কবিতাগুচ্ছ * দীপংকর রায়
বিচ্ছিন্ন প্রলাপ
১
তাঁকে নিয়ে অপেক্ষায় যদি
সান্ধ্য আকাশ হারিয়ে যায়
অন্ধকার জাগ্রত হয় সভ্যতার উৎকৃষ্ট উদাহরণে
সৃষ্টিতত্ত্ব ঘেঁটে কে আগে কে পরে ভেবে কী লাভ ?
জাতী ধর্মে বিভাজিত হয়ে আর কত অমানুষিক উল্লাস দেখতে হবে?
সে নদী হলে উৎসের চাইতেও বড় সত্য প্রত্যাশার মানবিক গতি
কবে হবে সেই মিলিত স্বরূপ ?
২
বাদ দাও নি সংযুক্ত করেছো
কেন জানো, এই জন্যে
তোমার ক্ষয়ে যাওয়া ছায়া আমাকে ছুঁতে না পারে
কোনোদিনও যাতে;
বাদ দাও নি সংযুক্ত করেছো এতটাই, যে লম্বা আলোর গতি
বিচ্ছিন্ন হয়ে অন্ধকার ঢেউয়ে মিশে গেছে কেবলই ....
তোমাকে চিনতে ভুল করিনি সেই কোন শৈশবে ----
৩
মুগ্ধতা পাল্টাতেই পারে জনে জনে...
কিন্তু ভালোবাসার কাছে
শুধুই মুগ্ধতা প্রতিবন্ধক হতে পারে না কখনোই । তার
উপস্থিতি পুরোনো কাপড়ের মায়ায় আচ্ছন্ন না হলে
তোমার আত্মায় গলদ আছে
জন্মে আছে অভিশাপ -----
তাকে ডিঙিয়ে বিহ্বল না হতে পারো যদি, তাহলে এই মাটির
সন্তান না তুমিও । ভূমিহীন অস্বীকৃত প্রান্তিক শুধুই ---- বিশ্ব
নাগরিকতার কেউ না তুমি ।
৪
প্রভুর প্রভু হতে তো চাইনি
একটি দীর্ঘ পথ কাছাকাছি থাকতে চেয়েছিলাম,
দুটি হাতের অবলম্বন চেয়ে
রিক্ত হয়েছি তো কতোই;
সমিতি আমার জন্যে নয়
উপঢৌকন দিয়েছিলাম
সেও তো সেই কবেই...
এই মুখ এতবার ম্লান করেও মেটেনি স্বাদ ?
৫
দৃশ্যমান সব সত্য সত্য না
অন্তরালে থাকে যে উপক্রমণ
মানবতার বিধ্বংসী প্রবাহ
সেইখানে তোমাকে নিয়ে আমার সব দেখা;
সেই অদৃশ্যমান হেতুর অনুসন্ধানি চোখকে, প্রকৃত সত্যের দৃষ্টি
চেনানোই আমার উপস্থিতি,
বাকি সবই একঘেয়ে চিৎকার....
ভালো করে ভেবে দেখো
কোন সে ভাষা, কোন সে প্রতিবাদী মুখ
যাকে তুমি আজও চিনতে পারোনি!
****************************************************************************************-*****


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন