪২৮ সালের পয়লা বৈশাখ। 
প্রকাশক- কবিপত্র প্রকাশ


সৈয়দ কওসর জামাল



সৈয়দ কওসর জামাল / দু'টি কবিতা

অগ্নিস্নান


জ্বলছে সংসার

শোঁশোঁ শব্দে ছড়ায় আগুন চারিদিকে

দূর থেকে দেখি

কীভাবে নিঃশব্দে ধোঁয়া হয়ে উড়ে যাচ্ছে

আমাদের রান্নাঘর, স্নানগৃহ, দেওয়ালে হাতের স্পর্শ

ভালোবাসা ধোঁয়া হতে পারে না কখনও

সেসব গোপন থাকে হাতের মুদ্রায়,

         কিংবা শাড়ির আঁচলে, পানের কৌটোয়

কী তাদের ভাষা, অভিব্যক্তি কীভাবে প্রকাশ করে

আমরা জানিনি, দেখেছি গৃহের মধ্যে মেঘপুঞ্জ

বৃষ্টিরা নেমেছে দেখি যখনতখন


 কোথায় বৃষ্টিরা আজ! কে বাঁচাবে প্রলয় থেকে!

আকাশ বিমুখ দেখে মৃত্যুর ফড়েরা ঘোরে

                                এদিকওদিক

আগুনের হল্কা যত দেহে এসে লাগে

মোহপরিবৃত শরীরের ডানাগুলো খুলে খুলে যেতে চায়

ওদিকে নিষ্ঠুর সময়বিলাস জাগে

জাগে আগুনের কালো বিষ

পাতালপৃথিবী থেকে ছুটে আসে সাইলপ দৈত্যদের

                বিস্ফোরক বজ্রের শলাকা

আমাদের মোহ নেই, ভ্রান্তি নেই, কপটতা নেই

আগ্নিস্নানে এ সংসার এইবার নব্য উপনিবেশের

                আশ্রয়শিবির হয়ে উঠবে।












নশ্বর বাঁচাও চাই   

এ সংসার নশ্বরতা ছেড়ে আকাশসাঁকোটি

                       পেরোতে চেয়েছি


 ধাক্কা খেয়ে নীচে পড়ে যাই

আবার ওঠার চেষ্টা করি

বুঝে যাই পতনশীলতা রক্তে পেয়েছে প্রশ্রয়

এ সময় বিষণ্ণতা আমার আশ্রয়

আমি তাকে প্রতিপালনের কথা বলি

বলি দ্যাখো এই ভঙ্গুর শরীর উপশমহীন

যাকিছু বাঁচিয়ে রাখে তা হল মেধার প্রবঞ্চনা

এভাবেই ছোট্ট এ সংসার ভরে ওঠে

      সন্দেহের সবুজ বাগানে, শস্যে, ফলে


হোঁচট খাওয়ার পর আজ পুনরায়

প্রবল অনিশ্চিতের গায়ে ঠেস দিয়ে আমি

                        ঘুমোতে চেয়েছি


টের পাই

শরীরের মধ্যে কোনো শরীর জেগেছে

খুলে গেছে স্নানঘর থেকে সহস্র জলের ধারা

প্রশান্ত রসের থেকে করুণ রসের উৎসমুখ

আমি বাঁচি হর্ষে ও বিষাদে

বাঁচি ও বাঁচিয়ে রাখি হোঁচটবিলাস

বাঁচিয়ে রেখেছি দেখি সংসারবিভ্রাট


 ঘুম পায়, কঠিন শ্রমের মতো কবিতাও পায়

অনশ্বর কাব্যপুথি হাতে নশ্বর বাঁচাও চাই!


**************************************************************************************************************

***************************************************************************************************************



সৈয়দ কওসর জামাল

কবি ও প্রাবন্ধিক সৈয়দ কওসর জামালের কবিতা চর্চার শুরু ১৯৭০ এর গোড়া থেকে। তুলনামূলক কাব্যচর্চায় অপরিসীম আগ্রহ তাঁর। এখন পর্যন্ত ৮টি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত। কবিতার জন্য পেয়েছেন কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পুরস্কারও। অনুবাদ করেছেন সমকালীন ফরাসি কবিতা। ‘কবির জগৎ কবিতার জগৎ' বইটি কবি ও কবিতা সম্পর্কে তাঁর প্রবন্ধের নির্বাচিত সংকলন। সম্প্রতি কলকাতা বইমেলায়  প্রকাশিত হলো তাঁর রবীন্দ্রনাথ ও ফ্রান্স বইটি। নিঃসন্দেহে আমাদের সাহিত্যে এটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন 


             

কবিতা * নির্মল হালদার




নির্মল হালদার / তিনটি কবিতা

হরিতকী গর্ভের আলোয়


খদ্দের কালো না ফর্সা দেখলে হবে না

সে এক পয়সার সর্ষে চাইলে

তুমি তো আর পোস্ত দিবে না


খদ্দের শুধু খদ্দের।


উপর দিকে না চেয়ে

তোমার দিকে চেয়ে আছে

কখন তুমি দেবে এক সের চাল


ঘরের উনুনে হাঁড়ি।


জলদি দাও হে দোকানি,জল ফুটছে।



কে বলেছে সস্তা করতে

যা দাম তাই দাও।

কালো জিরেরও দরকার পড়ে

আমাকে নিয়ে যেতেই হবে।


ভালোবাসতেই হবে,

কালো জিরের গুণাগুণ।













কখনো রাস্তায় দেখা হয় না

কেবল দোকানেই দেখা হয়

সারাদিনে দু' একবার


রোদে জলেও দোকানে যাই

খদ্দেরের ভিড় থাকলেও দেখতে পাই,

দোকানির চোখের হাসি


কী যে তার মানে, আমার জানা নেই।


**********************************************************************************************



নির্মল হালদার

বাংলা কবিতায় নির্মল হালদার ভালোবাসামাখা একটি সুপরিচিত নাম। আজীবন কবিতার প্রতি একনিষ্ঠ এই কবির কলমে রাঢ়বঙ্গের প্রকৃতি, প্রান্তিক মানুষের অব্যক্ত জীবনছন্দ বাঙময় হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত যা স্থান কালের সীমানা ছাড়িয়ে হয়ে ওঠে কালোত্তীর্ণ শিল্পসৃষ্টি । অস্ত্রের নীরবতা * সীতা * লালকমল নীলকমল * মারাংবুরু * পুরানো আখরগুলি * তমোঘ্ন প্রভৃতি কুড়িটিরও বেশি কাব্যগ্রন্থের প্রণেতা


সম্প্রতি প্রকাশিত 




সম্পাদকীয়

****************************************************** 

সম্পাদকীয়

স্বরবর্ণ * দশ * শারদীয় ১৪২৯

৮ আশ্বিন ১৪২৯ * ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

********************************************************


শরৎ মানেই খুশির হিল্লোল। মনেপ্রাণে। আকাশে-বাতাসে। মেঘ-বৃষ্টি, নিম্নচাপ যতই শাসাক,দ্রব্যমূল্য যতই চোখ রাঙাক, নাভিশ্বাস উঠুক নুন আন্তে পান্তা ফুরোনো আপামরজনের ...তবু,নিশ্চিন্তে মেঘের ফাঁক দিয়ে রোদ্দুর কী করে যেন পিছলে এসে পড়ে খড়ের গাদায়, টিনের চালে....দোল খায় নারকেল সুপারি আম জাম জামরুলগাছের ডালে ডালে। খাল বিল নদী নালা জলা জঙ্গল কাশফুল বুকে ধরে দু'হাত তুলে মাথা দোলায়। দোলা লাগে শহরেও। ' ধর্মতলার মোড়ে একফালি চাঁদ আটকে আছে ইলেকট্রিকের তারে' সেই একফালি চাঁদকে সম্পূর্ণ করার পালা চলে শারদ পার্বণের দিনগুলোতে। শহরে কী গ্রামে।

তবে, শব্দের ভেতরেই কবি লেখকের যাবতীয় সন্ধ্যারতি, পুজো পার্বণ। শব্দের ভেতরেই উদযাপন তাঁর কান্না-হাসির অনির্বাণ তিথি। তাঁর শরৎ হেমন্ত উদ্বাহু হয় তখনই, যখন শব্দে শব্দে সৃষ্টির শিখাটি জ্বলে ওঠে। কবিতা তাঁর অন্তরাত্মার এমনই এক নির্জন সংগীত। এবার আমরা শারদ "স্বরবর্ণে"একটু কান পাতি .... "..যাকে তুমি মৃত্যু / জানো, সে শুধু খন্ডযবনিকা....আত্মার আড়াল / আত্মা--- শোক ভুলে থাকা।"

  ------পরানসখা ব্রজবাসী লিখছেন গুচ্ছকবিতায়।


" দুগ্গা, অপু রে। কিছু-ই দেখি না তো ! না ট্রেন না কাশফুল না ছাতিম সুবাস। যেদিন রোদ্দুরের গায়ে ছায়া ছায়া বুঝতে পারি আশ্বিন মাস। বলি ত্রিনয়ন খোলো মা গো। দ্যাখো দাঁড়িয়ে আছি জলশূন্য জ্ঞানশূন্য নিরম্বু আকাট।

মারবে কী গো ! আমায় অসুর করো। এ জীবনে এখনও মেলেনি তিন বাঁও। না যদি পারো; আরো যন্ত্রণা, যন্ত্রণা দাও"

            -------প্রদীপ ঘোষ / গুচ্ছ কবিতা


"....হাবুডুবু খেয়ে নোনা জলে/ সমুদ্রঘোটক হয়ে, ডলফিন, / শেষে দেখি কখন আঁচলে /লেগে আছে শীর্ণ সেফটিপিন।"

            -----মেটামরফোসিস/ গৌরীশঙ্কর দে


"এত কালোতে কেন যে দাঁড়ালে / সকল রেখার ওপারে / তাঁকেই খুঁজি ..."

           ------দীপঙ্কর রায়/ গুচ্ছ কবিতা


এমনি আরও আরও.....

এবার চোখ ফেরানো যাক গদ্যেশিল্পের দিকে। একটু নমুনা---


'নিয়তির হরফে লেখা এক নাটকীয় অশান্তির নাম ' মির্জা গালিব' 

খুব সম্ভবত ভারতের ইতিহাসে মির্জা গালিবের মতো প্রভাবশালী কবি দ্বিতীয়টি আর নেই। তিনি প্রথম এগারো বছর বয়সে কবিতা লেখা শুরু করেন। বিয়ে করেন প্রথম তেরো বছর বয়সে। তাঁর লেখা গজল, শায়েরি, রুবাইয়াতে বিহ্বল হয়েছে সদ্য প্রেমে পড়া তরুণ থেকে পরিণত পণ্ডিত পর্যন্ত।......"

'মির্জা গালিব' প্রবন্ধে প্রবন্ধকার শংকর ব্রহ্ম এমনি করেই মির্জা গালিবের অনালোচিত দিকগুলির বিশ্লেষণে প্রয়াসী হয়েছেন।

"আশির দশককে আমার ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়। সময়ের চিহ্ন হিসেবে। একটা অদ্ভুত সমাপতনের ভেতর দিয়ে যাচ্ছিল সেই সময়ের বাঙালির মনন। বৈপরীত্যের সঙ্গে আপোষ তৈরি হচ্ছিল একটা। এবং অবশ্যই একটা গুরুত্বপূর্ণ ক্রান্তিকালে। গত শতাব্দীর তো বটেই এই শতকের জন্যেও গুরুত্বপূর্ণ একটা ক্রান্তিকালে দাঁড়িয়ে যখন আপোষ আর সন্দেহের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তার অবচেতনের একটা রেখাচিত্র এঁকে দেয় সেই দশকের বাংলা কবিতা। ......"

'আশি এবং অন্তর্বর্তী পাঠ' কবিতা বিষয়ক গদ্যে আশির দশকের অন্যতম দুই গুরুত্বপূর্ণ কবি বিজয় সিংহ এবং অরুণাংশু ভট্টাচার্যের দুটি গ্রন্থের আলোচনা প্রসঙ্গে এভাবেই এগিয়েছে আলোচক সব্যসাচী মজুমদারের ভাষাশিল্প।

'ফারসি কবিতার তিন নারী' অনুবাদ কবিতায় রুপায়ণ ঘোষ-এর অনবদ্য অনুবাদকর্মে আমরা পড়ব জমিলা ইস্ফাহনি , নূরজাহান (শাজাহান পত্নী) এবং যিব-অল-নিসা-মখফি-র অসাধারণ সব কবিতা।

'' নীরেন্দ্রনাথ এর কবিতা পড়তে পড়তে শিখেছি, মানুষ যখন স্বীয় সীমাকে নি:সীম ভাবে অতিক্রম করে যায় তখনই জন্ম হয় সার্থক কবিতার' .....'প্রসঙ্গ: নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ও আমাদের সমকাল'' গদ্যে পারমিতা ভৌমিক কেন এমন উপলব্ধিতে পৌঁছলেন, তা জানতে আপনাকে আদ্যোপান্ত গদ্যটি পড়তেই হবে।

সম্প্রতি না-ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন কিংবদন্তী চলচ্চিত্র পরিচালক জাঁ লুক গোদার। 'স্মরণ' বিভাগে তাঁকে নিয়ে অনবদ্য স্মৃতিচারণ করলেন প্রথিতযশা লেখক কিন্নর রায়। এ বছরই জন্মশতবর্ষের সূচনা হল আর এক নাট্য ও সিনেমা ব্যক্তিত্ব উৎপলজায়া শোভা সেনের। জন্মশতবর্ষের শুরুতে 'বিপ্লবের বাঁশি' রচনায় তাঁকে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানালেন স্বনামধন্য লেখক সম্রাট মুখোপাধ্যায়।

সত্তর অধিক কবিতা গল্প অণুগল্প দু'টি ধারাবাহিক উপন্যাস-সহ বহুতর রচনায় সমৃদ্ধ হয়ে শারদীয় স্বরবর্ণ আজ মহালয়ার পুণ্য লগ্নে প্রকাশিত হল। এই আয়োজন পাঠকদের ভালো লাগলে আমাদের সুদীর্ঘ পরিশ্রম সার্থক হবে। 

দুয়ারে শারদোৎসব। উৎসবমুখর হয়ে উঠুক সকলের আগামী দিনগুলি ...


****************************************************************************************************

শারদীয় * স্বরবর্ণ * ১৪২৯ / যাঁদের লেখায় সমৃদ্ধ হল

 

শরৎ শিউলি আর কাশফুলের পাশে

                  হৃদয়ে থাকুক

                       স্বরবর্ণ

                সৃজনের মৌলিক স্বর

স্বরবর্ণ * দশ * শারদীয় * ১৪২৯ 

লেখকসূচি 

কবিতা

নির্মল হালদার * সৈয়দ কওসর জামাল * পঙ্কজ মান্না * উমা বন্দ্যোপাধ্যায় * জুয়েল মাজহার * বিজয় সিংহ * চন্দন রায় *সজ্জ্বল দত্ত  * অতনু ভট্টাচার্য * শীলা দাশ * কানাইলাল জানা *  প্রভাত ভট্টাচার্য * মধুমিতা বসু সরকার * অমিত চক্রবর্তী * দেবার্ঘ সেন * বিকাশ চন্দ * উদয় ভানু চক্রবর্তী * অলোক পুষ্পপুত্র * সাধন চৌধুরী  অমলেন্দু বিশ্বাস * কল্পোত্তম * রাসবিহারী ঘোষ * লিটন শব্দকর * শ্রীদাম কুমার * সুজয় যশ * অন্তরা সরকার * আব্দুস সাত্তার বিশ্বাস * নমিতা বসু * চিরন্তন জানা * হামিদুল ইসলাম  অরূপরতন হালদার   দেবদাস রজক * গোবিন্দ মোদক * কিশলয় গুপ্ত * মৃন্ময় মাজী  লক্ষ্মীকান্ত মন্ডল * জবা ভট্টাচার্য * চন্দ্রাণী গোস্বামী * মনোজ বাগ  অনিরুদ্ধ সুব্রত * মোহাম্মদ হোসাইন * তীর্থঙ্কর সুমিত * স্বপ্নদীপ রায়  পার্থ প্রতিম গোস্বামী * দেবাশিস * অনিন্দ্যকেতন গোস্বামী * সুধাংশু রঞ্জন সাহা * পলাশ দাস * মালা ঘোষ মিত্র নিতাই চন্দ্র মাঝি *সোমা মুখোপাধ্যায় * মলয় চৌধুরী রামকৃষ্ণ মাহাতো * নাসির ওয়াদেন অনুপ ঘোষাল 

গুচ্ছ কবিতা 

গৌরীশঙ্কর দে * দীপংকর  রায় * প্রদীপ ঘোষ * ছোটন গুপ্ত * পরানসখা  ব্রজবাসী  * শুভশ্রী রায় * নিমাই জানা * গৌতম কুমার গুপ্ত 

কবিতা বিষয়ক গদ্য

পারমিতা ভৌমিক * শংকর ব্রহ্ম তপন পাত্র * স্বপন নাথ 

অনুবাদ কবিতা * রূপায়ণ ঘোষ 

রম্যরচনা * দেবাংশু সরকার

গল্প * শতদল মিত্র * শুভাশিস ঘোষ * মল্লিকা রায় * সোমা বন্দ্যোপাধ্যায় * বিরথ চন্দ্র মণ্ডল 

অণুগল্প *দেবাশীষ মুখোপাধ্যায় * বিশ্বনাথ পাল * মানসী কবিরাজ * প্রদীপ দে

উপন্যাস * কথা দিয়েছিলাম হেমন্তের নিয়রে * দীপংকর রায়

উপন্যাস * ধুলোর সিংহাসন (অন্তিম পর্ব) * দেবাশিস সাহা

পাঠ পরিক্রমা * সব্যসাচী মজুমদার * পার্থ সারথি মহাপাত্র * তন্ময় রায়

স্মরণ জাঁ লুক গোদার * কিন্নর রায়

স্মরণ * বিপ্লবের বাঁশি * সম্রাট মুখোপাধ্যায় 

প্রিয় কবি প্রিয় কবিতা নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

তোমায় খুঁজে ফিরি অমৃতস্য পুত্রা * স্বামী বীরেশ্বরানন্দ

প্রচ্ছদচিত্র * নেট 

প্রিয় কবি লেখক ও পাঠকদের প্রতি


সম্পাদকমণ্ডলী                                                   

 ড : শুভঙ্কর দে           অলোক কোৱা

সৌম্যজিৎ দত্ত             দেবাশিস সাহা  


শনিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২

স্বরবর্ণ * দশ * শারদীয় * ১৪২৯



শরৎ শিউলি আর কাশফুলের পাশে

                  হৃদয়ে থাকুক

                       স্বরবর্ণ

                সৃজনের মৌলিক স্বর

স্বরবর্ণ * দশ * শারদীয় * ১৪২৯ 

লেখকসূচি 

কবিতা

নির্মল হালদার * সৈয়দ কওসর জামাল * পঙ্কজ মান্না * উমা বন্দ্যোপাধ্যায় * জুয়েল মাজহার * বিজয় সিংহ * চন্দন রায় *সজ্জ্বল দত্ত  * অতনু ভট্টাচার্য * শীলা দাশ * কানাইলাল জানা *  প্রভাত ভট্টাচার্য * মধুমিতা বসু সরকার * অমিত চক্রবর্তী * দেবার্ঘ সেন * বিকাশ চন্দ * উদয় ভানু চক্রবর্তী * অলোক পুষ্পপুত্র * সাধন চৌধুরী  অমলেন্দু বিশ্বাস * কল্পোত্তম * রাসবিহারী ঘোষ * লিটন শব্দকর * শ্রীদাম কুমার * সুজয় যশ * অন্তরা সরকার * আব্দুস সাত্তার বিশ্বাস * নমিতা বসু * চিরন্তন জানা * হামিদুল ইসলাম  অরূপরতন হালদার   দেবদাস রজক * গোবিন্দ মোদক * কিশলয় গুপ্ত * মৃন্ময় মাজী  লক্ষ্মীকান্ত মন্ডল * জবা ভট্টাচার্য * চন্দ্রাণী গোস্বামী * মনোজ বাগ  অনিরুদ্ধ সুব্রত * মোহাম্মদ হোসাইন * তীর্থঙ্কর সুমিত * স্বপ্নদীপ রায়  পার্থ প্রতিম গোস্বামী * দেবাশিস * অনিন্দ্যকেতন গোস্বামী * সুধাংশু রঞ্জন সাহা * পলাশ দাস * মালা ঘোষ মিত্র নিতাই চন্দ্র মাঝি *সোমা মুখোপাধ্যায় * মলয় চৌধুরী রামকৃষ্ণ মাহাতো * নাসির ওয়াদেন অনুপ ঘোষাল 

গুচ্ছ কবিতা 

গৌরীশঙ্কর দে * দীপংকর  রায় * প্রদীপ ঘোষ * ছোটন গুপ্ত * পরানসখা  ব্রজবাসী  * শুভশ্রী রায় * নিমাই জানা * গৌতম কুমার গুপ্ত 

কবিতা বিষয়ক গদ্য

পারমিতা ভৌমিক * শংকর ব্রহ্ম তপন পাত্র * স্বপন নাথ 

অনুবাদ কবিতারূপায়ণ ঘোষ 

রম্যরচনা * দেবাংশু সরকার

গল্প * শতদল মিত্র * শুভাশিস ঘোষ * মল্লিকা রায় * সোমা বন্দ্যোপাধ্যায় * বিরথ চন্দ্র মণ্ডল 

অণুগল্প * দেবাশীষ মুখোপাধ্যায় * বিশ্বনাথ পাল * মানসী কবিরাজ * প্রদীপ দে

স্মরণ জাঁ লুক গোদার * কিন্নর রায়

স্মরণ * বিপ্লবের বাঁশি * সম্রাট মুখোপাধ্যায় 

পাঠ পরিক্রমা * সব্যসাচী মজুমদার * পার্থ সারথি মহাপাত্র * তন্ময় রায়

উপন্যাস * কথা দিয়েছিলাম হেমন্তের নিয়রে * দীপংকর রায়

উপন্যাস * ধুলোর সিংহাসন (অন্তিম পর্ব) * দেবাশিস সাহা

প্রিয় কবি প্রিয় কবিতা * নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

তোমায় খুঁজে ফিরি * অমৃতস্য পুত্রা * স্বামী বীরেশ্বরানন্দ

প্রিয় কবি লেখক ও পাঠকদের প্রতি


সম্পাদকমণ্ডলী                                                   

 ড : শুভঙ্কর দে           অলোক কোৱা

সৌম্যজিৎ দত্ত             দেবাশিস সাহা