যুগল কিশোর দাস অধিকারী
একলা চলা
পায়ে পায়ে এসেছি ডিঙিয়ে আসমুদ্র হিমাচল,
দেখেছি অনেক জন, সৎ, অসৎ, সবল, দূর্বল।
বিঁধেছে বিষের কাঁটা, সব গেছে মরমে যে সয়ে,
অনেক গোপন ব্যথা , যত্ন করে রেখেছি হৃদয়ে।
জিতেছি যত, ঠকেছি তারও আরো বেশি ,
যতদিন বাঁচি, ততদিন শিখি।
নিজেকে যে চালাক ভাবে, সেই বেশি বোকা,
অনন্ত পথের যাত্রী, তাই আমি চলেছি যে একা।
কে যে ভালো, কে যে মন্দ, সবই ঠেকে শিখি,
এখন বুঝতে পারি, জীবনের বেশিটাই ফাঁকি ।
বিশ্বজয়ী নারী
যুগল কিশোর দাস অধিকারী
চিল চিৎকার বাজির আওয়াজে ঘরে কানপাতা দায়,
ঝাঁন্ডা উঁচিয়ে ছুটছে ওরা, করেছে বিশ্বজয়।
কন্যা ভ্রূণহত্যা, পদে পদে গড়া কড়া নিষেধের গণ্ডি,
পণ না পেলে পুড়িয়ে মার - তারা আজ রণচন্ডি।
সন্তান প্রজননের মেশিন বানিয়ে, রেখোনা আঁতুড় ঘরে,
অবগুণ্ঠনে ঢেকে কতদিন রবে নীরবে রসুইঘরে?
শক্তি শুধু পুরুষের না, ওরা সব কাজই পারে,
নানা অছিলায় কেন তবু তারে বেঁধে রাখ অন্তঃপুরে?
শিরোপার মুকুট পরেনি তারা এমন কোন কাজ নাই,
পুরুষতন্ত্রে আঘাত লাগে? তাই সব কাজে মত নাই!
সৌরভ, ঝুলন যা পরেনি, পেরেছে তা রিচাশর্মা,
ক্রান্তি, শ্রীচরনি, রেনুকা, অমন - ওরা আজ বিশ্বকর্মা।
শেফালী, স্মৃতি, হারমনপ্রীত, জেমিমা, দীপ্তি, রাধা,
অশ্রুঘাম পরিশ্রমে, পেরিয়েছে সব বাধা।
রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের শেষে অমল ও হেসেছে হাসি,
বহুউপেক্ষা বহু বঞ্চনার জবাবে বেজেছে বাঁশি।
কিছু গল্প ভাগ্য নিজেই লিখে দিয়েছে আজ উত্তর,
হারনি তুমি, হারোনি তুমি, অমল মজুমদার!
*********************************************************************************************************************




কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন