বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬

সুরজিৎ চট্টোপাধ্যায়





সুরজিৎ চট্টোপাধ্যায় * দুটি কবিতা 





যে এসেছিল


যে এসেছিল সে এক ছায়া,

পতনের শব্দ বড়ো আকস্মিক নয়।

বুকের ভেতরে কিছু লুকোনো বাঁক থাকে 

যেখান থেকে বেজে ওঠে হা হা বাঁশি। 

জল সাঁতরিয়ে পারে ওঠে সুরের খেয়াটি শুধু; 


ধূ ধূ চোরাবালি ঠিক জানে

যে এসেছিল সে ছিল তার ছায়া।

              



                 









যে ছিল সে


যে ছিল সে, ছিল না সে নাকি 

লুকোচুরি খেলতে খেলতে ঢেউ 

অন্ধকারে কানামাছি খেলায় 

সময়টাকে মাপতে থাকে কেউ।


রেখেছিল আলোর পিঠে হাত 

ছলকে ওঠা সাগর পারে একা

দূরের আকাশ দিল বুঝি ডাক

চোরাবালি বুকের ভেতর রাখা।


শূন্য পথিক শূন্য হয়ে ফেরে

কান্না যে তার বৃষ্টি হয়ে ঘেরে

বৃক্ষ লতায় নরম ছোঁয়া লেগে 

আকাশ থাকে তারায় তারায় জেগে।


যে ছিল সে, সে ছিল না নাকি 

বলতে পারে একলা রাতের পাখি।

                   











********************************************************************



                            সুরজিৎ চট্টোপাধ্যায় 


জন্ম-১৯৬২, সোনারপুর, দক্ষিণ ২৪পরগনা। মূলত লিটিল ম্যাগাজিনের কবি। 'কৃত্তিবাস', 'কবি সম্মেলন', 'দিবারাত্রির কাব্য'সহ  বহু লিটিল ম্যাগাজিনে  কবিতা প্রকাশিত হয়ে আসছে। প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'তুমি নির্মম হলে বলেই'(প্রকাশক-পত্রপুট, প্রকাশকাল-১৯৯৮), এ পর্যন্ত ১২টি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এ বছর (২০২৬)কলকাতা বইমেলায় প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'অন্তর্লীন রক্তক্ষরণ(কমলিনী), নৈঃশব্দ্যের শব্দভেদী তির(দিবারাত্রির কাব্য )এবং মগ্ন আগুন জানে(অভিজয় প্রকাশনী )। বড়োদের কবিতার পাশাপাশি ছোটদের জন্য প্রচুর গল্প, কবিতা লিখেছেন যেগুলি আনন্দমেলা, ছোটদের কচিপাতা সহ অনেক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। নিজেকে কবি নয় কবিতা কর্মী হিসেবে মনে করেন। প্রেরণা -সহধর্মিনী ঝর্ণা চট্টোপাধ্যায়।

গুচ্ছ কবিতা * রিজভী হাসনাত





কবিতাগুচ্ছ * রিজভী হাসনাত 








একলা মানুষ


বিশাল আকাশে আঁকাবাঁকা চাঁদ

তবু সে একা

অথচ বৃহদাকার এ পৃথিবী 

আঁকাবাঁকা মেঠোপথ 

নিভৃতে ঝড়ে পড়া বৃষ্টি 

স্রোতহীন নদী

ধীরে চলা একলা ডিঙি

ধূ ধূ বালুচর



বিচ্ছিন্নতা


মাঝে মাঝে খুউব হাটতে ইচ্ছে করে

যেন দীর্ঘ করিডর

 তিনিটি ভেড়ার পাল

একটা দুপুর

নদীর ঘাটে রোদ পোহানো সারি সারি নৌক

ঢিমে তালে খেযা পারপার

পথ ফুরিয়ে  গেলে,শরির জুড়ে ক্লান্তি এলে 

যদি দেখা হয় আবার

ত্রিপলের নিচে পড়ে আছে ঝরা পাতা

যেন বিচ্ছিন্নতার কারবার



বৃহস্পতিবার 


বুধবার পর্যন্ত কেউ বলেনি 

কল দিস ; 

তোরে দেখতে মন চায়।



স্বপ্নের খেয়াল


শহর আজ লোকে লোকারন্য 

কাকে যেন দেখলাম ভীড়ের মধ্যে 

তোমার মত

এই যে পরিমিত ট্রাফিক জ্যাম

খাঁচায় বন্দি আনমনে শালিক

কেও কেও চলে যাচ্ছে  গহিন বনের ভেতর

একাকী শবনম

চোখের কোণে ডুবন্ত মানুষ 

স্বপ্নে র খেয়ালের মত

দীর্ঘ দেহী বৃক্ষ বেয়ে নেমে যায় পিপড়ের দল 

বিস্তৃত হয় হৃদ ক্ষত।





*************************************************************





রিজভী হাসনাত 


 পড়াশোনা করেছেন বাংলাদেশের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। সম্পন্ন করেছেন  স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। সম্পাদনা করছেন আলোকছটা( নান্দনিক কবিতাপত্র)  নামে একটি কবিতার ছোট কাগজ। লিখে চলেছেন বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও আসামের বিভিন্ন ম্যাগাজিন,পত্রিকা এবং ছোট কাগজে। 


গুচ্ছ কবিতা * দণ্ডী কুমার

 




কবিতাগুচ্ছ * দণ্ডী কুমার







মেহেরগড়ের চাষী   


দেখা হয়ে গেল মেহেরগড়ের এক চাষীর সঙ্গে

সে এসেছে বহুদূর থেকে। রূপার, লোথাল কিম্বা কালিবোঙ্গান পার হয়ে । 

       

 সে এখন ঘর বেঁধেছে কংসাবতী নদীর তীরে।


একখণ্ড লাজুলি পাথরও সে আনতে পারে নি

শুধু কাঁধে করে বয়ে এনেছে একটা কাঠের লাঙল

এই লাঙল দিয়ে সে মাটি থেকে অন্ন তুলে আনে --

 লাজুলি পাথরের থেকেও যা বেশি দামী।


                     

মেগালিথ


ওরা বলে হাড়গাড়া।   কবরের উপর পাথর  পোঁতা সমাধি, মৃত পূর্বপুরুষের হাড় মাটিতে পুঁতে এভাবেই সমাধি বানাতো  ওরা। পলাশ শিমূল ফুল ঝরিয়ে শ্রদ্ধা জানাতো।  এখন তো শুধুই স্থান নাম,  টিকে আছে মানুষের  মুখে মুখে। পরিযায়ী সময় ইতিহাসকে এনে ফেলেছে অন্য এক যুগে।


পরিযানের পিছনে লুকিয়ে আছে বিতাড়নের ইতিহাস

সেই কবে মাটি হারিয়েছে ওরা ; হাড়গাড়ার মাটিটুকুও আজ তাদের নেই ; দামোদরে গিয়ে চোখের জলে অস্থি ভাসায়। 


বোলান গিরিখাতের ধারে বিলুপ্ত কৃষিসভ্যতা, মৃৎশিল্পের সভ্যতা, সিন্ধু হরপ্পার জননী মেহেরগড়কে, স্মৃতি হাতড়ে পাওয়া যায় না।  দামোদর উপত্যকায় অস্থি-কবরের রীতি এবং ভাঙা ভাঙা  ভাষার স্মৃতিতে

আজও ভাসে মেহেরগড়ের মুখ।



খোদা  


ভাষা ছিল না,  ছিল নিজেকে প্রকাশ করার আকুতি,  সামুহিক নৃত্য ও হুঙ্কারে কেঁপে উঠতো গুহাগৃহ

লতাকুঞ্জের আড়ালে আদিমানবীর চুম্বন 

শুধু ক্ষুধা নয়, প্রজনন নয়, হৃৎপিণ্ডের ভিতর থেকে গড়িয়ে 

পড়তো প্রেম৷  


লিপি ছিল না,  লিখন ছিল, ছবির মতো লিখন - গুহাগাত্রে, ফুল, ফল, পশু,পাখি, নৃত্য ও শিকারের দৃশ্য। মানুষ আজও বহন করছে সেগুলি শরীরের ক্যানভাসে, পায়ে,  গলায়,  বাহু, বুক ও পিঠ জুড়ে। এরই নাম 'খোদা'। এ তো সেই প্রেম যা শরীরে আজও খোদাই করে রাখে মানুষ। 


সভ্যতাকে ফেলে এসেছে ওরা,  সঙ্গে এনেছে সংস্কৃতি

মাছ, ফুল পাখি কিম্বা লতাপাতার চিত্রায়ণে অতীতের 

ইতিহাসের কথা লিখে রাখে।

এ ইতিহাস কেউ কি পড়বে কোনওদিন?    

          


 পরিযান


গুহা ছেড়ে দেশান্তরী মানুষ বাসা বেঁধেছিল বনান্তরে 

বিন্ধ্যাঞ্চল থেকে বোলানে,  সিন্ধু সোয়াত কুররম উপত্যকা অযোধ্যা পাহাড়ের বনাঞ্চলে দামোদর উপত্যকায়, কুমারী কাঁসাই সুবর্ণরেখার ধারে, নির্জন পাহাড়ী গাঁয়ে। 


ইতিহাস মাটি চাপা পড়ে আছে বুজে আসা পাহাড়ী সোঁতার ধারে,  নবপোলীয় যুগের আয়ুধ ছেনি ও হাতকুঠারে, লাল কালো ধূসর মৃৎভাণ্ড  ও  অযোধ্যা পাহাড়ের  মাইক্রোলিথিক হাতিয়ারে। ইতিহাস মাটির অধিকার চাইছে। ইতিহাস বিস্মৃতির হিসেব চাইছে। 


 

 চাকার  দাগ

    

যুদ্ধের পরেও মাটিতে থেকে যায় রথচক্র ঘর্ষণের দাগ     

বিনষ্ট সভ্যতার চিহ্নগুলি পড়ে থাকে ছত্রাকার

প্রস্তরিভূত কঙ্কাল, প্রাচীন হাতিয়ার, মানব বসতির চিহ্ন মৃৎভাণ্ড ও শস্যকণা। সভ্যতা হারিয়ে গেলেও কিছু দাগ রেখে যায় পথে প্রান্তরে। সেই দাগ ধরে এগোতে পারলেই খুঁজে পাবে  প্রপিতামহদের জগতে।


পথ আজও অপেক্ষা করে আছে সেই পথিকের জন্য যে পায়ে পায়ে পৌঁছে যাবে সেই গুহাগৃহে, গাছ-ঘর কিম্বা পর্ণকুটিরে, প্রাচীন মানবের ঘরে-  ইতিহাস যাদের আদিম বর্বর আধামানব বলে সম্বোধন করে। অথচ সভ্য মানুষের ধমনিতে আজও  সেই আদিম রক্ত।




****************************************************************



দণ্ডী কুমার


জন্ম - ২৩শে নভেম্বর, ১৯৫৯ সালে পুরুলিয়া জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম ভাড্ডিতে একটি গরীব কৃষক পরিবারে জন্ম। আর্থিক প্রতিকূলতার মধ্যে পড়াশোনা । রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর পাশ করে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে ২০১৯ অবসর গ্রহন করেছেন। ছাত্রজীবন থেকেই লেখালেখি ও ৮এর দশক থেকে পত্রিকা সম্পাদনার শুরু। প্রথম পত্রিকার নাম ছিল শালপলাশ। পরে ৯এর দশকের শেষ দিকে 'মালভূমি বাংলা' নামে একটি সাপ্তাহিক সংবাদ সাহিত্য সম্পাদনা করেন। ৯এর দশকে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'সহমরণের চিতা' প্রকাশিত হয়। এ সময় পুরুলিয়া ও অন্যান্য জেলার বিভিন্ন পত্রপত্রিয়ায় প্রবন্ধ ও কবিতা প্রকাশিত হয়। কিন্তু লেখাগুলি অগ্রন্থিত থাকে। এরপর দীর্ঘদিন কবি সাহিত্য জীবন থেকে দূরে থাকেন। তবে ব্যক্তিগত লেখালেখি কখনই বন্ধ হয় নি। ১৯২৩ সালে আবার জনসমক্ষে এসে 'স্রোত' নামে একটি কাব্যগ্রন্থ  'সহমরণের চিতা'র সঙ্গে "দিগন্তে যেটুকু আঁধার' নাম দিয়ে যৌথ কাব্যগ্রন্থ রূপে প্রকাশিত হয়। পরের বছর প্রকাশিত হয় পরবর্তী কাব্যগ্রন্থ 'দাহভূমি' ও একটি গবেষণা গ্রন্থ " নৃতত্ত্ব ও সমাজতত্ত্বের আলোয় মানভূমের আদি ঝুমুর"। বিগত বছর(২০২৫) একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস "চুয়াড় নেত্রী রানি শিরোমণি" প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে চতুর্থ ভুবন নামে একটি ত্রৈমাসিক পত্রিকা সম্পাদনা করছেন।

গুচ্ছ কবিতা * গৌতম রায়

 

 



কবিতাগুচ্ছ * গৌতম রায়

অন্য যুদ্ধ


১.

আসে গলানো বিভা– পলাশবিভা,

চুম্বকত্বে দাঁড়াই তোমার পাশে,

নেক্টার করি পান,

কন্ট্যুরে কন্ট্যুরে হেসে ওঠে ডোপামিন।

জলাঘাসের আশরীর পেরিয়ে তেলকূপীর ঘাটে যাই

সে ঘাটে নৌকো বাঁধা।

চিরকাল আমাদের জলযাত্রায় ধন্য নৌকো,

অর্ধমগ্ন দেবদেউল পেরিয়ে মাছেদের অদ্ভুত 

সাঁতার,

জেলেদের পাতা জাল ছাড়িয়ে

অনন্তের দিকে এ বাউলিয়ানা যাত্রা।

ইন্ধনের জন্য প্রতীক্ষিত

শুধু মানুষ নয়, আস্ত বাস্তুতন্ত্র পৃথিবী।

বন্দরে বন্দরে বাঁধি নোঙর,

ওড়ে শঙ্খচিল

ওড়ে শামুকখোল

দীঘল বনে যাদের সংসার।

বারুদ নয়

আমাদের দাঁড়ে ডানায় ওড়ে

রামধনু পলাশবিভা।

খোসা খুলে ঠোটে বীজ করি বহন,  

বপন করি পলাশ, এও যুদ্ধ

অন্য যুদ্ধ বিশ্বময়।


২.

গ্রিলের ফাঁক দিয়ে দেখি

শত হার্ডেলের পরেও ফুটে আছে আকন্দ।

অপরাধবোধ থেকে মনুষ্যকৃত কাইগুলি ধুয়ে ফেলি 

ক্রিস্টাল ক্লিয়ার জলে,

বসার ঘরে পড়ার ঘরে আকন্দ ফোটাই,

ব্রহ্মপুত্র জল এসে পূর্ণ করে গর্ভগৃহ,

আকন্দের হাত ধরে হরপার্বতী পলাশ,

ছড়িয়ে পড়ে তেলকূপী থেকে তমলুক এ ধরিত্রীময়।


৩.

পলাশ-এন্টিবায়োটিক শরীরে মাখি।

স্নায়ু ধমনীতে এন্টিবডি কমান্ডো জেগে থাকলে 

দুর্গাস্ত্র আঘাতে যুদ্ধবাজ মহিষাসুরেরা হয় ভূপাতিত।

এতো সুপারসোনিক মিসাইল

এতো বারুদ-উত্তাপ

দহনের সর্বগ্রাসী এতো অন্ধ আলো উত্তাপ– তার 

মাঝে আমাদের পলাশ কৃষ্ণচূড়া রাধাচূড়া মহুল মায়া-

ছায়া–

এ বিকলাঙ্গ সময়ে কোথায় রাখবে প্রাণায়াম?

আজ টিব্যাক্ট মলম একা একা গাইতে পারবেতো 

ঝুমুর-উপশম

অপরিহার্য উচ্চারণ?


৪.

আমি পৃথিবীর রাখাল হবো,

কাউবয় লিপস্টিক ফলের নির্যাস মর্দন করে

রাঙিয়ে দেবো তোমার নৌকো।

এ আগুন লাগা অরণ্য

রাখালিয়ানায় এ গাছ শুশ্রূষায় তোমাকেও চায় 

শোভাযাত্রার অনুতাপ দহনে।

তুমি কী আসবে শ্রেয়সী?


৫.

পলাশ নামে দিই ডাক

সে ডাক হয় না বিফল,

অজর অমর শক্ত শেকড়

তার কাছে মরণ ঘেঁসে না,

অক্ষরচাষী এমন স্বজনসৃজন ছাড়ি না।

মার্কিনসিয়ার মতো ছড়িয়ে যাই শেকড় পত্রবাহার,

চূর্ণ করি শক্ত শিলা

কর্ষিত বুকের ওপর উঠে দাঁড়ায় আবলুস বৃক্ষ।


৬.

গঙ্গাপাখির মতো পালকে জল ভরে দিলাম উড়ান–

উত্তরসূরির তেষ্টা মেটানোর জন্য

ঘরে ঘরে ছড়িয়ে দিলাম পলাশ শিমুল রডোডেনড্রন,

সাঁকো বাঁধা কাজটি পোক্ত হলে

সিঁদরি-চেলিয়ামা ঋষিখোলা-পেডং এক হয়ে যায়।

দামোদর কিম্বা ঋষিখোলার ভাষায় ছড়িয়ে থাকে 

ফুলেল বসন্ত।




********************************************************************************



                                গৌতম রায়

গুচ্ছ কবিতা * গৌতম কুমার গুপ্ত

 




গুচ্ছ কবিতা * গৌতম কুমার গুপ্ত


যুদ্ধ


যুদ্ধে যাই যুদ্ধ খাই হজম করি স্বেদরক্ত
চামড়ার ওপরে গোলাবারুদ
পেটে গোগ্রাসে বিস্ফোরণ
চামড়ায়  সুললিত বসন্তের খেদ
আমাতে আগুন জ্বালিয়ে রাখে।

 মন্ত্রোচ্চারণে কখনো যাজ্ঞিক 
প্রবল পৌরোহিত্যে রক্তাঞ্জলি
কবন্ধ ছাগশিশুর মৃত আহুতি
লকলকে আগুনের  রি রি বিষ
যুদ্ধে আমাকে খায় লোলুপ জিহ্বায়
যুদ্ধে আমার আমিতে প্রিয় পরাজয়।



তৃতীয় আশ্রম  

গার্হস্থ্যের চাঁদ খরচ করে ফেলেছি
সূর্যোদয় সূর্যাস্তও
নদীর সুদৃশ্যে নৌকযাপন রমণীয় ছিল বেশ
পদব্রজগুলি ছিল জনতান্ত্রিক
দৌড়ে কুশলী ক্রীড়াসুলভ
নাগরিক যোগ্যতায় এসবই ছিল দৈনন্দিন

প্রত্যক্ষ ভাষাকুশলে কয়েকটি নান্দীপাঠ
আন্তরিক নিন্দার্হে শুভ ইচ্ছার কলম
সে ও তো ছিল কুসুম কল্পনা প্রবল মোহিনী
ব্যত্যয় রাখি নি প্রকরণে 
সুকৌশলে ছুঁড়ে দিয়েছি লোষ্ট্রবৎ প্রহসন

অর্জিত কিছু দায় আছে উত্তরাধিকারে
ফেলে দিতে পারি নি স্বাস্থ্যবান আবর্জনা
প্রার্থনায় জপেছি সংস্কারশুদ্ধ সাহস
নিংড়ে দিয়েছি ম্বেদ চোঁযানো কষ্ট
পরিবর্তে আরো কিছু আমার চাঁদ সংগ্রহ

আগামী আয়ু থেকে বেছে নেবো অনুধ্যান
গৃহস্থালী তেঁতুল চন্দন ও অম্লক্ষারক ব্যসন



অনুষ্ঠান

পঞ্জিকার একটা দিনক্ষণ দেখে
ভালবাসাবাসি হবে
তিথিনক্ষত্রে শুদ্ধসত্ব আত্মনৈপুণ্যে

একটি চাঁদপানা উজ্জ্বলতা ঘিরে
পবিত্র সামিয়ানার নীচে
হৃদয়ঘটিত আমাদের আয়োজন

বেজে উঠবে বিসমিল্লা সানাই
পাখিদের ঠোঁটে ঠোঁটে প্রবাহ

মুছে যাবে মেঘে ঢাকা জলবায়ু
পংক্তির ভূরিভোজ প্রণীত আসরে



ভা ল বা সা

কি ভাবে উক্ত করি দিলরূবা চাঁদ
ওড়নাবৃত পয়োধরা সুচারু সুবাস
মহার্ঘ্য মাংসশরীরে লাবণ্যপ্রিয় নাসা
দূরে ভাসে নদীর তরঙ্গ যেন ঝিলিক

আয় চোখ ভেসে যা নদীর নাব্যতা
পাড় থেকে দীপ্যমান নধর জলৌকা
তিরতির জলে হাওয়া নাচে নাচে
আমিই তো কবেই ডুবে গেছি অতল গহ্বরে

গভীর গভীরতর সমৃদ্ধ এই  বিশ্বাসে
ভালবাসা মেপে নিই প্রবল মোহনায়
চাঁদ নিয়ে চলে যায় পারাপার ছুঁয়ে
ফিরে আসে অহর্নিশ আকাশের গায়ে



ডাক

দুরত্ব
পড়ে নিচ্ছে ঠোঁট 
চোখের সীমারেখা

গন্তব্যে অগম্য নয়

কাঁটাতার চোরাপথ উঁকিঝুঁকি
কানাগলি খানাখন্দ শীর্ষপথ

নদী ও সমুদ্রবন্দর

চাঁদমারি আভাসে 
মুখস্থ শাড়ির ঘেরাটোপ

পড়ে পড়ে লিখে নেয় 
চিঠির স্বরবর্ণ ব্যঞ্জনবর্ণ

নিকটবতী নেপথ্যের ডাক



একলা চলো রে   

ভোজালির শান চাবুকের কষাঘাত
কার্তুজের বারুদ বোমার বিস্ফোরণ
তীরের শনশন..........  
সবকিছু শত্রুর কথাতে ছুটে আসে

বুকে বর্ম নেই জুতসই
কিসে সামাল দেবো

তবু পরাক্রান্ত থাকতে চাই
একলব্যের নির্বাক সশস্ত্রে
আচার্য্য বিহীন 
শুধু নিজস্বী কৌশলে

যে কোনো যুদ্ধের মুখোমুখি

পরাজয়ের ভ্রূকুটি জয় পরাহত
রক্তের ভেতর আগুন দাউদাউ
সজাগ চোখে নির্ভয় নির্ভীক



যাত্রাপথে

বুকের ভিতরে কষ্টের হাওয়া
শোকের দুঃখনাদ
এ ভাবে  আমার যাত্রাপথে
অনসূয়া সংরাগ ও স্বপ্নের মন্তাজ
তবু মুখবিবরে অনর্গল অন্ধকারের স্রোত

বুকপকেটে কয়েকটি রেস্ত 
ও রোদচশমার আপাত অাড়ালে
প্রতি মুহুর্তে খুজে নিতে হয় হ্যাঁ-গুলি 
আর না-গুলি ক্রমশঃ ধারাপাতে
বাড়তে থাকে 

সুখবৃষ্টির জন্য একটি ছাতা
তার নীচে
অসংখ্য ঘুণপোকার ছিদ্রে রিপুর প্যাঁচ
কষ্টার্জিত একটি রৌদ্র অনুভব
আমাকে বাঁচতে শেখায়
প্রতিদিন ভাত ও লবণের জন্য যুদ্ধে

একটি বসন্ত রাঙা মেঘের উড়োজাহাজ
মাঝে মাঝে খুব কাছ দিয়ে উড়ে য়ায।




স্বীয়

আমিটি প্রখর প্রবল উদ্দীপনে
কর্তৃকারকে একক
যে ভাবে বাঁশিটি বাজে জন্মগত
কর্মে করণে দোষেগুনে বহুব্রীহি 
অধিকরণে থাকাটাই জরুরি 

সম্প্রদানে সত্ত্ব ও শর্তস্বরূপ হয়
একটি আনন্দের অনুধ্যানে 
অতীত থেকে ভুলভ্রান্তির বর্তমানে
সে যতো বড়োই কঠিন অঙ্ক হোক
সমাধানের দায়ভার নেই
বৃদ্ধ অঙুলিহেলনে ম্রেফ ফক্করবাজি

স্বীয় আবাসে অধিক মধু ও খননের কারুকাজ
ব্যতিক্রমী নয় ছিল না কখনো
ওইসব ধামাধরা প্রভুত্বসকল



স্মরণিকা 

তুই কি দেখিস কখনো সখনো তোকে
চোখের কাগজে আছে তোর কিছু লেখা
বিপরীতে কোন চোখ নেই যদি তোর
বাতাসে টানিস হিজিবিজি কিছু রেখা

একা একা গুনিস আকাশের কিছু তারা
স্মৃতিরা গোপন কথাদের  অবকাশে
ভাবনার ডানায় হৃদয় সত্তা দূরে
টের পেলি তুই ব্যথাটুকু আজ ভাসে

আজ  মুলতবি থাক কথাগুলি একা একা
শ্রাব্য দৃশ্যে গাঁথা থাক তোর একান্ত স্মরণিকা



**********************************************************************************




গৌতম কুমার গুপ্ত

জন্ম  ১৩৬৭ বঙ্গাব্দে বাঁকুড়া জেলার শালতোড়া থানার গোপালনগর গ্রামে।বর্তমানে পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের বাসিন্দা।প্রথম জীবনে সাংবাদিকতা পরে ই সি এলে কেন্দা এরিয়া বিভাগের কর্মী ছিলেন।২০১৯ সালে চাকুরিজীবন থেকে অবসর গ্রহন করেন।শিক্ষাগত যোগ্যতা বিজ্ঞান এবং কলা বিভাগে স্নাতক।পরে পার্সোনাল ম্য্যানেজমেন্ট ইনডাসট্রিয়াল রিলেশনে স্নাতকোত্তর পাশ করেন।আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে লেখালেখি শুরু।'কালকেতু' নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় তো বটেই ওয়েব ম্যাগাজিনেও গল্প কবিতা প্রবন্ধ লিখে থাকেন।এ পর্যন্ত তাঁর চারটি কাব্যগ্রন্থ  " সময়ের এই জলসাঘরে,'স্বভাবের সিলেবাস','অক্ষর ভাইরাস' এবং 'বিষুবরেখার পাখি' প্রকাশিত হয়েছে।কয়েকটি নাটকও  লিখেছেন। ইতিমধ্যে "কয়লাক্ষেত্র "এবং কৃষ্ণগহ্বর নামে দুটি উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে।।শীঘ্র একটি কাব্যগ্রন্থ 'যদি হৃদয়ের কথা বলো'প্রকাশিত হতে চলেছে।



গুচ্ছ কবিতা * অর্ণব সামন্ত

 




কবিতাগুচ্ছ * অর্ণব সামন্ত 

       দেবী ও পূজারী 

       

হে দেবী স্বয়মাগতা নৈবেদ্য সাজানো 
শব্দগুলি ছন্দগুলি নৈঃশব্দ্যে আঁধারে ধায়
নাহ্ হারায় না তারা বরঞ্চ আরোহন করে সাফল্যচূড়ায় 
প্রেমের মিনার গড়ে বালুচরে , মরুভূমে
হে দেবী স্বাধীন , স্বেচ্ছাচারী , স্বৈরিনী 
নদীমাতৃক , নদীভিত্তিক সভ্যতার প্রবাহ ছোটায়
হে দেবী পূজারীভূক নৈবেদ্য ও কম লাগে 
নিজেই যজ্ঞাগ্নিতে জ্বলে পুড়ে পূজারীকে পরিত্রাণ দেয় 
আগুনে আগুনে অপত্য অগ্নির জন্ম দেয় 
পূজারীর পদপ্রান্তে সমর্পনে উত্থান জাগায় 
হে দেবী সর্বভুক , পূজারীকেও সর্বভুক করে 
কামনাবাসনার অগ্নিতে অগ্নিতে পুড়ে পুড়ে 
আরেক সর্বভুক অপত্য অগ্নির নবজন্ম দেয় !



      ফসলের গান 

        

এভাবে মাঝির ফসলের স্তনে দুধ জমে 
হিমেলের শূন্য বুক থেকে জাগে অপত্য আলো 
সোঁদামাটির গন্ধে উথাল পাথাল নদী 
জ্যোৎস্নার মধুবনে নেশায় টালমাটাল গান 
ভুলে যায় সামাজিক স্বরূপ , সংস্কার , প্রচ্ছদ 
আদি সুরে বইতে থাকে ছত্রিশ রাগ ও রাগিনী 
এককের ঝংকারে কাঁপে কোষস্নায়ুমজ্জামেদরক্ত 
বিদ্যুচ্চমকে বিদ্যুচ্চমকে চলে যায় জগতের বাইরে 
ব্ল্যাকহোলে সৃজিত হয় সহজের গান সহজিয়া ভাবে
সন্তোষে ও সুখে ফসল তুলে আনে ঘরে , মনের মনিকর্ণিকায় 
দোলাচল গেরস্থালি ভাটিয়ালি ভাওয়াইয়া দোহনে দোহনে
সুব্রতাসম্ভব সহস্র গান নিজেরাই গাইতে থাকে নিজেদেরকে 
ভাঙা কবিতার মতন বসে থাকে পথের মোড়ে পথিকের বুকে 
নৃত্যশীল আনন্দস্পন্দ এসে ধাক্কায় ভেতরে বাইরে 
অসম্ভব ছবির মতন সুন্দরভাবে ভঙ্গিমায় স্থির থাকে জ্যামিতিক কোলাজে
করিও কোমলে নোয়ার নৌকা পাড়ি দেয় সাত সমুদ্র 
দিগন্ত দিগন্ত পেরিয়ে পারস্পরিক আবিষ্কারে নতুন দেশ 
নতুন পৃথিবীতে জ্বেলে দেয় সদ্যোজাত অপত্য আলো
এভাবেই ফসলের স্তনে মুখ রাখে , ব্ল্যাকহোলের গর্ভে রাখে 
 গ্যালন গ্যালন জ্যোৎস্নার আলো থরে থরে তড়িৎ চুম্বকীয় সজ্জায় 
অপত্যের কবিতা , গান হয়ে প্রকাশিত্য হবে বলে যথা দ্রাঘিমায় , যথা অক্ষরেখায় !




        তানসেনের তানপুরা 


তানসেনের তানপুরা হয়ে স্থিত চিরযৌবনা সময় আকাশ পেরিয়ে আকাশে সুরেলা সুগম্যতা 
বিষুবরেখায় এককের গান গাইতে গাইতে 
উড়ন্ত দ্রাঘিমার ডানায় পাশের প্রান্তরকে তেপান্তর বানিয়ে 
দীপকে আগুন জ্বালিয়ে মল্লারে অশ্রু হয়ে ঝরে 
দহনে দহনে জল যেতে চায় জলের পেটে 
ইনহিবিশন খুলে রেখে সত্তা স্বয়ংপ্রভ প্রভায় 
সরে যায় কাচের স্বর্গের বিভ্রম সত্য সরেজমিন , বাস্তবিক 
মন্থনে দহনে গরল কখন যে অমৃত , লক্ষীমন্ত 
শব্দের অমরত্ব আসে নৈঃশব্দ্যের ব্ল্যাকহোলে 
 আলো ছুটে যায় আলোর উৎসে প্রথম আলোয় নবজন্মে বেঁচে ওঠে প্রথম শব্দের চিৎকারে 
তানসেন চলে গেছে সেই কবে কিংবদন্তী আজও 
তবু ভুলে ফেলে গেছে সেই বাঁচার চাঁদপুরা 
সেই তানপুরা সুযোগ পেলেই নিজের মর্জিমেজাজে বাজে 
সুরকে ভাসায় উড়ন্ত অনন্ত দ্রাঘিমা ডানায় !



        কলম্বাসের কম্পাস 


এভাবেই ভাঙা গান শরীরে দিয়ে যখন তুমি পালাও দিবারাত্রির কাব্যে , গদ্যে নিরন্তর সেতারের ঝালা বাজাও 
কোষে কোষে লিখে রাখো পারস্পরিক বিদ্যুচ্চমক চেনা 
স্নায়ুতে স্নায়ুতে অকস্মাৎ বিহ্বল উদ্বেলতার হানা 
সমস্ত সমর্পনে ফিরে পাও সমস্তর চেয়েও বেশি 
হে মারিয়ানা উত্থানে ডাকো হে এভারেস্ট তোমার সাফল্যচূড়া 
ভাঙা ভাঙা গান হয়ে জীবন যখন আরও ভাঙা ভাঙা ভাঙা 
কবিতা এসে তার পদপ্রান্তে বসে প্রণম্য অক্ষরে অক্ষরে 
কিছুই থাকে না তফাত , ভেদাভেদ অক্ষাংশ ব্যবধান অনন্ত দ্রাঘিমায় ভাসান দেয় দ্রাঘিমাংশের আনচান শুধু নষ্ট ধ্রুবতারা চোখে কম্পাস পেয়ে যায় পরিযায়ী কলম্বাস মন !



    টাইম স্পেস ট্রাভেল 

   

টাইম স্পেস ট্রাভেল করে একবার দুরন্ত কৈশোরে এলোমেলো কেশে ভেসে আসে পোস্টমডার্নের কারুকার্য 
দমকা হওয়ার মতন কথা , রোদজ্যোৎস্নার মিশেল কথকতা 
সহজ গানের সুর উঠে আসে নাভি থেকে মাদকতা নিয়ে 
তবু নৈঃশব্দ্য ছাড়া কোন বিজ্ঞাপন থাকে না 
তবু অহংকার ছাড়া থাকে না কোন আলো 
ভাটিয়ালি ভাওয়াইয়ার দাঁড়ের ঝপঝপ শব্দে নোয়ার নৌকা 
দিন ফুরায় রাত ফুরায় কথা ফুরায় না 
জীবন নাচে উজ্জীবনে মৃত্যুর চিতাগ্নিতে পুড়ে একা তোমার গায়ের উষ্ণতা লেগে থাকে হৃদয় ক্যানভাসে আগ্নেয় চুমুর প্রত্যাশী যত সুব্রতাসম্ভব গান 
লাভা হয়ে জড়ায় আষ্টেপৃষ্ঠে চন্দ্রিমার স্নিগ্ধতা মেখে তুমি তখন ষোড়শী রক্তিমে আর আমি অষ্টাদশ স্পর্ধায় !    



                                                                      
**********************************************


       
                            অর্ণব সামন্ত 

ইংরাজী ভাষার ছাত্র । ইংরাজীতে এম. এ ; বি . এড ।উনিশশো তিয়াত্তর সালে দক্ষিণ ২৪ পরগণার বাসন্তীতে জন্মালেও স্কুল জীবনের পর থেকে শহরতলীতে আবাস । শিক্ষকতা পেশা , নেশা কবিতা ও গল্প লেখা । এ পর্যন্ত প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ , ৪টি - গোলাপ এবং , ঝরা সময়ের উপকথা , পারমিতা , বামাক্ষী । পেশাগত সময় বাদে গান শোনা , বইপড়া , ফোটোগ্রাফি , কবিতা ও গল্প লেখাকেই জীবন যাপনের একমাত্র উপায় বলে মনে করেন।



গুচ্ছ কবিতা * আব্দুল রহমান




 

কবিতাগুচ্ছ * মোঃ আব্দুল রহমান 


 

প্রেম



প্রেম শীতের ধূসর চাদর 

কাঁপতেই অনুভূত হয়


শিরশির করে মন ও শরীর।




বিরহ 



নদীর পাড় ভাঙা জলস্ফীতি 

কোনো বাঁধনে আটকানো যায় না 

বুকে শুধু সুনামির উচ্ছ্বাস!




অপেক্ষা



গ্রীষ্ম বর্ষা শরৎ 

চলতেই থাকে হেমন্ত শীত ও বসন্ত 

ঋতু শেষ হলেও অপেক্ষার উষ্ণতা একই 

জ্বালা কমে না!















ক্ষতি 



মৃত্যু সবচেয়ে বড়ো ক্ষতি 

তারচেয়ে বেঁচে থাকা ক্ষতির অসাধ্য সামগ্রী 

দুর্গম পথের ব্যাকারণ 

শেষ হয়েও শেষ হতে চায় না!




সাধ 



পৃথিবী পুড়ে সাধ জাগে 

বাতাসে ছাই ওড়ে 

ক্ষুধার্ত চোখ তবুও স্বপ্ন গাঁথে

পিপাসিত মন ভরে না!






                    আব্দুল রহমান 



 জন্ম  ১৯৯২, মুর্শিদাবাদ জেলার  কাশিমনগর গ্রামে। ছেলেবেলা থেকে লেখালেখির হাতে খড়ি। নতুন গতি, কলম, নয়া জামানা, আপনজন, দিনদর্পন ইত্যাদি পত্রিকায় কবিতা প্রকাশিত । ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর । বর্তমানে বারুইপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজির শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ- স্মৃতির মেলা, অনুভূতির পেখম, মানবতার শেষ প্রান্তে, সময়ের রঙবেরঙের সিঁড়িতে, হলুদ পায়ে রক্তিম আলতা ( ই-বুক শব্দ লেখা থেকে), এবং গল্পগ্রন্থ- ইচ্ছেডানা।





গুচ্ছ কবিতা * দীপংকর রায়

 




কবিতাগুচ্ছ  * দীপংকর রায়

যে-মহাবৃক্ষে সকল মানত বাঁধা আছে


১.


সেই বৃক্ষে বেঁধে রাখলাম সকল মানত 

পারলে পড়ে দেখো 


জাত-গোত্রহীন ঐ তো 

একটি নিশান উড়ছে....


যা-কিছু বলার বলা হলো 

যা-কিছু শোনানোর 

শোনা হলো কি হলো না 


খুঁজি নি তো!


লাল নীল সে-সুতোর বাঁধন যদি কেউ দেখে খুলে 

না খুললেও সেই মহা বৃক্ষের 

কাছে একদিন না একদিন দাঁড়াতে হবেই;

রাখা আছে সব মানত---


ফলাফল জেনে নিও 


এঁকেছি চোখ নাক কান সবই,

বোঝার যদি হয় বুঝে নিও,

নাহলে ফেলো ছিঁড়ে 

একটুকরো কাগজ ছাড়া 

সেতো অন্য কিছু না !

২.

যে তিমিরেই যাই  

মিথ্যে আলো বিপরীতেই হারায়,

যতোই বদলাই  

পথের অদেখা পথেই হয় শেষ


দিন যে আমার যাওয়া আসার ধন্দেই কাটে, 


যে তিমিরেই যাই

সে যে আমার অকূলেই ভাসে...


৩.

পথ যাকে কুড়ায় 

ভোলায় পথের ঘোরে 

সেও কি জানে না 

ছায়ার মায়ায় কেন এতো

মাখা হলো পথের ধুলা 


আলোয় ছায়া ফেলে 

কায়ায় সরে যে আঁধার ঢেউ

সেও কি কখনো চেনে  

যে বাতাসে ডুকরেছিলো প্রেতিনী 


জলে জলে খানখান‌ সবই...

সেও যে পথের টান 

অবুঝ মনের ভ্রম সকলই 

জানা হলো না‌ তার!



৪.

তৃতীয়কে খুলতে না জানলে 

আকাশও দৃশ্যমান না। 

মন খুলে বয় না যেমন নদী 

স্রোতের বিহ্বলতায় 

তোমার সহজ শরীরটি ডোবাতে না চাইলে 

গঙ্গা ছোঁয় না যেমন 

গায়ে লাগিয়ে দেয় খানিকটা পাঁক, 

ঠিক তেমনি তৃতীয় না থাকলে 

দেখাতে পারো না অবরুদ্ধ স্রোতের সব গতি;

 

যতোই কৌশলী হও 

ছলাকলা করো মুখস্থ 

জানবে যার আছে সেই চোখ, 

সে এতটাই দেখে, যা অন্তর্ভেদী--

শেষ হাসিটিও তারই 

যা দেখে তুমিও স্তম্ভিত 

পর্যায়ক্রমিক অন্ধ!


৫.

এঁদের ভেতরে আজও দৌড়াই... 

নাম লেখাই ক্যাম্পে 

ত্রস্ত চলি... 


হে আগামী, তুমি কি জানো আজও বড়ো হলাম না কেন?


পরাধীনতার শেকল ঝনঝনিয়ে জানান দেয় 

রক্তাক্ত একটি খারিজ নাম... শরণার্থী... শরণার্থী...



***********************************************