বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

গুচ্ছ কবিতা * গৌতম রায়




গৌতম রায় * কবিতাগুচ্ছ  

গোঁসাই বাগান


১.

লালন কুটিরে এসে বসি,

এগিয়ে এলে দোতারা

পরিখা সরে সরে যায়।

নাভিকুণ্ড থেকে জেগে ওঠে লোকগান,

টুমনি অজয় দামোদর সুর সৌরভে রূপনারায়ণ 

হয়।

চরে চরে কে করে কাঞ্চন আবাদ?

যার দীধিতিতে খোলে অমোঘ দিন।

শ্রীখোল মন্দিরা বরফ হলে 

নেমে আসে নিকষ আঁধার।


২.

জোড়া শালিকের মত জোড়া হেরিকেন অনাদি 

আলো রেখে যায়,

সে দৃশ্যমানতায় রাঙাপথে তোমাকে কুড়োই 

বাউলকবিতা,

রূপান্তরে উঠে আসে সৌরলন্ঠন।

সাঁকো পেরিয়ে এলাম

আলোহীন অন্ধকার নেই,

ফুটে থাকে সর্ষের তরুণদানা শিষ।

আয় নগরকীর্তন

পারাবত সম্মেলনে বিশ্বসংসারে ছড়াই নির্মল সম্ভব।


৩.

এবার বাউল পাতারা বসন্তের উতল হাওয়ায় নেয়নি ভূমি আসন।

এতো বারুদ আগুন বাতাসে

পলাশ পোয়াতি তবু শিশুর বৃদ্ধি আছে থমকে।

এ জরতী সময়ে আমি মেঘের কাছে যাবোঃ

হাত জোড় করে চাইবো সাধ ভক্ষণের বসন্তবৃষ্টি।


৪.

ভাদুঘরটি সাজিয়ে রাখি অতিযত্নে

শুধু টুমনির পাড়ে গোঁসাই বাগানে নয়

সারা বিশ্ব জুড়ে।

আপাত বিসর্জনের পরেও দিই না বিসর্জন,

একটি জানলা রাখি খুলে

সরস কাঁসাই শিলাবতী এসে এগিয়ে দেয় পুষ্টি,

লতিয়ে আসে পৃথিবীত্ব,

আঁকড়ে ধরি সবুজ।

ভাদু চিরকাল জেগে থাকে

জেগে থাকে আমাদের আত্মীয়তার স্নায়ু সংযোগ।


৫.

শিমুলগুলি শ্রদ্ধায় তোমার হাতে তুলে দিতেই

শিমুলিয়ানায় জেগে উঠলো ডুংরির অক্ষরমালা।

এই আরক্তিম শিমুলের অকালে শহীদ হওয়া বসন্তে

সমকোণে দাঁড়িয়ে আছে স্বাধীকার প্রতিষ্ঠার 

মাতৃভাষা।

আমি লিখি প্রণাম

লিখি সহিষ্ণুতা-----

লিখি আগ্রাসন থেকে বাংলাভাষাকে বাঁচানোর মহৎ তপোবনগুলি।


৬.

জনপদ দেবতার টেরাকোটা ঘোড়া হাতিতে চোখ ফেলি,

মানতের মান্যতা থেকে ঘোড়ীয় ঘ্রাণ আসে উঠে।

গতি পেয়ে অন্তরবাহী টুমনি ছোটে  পথে পথে,

লক্ষ্য চিহ্নিত।


৭.

এখন সত্যকে চাপা দিচ্ছে এ আই মায়াবী প্রলেপ,

এস কুনূর, এস টুমনি, ধুয়ে ফেল প্রলুব্ধ কাই,

উপত্যকায় সর্ষে গমের পাশে

সূর্যমুখী বাউল।

সত্য তো অপরাজিত

অর্জনে উঠে আসুক অজয়।



********************************************************************************



                                গৌতম রায়


কবি গৌতম রায় ত্রিশ বছরের অধিক কবিতা সৈনিক। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা পনেরোটি। তাদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য চোখের পা, জল সিন্থেসাইজার, স্থাপত্য স্টেশন, দর্শন মিনার, সাদা কলম ছাড়াই  ইত্যাদি কাব্যগ্রন্থ। "কৃত্তিবাস" থেকে "কবি সম্মেলন" ছোট বড়ো অনেক পত্র পত্রিকায় লিখে চলেছেন নিয়মিত। পেয়েছেন নানা পুরস্কার ও সম্মাননা। কবি বিশ্বাস করেন যিনি মিথ জানেন, তিনি মিথ ভাঙার সাহস দেখান। কবি পুরুলিয়ার ভূমিপুত্র ।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন