সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬

দেবার্ঘ সেন




এক গ্রীষ্মের দুপুর, বালিগঞ্জ: ভারি হয়ে উঠছে মন

দেবার্ঘ সেন 


স্মৃতি, আসলে এমন এক দীর্ঘ-সরণী,  যা ধরে অনায়াসে কাটিয়ে আসা যায় অতীতের মুহূর্তগুলোয়। এই যেমন আমাকে এখন বেরিয়ে পড়তে হবে একদা এক গ্রীষ্মের দুপুরে বালিগঞ্জের উদ্দেশ্যে। যার মধ্যে রয়েছে এক আশ্চর্য অভিজ্ঞতা, স্বীকৃতি, সম্মান এবং সান্নিধ্য।সুতরাং এই বেরিয়ে পড়া আমার কাছে এক-প্রকার কোমল আবেগের। আর যাকে ঘিরে এই আবেগ, এই শিশুসুলভ চঞ্চলতা, তিনি আর কেউ নন আমাদের গৌরীদা— কবি গৌরীশংকর দে। 

বহু সাক্ষাৎ, বহু কথা, বহু টেলিফোন, বিভিন্ন বিষয়ের আদান-প্রদান ইত্যাদি সমস্ত কিছু অমলিন থাকলেও, শুরুতেই এক গ্রীষ্মের দুপুর, বালিগঞ্জ অর্থাৎ তাঁর নিবাসের উদ্দেশ্যে আমার বেরিয়ে পড়ার এই যে পূর্বোল্লেখ— তা সম্পূর্ণই আলাদা এক অনুভূতির, যা ব্যক্তিগত দিক থেকে আমার কাছে ভীষণ রকম সোনালী ও ততোধিক উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। 

গত ৭ জানুয়ারি, ২০২৬ থেকে গৌরীদা আর নেই, নেই অর্থাৎ শারীরিকভাবে আমরা তাঁকে আর পাবো না কোনোদিনই। কিন্তু যাঁরা তাঁর অকৃত্রিম স্নেহস্পর্শ পেয়েছি কেবল তাঁরাই জানি গৌরীদা আমাদের কাছে কতখানি সপ্রাণ জীবিত হয়ে থাকবেন। 

ফিরে আসি গ্রীষ্মের সেই দুপুরের কথায়, যেদিন প্রথম নিমন্ত্রিত ছিলাম গৌরীদার বাড়িতে। মুখ্যত  যার কারণ ছিল, তিনি আমার জলরঙে আঁকা একটি ছবি সংগ্রহ করছেন। যা ঘিরে আমার মধ্যে তৈরি হয়েছিল এক রোমহর্ষক উন্মাদনা, আর গৌরীদার ছিল হাতে পাওয়ার অপেক্ষাজনিত অস্থির এক পাগলামো। যে পাগলামো মানুষের মাঝে মানুষকে ব্যতিক্রম করে তোলে, মানুষের ভেতর মানুষকে মহান করে তোলে। সারাটা পথ যেতে যেতে সেই সময়ও আমি এই সবই ভাবছিলাম আর পাশাপাশি এও ভাবছিলাম, যে ছবিটি তিনি সমূল্যে সংগ্রহ করছেন তার মধ্যে তো আমি কোনও বিশেষত্ব পাইনি। উজ্জ্বল দিবালোকে এক রেলস্টেশনে দুটি ট্রেনের (একটি লোকাল, আরেকটি দূরপাল্লার) পাশাপাশি অবস্থানের সামান্য এক আউটডোর কম্পোজিশন, কী এমন ভাবালো তাঁকে যার জন্য তিনি আমায় ছবিটির অরিজিনাল সংগ্রহ করতে চেয়ে বিশেষ বার্তা পাঠালেন। আসলে হয়তো শিল্প-সৌন্দর্যের নির্দিষ্ট কোনও সূচক থাকে না। যার ফলে কার যে, কখন কোথায় হৃদয় নেচে ওঠে তা বুঝে ওঠা মুশকিল, যদিও কোনোভাবেই তা বুঝতে চাওয়া আবশ্যিকও নয়।

বাংলা ভাষার কবিতা চর্চায় প্রকাশ্যে এসেছি বছর আট-নয় হলো। অজস্র অনুষ্ঠান, মঞ্চ, আলো— এসবে কোনওদিনই আমার বিশ্বাস ছিল না। কাজেই বরাবরই আমার বিশ্বাস আমাকে যে পথ দেখিয়েছে, সে পথে পেয়েছি প্রকৃতের খোঁজ ও সঙ্গ। যেখানে কোনও চাটুকারিতার ভ্রম নেই। আর বিশ্বাসই তো সেই পথ, যে পথে একই বিশ্বাসের মানুষের সাথে আলাপ হয়ে যায়। বছর চার-পাঁচ আগে সেই ভাবেই কবিতার মধ্য দিয়ে কবি গৌরীশংকর দে-র সঙ্গে যোগাযোগের সূত্রপাত। মূলত,  দশকে বিশ্বাসী না হ'লেও, কবির যাত্রাপথ বোঝার সুবিধার্থে দশকের প্রয়োজন এসে পড়ে। গৌরীদা সেই দিক থেকে আট-এর দশকের অন্যতম উল্লেখযোগ্য কবি। 

আটের দশক অর্থাৎ উত্তাল সাতের দশক পরবর্তী যে দশক ছিল এক নতুন যোগাযোগমুখী ও আত্মসচেতন ধারার সূচনাকাল। সেই সময়ের কবিতায় উঠে এসেছিল আত্মকেন্দ্রিকতার বদলে সামাজিক বাস্তবতা ও নাগরিক জীবন। স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল কবিতার ভাষা। প্রথাগত ধারণা-শৃঙ্খল ভেঙে সে দশক দিয়েছিল নতুন কাব্যশৈলী ও শব্দের ব্যবহার। 

আটের দশক সংক্রান্ত এই অতিসংক্ষেপিত ভূমিকার যে কারণে জরুরি উদ্রেক তা, গৌরীদার কবিতাকে বুঝতে ও বোঝাতে প্রবলভাবে প্রক্ষেপিত করে। এই যেমন আমরা যদি তাঁর রচিত ''অশ্রুপাতের নীচে'' কাব্যগ্রন্থের 'প্রাইভেট সেক্রেটারি' শীর্ষক কবিতাটি পড়ি, যেখানে তিনি লিখছেন—

'সাজানো ছিল অনেকগুলো কারণ

ধ্বংস এসে ঢেকে দেবার ফাঁকে

দু-চোখ মেলে দেখি, সে অসাধারণ 

পুনঃ পুনঃ প্রণাম করে মাকে।


উপড়ে নিতে গিয়ে গোলাপচারা

কেউ কি আর কাঁটাকে ভয় পায়;

পারলে কিছু শিকড়েই দেয় সাড়া

পাতারা ধূলিমলিন, অসহায়। 


পতন চায় সমূহ বৈরাগ্যে

যেভাবে ছাড়ে সন্ন্যাসীকে মা,

তেমনি কোনো গভীরতর আজ্ঞায়

সুদূরে যাক বিপথগামী পা।


তথাপি ছিঁড়ে পড়তে পারে শিকে,

ধ্বংস আনে পতনে চোরাটান।

সাক্ষী রাখে অবোধ জননীকে

মা বলে: রিনা চাকরি খুঁজে আন।


ফেরে না মেয়ে চাকরি শেষে ঘরে

রাত্রি আসে, রাত্রি ফিরে যায়।

সহসা দেখি প্রভাতি অক্ষরে:

বোসপুকুরে ভাসছে রিনা রায়!'


কবিতাটির শুরু থেকে শেষাবধি যে অন্তর্গত স্বর, যেখানে প্রকট হয়ে ওঠে সামাজিক বাস্তবতা, নাগরিক জীবন, যা সময়কে মাথায় রেখে প্রত্যক্ষভাবে যোগাযোগ স্থাপন করতে চায় পাঠকের সঙ্গে, জানিয়ে দিতে চায় ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, বুঝিয়ে দিতে চায় অর্থ-সংকট, দাসত্ব এবং তার নৈপুণ্য শিকার। ঠিক একইরকমভাবে কবি গৌরীশংকর দে-র অজস্র কবিতার উল্লেখ ক'রে বারবারই বাংলা কবিতার ক্রমবিবর্তনের যে অন্তর্দহন তা তুলে ধরা যায় অচকিতেই।

স্মৃতি-সাম্রাজ্যের পরিব্যপ্তি যতই হোক না কেন, কোথাও যেন সবটা বলতে চেয়েও, বলা হয়ে ওঠে না। তাই কখনও কখনও তা অনির্বচনীয় হয়ে থেকে যায়। এই যেমন লিখতে লিখতে মনে পড়ে যাচ্ছে গৌরীদার অভিমান, চোখের কোণে জল, বসা-ওঠা, সকালের মতো হাসি, কথায় কথায় একদিকে শ্রীমা আরেকদিকে বদরক্তের উল্লেখ, আরও কতকিছুই না। সেই যে গ্রীষ্মের দুপুরের কথা বলতে বলতে জানি না কী হ'ল মাঝখানে হঠাৎই কবিতায় চলে গিয়েছিলাম, সেই দুপুর ডিঙিয়ে যখন তাঁর বাড়িতে পৌঁছাই তখন প্রায় বিকেল এবং সেইদিন তাঁর হাতে ছবি তুলে দেওয়া, জলখাবার সহযোগে কবিতার আড্ডা, সেদিনের সকালে-দুপুরে তাঁর লেখা কয়েকটি কবিতা শোনা এবং কবিতা পড়ে তাঁর স্বগতোক্তি 'বদরক্ত বের করে দিলাম' এরকম আরও কতকিছু। 

গৌরীদা কবিতা রচনার প্রতি যতখানি নিবিড় ছিলেন ততখানিই সৎ ছিলেন, যে সততা আজকের দিনে প্রকৃতার্থে বিরল, যার প্রমাণ রাখে তাঁর ধারাবাহিক কবিতাচর্চা। ২০২৫-এর কলকাতা বইমেলায় 'পাটাতন' প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত কবি গৌরীশংকর দে-র 'কোম্পানির কাগজপত্তর' বইটিও সেই সাক্ষ্যই রাখে, এই প্রসঙ্গে এই বইয়ের 'বিসর্জন' কবিতাটির প্রথম স্তবকটি তুলে ধরি—

'চীৎকার...অদূরবর্তী ধ্বনি, ডপলার

ক্রিয়া। প্রিয়া প্রিয়া বলে যে সুড়ঙ্গ খোড়া

হয়েছিল সেই কালে তার জ্বালাপোড়া 

দিয়ে এই তরঙ্গ সাজানো, কলকাতার

নাম হবে খেলা কিছু পরে। যে খেলার

শেষে পড়ে থাকবে চিল আর চন্দ্রবোড়া।

ট্রামলাইনের শেষে দগ্ধ পিচ মোড়া

নগ্ন দেহ, ছেঁড়া শাড়ি, গোলাপি ভাণ্ডার।'


কবিতাটির ছন্দের চলন, সৌষ্ঠব এইসকল কিছু তো সাধারণভাবে আমাদের যথেষ্টই ভাবায় কিন্তু কবিতার মধ্যে শব্দবিজ্ঞান-সংক্রান্ত যে ডপলার ক্রিয়া বা ডপলার এফেক্ট-র সাবলীল প্রয়োগ তা কোথাও কবিতাকে আরওই যেন বিজ্ঞান-প্রখর করে তোলে। এই প্রবণতাকে দোষ বা গুণে না বেঁধে সেই সীমাবদ্ধতা ছেড়ে আমরা বরং বাংলা কবিতার কল্যাণে একে উদ্‌ঘাটন হিসেবে দেখতে শিখি, যাতে লেক্সিক্যাল সিমেন্টিক্স কিংবা সেন্টেন্স সিম্যানটিক্সকে কবিতার অন্তঃস্থ জড়তা বা দুর্বোধ্য-যাত্রা হিসেবে স্বীকৃত না ক'রে, তার গভীরে প্রবেশ করার বা খনন করার জন্য সুগম এক হৃদয় তৈরি হয়।

লেখাটির যত উপান্তে এসে পড়ছি, সর্বস্ব ঘিরে ততই যেন মন ভারি হয়ে উঠছে। মনে হচ্ছে গৌরীদাকে নিয়ে এই লেখা ফেলে রাখি, কিছুই যেন বলা হয়নি। আরও অনেক কিছু আছে বলার, এ বলার বা লেখার যেন কোনও অন্ত নেই, কোথাও কোনও থামা নেই। কিন্তু পদার্থবিজ্ঞানানুসারে জীবনের সরণ আসলে শূন্যই। আমরা যেখান থেকে যাত্রা শুরু করি, আদতে ফিরিও সেইখানেই। তাই সেই যে স্মৃতির রাস্তা ধরে বেরিয়ে পড়েছিলাম, দুপুর গড়িয়ে বিকেল কাটিয়ে সেখানে এখন সন্ধের অভিসারে রাত্রি লেখা হচ্ছে। গৌরীদা, আমাকে বলছেন এই রাত্রিটুকু থেকে যেতে তাঁর কাছেই। ঘরের জানলা দিয়ে আবাসনের বাইরে ও ভেতরের দুটো গাছ, যে হাওয়ায় দুলে উঠে মিলে যাচ্ছে মাথায় মাথায়, সে হাওয়ার নাম সৃজন বললে ভুল হয় না হয়তো। কিন্তু আমার সাধ থাকলেও সে সাধ্য কই, ফিরতে হবে, ফিরতে হবেই— যারপরনাই গৌরীদাকে বোঝাই আবার আসবো একদিন, আপনি ভালো থাকুন, আপনি সুস্থ থাকুন, নিজের যত্ন নিন। গৌরীদার স্নেহ-সম্পৃক্ত মুখভার তখন যেন বলতে চাইছে, যে ক'জন তরুণ কবিদের তিনি হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে নিঃসঙ্কোচে আপন করে নিয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে যাঁরা তাঁর সাথে প্রতারণা করেছেন, তুমিই জানো তুমি সেই দলে নাম তুলবে কি না! ভাষায় না প্রকাশ করলেও আমি যেন সেই গুমোট আবহাওয়ার একরকম পূর্বাভাস টের পাচ্ছিলাম, কেন না ইতিপূর্বেই ফোনে কথা বলতে বলতে এই অভিমান সংকেত তাঁর দিক থেকে স্পষ্ট হয়েছিল এবং যথেষ্টই যার সঙ্গত কারণ ছিল। ঠিক তখনই আমি গৌরীদার হাত দুটো চেপে ধরতেই, নিমেষেই যেন তাঁর সমস্ত অভিমানই জল হয়ে গেল। তিনি উঠে দাঁড়ালেন, বললেন চলো তোমাকে অনেকটা পথ ফিরতে হবে, আমি এগিয়ে দিয়ে আসি, আমি তাঁকে যতই বলি আমি চলে যেতে পারবো গৌরীদা, আপনি ব্যস্ত হবেন না, বাড়িতে থাকুন, তিনি ততই নাছোড়— অগত্যা বেরোনোর সময়, বৌদিকে আসছি জানিয়ে দরজার দিকে যেতেই গৌরীদা ইশারা করলেন উত্তর দিকের দেওয়ালটা, বললেন তোমার আঁকা ছবিটি এই দেওয়ালে টাঙাবো। মনে মনে কল্পনা করলাম কেমন লাগবে, তারপর বেরিয়ে সোজা আমাকে নিয়ে গেলেন বড় রাস্তার চার মাথার মোড়ে। বললেন, তুমি আজ ট্যাক্সি করে ফিরবে। আমি বললাম না গৌরীদা, এখনও এতোটা লায়েক হইনি, হতেও চাই না কখনও। ধমক দিয়ে বললেন, তুমি আজকে ট্যাক্সি করেই হাওড়া ফিরবে এবং ট্যাক্সি-ফেয়ার আমি দেব, এটা তোমার স্বীকৃতি, শিল্পীকে স্বীকৃতি না দিতে পারলে, কবে আর শিল্পকে কীভাবে স্বীকৃত করবো আমরা। বলেই সোজা ট্যাক্সিতে তুলে দিলেন, আমিও বাধ্য ছেলের মতো তাঁর মূল্যবোধকে সম্মান জানিয়ে ট্যাক্সিতে  উঠে বসলাম এবং সারা রাস্তা সেদিন যে হাওয়া মেখে নিয়ে বাড়ি ফিরেছিলাম সেই হাওয়া আসলে হাওয়া নয় এমন এক অভিজ্ঞান, যা কবি গৌরীশংকর দে-কে নিয়ে এই স্মৃতিগদ্য লিখতে বসে, যার অধিকাংশটাই এই লেখাজুড়ে নিরঙ্কুশ ছড়িয়ে রইল।




************************************************


অনিরুদ্ধ সুব্রত





জীবন ও কবিতার মিশ্র শিল্প: গৌরীশঙ্কর দে


অনিরুদ্ধ সুব্রত 


"কেঁপে ওঠে, ভরে যায় অশ্রুজলে লেক, কোঁচড়ে হৃদয় চুরি করে আনি, কেক 

খেতে দিই ঘুম থেকে তুলে মেয়েটিকে--

বুড়ি চাঁদ চুমু খায় বুড়ো পৃথিবীকে।"



কবিতার চেয়ে হয়তো কবি বেশি নয়। তাঁর রচিত পংক্তিতে তাকে স্পর্শ করতে পারার সুখ সবচেয়ে বেশি। আর ঠিক সেখানেই প্রশ্ন আসে, কতটুকু পড়েছি তাকে ?


             দু'হাজার কুড়ির আশপাশে কবি গৌরীশঙ্কর দে-র সঙ্গে পরিচয় আমার। এবং সেই পরিচয় একান্তই সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার নিয়মিত কবিতা পোস্টানোর অভ্যেস থেকে পাওয়া। নিয়মিত বেশ আলাদা রকমের কমেন্ট পেতাম ভদ্রলোকের থেকে। এভাবে একদিন তাঁর আগ্রহে প্রথম ফোনালাপ। আমাকে লেখা বিষয়ে সামান্য কিছু যুগপৎ প্রশংসা ও শিক্ষা দিলেন। এমন ভাবে, যা দীর্ঘদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় এসে ঠিক ওরকম কখনো কারও কাছ থেকে পাইনি। 

            পাশাপাশি বেশ শিশুসুলভ ভঙ্গিতে বললেন, আমার লেখায় লাইক দিয়ে চলে যাও, তেমন কোনো কমেন্ট দেখি না ? তার মানে তুমি ভালো করে পড়ো না আমার লেখা ? বললাম, পড়ি দাদা কিন্তু কমেন্ট করতে তো সাহস হয় না সবসময়। অবশ্য তিনি সেই এক্সকিউজ মেনে নিলেন না। বললেন, তোমার আলাদা করে তেমন ভালো লাগেনি বলেই হয়তো.. ! বললাম, এর পর খুব খেয়াল করে পড়ব, তারপর লিখব যতটা আমার যোগ্যতায় হয়। 


        হ্যাঁ, হয়তো কখনো তাঁর লেখায় মন্তব্য করেছি, কিন্তু সে আমার ধৃষ্টতা ছাড়া কিছু নয়। যদিও তিনি আনন্দ পেয়েছেন। এর আসল কারণ তাঁর লেখার মাত্রা আমাকে ছাড়িয়ে যায় অনেকটা উঁচুতে। 


        শেষ পাঁচ বছরের একজন বন্ধু আমি তাঁর। ফলত, তাঁর কবিজীবনের যাত্রাপথ আমার কাছে অজানা ছিল। প্রাথমিক ভাবে তাঁর লেখায় ছন্দোবদ্ধতা, আমাকে খুবই বিস্মিত করত। সূক্ষ্ম জীবনচেতনাকে তাৎক্ষণিক তুচ্ছ বিষয়ের রূপকে বেশ পরিমিত শব্দে উপস্থাপনের মোক্ষম গুণ ছিল তাঁর। বিশেষত বিজ্ঞানের মানুষ বলে কিনা জানি না, কবিতার অবয়ব গঠনে তিনি তীক্ষ্ণ স্থপতি। 


       রামকৃষ্ণ পরমহংস এবং সারদা দেবীর প্রতি তাঁর গভীর ভক্তিভাব তাঁর শেষ পর্বের কবিতার দর্শনে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করেছে। এমনকি ঠিক এই পর্বে ফল্গু ধারার মতো প্রতিটি লেখায় বয়ে গেছে কখনও মৃদু, আবার কখনো প্রকট মৃত্যু চেতনা।


     পরিচয়ের পর যেদিন প্রথম তাঁর বালিগঞ্জের ফ্ল্যাটে আমার যাওয়া, সেদিন‌ই তাঁর থেকে উপহার পাওয়া তাঁর 'নির্বাচিত কবিতা ' ব‌ইটি। যা সত্যিকারে কবি গৌরীশঙ্কর দে -কে আরও খানিকটা বিস্তারিত ভাবে আমার চেনার সুযোগ হ‌ওয়া।





     প্রচণ্ড জীবনীশক্তির অজস্র পংক্তিতে সেখান থেকে তাকে নতুন করে খুঁজে পাওয়া। রক্ত মাংসের কবি, কবির স্বপ্ন, বাহাদুরী, শব্দের শেল ছুড়তে পারা, ছন্দে ফেলে ছন্দকে ভাঙা এবং দূরন্ত এক অশ্বের গতিশীলতা--- এই সব আবিষ্কার করা তার যৌবনের কবিতা থেকে কবিতায়‌ অগণিত।


        ষাটোর্ধ্ব এক যুবকের মতো থরথর করা রোমহর্ষ নিয়ে কবিতাকে পরিপূর্ণ রূপে যাপন করতেন তিনি। প্রেম তাঁকে শব্দে, ধ্বনিতে, অভিমানে, ক্রোধে ও কান্নায় ভিজিয়ে রেখেছিল সারাক্ষণ। এমন কিশোর-মন কীভাবে যে মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত বিরাজ করে একটি মানব শরীরে, আমি জানি না। প্রেম যে আসলেই বেদনা--- তা তাঁর কবিমনের একটুখানি ছুঁলেই স্পষ্ট বোঝা যেত। 


          মানুষ গৌরীশঙ্কর যেন অনন্ত প্রেমিক। অকৃপণ এক আতিথেয়তা প্রবণ প্রাণ। যে কেউ, খুব অল্প সময়েই তাঁর হৃদয়ের ভেতর বাড়িতে ঢুকে পড়তে পারে। তিনি নিজেই আগন্তুককে হাত ধরে টেনে নিয়ে গিয়ে তুলবেন মূল মহলে। তারপর তাঁকে বলবেন, শিশু সারল্যে জীবনের নানা কথা। বলবেন, দেশ বিদেশের কবিতার কথা। আহারে, পানিয়ে, আদরে, স্নেহে ভাসিয়ে নিয়ে যাবেন স্বতন্ত্র এক পৃথিবীতে। যেখানে আদতে থরে থরে শুধু কবিতা। যার খানিকটা হয়তো লিখিত হয়েছে, খানিকটা লেখা হবে আগামী কোনো কালে।


      সাধারণ হিসেবী মানুষ যাকে সংযম ও সৌজন্য বলেন, প্রকৃত কবির জীবনধারা কি সবসময় অমন পরিমিত হয় ? তাই পাগলামি বলে কত আশ্চর্য সত্য এড়িয়ে যায় আমাদের চোখ, আমাদের বোধ। কবির জীবন একটি আস্তো দীর্ঘ কবিতা। তা রুক্ষ, শুষ্কতার বিবর্ণ দিয়ে যেমন গড়া, তেমনি নব জলধারায় বিকশিত পাতার মতো সবুজে উন্মত্ত হয়ে ওঠে, আবার শিশিরে ভেজা থাকে উস্কোখুস্কো প্রতিটি প্রান্ত। কবি গৌরীশঙ্কর দে-র জীবন ও কবিতা কোথাও পরস্পরের মধ্যে মিশে গিয়ে তাঁর জীবন ও আচরণ--- আমার দৃষ্টিতে এক শিল্প দৃষ্টান্ত। এতটুকু মেকি, আত্মপ্রচার, অহং, হিংসা, দলবাজির ধার ধারেন নি। 


        এক মানুষ এসেছিলেন, জীবনের ঘাত গুলিকে কবিতা দিয়ে সাজিয়ে তুলবেন ভেবে। ছড়িয়ে ছিটিয়ে দু'হাতে রং মেখে সেই ছবিই তিনি এঁকেছেন, একা একা দেখেছেন, পরোয়া করেন নি কার‌ও কোনো প্রশংসা বা স্বীকৃতির। এবং এক্ষেত্রে তিনি সমকাল থেকে সম্ভবত বঞ্চনাই পেয়েছেন বেশি। তাঁর কবিপ্রতিভাকে যথার্থ মুক্ত স্বীকৃতি দিতে, যারা সময় নষ্ট করেছেন, একদিন তারা নিজেদের ব্যর্থতা উপলব্ধি করবেন বলেই মনে হয়।


                             


******************************************************************************************************




অ-নিরুদ্ধ সুব্রত

জন্ম ১৯৭৪, বনগাঁয়। ছাত্রবয়স থেকে লেখালিখি শুরু। মূলত কবিতা। এছাড়া ফিচার ও ছোটো গল্প। এ পর্যন্ত প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ- ছয়টি। প্রথম কাব্যগ্রন্থ- 'রোদ ও বোধের দ্বীপে'(২০০৩) এরপর 'আগুনের দিন গুলো নেই', 'নিভৃত আগুনের পদাবলী', 'এক গলিত যুদ্ধ স্রোত', 'কালো ছত্রাক', 'যাপন বিক্রির টেবিল'(২০২১)। সম্পাদিত পত্রিকা- 'উত্তর পক্ষ' । পেশা শিক্ষকতা, নেশা কবিতা। সম্প্রতি প্রকাশিত অ-নিরুদ্ধ সুব্রত-র কবিতার বই---


চন্দন রায়





গৌরীশঙ্কর দে

চন্দন রায়


ভালবাসার পাঁচিল বেয়ে দীর্ঘ যাত্রা পথ আমাদের।

আমার ভাল লাগে না ওর সম্পর্কে কিছু লিখতে।

যন্ত্রণা হয়। ওর পরিবারের সাথে ওর স্ত্রী নূপুর 

আমার খুব পরিচিত। ওর মা-বাবা আমার কাছের।

আমি দেখেছি । ওর মাকে দেখেছি কী ভাবে তার

ভালবাসার মুখে ভাত তুলে দিচ্ছে। পরম তৃপ্তির সেই দৃশ্য

কবিতার মতন গিলে খায় সমস্ত শরীর।


১৯৮৪ প্রথম পরিচয় দেশ পত্রিকায় কবিতা প্রকাশ নিয়ে।

আমরা জেগে ছিলাম। আমরা তুল্কামাল ছিলাম। আমরা

পৃথিবীর ঐশ্বর্য ছিলাম।  কবিতায় তুমুল আলোড়ন আমরা । 

বুকের ভেতর থেকে তীব্র দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে—

তুই শালা এতো তাড়াতাড়ি আমাকে ছেড়ে চলে গেলি। 

এটা তোর চরিত্রের সাথে মেলে না। তুই উদ্দাম । তুই কবিতার

ঈশ্বর। তুই ভালবাসার একমাত্র অধীশ্বর। তুই চলে গেছিস

বলে প্রণাম জানাব না, —

বরং বলব আর অনেকটা সময় পৃথিবীকে নিজের মতো করে

দেখতে পারতিস....

ভালবাসা নিস। তুই থাক, আমি আসছি...



#########################################

সৈয়দ কওসর জামাল






আমার বন্ধু গৌরীশঙ্কর দে

সৈয়দ কওসর জামাল



“লিখতেই হবে? কবির মজুরি পাও

বিনা-সম্মেলন থেকে ফিরে?

বগলে কলম নিয়ে পাপোষে ঘুমাও

তোদের কি চৈতন্য হবেনি রে!”


কবিতা নিয়ে, কবিদের নিয়ে, এমন মশকরা করার প্রবণতা কম ছিল না গৌরীশঙ্করের। অথচ সে ছিল কবিতাপ্রাণ। কবিতালেখার ভাবনাই তাকে মাঝে মাঝে কৌতুকপ্রবণতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। এ কথা লেখার সময় আমি মনে করতে পারি গৌরীশঙ্করের কৌতুকপ্রিয় মুখটিকে। হয়তো এভাবেই কবিতা লিখে ও কবিদের সান্নিধ্যে জীবন কাটিয়ে দিতে চেয়েছিল সে, কিন্তু শেষ মুহূর্তে জীবনই কৌতুক করেছে তার সঙ্গে, বাঁচতে দেয়নি তাকে। ৬৫ বছর খুব কি বেশি বয়স? সে তো আমার চেয়ে হিসেবমতো দশ বছরের ছোটো ছিল, কিন্তু আমাদের বন্ধু হতে বয়স বাধা হয়নি। 

আমাদের বন্ধুকবি তুষার চৌধুরীকে খুবই মান্য করত গৌরীশঙ্কর। তুষারকে প্রায় মধ্যমণি করে পার্ক স্ট্রিটের পানশালায় কবিদের যে আড্ডা জমে উঠত গোটা নব্বইয়ের দশকজুড়ে, সেখানেই একদিন তার সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছিল। ধর্মতলার ছোটো ব্রিস্টলেও গৌরী যেত বলে শুনেছি কিন্তু পারতপক্ষে সেখানে যেতাম না। সেখানেও লক্ষ করেছি বন্ধুদের সঙ্গে তার মজা করার প্রবণতা। খুব সিরিয়াস আলোচনার মধ্যেও গৌরীর অভ্যেস ছিল হঠাৎ-ই মজা করে সব ঘেঁটে দেবার ইচ্ছে। অথচ কবিতা নিয়ে কম সিরিয়াস ছিল না সে। তুষারের মৃত্যুর পর ও মজা করেই বলত আমাকে, তুষারদা নেই, এখন তুমিই আমার দাদা ও অভিভাবক। টেলিফোনেও বলেছে। জানি যে তুষার চলে যাওয়ার পর আড্ডাও নেই, কিংবা অন্য আড্ডা থাকলেও শারীরিক কারণে সে কোথাও পৌঁছোতে পারত না। ফলত ওর কোথাও একটা ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়েছিল মনের কোণে।

চলে যাওয়ার বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই শরীর সায় দেয়নি তার কাজে। কবিসভায় কম যেত, গেলেও স্ত্রীর সঙ্গে গেছে। মনে হয় শারীরিক কারণেই কোথাও আত্মবিশ্বাসের অভাব ঘটেছিল। দীর্ঘদিন ধরে অ্যজমা তাকে কাবু করে রেখেছিল। বছর ছয়েক আগে বন্ধু প্রজিতের (জানা) কাছে শুনলাম গৌরী খুব অসুস্থ, একদিন দুজনে ওকে দেখতেও গেলাম। আমাদের পেয়ে কোথায় অসুস্থতা! এত আড্ডা হল সারা সন্ধেজুড়ে যে মনে হল গৌরীর মতো সুস্থ আর কেউ নেই।

গৌরীশঙ্করের প্রিয় বিষয় ছিল আধ্যাত্মিকতা। ভালোবাসত ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণকে, তাঁর বাণী। এসব সে নিজেই আমাকে জানাত। পরক্ষণেই কৌতুকের সুরে বলত, তুমি তো আবার কিছুই মানো না! তবে যাই করুক, পাশাপাশি গীতবিতানকে রাখত নিজের কাছে। কবিতায় লিখেছে—

“আমার কলম এঁকে যাবে ছায়াপথ

যেখানে গীতবিতান, কথামৃত, এর

বিশ্বের জাগ্রত চোখে সাগর-পর্বত।‘


মনে করিয়ে দিই যে গৌরীশঙ্কর ছিল পদার্থবিদ্যার ছাত্র। ছাত্রজীবনের পরেও নিজের বিষয়ে তার পড়াশুনো ছিল। ব্যক্তিগত আলোচনাকালে দেখেছি পদার্থবিদ্যার কিছু কিছু বিষয় উঠে আসছে তার কথায়। আমি সাহিত্যের ছাত্র হওয়ার পদার্থবিদ্যার অনেককিছুই জানতে চাইতাম ওর কাছে। কবিতাতেও কি এসব বিষয় ধরা পড়েনি? গৌরী লিখেছে কবিতায় ‘হিগস-বোসন কণা’র কথা। এ ছাড়া আরও অনেক বিষয়, কবিতার উদ্ধৃতি দিয়ে আমার লেখাকে ভারাক্রান্ত করতে চাই না।

গদ্যে পদ্যে অনেক কবিতা লিখেছে গৌরীশঙ্কর। ছন্দ ও অন্ত্যমিলের প্রতি দুর্বলতাও লক্ষ করেছি দুএকটি কাব্যগ্রন্থে। আবার ছন্দে লেখা কবিতা নিয়ে কৌতুক করতেও ছাড়েনি। সনেট লিখতেও ভালোবাসত। ওর লেখা অনেক সনেট আমারও পছন্দের। সবমিলিয়ে  গৌরীশঙ্কর কবি, সিরিয়াস কবি এবং ভালো কবি। একটি কাব্যগ্রন্থের ভূমিকা থেকে একটু অংশ পড়লে দেখবেন কবিতা সম্পর্কে তার গভীর ধারণার কথা—

“একজন কবিকে বাঁচতে হলে যা করতে হয় তা, কবিতানির্মাণ। সংকল্পের ধাঁচ্ব অবিরল কলম চালিয়ে যেতে যেতে কখনো সখনো কবিতার জন্ম হয়, প্রতিটি মুহূর্তে লাফ দিতে হয় উপরে-নীচে, ডাইনে-বামে, সামনে-পিছনে সময়ের পরিমিতিবোধে। এর বাইরে কোনও বিজ্ঞান হয়নি সম্ভবত আজও প্রমাণিত হলেও তা স্বীকৃতি পায়নি। চারমাত্রিক ভুবনায়নে স্ট্রিং থিয়োরির দশমহাবিদ্যা তাই ক্রমাগত আরও মাত্রার জন্ম দিতে চায়, মহীনের ঘোড়া বা উটের গ্রীবার মতো বিলীন প্রদোষে আশ্চর্যজনক! এই আশ্চর্য প্রাণময় এক বিস্ময়ই শাশ্বত।”

(কথামুখ, আমার নিভৃতাবাস, ২০২২)


হয়তো আড়ালে থেকেই লিখে গেছে এবং কখনও প্রচারের আলোয় আসার তাগিদ লক্ষ করিনি তার মধ্যে। কিন্তু আমার ধারণা কবি হিসেবে তাকে মান্যতা না দিয়ে উপায় নেই। নিজেকে কবি হিসেবেই তৈরি করেছিল সে। নিয়মিত চর্চার মধ্যে থেকেছে। চলে যাওয়ার আগে যখন প্রায় বেরোনো বন্ধ তখন কি মারাত্মক সব কবিতা ও লিখে গেছে ফেসবুকে। তার ফেসবুক বন্ধুরা এখনও ওর টাইমলাইনে গেলে দেখবেন প্রায় রোজই কবিতা পোস্ট করেছে। পত্রপত্রিকাতেও লিখেছে। শুনলাম ওর কবিতাসংগ্রহ প্রকাশের আয়োজন চলছে। খুবই আনন্দের কথা। চাই যে আমার বন্ধু কবি গৌরীশঙ্কর দে-র কবিতা আরও আরও পঠিত হোক।




*********************************************

সম্পাদকীয়

  




সম্পাদকীয়   


স্বরবর্ণ * ২৭ 
৩ মার্চ ২০২৬ * ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ 



জন্ম থেকে মৃত্যু.. এইটুকুই জীবন? অনেকের কাছেই হয়তো। তাঁরা জীবনটাকে নিংড়ে উপভোগ করতে চান এই সময়সীমার মধ্যে। জীবনের যা কিছু অন্বেষণ, চাওয়া-পাওয়া আকণ্ঠ পেতে চান তাঁরা এই বৃত্তের ভেতর থেকে। কেউ আবার এইটুকুতেই খুশি নন। প্রশ্ন জাগে মনে, জন্মের আগে কোথায় ছিলাম? থাকবো কোথায়, পরে? নির্দিষ্ট সময়সীমার যে জীবন তা পেয়ে তিনি তৃপ্ত নন। এই অতৃপ্তিই তাকে সারা জীবন তাড়িয়ে নিয়ে ফেরে। তিনি বাঁচতে চান না- বাঁচার পরেও। জীবন তার হাত ধরে বারবার ফিরিয়ে আনে জীবনের কাছে। সৃষ্টির নেশায় তার বৃত্তের পরিধি ফেটে যায়। অনুরণন বাজে আকাশে-বাতাসে। তা সে খরচ করে না। রেখে যেতে চায় দিনযাপনের শব্দে অক্ষরে তুলির আঁচড়ে...। এই অখুশিই তাকে জাগিয়ে রাখে ঘুমিয়ে পড়ার পরেও।

গত ৭ জানুয়ারি কবি গৌরীশঙ্কর দে শেষবারের মতো ঘুমিয়ে পড়লেন।


################################
    
গৌরীদা, তুমি ঘুমিয়েছ? এই ঘুম তুমি চেয়েছিলে বুঝি? মনে হয় না। যতটুকু তুমি জেগে আছো তোমার সৃষ্টিতে, জেগে থাকবে, বিশ্বাস করি, যেমন ছিলে একদিন এই পৃথিবীর বুকে দিনযাপনের নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস একত্র করে।

#################################




##########################################




স্বরবর্ণ * ২৭ / কবি গৌরীশঙ্কর দে স্মরণ সংখ্যা

  



                                             

                 








কবি গৌরীশঙ্কর দে 

    স্মরণ  সংখ্যা 



সৈয়দ কওসর জামাল  

চন্দন রায় 

অনিরুদ্ধ সুব্রত  

দেবার্ঘ সেন 

নিমাই জানা

দেবদাস রজক 

দেবাশিস সাহা 


আমার বাবা গৌরীশঙ্কর দে

তনুকা দে 


‘স্বরবর্ণ’-এ প্রকাশিত গৌরীশঙ্কর দে-র কবিতা 


নিয়মিত বিভাগ


গুচ্ছ কবিতা

শিশির আজম * তাপস কুমার দে * শিবালোক দাস * বাবলু সরকার * অর্ণব সামন্ত 

কবিতা 

পঙ্কজ মান্না * সাধন চৌধুরী * গৌতম রায় * মানসী কবিরাজ * বনশ্রী রায় দাস * তুষার ভট্টাচার্য * নৌসাদ আলি * হামিদুল ইসলাম * সৌম্য ঘোষ * প্রবীর কোনার * অঞ্জন ব্যানার্জি * রহিত ঘোষাল * পার্থ প্রতিম গোস্বামী 

অনুবাদ কবিতা * জয়িতা ভট্টাচার্য 

প্রবন্ধ * তপন পাত্র 

গল্প * দেবাশীষ মুখোপাধ্যায় * মনোজিৎকুমার দাস  * প্রদীপ কুমার দে *  

উপন্যাস * কথা দিয়েছিলাম হেমন্তের নিয়রে * দীপঙ্কর রায় 

ধারাবাহিক রহস্য রোমাঞ্চ কাহিনি * প্রভাত ভট্টাচার্য 

গ্রন্থ আলোচনা * ‘পাখি জন্ম মোহনার বাঁকে’ * অমিতাভ সেন


সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

স্বরবর্ণ * ২৭ / কবি গৌরীশঙ্কর দে স্মরণ সংখ্যা

 



                                             

                 








কবি গৌরীশঙ্কর দে 

    স্মরণ  সংখ্যা 



সৈয়দ কওসর জামাল  

চন্দন রায় 

অনিরুদ্ধ সুব্রত  

দেবার্ঘ সেন 

নিমাই জানা

দেবদাস রজক 

দেবাশিস সাহা 


আমার বাবা গৌরীশঙ্কর দে

তনুকা দে 


‘স্বরবর্ণ’-এ প্রকাশিত গৌরীশঙ্কর দে-র কবিতা 


নিয়মিত বিভাগ


গুচ্ছ কবিতা

শিশির আজম * তাপস কুমার দে * শিবালোক দাস * বাবলু সরকার * অর্ণব সামন্ত 

কবিতা 

পঙ্কজ মান্না * সাধন চৌধুরী * গৌতম রায় * মানসী কবিরাজ * বনশ্রী রায় দাস * তুষার ভট্টাচার্য * নৌসাদ আলি * হামিদুল ইসলাম * সৌম্য ঘোষ * প্রবীর কোনার * অঞ্জন ব্যানার্জি * রহিত ঘোষাল * পার্থ প্রতিম গোস্বামী 

অনুবাদ কবিতা * জয়িতা ভট্টাচার্য 

প্রবন্ধ * তপন পাত্র 

গল্প * দেবাশীষ মুখোপাধ্যায় * মনোজিৎকুমার দাস  * প্রদীপ কুমার দে *  

উপন্যাস * কথা দিয়েছিলাম হেমন্তের নিয়রে * দীপঙ্কর রায় 

ধারাবাহিক রহস্য রোমাঞ্চ কাহিনি * প্রভাত ভট্টাচার্য 

গ্রন্থ আলোচনা * ‘পাখি জন্ম মোহনার বাঁকে’ * অমিতাভ সেন



বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

লেখা আহ্বান





স্বরবর্ণ

সৃজনের মৌলিক স্বর

স্বরবর্ণ * ২৭   

এই সংখ্যার জন্য লেখা জমা নেওয়া হচ্ছে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। নিয়মিত বিভাগ-সহ কবি গৌরীশঙ্কর দে-এর স্মরণে এই সংখ্যায় একটি বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হবে। শ্রদ্ধায়, ভালোবাসায় আমরা কবিকে স্মরণ করব। কবির কবিতা, গদ্য ও ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণামূলক লেখা পাঠান। লেখা পাঠাবেন নীচের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর কিংবা ইমেইলে ।


৮৭৭৭৮৯১৫৩২

debasishsaha610@gmail.com



স্বরবর্ণে লেখা পাঠানোর আগে নীচের বিষয়গুলি নিশ্চিত হয়ে নিন -----


১.  স্বরবর্ণ দ্বিমাসিক ওয়েব ম্যাগাজিন । 

২. লেখা মনোনয়নের ব্যাপারে সম্পাদকমন্ডলীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

৩. প্রাপ্তি সংবাদ জানানো সম্ভব নয়। নিৰ্বাচিত লেখকসূচি আমরা একমাসের মধ্যে ফেসবুকে প্রকাশ করি । 

৪.পরবর্তী  সংখ্যার জন্য আপনার মৌলিক ও অপ্রকাশিত লেখা গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, অণুগল্প, অনুবাদ কবিতা ভ্রমণ কাহিনি  পাঠান । 

৫. শব্দসীমা অনির্দিষ্ট। 

৬. কবিতার ক্ষেত্রে কমপক্ষে দুটি কবিতা পাঠাবেন।  

৭. লেখার সঙ্গে আপনার একটি ছবি এবং সংক্ষিপ্ত পরিচিতি, প্রকাশিত গ্রন্থ (থাকলে)  ছবিসহ পাঠান । 

৮. লেখা পাঠাবেন ওয়ার্ড ফাইলে, হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা ই-মেইল বডিতে টাইপ করে। পিডিএফ বা লেখার ছবি তুলে পাঠাবেন না।


* হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর   8777891532

*ই-মেইল --- debasishsaha610@gmail.com 



সম্পাদকমণ্ডলী                                             

ড. শুভঙ্কর দে          ড. অলোক কোৱা

সৌম্যজিৎ দত্ত           দেবাশিস সাহা