সব স্তব্ধ
প্রদীপকুমার দে
রাত প্রায় শেষ। নিঝুম অন্ধকার!
কোন আওয়াজ নেই। শুধু কাকেরা জাগছে। কুকুরের আর্তনাদ থেমে গেছে।
হিমাংশু ঘুমাচ্ছে শান্তিতে।
অরুনিমা হতাশ। হিমাংশুর ঘুম ভাঙলে সে চা বানাবে, তারপর দুজনে গল্প করে .....
-- কিগো আর কত ঘুমাবে? এবার উঠে পড়ো?
-- ধ্যুৎ, এ যে আর উঠবে না?
-- কি করি? না আমি চা বানিয়ে ফেলি।
-- কিগো? চা হয়ে গেছে উঠে এসো?
-- হ্যাঁগো একি ঘুম তোমার? ভালবাসা তোমায় ডাকছে যে?
-- তাহলে কি বিছানায় চা দিয়ে আসব?
-- ওগো আমি যে তোমায় খুব ভালবাসি যে , এসোনা পাশাপাশি বসি, গল্প করি, আমায় তুমি আদর কর?
-- তুমি কি রাগ করেছ? গতকাল রাতের ঘটনার পর...
ডোর বেল বেজে ওঠে,
সন্ত্রস্ত অনামিকা ভয় পায়, দরজা খোলে না,
-- কে মালতি? না আজ আর তোকে কোন কাজ করতে হবে না। আজ আমি আর স্কুল যাব না, অফিস ছুটি নিয়েছি, সব কাজ একাই করে নেব, আজ তোর ছুটি!
কাঁপতে থাকে অনামিকা। মোবাইল বেজে ওঠে। সুখের কলি, আজ বড় বেমানান। মোবাইল তুলে নেয়,
-- হ্যালো, কে ? থানা থেকে? প্রতিবেশীরা অভিযোগ জানিয়েছে, আমার ঘর থেকে দুর্ঘন্ধ বের হচ্ছে? মৃতদেহ? বিশ্বাস করুন সব মিথ্যে কথা। প্রতিবেশীরা হিংসা করে, ওরা আমাদের ভালবাসা দেখে হিংসা করে তাই!
আমাদের ভালবাসা কেউ মারতে পারবে না। সন্দেহ ঝগড়া মারামারি আমাদের মধ্যে সব হয় কিন্তু আমরা আবার শান্তও হয়ে যাই। গতকাল রাতে হয়েওছিল কিন্তু এখন সব শান্ত! এবার আমিও শান্তিতে ঘুমিয়ে পড়তেই চাই, পড়বোও!
*******************************************************************************
প্রদীপ কুমার দে


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন