কবিতাগুচ্ছ * গৌতম রায়
বরং নিজের আয়নার কাছে
যেখানে যা পাই প্রো-ব্যাগে রাখি।
সূর্য মধ্য গগনে এলে টাইটানিক পোজে.দেওয়ালের মাথায় দাঁড়াই।
দুর্গের পরিখাজলে পড়ে না ছায়া।
আমি কী ইতিহাস ছুঁয়ে ভেলোর ফোর্টের কামান হবো?
বরং নিজের আয়নার কাছে এগিয়ে আসি।
নেই গোলা, নেই বারুদ ঘ্রাণ,
আছে মনোহারি হৃদয়গন্ধ।
চিল ওড়ে ,কাক ওড়ে
ওড়ে কিউমুলাস
রক্ত ঝরায় না কেউ।
একটি বৃষ্টিঘন মুহূর্তের জন্য
প্রতীক্ষায় প্রস্তরিত দেওয়াল বাঁধি।
তুমি কী আসবে পাশে
ওপার থেকে ধরিয়ে দেবে মশলা ?
পরিখার জল বাড়লেও
ঋতুচারাটি বেড়ে উঠুক আমাদের পবিত্র অপরাধে।
নাবিকীয় আশয়
গঙ্গাতীরে ব্যাঙ্কুয়েট হল,
কোলাহলহীন কোলাহলে
ভরে যাচ্ছে নিজস্বী সংসার।
একদিকে নারকেল পাতা
অন্যদিকে মাদারের প্রশাখা
মুখে মুখে ঝরে পড়ছে লগ্স্।
কপালে দ্রাঘিমার চাঁদ থেকে
ঝরে পড়ছে আতীব্র দহনের চন্দ্রিকা,
একে গঙ্গা বলে
বলে গতি।
মৃত্তিকা মেহনে জেগে থাকে রাত,
জেগে থাকে পৃথিবী।
তুমি বাড়িয়ে দিয়েছো আবিষ্ট কপাল
যেখানে ধ্রুব টিপের নাবিকীয় আশয়।
একটি তীর আঁকতে আঁকতে
একটি তীর আঁকতে আঁকতে নিজের কাছে এসে দাঁড়াই,
এটাই দিগন্ত, এটাই নন্দীকুণ্ড
এখানেই ফোটে ব্রহ্মকমল ।
এখানে জ্যোতিষ্ক চূর্ণের প্রস্ফূটনের সাথে জ্যোতিষ্ক মণ্ডলের
হয় আলিঙ্গন।
আলো চলতে চলতে দৃষ্টিপথের বাইরে কোথাও করে
আত্মগোপন,
আমার অস্তিত্ব মিশে যায় গঙ্গা হয়ে সাগরের সাথে।
প্রতীক্ষার প্রহর গুণি
আবার কখন হবে সৃজন উৎসব
আবার কখন ফুটবে নতুন ব্রহ্মকমল
ব্রহ্মত্বে আমিও ধরে রাখি ব্রহ্মমণ্ডল।
আমার ধীর প্রতীক্ষার নাম
স্পিডবোটে জলপথ ম্যানগ্রোভ কুমির অতিক্রম করে
বারাটাং পৌঁছালাম,
দারুচিনি জয়ত্রী জায়ফলের পাশে আমার ছোট্ট পৃথিবী,
তাও অতিক্রম করে স্ট্যালেকটাইট স্ট্যালেকমাইট গুহায
কলম গেল থেমে।
সাপের হিস হিস শব্দ বাজে বুকপকেটে। দরজা বন্ধ জিপার
আটকে পড়ার গন্ধ,
ঘাম ঝরে পড়ছে পাতালপানি জলপ্রপাতে।
তুমি আসছো না হোয়াটসঅ্যাপ ম্যাসেঞ্জারে,
অবশেষে পাঠালে হৃদয় কেক।
সব ব্লকেজ গেল খুলে–
এক গ্লাস লেবুসরবত
সব ঘাম পাখি হয়ে গেল উড়ে।
আমার বারাটাং জুড়ে কলতান,
গাছের ছায়া আমার চৈতন্য
আমার ধীর প্রতীক্ষার নাম।
**************************************************************************
গৌতম রায়
পেশায় উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত। পুরুলিয়ার ভূমিপুত্র, বর্তমানে দুর্গাপুরের বাসিন্দা। নয়ের দশক থেকে লেখা লেখি শুরু। ১৩টি কাব্যগ্রন্থের স্রষ্টা। তিন দশকের বেশি কাব্যচর্চা। বহু পুরস্কার এবং সম্মানে সম্মানিত। প্রচলিত মিথ থেকে এগিয়ে গিয়ে কবিতা লেখা যাঁর রক্তে নাড়িতে স্নায়ুতে।



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন