বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

কেতকী বসু

 




কেতকী বসু * দুটি কবিতা 

দাবানল 



পাশের ঘরে আলো নিভে যাওয়ার পর
আমি খুলে রাখি সমস্ত দরজা 
লাল নীল সবুজের আলো এসে পড়ে আমার ঘরে
চকমকি আলোয় দুচোখ বন্ধ হয়ে আসে
আলোর তীব্রতায় হারিয়ে ফেলি নিজের ঠিকানা
সময় গুলো পার হয়ে যায় আমার অজান্তে
একটা ভুল সময়ের সাথে সময় কাটার পর
অপেক্ষা করি নিজের ঘরে আলো জ্বলার
জানতে চেষ্টা করি আলোর উৎস

প্রচুর জল এনে নেভানোর পর 
জানতে পারি দাবানলে পুড়ছে সবকিছু
মায়া হয় গাছ পশু আর পাখিদের জন্য
আপন নিয়মে বেড়ে ওঠা গাছেদের কথা
শুনেছিলাম কোনো এক কাঠুরিয়ার কাছে
কিন্তু দাবানলে সব কিছু আজ
শেষ হয়ে যাচ্ছে নিমেষে চোখের সামনে।

















বিকেলের ফুল


দল বেঁধে আলোর ঠিকানা খুঁজতে গেলে 
গোল বাঁধে হাজার ঝামেলার 
উঁচু নিচু ছোট বড় হাজার গন্ডি পেরিয়ে 
আলো খুঁজে পেলেও কম হয় আন্তরিকতায় 
অজস্ৰ চিন্তার ভাঁজ ফুটে ওঠে চোখে মুখে 
কপালের রেখা গুলো বলে দেয় সময় শেষ হচ্ছে 
মুছে যাচ্ছে ভালো মন্দের হিসেব 
হৃদয় তন্ত্রীতে তখন গুন গুন স্বর বাজে
নিয়ম অনিয়মের সথে স্বক্ষতা না থাকলে 
দক্ষতা অর্জন করা ব্যর্থতা ছাড়া কিছুই নয় 
এসব এখন স্বচ্ছতার সাথে বহুল প্রচারিত 

সময়ের কড়া অনুশাসন ঘিরে থাকে অতন্দ্র প্রহরায়
ছিন্ন হয় মানবতা নৈতিকতা এমনকি শালীনতাও
ঘুরে দাঁড়াতে গিয়ে যে কজন আজ বন্দি 
তারাও জেনে যাবে কেন বড় গাড়িটা চাপা দিয়েছিল  কোন এক শিল্পীর গাড়িকে
আর তার বুকের ওপর লেখা ছিল হাজার কবিতা।





**************************************************************************************************************




                             কেতকী বসু


জন্ম ১৮ ডিসেম্বর কালিংপঙ্ক এর পাহাড়ি অঞ্চলে,
ছোট বেলা থেকে গান শেখা পরে এলাহাবাদ সঙ্গীত পরিষদ থেকে ডিপ্লোমা। এবং কলা বিভাগে স্নাতক 
সাথে সাথে ডাইরি লেখা ও পরে ছোট বড় পত্রিকায় প্রকাশ।২০১২ তে সানন্দা পত্রিকায় পর পর লেখা প্রকাশিত হয় বিতর্ক বিভাগে।এবং সানন্দা নিহার নিচেরাল এওয়ার্ড সম্মানে ভুষিত হওয়া আমার লেখা লেখির জীবনে বড় প্রাপ্তি, বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও লিটিল ম্যাগাজিনে নিয়মিত লেখালিখি।বর্তমানে আমার চারটি কাব্যগ্রন্থ, অলিন্দের কহতব্য, স্পর্শের সংকেত ও ঘুমাভাঙ্গা মেঘ, জাতিস্মরের আত্মকথা। 






কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন