সোমবার, ২ অক্টোবর, ২০২৩

শীলা দাশ




শীলা দাশ * দু'টি কবিতা দু'টি কবি







কুয়াশা কেটে গেলে                                   

তোমার জ্বর ঠোঁটে এখন কুয়াশার গাঢ় সংলাপ। নিঝুম ঘরদোর,উঠোনে পড়ে আছে ভাঙ্গা বাঁশি।তোমার ঘুমচোখে পাতার শিরশিরানি।তোমার ইচ্ছে আর অনিচ্ছেরা একসাথে শুয়ে আছে। এই দিলাম তোমাকে এক অরণ্য ভালোবাসা। মাথা তোলো। চুমু নাও, কুয়াশা কেটে যাবে। আলতো রোদে নেমে আসবে শুশ্রুষার বাতাস। তারপর উঠে একগাল ধুলো মাখা ভাত খেও। জেনো এই তোমার স্বদেশ জন্মভূমি। কুয়াশা কেটে গেলে ভালোবাসা পেলে তুমি নিরাময় চোখে একবার তাকিও তোমার স্বদেশের দিকে। সে হাত বাড়িয়ে আছে।












তোমার ইচ্ছেগুলো                                 

তোমার ইচ্ছের হাড়গুলো সব ভেঙ্গে গেছে।তুমি এখন কেঁচোর মত। মাংসপিন্ডের ভেতরে ইচ্ছে গুলো আঁকপাক করছে।তোমাকে দেখে কি কোনো ফুল ফুটবে?অথবা চাঁদ তারা? ঐ দ্যাখো বোধ হয় বৃষ্টি আসছে। বৃষ্টি পড়লে এক্ষুনি জোসনা নিকনো উঠোন ধুয়ে যাবে। তখন কি তোমার গুড়ো গুড়ো ইচ্ছে গুলো জমে শক্ত হয়ে প্রস্তর যুগের ঘোড়া অথবা ডাইনোসর হবে? হাজার হাজার শতাব্দীর শেষে তোমাকে দেখে আবার ফুল ফুটবে চাঁদ উঠবে তারা জাগবে।



***********************************************************************************************************



 শীলা দাশ 

জন্ম ৪ জানুয়ারি ১৯৫২,বারাসাত
পিতৃভূমি বাংলাদেশ
শিক্ষা এম এ বাংলা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
অবসরপ্রাপ্ত রাজ্যসরকারি কর্মচারী
নিবাস বারাকপুর
পশ্চিমবাংলায় বিভিন্ন জেলাসহ কলকাতার
কিছু বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকাতে নানা কাব্যসংকলনে কবিতা প্রকাশিত হচ্ছে। 
প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ :
গাঢ় নীল অন্ধকারে * সময় ফুরোবার আগেই * রোদ মেলেছে পা * বিস্মরণে ২৫শে বৈশাখ * নাম দিলাম প্রত্যয় * সেদিন সূর্যাস্তে *পৃথিবীর বয়সিনী মেয়ে* প্রেমকাব্য ও সনেটগুচ্ছ   
                                                                            


অনিরুদ্ধ সুব্রত





অ-নিরুদ্ধ সুব্রত * দু'টি কবিতা








সুন্দর করে বলো

এমন করে বলবে, যাতে বলবার সুযোগই

পাবো না আমি, পুরো হা হয়ে থেকে

কেবল শুনতে শুনতে শুধুই শুনতে শুনতে

নিজের বিম্ব বারবার--- আয়নায় দেখব, আর

বিস্মিত হব, অস্থির হব, নিজেই লিরিক লিখে

তাতে সুর দেব, তারপর চিৎকার করে গান গাব

ফাঁকে, নিজের হাতে নিজের বুক ছোঁবো।

 

এমন করে লিখবে, পড়তে পড়তে ঠোঁট কাঁপবে

আমার, থর থর থর, ওষ্ঠ অধর মর্মর

ঘনিভূত মেঘের হঠাৎ তারতম্য সুখে, বুকে

ঝরঝর, বিগলিত হয়ে, টপটপ কাঁদব

এমন করে বলবে, লিখবে--- আমি বন্ধ ঘরের

অন্ধকারে আনন্দ-চাঁদকে আপ্লুত হয়ে চুমু খাব।


কিন্তু এমন করে বলবে না, লিখবে না,  যাতে 

তুমি যে আমাকে ভালবাসো না, তা জেনে যাব।




অক্লান্ত

আমি কি তাহলে কয়লার খাদে

একটাও ক্লান্তির গল্প বলা হলো না


সারারাত কৃত্রিম আলোয় খুঁড়ছি

অন্ধকারের রূঢ় চাঙড়, গভীর গুহায়


বেঁচে থাকার এই সব পুরনো খননে

কোথাও ছিল না কি ক্লান্তির উপকাহিনি


দহন-প্রসঙ্গ নস্যাৎ করে, দাহ্য উত্তোলনে

নষ্ট হাজার রাতে, কেন যে আর, কী কারণে


ট্রলি ভরে ভরে অনন্ত ঘর্ঘরে, জীবাশ্ম শরীর

বহুকালের নিস্প্রাণে, এই ঘন ঘন আঘাতে...

 


******************************************************************************************************




অ-নিরুদ্ধ সুব্রত

জন্ম ১৯৭৪, বনগাঁয়। ছাত্রবয়স থেকে লেখালিখি শুরু। মূলত কবিতা। এছাড়া ফিচার ও ছোটো গল্প। এ পর্যন্ত প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ- ছয়টি। প্রথম কাব্যগ্রন্থ- 'রোদ ও বোধের দ্বীপে'(২০০৩) এরপর 'আগুনের দিন গুলো নেই', 'নিভৃত আগুনের পদাবলী', 'এক গলিত যুদ্ধ স্রোত', 'কালো ছত্রাক', 'যাপন বিক্রির টেবিল'(২০২১)। সম্পাদিত পত্রিকা- 'উত্তর পক্ষ' । পেশা শিক্ষকতা, নেশা কবিতা।সম্প্রতি প্রকাশিত অ-নিরুদ্ধ সুব্রত-র কবিতার বই---





সজ্জ্বল দত্ত





দাম্পত্য * সজ্জ্বল দত্ত              


সূচনালগ্ন 

                     

হঠাৎ সুনামি ঢেউ চৈত্রবিকেলে দে'য়ানে'য়া 

বৃষ্টি জমে কি সাদা জলের পাহাড়চূড়ো আমাদের ?

মেঘের ইচ্ছে সে পাহাড়কে সাক্ষী রাখা 

তাই ভাঙাঘর লালফুল মধুচন্দ্রিমা সংকেত ... 



মধ্যপথ 

                      

একটুখানি আসে 

বাদবাকিটা বানাও 

তাই নিয়ে এই কঠোর দাবী , গোটাজীবন মানাও ?



অন্ত্যমিল 

                      

কবে যে নিথর যজ্ঞে আহুতি পুড়ে গলে ফুটন্ত ছাই !

নিরাকার কোথাও আমরা দু'মুঠো ধুলোবালি 

হাওয়ায় সারাদিন পাশাপাশি উড়ে উড়ে -- 

একই আঙুল ছুঁয়ে আবার নিয়মে ফের জন্মপ্রার্থনায়... 














************************************************************************************************



সজ্জ্বল দত্ত

জন্ম : ৬ই নভেম্বর , ১৯৬৮ । কবিতা লেখালেখির সূচনা গত শতাব্দীর ন'য়ের দশকে । কবিতাযাপনের সূচনা থেকে বিস্তারের বড় একটি অংশ কেটেছে নদীয়া জেলার রানাঘাটে । পেশায় ভারতীয় জীবনবীমা নিগমের কর্মচারী কবি সজ্জ্বল দত্ত এই মুহূর্তে ব্যারাকপুর শহরের বাসিন্দা । .... এ যাবৎ প্রকাশিত কবিতার সংকলন : ১ ) স্বাগত শ্রাবণ - জোনাকি ( ১৯৯৭ ) : প্রকাশক - দাহপত্র , ২ ) পোস্টমর্টেম ( ২০০০ ) : প্রকাশক - এই সহস্রধারা , ৩ ) দাগ ( ২০২০ ) : প্রকাশক - ব্যারাকপুর স্টেশন । সম্প্রতি প্রকাশিত----


গৌরীশঙ্কর দে




গৌরীশঙ্কর দে * দু'টি কবিতা







চন্দ্রযান

রাজনীতি বন্ধ করো চন্দ্রযানের প্রসঙ্গে প্রভু।

কে জানে কবির এই বুকফাটা কাতর আহ্বানে

সাড়া কি দেবেন রাজা স্বঘোষিত কাউন্ট ক্যাভুর?

সন্তানের জন্মশঙ্খ বাজে কী পিতার পুষ্পোদ্যানে।


চারাগাছ মা'র কোলে বীজতলা পায় বড়ো হলে,

বাপের বাগানে ফুল ফোটায় নির্জনে, সগর্জনে।

মা'র মুখে সন্ধিপূজার ঘাম-তেলের বদলে

প্রস্ফুটিত পদ্ম আর দীপশিখা নেভে বিসর্জনে।


সনেটের পাটাতন ধরে থাকি মাত্রা গুণে গুণে,

আমার আঙুল থেকে ঝরে পড়ে স্বরবর্ণে লেখা।

এসব কাতর ডাক থামে না সহজে চট বুনে

আসন সাজিয়ে ডাকে: আয় দেহলগ্ন হয়ে দেখা।


দেখি তোর আপাদমস্তক সব ভুরু থেকে ঊরু,

বিক্রম প্রজ্ঞান এতো অবতরণের সবে শুরু।












আরও চন্দ্রযান

চন্দ্রপৃষ্ঠ ততটা ধরণী নয় রুক্ষ ফাটো ফাটো

রামকিঙ্করের অপরূপ সিমেন্টের সাঁওতাল রমণী।

বিক্রম প্রজ্ঞান কোলে খুব সাবধানে হাঁটো,

তুমি তো ইসরোর বুকে হাঁটাচলা প্র‍্যাকটিস করনি।


চাঁদ অত পৃথিবী নয় জানি তবু চন্দ্রাহত আমি।

লুনার আগ্রাসী অগ্রে জন্মানোর রাষ্ট্রীয় তাড়না

লক্ষ্য করে বলি ধৈর্য্য মূল্যবান বড়ো দামি,

তাকে ভোট বাক্সে ফালতু ব্যবহার করার বাসনা


পরিত্যাগ করো।মেওয়া সবুরে ফলবে দেখে নিয়ো

নিজে শুধু বুকে চেপে সন্তানের অনির্বচনীয়


সুখস্বপ্ন আনন্দে ঘুমিয়ো ঈমানে ইবাদতে।

চন্দ্রযান তিনের আহ্বান শোনো চন্দ্র থেকে দূরে,

সদ্যোজাত গোবৎসের ভঙ্গিমাটি দিকশূন্যপুরে,

বিক্রম-প্রজ্ঞানবাহী জি এস এল ভি মার্কের দৌলতে।


*************************************************************************************************



গৌরীশঙ্কর দে 

বাংলা কবিতায় একটি পরিচিত নাম ছন্দকুশলী এই কবি প্রতিনিয়ত আমাদের কাব্যপিপাসা পরিতৃপ্ত করে চলেছেন নির্বাচিত কবিতাসহ এ পর্যন্ত আটটিরও বেশি কাব্যগ্রন্থ তিনি রচনা করেছেন তাঁরকয়েকটি উল্লেখযোগ্য  কবিতার বই ---অশ্রু প্রপাতের নিচে * স্খলিত স্বপ্নের নীড় * ভাষামাতৃক্রোড়*আদিসপ্তগ্রাম * আশির বাদকের পত্রলেখা*অনৈশ্বর্য * নির্বাচিত কবিতা* 
আমার নিভৃতাবাস 




চন্দন রায়





চন্দন রায় * দু'টি কবিতা







সংগোপনে এসো

সুপ্রাচীন পৃথিবীর পদতল

অনেকখানি জায়গা খালি পরে আছে

এসো আমরা ওখানে দাঁড়িয়ে একটা পরাগ শুদ্ধ

ভুবনের ছবি এঁকে ফেলি-----


একাধিক নদীর গোয়ার্তুমি উথালপাথাল শয্যা

অন্যদিকে ঝাঁকড়া চুলের আঁধারভর্তি আর্তনাদ

নিয়ে বেশ কিছু হলুদ ফুল

পাখিরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করবে

দরজা খোলা থাকবে, সাদা কালো হাড় দিয়ে একটা

প্রকান্ড গেট , বনের চিহ্ন নিয়ে অসংখ্য মৃত মানুষ

রামায়ণের বই খুলে মুখস্ত বলবে

রেখাঙ্কনে কোন ভিখারী থাকবে না---


সংগোপনে এসো

আমরা পরাগ শুদ্ধ ভুবনের একটা ছবি এঁকে রাখি










এদের কোন প্রেম থাকে না

বহুক্ষণ মুখোমুখি প্রেম ছিল

তারপর মনোবেদনার রঙ নিয়ে উধাও


এখন করুণার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে রাত্রি আসে

নৌকো যাত্রায় মাঠের পর মাঠ পেড়িয়ে 

ভোরবেলা নিরালায় স্নান----


এখন কবিতা লিখি না

বৃষ্টিজলে ধুয়ে যায় পাজামার নিচ

সারাবছর লাল নীল হলুদ রঙে দুঃখ ডুবিয়ে

সন্ন্যাসীর সদ্য বিবাহিত উপমার কাছে

আত্মজীবনী বর্ণনা করি


সে খুব মন দিয়ে শোনে, আমি ব্যস্ততাময় দৃষ্টিতে

তাকে প্রেমের বাল্যকাল, মধ্যকাল, অন্তিমকালের

ছবি দেখিয়ে বলি---এর মাটির গভীরে অনেকগুলো

কাঙাল স্বপ্ন  ঘুমিয়ে থাকে

এদের কোন পোশাক থাকে না-----


********************************************************************************************



চন্দন রায় 

আশির দশকের অন্যতম বিশিষ্ট কবি । আটটিরও বেশি কাব্যগ্রন্থের প্রণেতা । নতুন মান্দাস নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করেন, যা ইতিমধ্যেই পাঠকপ্রিয় হয়ে উঠেছে । কবি চন্দন রায়ের অন্যতম জনপ্রিয়  দুটি কাব্যগ্রন্থ : জেলখানার খোলা চিঠি এবং শিরোনাম সন্ধান চলছে নতুন মান্দাস * শারদ সংখ্যা * ১৪৩০ এর প্রচ্ছদ-----







স্বরবর্ণ * ১৫ শারদীয় ১৪৩০ / যাঁদের লেখায় ভাষা পেল

  






স্বরবর্ণ   
সৃজনের মৌলিক স্বর

শারদীয়া ১৪৩০ 

বিষয় ও লেখকসূচি 


কবিতা

পঙ্কজ মান্না * চন্দন রায় * গৌরীশঙ্কর দে * সজ্জ্বল দত্ত * অনিরুদ্ধ সুব্রত * শীলা দাশ * ছোটন গুপ্ত * খগেশ্বর দাস * রাজেশ গাঙ্গুলী * প্রবীর বন্দ্যোপাধ্যায় * মলয় সরকার * অশোক কুমার দত্ত * নিশীথ ষড়ংগী * নমিতা বসু * গৌতম কুমার গুপ্ত * সাধন চৌধুরী * মোহাম্মদ হোসাইন * তাপস কুমার দে * বিকাশ চন্দ * প্রদীপ ঘোষ * মনোজ বাগ * নীলিমা সাহা * হামিদুল ইসলাম * গোবিন্দ মোদক * প্রাণজি বসাক * শুভশ্রী রায় * মালা ঘোষ মিত্র*নীলকমল *কল্যাণ ভট্টাচার্য  মলয় চৌধুরী

কবিতাগুচ্ছ 

দীপংকর রায় * অমিত চক্রবর্তী * পার্থ প্রতিম গোস্বামী * উদয় ভানু চক্রবর্তী * তপন পাত্র * তুষার ভট্টাচার্য * শ্রীদাম কুমার * স্বপন নাথ * শিবালোক দাস * পিয়াংকী 

অনুবাদ কবিতা 

জয়িতা ভট্টাচার্য * রুমা ঢ্যাং অধিকারী

কবিতা

কৌশিক সেন * সব্যসাচী মজুমদার * নিমাই জানা * আশিস মাইতি * সৃশর্মিষ্ঠা * লিটন শব্দকর * দেবশ্রী দে * বাবলু সরকার * পিঙ্কি ঘোষ  অপর্ণা দেওঘরিয়া * অমর ঘোষ * তীর্থঙ্কর সুমিত * চন্দ্রাণী গোস্বামী  মল্লিকা রায় * শম্পা ঘোষ  বরুণ পাল * রহিত ঘোষাল * নজর উল ইসলাম * পূজা নস্কর নবনীতা * দীপক বসু * স্বপ্নদীপ রায় * সন্তর্পণ ভৌমিক * গৌতম রায় * অরূপ সরকার

গল্প

শতদল মিত্র * ইন্দ্রাণী দত্ত পান্না * পরাগজ্যোতি * দিলীপ রায় * মিঠুন মুখার্জী * শহীদুল ইসলাম * বিরথ চন্দ্র মন্ডল* জয়শ্রী গাঙ্গুলি * দেবাশিস সাহা

প্রবন্ধ * সৌম্য ঘোষ * সিদ্ধার্থ সিংহ * প্রদীপ কুমার দে

অণুগল্প * শুভাশিস ঘোষ * দেবাশীষ মুখোপাধ্যায় * পলাশ দাস প্রভাত ভট্টাচার্য 

উপন্যাস * কথা দিয়েছিলাম হেমন্তের নিয়রে * দীপংকর রায়

উপন্যাস * বামনের চন্দ্রাভিযান * বিশ্বনাথ পাল

পাঠ পরিক্রমা * দেবার্ঘ সেন 

ভ্রমণ কাহিনি* কল্পোত্তম * শ্যামল চক্রবর্তী 

চিত্রঋণ *  আন্তর্জাল 


সম্পাদকমণ্ডলী                                              

ড : শুভঙ্কর দে           অলোক কোৱা

সৌম্যজিৎ দত্ত             দেবাশিস সাহা

সম্পাদকীয়


 



****************************************************** 

সম্পাদকীয়

স্বরবর্ণ * পনেরো * শারদীয় ১৪৩০

 ১৭ আশ্বিন ১৪৩০ * ৫ অক্টোবর ২০২৩

********************************************************




শরৎ, তুমি এসেছ!... দুয়ারে থাক কাশগুচ্ছ, শিউলি ফুলের মালা...ও মালতী ফুল, ভোরের শান্ত হিমকণা, শুভ্র মেঘের পেঁজা তুলো, ঝিরিঝিরি বৃষ্টি , ও 'নীল আকাশের নীরব কথা', স্নিগ্ধ শ্বেতশতদল...তোমরা সবাই একটু দাঁড়াও ...আমি যে তোমাদের কাউকেই দেখতে পাচ্ছি না...আমার দৃষ্টি আড়াল করে পর্বতপ্রমাণ এক বিষাক্ত কীট, যার চোখে জিঘাংসা জিহ্বায় লোভ, লালসা আর রিরংসার মুর্হুমুহ অগ্ন্যদগীরণ... ছড়াচ্ছে... ছড়িয়ে যাচ্ছে...হিমালয় থেকে কন্যাকুমারী...আরব সাগর থেকে  বঙ্গোপসাগর...কত দিন হয়ে গেল, বছর ঘুরে আবারও বছর এল, আমি গান্ধী মূর্তির পাদদেশে...আমার চাকরি চুরি গেছে ...ওএমআরশিটে ব্যাপক জালিয়াতি.... কারচুপি প্রশ্নপত্রে...চোখের কত ভেতরে নেমেছে অশ্রুধারা... দেখতে পাই না ভাল করে...কর্ণিয়ায় লেপটে রক্তাক্ত মণিপুর ...যাদবপুরের স্বপ্নদীপ? সে-ও তো আমিই...স্বপ্ন হারিয়ে এখন মেঘের দেশে... হস্টেলের করিডোরে তোমরা যতই বসাও সিসি ক্যামেরা... ইসরোকে ডেকে আনো পাহারায়...আমাকে কোথায় পাবে তুমি..!

  
ও শরৎ, তবু অত ডাকছ কেন, পা ব্যথা করছে!... বলোতো 'যে কথা রয় প্রাণের ভিতর অগোচরে' এখন আমি কী করে শুনি...সিট....সিবিআই... সিআইডি...ইডি...হাই কোর্ট...সুপ্রিম কোর্ট... রক্ষাকবচ  কৃষ্ণেন্দু, ভ্রাতুষ্পুত্র...হুঙ্কার পাল্টা হুঙ্কারে...লুট গণতন্ত্র... আর ঠিক এইখানে, আমার মনে পড়ছে তরুণ কবি শুভ্রনীল-এর একটি কবিতা...একটু শোনো... কবিতার নাম---- ৮/৪ গণতন্ত্র 

" ৮/৪ এর একটা কাঠের বাক্স

ওপরে কিছু উল্কি কাটা, হায়ারোগ্লিফিক ডিজাইন 

২০০০ বছর ধরে এভাবেই শুয়ে আছি 

সঙ্গী কিছু আতর,পুরনো কাঠ-গয়না 


না আমি জীবনানন্দের বনলতা নই,

তারও উপক্রম ছিল প্রেমের 

আমার মত কাঠ পুতুল নয় সে,


আমাকে লোকে দেখতে আসছে রোজ

কিন্তু আমি কাউকে দেখতে পাইনা, চেষ্টা করেও পারিনা 


মৃত্যুর পরও শান্তি দেয়নি ওরা আমায়—

     কাঠ পুতুল বানিয়ে রেখেছে হাজার হাজার বছর ধরে ,


ভুল ভাবছো আমি মমি না ,

      তোমাদের রোজকার গণতন্ত্র '

          ( কবিতা--' ৮/৪ গণতন্ত্র ', শুভ্রনীল চক্রবর্তী)


আর একটু দাঁড়াও...সারা পৃথিবী জানে...তবু, তোমায় চুপি চুপি বলি...পাছে স্বপ্নদীপেরা... চাকরিপ্রার্থীরা কি পঞ্চায়েত ভোটের বলি অর্ধ শতাধিক মানুষেরা শুনে ফেলে...জনোতো, পৃথিবীর প্রথম দেশ হিসেবে চাঁদের দক্ষিণ মেরু  ছুঁয়েছে আমার দেশ...চন্দ্রযান ৩  মাথা রেখে ঘুমোচ্ছে হিম ঠান্ডা জ্যোৎস্নায়...।

আর, এই মুহূর্তে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণের মায়া কাটিয়ে আদিত্য এল ওয়ান ছুটে চলেছে সূর্যের দেশে...

ছুটুক...তুমি আর একটু দাঁড়াও...কতক্ষণই বা থাকবে.. কত তাড়াতাড়িই না মিলিয়ে যাবে হেমন্তের কুয়াশায়... খুব ইচ্ছে করছে তোমাকে একবার শোনাই... স্বরবর্ণ-এর এবারকার পূজাউচ্চারণ...এই নাও, কারা কী লিখেছেন, একটু পড় ---- স্বরবর্ণ * ১৫ শারদীয় ১৪৩০ / যাঁদের লেখায় ভাষা পেল.... এবার, পৃষ্ঠা উল্টাও একে একে....



***************************"*******************************************************"************************





******************************************************************************************************

কবিতা * পঙ্কজ মান্না

 



 

পঙ্কজ মান্না * দু'টি কবিতা







ওই তো শ্রীময়ী দেবী  

বাইরে রাতের বিভা ,তার কিছু বেসামাল আলো 

এসে পড়ে লেখার টেবিলে ... 


যেমন সবারই থাকে--

টেবিলে পুরানো স্মৃতি,বিগত জন্মের প্রেম ,

পরিণয়,চোখে চোখে কিশোরীর কথোপকথন 


কেন যেন মনে হয়,সময়ের ধুলো আর প্রবীণ 

কুয়াশা জমে বৈদিক প্রহরগুলো আমারই 

চেতন-ভূমে অচিন স্ফটিক 


অবুঝ আকাশতলে বর্ষায় রাত ভেজে 

মেঘের কুয়াশা-ঢাকা সাঁঝতারা ভিজে হলো সারা ;

এ-সময় জীবনের পান্ডুলিপি পুরাতন জামা খুলে 

মাঝে মাঝে সামনে দাঁড়ায় ... 


ওই তো শ্রীময়ী দেবী ,সর্বজয়া ,যেন পালতোলা 

ডিঙ্গি নৌকো,কদমতলির মেয়ে আমার জননী ;

ওই তো দশম শ্রেণীর ঢেউ সাঁতরেই পার হলো 

মনখারাপের পথ,তমাল নদীর ঘাট,ঘাতক হোঁচট 


ওই তো শ্যামল -তনু দীর্ঘকায় বৈষ্ণব তমাল,

তাঁর বাউল-বাউল চোখে অনন্তে যাবার পথ;

ইনি বীতকাম আমার জনক ,হারানো স্বপ্নের 

খোঁজে ছেনি আর বাটালিতে সারারাত ঈশ্বরের 

হৃদয় গড়েন 


মনে হয়,

আদি পৃথিবীর বনে আমি সেই একলা মানুষ 

যাঁর করতলে ইতিহাস,অনুপমা কালচিত্র ভাসে...

বিনয়ী আলোর মতো টেবিলে পুরনো স্মৃতি ,

প্রবাসী স্মৃতির সুর সারা সন্ধ্যা ঘরের বাতাসে

      













নামে কী কাজ

কী নাম যেন ! কার কথা কয় নদী! গুলঞ্চঘাট এমন-ই থাকে ফাঁকা

সন্ধেবেলা মুক্তোঝরা আলোয় হঠাৎ করেই তাঁহার সঙ্গে দেখা 


আমরা যেন পৌষ-ফাগুনের মেলায় কিনেছিলাম আকাশছোঁয়া লাটাই 

উড়ছি আমি এবং শতেক ঘুড়ি, মনে হচ্ছে পক্ষী আমার মাথা-ই 


অনাথ স্যারের চক ডাস্টার ওড়ে, হাত-পা ছুঁড়ি  কর্ণবধের ভয়ে

কি নাম জলের!কি নাম যেন নদীর! অবাক তাকাই চোখ-জোড়া সংশয়ে 


স্তব্ধ রাতে নামে তোমার কী কাজ! গুলঞ্চঘাট এমন-ই থাকে ফাঁকা

মুক্তোধারা চাঁদ ক্ষয়ে যায় পুড়ে ,সেই লগ্নেই তাঁহার সঙ্গে দেখা 


অংক সরল এবং বড্ড জটিল ,উত্তর তো ন হন্যতে জিরো...

কৃষ্ণ জানে তাঁহার যেন কী নাম, অধিক জানেন অতল সত্যপীরও



****************************************************************************************************



পঙ্কজ মান্না

 জন্ম ১৯৫১ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুরের জঙ্গলমহলে কদমডিহা গ্ৰাম।
ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক।
সরকারি চাকরি শেষে এখন অবসরপ্রাপ্ত।
বর্তমানে কলকাতাবাসী।
কবিতার সাথে বসবাস ও সহবাস বিগত  প্রায় ৫০ বছর।
প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ৯ টি---
শূন্যতেই ফেরা * ডাকনাম ভালোবাসা * ক্লান্ত ধ্রুবতারাকে বলি * রং রুটে কতদূর যাবে* প্রাক্তন ফাল্গুন জানে * উজান হাওয়া * আট পংক্তির জীবনকথা * ছায়ার সাথে এ-ঘর ও-ঘর * আলোপাখি
শেষ প্রকাশিত "আলোপাখি"
কাব্যগ্ৰন্থ ১৪২৮ সালের পয়লা বৈশাখ। 
প্রকাশক- কবিপত্র প্রকাশ