কবিতাগুচ্ছ * রূপক চট্টোপাধ্যায়
শৈত সম্পর্কে
১)
শীত কথার আড়ালে বসে আগুন পোহাচ্ছে
গরিব সাঁঝবাতি। ইতিউতি শ্যামাপোকা,
মাঙ্গলিক শাঁখের ধ্বনিতে জল ছেড়ে
ডাঙায় উঠলো গোটা ছয় হাঁস, অস্তরাগ আঁকা
যুবতিরর মতো বুকে রসের হাঁড়ি নিয়
ঠায় দাঁড়িয়ে একরোখা খেজুর, অদূরের দিগন্তে
কুয়াশার খ্যাপলা জাল ফেলেছে রাত্রি পুরুষ!
এসব গল্প ফুরিয়ে এলেই
ডাইরি বন্ধ করি। চুপচাপ বসে দেখি
শহর মেতে আছে বিপননের উষ্ণ পশমে!
২)
শীত টহল দিচ্ছে।
আধবুড়ো স্ট্রিট লাইট কুয়াশার ভেতর নগার কনাই
খাদ্য জালে ডেকে আনছে শ্যামা পোকাদের দল!
এতো মলিন হলো মেধা ও বিছানা
তবুও জোনাকি সম্ভবা রাত্রি
এসো চুম্বনের আগে হৈমবতী হও!
ধানের গন্ধ খুঁজে খুঁজে কবেই মাঠের লালন
চলে গ্যাছে তাঁবু ফেলে। গান পড়ে আছে হিমাঙ্ক ছুঁয়ে।
একটা নির্জন দীর্ঘ নদী বুকে নিয়ে
বসে আছি, স্মৃতি শূন্য স্টেশন।
শৈত সম্পর্ক কেটে গেলে
একটা বাসন্তীরঙ ট্রেন আসবে বলে গ্যাছে কেউ!
৩)
এই যে নগ্ন মাঠের পাশে কিষাণের পৌষালী ছায়া
দীর্ঘ হয়ে এলো। আমি তার ঘন শ্বাসের পাশে বসে
গুল্ম হয়ে আসি। আগাছায় হিম জমে
কান্না চাপা পড়ে, নদীও শীর্ণকায় দেহে
আমাদের দুজনকে দেখে
মৃত মাছের চোখে।
যেন দুইজন হিমায়িত জাহাজ
যেন দুইজন মিশরীয় সান্ধ্য শান্তনা!
চরাচরে ক্লিওপেট্রা হেঁটে যায় তার সুগন্ধ আসে।
৪)
আর কতটা শৈত্যে রাখবে
এই দূরত্ব প্রহর। আর কতো রঙিন জ্বর।
এইতো চাঁদের গায়ে পশমের উপশম,
এই ডামাডোল খেলায়, দু ফোঁটা ডিসেম্বর।
অসমাপ্ত সম্পর্কে পিঠে রোদের আঁশ জ্বলে,
হিমে আঁকা ঘাসের উপর মন খারাপের তাঁবু।
শেষ ফোন কবে এসেছিলো? অশ্রুপাত?
মনে আছে? পাখি হয়ে পালক ফেলেছো কভু?
এখন রোজ শীতের পালক কুড়াই, আগুন করে
সাজিয়ে রাখি আমাদের হাড়ে ও পাঞ্জরে।
কত্তো রোগা হয়ে গেছো তুমি! ও কথা থাক
এই উত্তুরে হাওয়ায় উড়ন্ত হৃদয়, ভূমধ্যসাগরে...
আর কিছু বলবে না? না সব তো হিম হলো
ডেকে নাও তোমার জাহাজ, নীল জল।
আমার ম্যাপেল পাতায় বয়স ফুরাবে ঠিক
সব কবিতাই ছো মেরে গাঙচিল নিয়ে গ্যালো!
********************************************************************************



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন