বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

ধারাবাহিক রহস্য রোমাঞ্চ কাহিনি * প্রভাত ভট্টাচার্য




প্রভাত ভট্টাচাৰ্য 

পর্ব * 10 

ঘটনার ঘনঘটা 


সবার মনেই চিন্তা, কি হবে। কিছু একটা তো ঘটতে যাচ্ছেই দু একদিনের মধ্যে । 

 সেদিন অজয় সবাইকে তলব করল সামনের চত্বরে এসে জড়ো হওয়ার জন্য। সবাই  এসে হাজির হল। 

 কাল থেকে আমাদের অ্যাকশন শুরু হবে। অজয় বলে উঠলো। 

 একটা গুঞ্জন উঠলো সকলের মধ্যে । 

  কি করতে হবে আমাদের? বলে উঠলো  রমেশ। 

     কাছেই যে গ্রামটা রয়েছে ,সেখানে আমরা আক্রমণ চালাবো, আর ওই  গ্রাম আমাদের অধীনে আনবো। তারপরে আরও অন্যান্য এলাকা।  এইভাবেই ছুটে চলবে আমাদের বিজয়রথ। ঠিক আছে ?

     হ্যাঁ রাজামশাই। বলে উঠলো সকলে । কিন্ত তাদের মনের মাঝে জমে উঠেছে শঙ্কার কালো মেঘ।

    খালি অতীশের মুখে হাসি। 

    এ তো পাগল । মনে মনে ভাবল আবদুল। 

   আজ থেকেই তাহলে অ্যাকশন শুরু হল। অজয় বলে উঠল। 

    গ্রেট! কে বলে উঠলো উচ্চস্বরে । সঙ্গে হা হা রবে অট্টহাসি। 

     বিস্ময়ের দমক কাটলে অজয় দেখল, সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে একজন, হাতে উদ্যত পিস্তল। তার সাথে আরও কয়েকজন বন্দুকধারী, আর এক অতিকায় চেহারার অর্ধমানব। 

     আমি হলাম অশোক, আজ থেকে সম্রাট অশোক, আর তোমরা সবাই আজ থেকে আমার গোলাম।  আর তুমি রাজামশাই  ! তুমিও গোলাম আজ থেকে । আমাদের হাতে অস্ত্র তো আছেই, আর ঐ যে দেখছো, ও হচ্ছে সুপাররোবট, ওকে সিগন্যাল দিলেই তোমাদের আক্রমণ করবে। এই, তোমরা ওদের থেকে সব অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নাও তো ।

    তার অনুচররা তাই করলো ।

    অজয় ভাবছে, কি থেকে কি হয়ে গেল। হঠাৎ করে এই অশোক কোথা থেকে চলে এলো। 

    তার  দিকে চেয়ে অশোক হাসিমুখে বলল, ভাবছ এসব কি হল। সব পরিষ্কার করে দিচ্ছি। আমি কিছুদিন ধরেই জঙ্গলে ঘাঁটি গেড়ে ছিলাম আর তোমাদের গতিবিধি লক্ষ করছিলাম। জানলে খুশি হবে, আমি একজন সায়েনন্টিস্ট । তোমার কাকার অ্যাসিস্ট্যান্ট ছিলাম আমি। কিন্ত তুমি হঠাৎ উড়ে এসে জুড়ে বসলে। যাই হোক, আমি কোনভাবে অনেক টাকাপয়সা পেয়ে যাই আর নিজের ল্যাবরেটরি বানাই। এই সুপাররোবট আমারই তৈরি ।এ একাই পাঁচশো লোকের মহড়া নিতে পারে। এর শরীর থেকে বুলেট, বর্ষা সব বেরোতে পারে প্রয়োজনে। তোমার খোঁজখবর আমি সবই পাচ্ছিলাম শার্দুলের মারফত। 

    শার্দুল  ! বিশ্বাসঘাতক  ! বলে উঠল অজয়। 

   শার্দুলের মুখে এক অদ্ভুত হাসি। 

   কি আর করা যাবে। বলল অশোক। আর আমার এই সুপাররোবটও অনেক কিছু রেকর্ড করে নেয়।  আজ থেকে তাহলে সবকিছুই আমার দখলে। আর আমিই সব রাজ্য জয় করবো। এই যে অতীশবাবু, আপনার অস্ত্র আমিই কাজে লাগাবো। আজ আর হবে না, কাল থেকে কাজ শুরু হবে। 

    ঠিক  আছে, আপনি যেরকম বলবেন। সুমিত বলল।

এখন যাও, সবাই যে যার ঘরে চলে যাও।  সবাই বিনা বাক্যব্যয়ে সে আদেশ পালন করল। সুমিত অতীশের সঙ্গে তার ঘরেই ঢুকলো। তার মুখের দিকে হাসিমুখে চেয়ে রইল অতীশ। 

    সেই সময় শার্দুল ঘরে ঢুকে এসে বলল, চলো তোমরা। সম্রাট তলব করেছেন। 

    তুমি তো কামাল করে দিয়েছো । অজয়কে বোকা বানিয়ে একেবারে অন্য নৌকোয়। 

    তাড়াতাড়ি চলো, আর বাজে বকতে হবে না। নয়তো ঘাড় ধরে নিয়ে যাবো। 

    দুজনে চললো শার্দুলের সাথে। শার্দুল তাদের ল্যাবে নিয়ে এলো।  সেখানে অশোক বসেছিল। 

    এই যে ,এসে গেছো। এখন আমাকে তোমার নতুন আবিষ্কারের ব্যাপারটা বুঝিয়ে দাও তো। বলল সে। 

    বলছি। এসব গোপনীয় ব্যাপার। আর কেউ নেই তো। 

    আর কেউ নেই। তোমার সাবধানতায় খুশি হলাম। তোমাকে আমার মন্ত্রী করে নেবো। এখন বলো। 

    হঠাৎ করেই সুমিত অশোকের গায়ে পড়ে গেল। 

    ইডিয়ট! বলে উঠল অশোক। 

    কিন্ত তারপরই তার গালে নেমে এল সজোরে থাপ্পড় আর পাঁজরায় মারাত্মক ঘুষি। আর তার পিস্তল 

   সুমিতের হাতে। 

    এদিকে অতীশ পা বাড়িয়ে ভূপতিত করেছে শার্দুলকে। তারপর মারের পর মার। 

    দুজনেই কাবু। 

    কিরে, ঘাড় ধরে নিয়ে যাবি না  ! গুলি খাবি না কি! শার্দুলের দিকে বন্দুক উঁচিয়ে বলল সুমিত। 

    বাইরে আমার লোক আছে। তোমাদের ব্যবস্থা করবে। অশোক বলল। 

    তাদের ব্যবস্থাই হয়ে গেছে এতক্ষণে । অতীশ বলল। 

    মানে  ? 

    সিগন্যাল দিয়ে দিয়েছিলাম। পুলিশের লোক এসে গেছে নিশ্চয়ই। 

    কে তোমরা  ? 

    আমি হলাম ডিটেকটিভ সূর্য। 

    আর আমি হলাম অনুজ, ক্রাইম ব্রাঞ্চের অফিসার। 

     অশোক ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইল। 

      শার্দুল উঠে অতীশকে আক্রমণ করতে যাচ্ছিল,  সুমিত ওরফে সুরজ তার পায়ে গুলি করল। সে        আর্তনাদ করে মাটিতে পড়ে গেল। 

    দেখলে তো  ? চুপচাপ শুয়ে থাকো। এবারে কিন্ত এদিক ওদিক হলে একেবারে বুকে গুলি করবো। বলে উঠল সুরজ। 

    আমি বাইরে গিয়ে দেখে আসি। সূর্য বলল। 

    পুলিশ এসে ইতিমধ্যেই পুরো জায়গার দখল নিয়ে নিয়েছে।

    সূর্যকে দেখেই একজন অফিসার বলে উঠলেন, স্যার, আমি আমজাদ , আপনার সিগন্যাল পেতেই টীম নিয়ে চলে এসেছি । সবাইকে আটকে রাখা হয়েছে ,আর সব আর্মস আমাদের হেফাজতে। 

    গ্রেট জব। আরো দুজন আছে ভেতরে। ওদেরও হেফাজতে নিতে হবে ।

    ও কে স্যার।  

    কিন্ত আপনি আমাকে চিনলেন কিভাবে?

    আপনার অরিজিনাল আর এই ছবি আমাকে দেওয়া হয়েছিল। 

     অশোক আর শার্দুলকেও অ্যারেস্ট করা হল। 

     সম্রাট অশোক দেখছি ভীষণ ক্রুদ্ধ হয়েছেন। বলল সূর্য।

     অজয়ের সঙ্গেও দেখা করে সূর্য বলল, কেমন আছেন রাজামশাই?

    তুমি আসলে কে?

    ডিটেকটিভ সূর্য নামেই সবাই জানে আমাকে। 

    সবাই দেখছি বিশ্বাসঘাতক। 

    কি আর করা যাবে। তোমরা যা সর্বনাশা কাজ করতে যাচ্ছিলে, তাতে তোমাদের রোখার জন্য এসব করতেই হয়েছে । যাক,  এবারে যাও কারাগার প্রাসাদে।


আজ  ফেরা কলকাতায়। একফাঁকে একটু দিল্লিটা ঘুরে নিলে হত, কিন্ত একা একা আর ভালো লাগছে না। কৃষ্ণকে ছাড়া অভিযান তো বড় একটা হয় না। 

    আজ ভীষণ অলস লাগছে সূর্যের। বিছানা ছেড়ে আর উঠতেই ইচ্ছে করছে না। ঘরেই ব্রেকফাস্ট দিতে বলে দিল সে। 

   একটু পরেই বেল বাজল। 

    অনুজ এসেছে। 

    গুড মর্নিং। 

    গুড মর্নিং। এই একটু দেখা করতে এলাম। 

    দুজনে খানিকক্ষণ কথাবার্তা হল। 

    কলকাতায় এলে আমার বাড়িতে আসবেন। 

   অবশ্যই। ফোন করে নেবো। আমি আগে গিয়েছি কলকাতায়  ।

   আপনার বাড়ি কোথায়?

   বিহারের গয়াতে। । 

   বিখ্যাত জায়গা। 

   গেলে আমাকে বলবেন। 

   ঠিক আছে। 

   আর আপনার এই বিরাট কাজের জন্য আপনি পুরস্কার পাচ্ছেন, আমি জানতে পারলাম। 

   একটু পরে সে বিদায় নিল। 

   এর মধ্যে কৃষ্ণ, উজ্জ্বয়িনী ,দুজনেরই ফোন করা হয়ে গেছে। 

   প্লেনে বসে একটু ঘুম পেয়ে গিয়েছিল। 

   কলকাতায় এয়ারপোর্টে কৃষ্ণ আর উজ্জ্বয়িনী এসেছিল তাকে নিয়ে যেতে। 

    গাড়ি চালাতে চালাতে কৃষ্ণ বলল, আজ আমি নিজে রান্না করেছি। 

    বাঃ, তাই নাকি! বলে উঠল সূর্য। আজ তাহলে জমিয়ে আড্ডা হবে।




 আগামী পর্বে 

************************************"**************************************************************




প্রভাত ভট্টাচার্য  

তিনি সব্যসাচী--- এক হাতে সামলান চিকিৎসকের গুরুভার দায়িত্ব আর এক হাতে ফোটান সাহিত্য সৃষ্টির ফুল। দ্য হার্ট, মিশন পসিবল, মাই ডটার, রাজবাড়িতে রক্তপাত , ডিটেক্টিভ সূর্য এবং কবিতা সংকলন - কাগজের মানুষ এবং ফিনিক্স পাখি তাঁর উজ্জ্বল সাহিত্যসৃষ্টি সম্প্রতি প্রকাশিত তাঁর  তিনটি ভিন্ন ধরনের উপন্যাস - দশভুজা, কাগজের মানুষ ও মায়াবী গ্রাম। এছাড়াও তাঁর আর একটি মনভোলানো সৃষ্টি 'গুহা মানবের ডায়েরি'  




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন