কবিতাগুচ্ছ * মনোজ বাগ
বিভূতি
ঠিক ঠিক জানলে আর কেউ বাগাড়ম্বরে যায় না।
অতিকথা , অতিশব্দ শুধুই ভার বাড়ায়, বাড়তি তর্কের ।
ব্রহ্মে চারণ করি ।
আমার জন্ম-জীবন-মৃত্যু, সবই এই ব্রহ্মে।
অর্থাৎ ঈশ্বরে ।
ঈশ্বরই সবটা জুড়ে আছেন ।
ঈশ্বরই আমার সবটা ।
মুঠো মুঠো মাটি,
মুঠো ভর্তি সোনা,
আমার সমস্ত অঙ্গ মাখা ধূল-ময়লায় ।
এই সব ধুলো-ময়লাই আমার সারা দেহের দ্যুতি।
আমার সমস্ত অঙ্গের বিভূতি ।
আহূতি
"দ্বিধা দ্বন্দ্বে জ'রে আছ !
রসে বশে হও, সব সয়ে যাবে।"
এই আত্মজ্ঞান, আত্মশুদ্ধি ,
যে খুইয়েছে -- হন্যে হয়ে খুঁজছে ।
যার আছে, নিরন্তর স্নান করছে নিজেই নিজের অগ্নিতে ।
অগ্নি-স্নাত ওই সব মানুষও --
অর্ঘ্যের মতো নিজেকে ধরে দেয় ,
সেই সেই প্রতীকের কাছে --
শাস্ত্রত যা পরমরূপ ।
আপাত একটা সমাজ ব্যবস্থায়,
আপাত বহু সংস্কারের মধ্যে থেকেও
এর-ম অজস্র আত্মবোধ সম্পন্ন মানুষ
এই মরজীবনেই জাগিয়ে রেখেছেন সেই আলো,
যা আমাদের লোক-ভাবনার অনেক ঊর্দ্ধের।
দ্রষ্টা
অরণ্য সেজে উঠছে ,
সমাজও।
অরণ্যকে সাজাচ্ছে প্রকৃতি ।
সমাজকে, মানুষ।
এই প্রকৃতি ও মানুষ একে অন্যতে ওতোপ্রোত।
একে অন্যের পরিপূরক।
আমি সাক্ষী!
যত দূর দৃষ্টি যাচ্ছে দেখছি।
ধড়ে প্রাণ থাকলে দেখছি ।
ধড়ে প্রাণ না থাকলে, আমিও
জড় পদার্থের মতো পড়ে থাকছি ।
আত্ম দর্শন
তুমি দুঃখ পাও !
আনন্দে উল্লাস করো ।
ধ্যান তন্ময় হয়ে কখনো
স্থির ও গম্ভীর হয়ে যাও দীর্ঘক্ষণ ।
স্থির দৃষ্টিতে আমি তোমাকে দেখি ।
দেখতে দেখতেই তন্ময় হয়ে যাই ।
তুমিও কী আমার মতো, আমাকে দেখে এ রকম তন্ময় হও !
তুমিও কী আমার মতো স্থির দৃষ্টিতে
আমাকে দেখো !
অভিনিবেশ জ্ঞানের অন্তরায় ।
অভিনিবেশ জ্ঞানের দরজাও ।
সমস্ত আড়াল-আবডাল ভেদ করে তবুও যত দূর দেখা যায় দেখি ।
সবার, সবটাই জেনে ফেলার বড় ইচ্ছা আমার ।
জগতের সবটাই নিজের চোখে দেখার,
নিজের কানে শোনার,
নিজে বোঝার ইচ্ছা আমার।
নিস্ক্রোমণ
তল্পিতল্পা নিয়ে কেউ এগিয়ে যাচ্ছে,
কেউ এক ঠাঁয়ে দাঁড়িয়ে আছে ঠায় ।
পরিস্থিতি জরিপ করছে আবহ ।
ঘটনার পরম্পরা একের পর এক গেঁথে রাখছে কালচক্র ।
সামগ্রিক ভাবে যা মহাজাগতিক ।
খন্ড খন্ড ভাবে সেটিই জগৎ ।
উদ্ভব আর উৎসর্জন, এ-ই শুধু আছে এর সবটুকু জুড়ে ।
কালক্ষেপের সময় একটু একটু ক'রে পার ক'রে
গড়িয়ে যাচ্ছি তবু মহানিষ্ক্রোমণে --
এখানে আর ফিরে আসা কার্যত অসম্ভব জেনেই ।
******************************************************************


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন