কবিতাগুচ্ছ * স্বপ্নদীপ রায়
১.
স্বর্ণযুগ স্বর্ণযুগ
ভাবতে ভাবতে সূর্য ঠেলে আমি ক্রমশ
আমার পথের দিকে এগিয়ে যাই।
প্রথম দরজাটা খুলে গেলে দ্বিতীয় দরজার
জন্য ... তারপর তৃতীয়...
একে একে শস্যের ক্ষেত উপুড় করে দেওয়া হয় আমার
পাকস্থলীতে,
যারা ঢেলে দেয় তাদের আমি দেখিনি
শুধু ভরাট হওয়ার এক স্বপ্নাতীত অভিজ্ঞতা
আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায়;
শ্বাসের গভীরে আশ্বাস কথা বলে,
আমি স্বর্ণযুগে চলেছি ... স্বর্ণযুগ!
অথচ আজ গোরস্থানের মতো ছোটবেলার
এই পরিত্যক্ত ছাদে দাঁড়িয়ে
চতুর্দিকে মরা আগাছা আর অবাধ্য কালচে শ্যাওলার সঙ্গে
যুঝতে যুঝতে
পোড়ো চিলেকোঠার বুকে হাত রেখে
বুঝলাম ...
ও বেঁচে আছে আমাদের মায়েরই মতন
... সন্তানের মঙ্গল কামনায়
আপনি ছায়াতে লীন ...
২.
ক্রমশ আরও অসহায় হচ্ছে প্রতিরোধ
আর আমার চোখ দিয়ে নেমে আসছে একটা মজা নদী
এখানে স্মৃতি ছাড়া আর কীই'বা আছে
একটানা ধূসর রঙ ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে সমস্তরকমের
সোনালী রূপোলী স্বপ্নচারা
আর থেকে থেকে একটা আর্তনাদ ডেঙ্গুর
জ্বরের মতো মাথাচাড়া দিচ্ছে অভাবে স্বভাবে
এভাবে কতোক্ষণ ধরে রাখব নিজেকে?
কতোক্ষণ একটানা নেশা করা যায় ধূলো ধোঁয়ায়
জনপদে ফিরে শুঁকে নেওয়া যায়
চেনা মাছের গন্ধ?
জানি পারবে না তবু অপেক্ষায় থেকো ...
সে'দিনের ... যেদিন মানুষ গড়ার দুইহাতে উঠবে
ঈশ্বর ভাঙার অস্ত্র!
৩.
প্রাণপুষ্প! প্রাণপুষ্প! দরজা খোলো!
তোমার ধ্বনির রিনরিন
দলিল দস্তাবেজ ভেদ করে তাকিয়ে থাকে অপলক আমার
দু'চোখের দিকে
আমি কি তার মাগন আষাঢ়?
... জানিনা!
দরজা খোলো --- একটিবার,...
আমি মেঘমুলুকে মেঘ হয়ে
বাতাসবাড়িতে হাওয়ার ঘোরে
তিরতির বয়ে যাচ্ছি আয়ু ধরে,
তবু রাতের পিঠে রাত জমে
আরও ভালোবাসে অন্ধকার...
তার উত্তম প্রেমে বিধুর হই
ভাঙন হই আর
আলোর মতো মিশে যাই
কথকতার উপকূলে
সাঁতরে উঠে আসি তোমার
গোলোকঘরের দরজাটার কাছে!
ছিঁড়ে ফ্যালো! আরেকবার ছিঁড়ে ফ্যালো
সকল আরামের দেহলিজ
তোমার বিজনঘরে ফুটে উঠি
প্রথমবার
শেষবার
একবার
ফুলের নকশায় যতো চুম্বনের ক্ষত ____
৪.
আমি চলে গেলে কে তোমাকে ডাকবে?
কে বলবে তার মৃদুল পাখাদুটি তোমার দিকে এগিয়ে :
' আলো! একটু আলো দাও কবি!"
তাই'কি এমন প্রগাঢ় আকর্ষণে কৃষ্ণা
হয়ে উঠেছ, প্রসবের সমস্ত কলঙ্ক ভুলে আদিম হয়ে উঠেছে
তোমার লোমকূপ?
যা কিছু স্বর্গ অথবা স্বর্গাদপি গরীয়সী
রেখেছ তাদের আলোর'ও ওপারে, কীটদষ্ট?
আমি চোখ বুজলে দেখি,
শমীবৃক্ষের মতো তোমার লিঙ্গটিতে আয়ু হয়ে ফুটেছি মধ্যযামে ---
আমি চোখ বুজলে দেখি,
তোমার ত্বকের রস তুলিতে ভিজিয়ে অন্ধকার
এঁকে চলেছে মাতৃত্বের একটি উতরোল
ছবি ___
৫.
একটু একটু করে জ্বর ছাড়াই
পুড়ে যাচ্ছি আমি আর
তুমি হো হো করে হাসছ তাই দেখে
এমন উদগার!
ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে পায়ের নীচের ছায়াটুকুও
অথচ আমি অপারগ
আমি নতুন করে গলা মোমে কোনদিন
আগুন দিইনি অথবা
দাউ দাউ চিতায় পর্যাপ্ত নিরুত্তাপ
সে পথ জানলে এই বাঁধভাঙা কলধ্বনির নীচে ঠিকই খুঁজে পেতাম,
তোমার এতোকালের জমানো
শুকনো লবণাক্ত বরফখণ্ডগুলোর ঠিকানা!
****************************************************************************



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন