কবিতাগুচ্ছ * দীপংকর রায়
যে ক্ষত দৃশ্যমান নয়
৭.
এতবার পুড়লে
তবুও জ্বলে ওঠা প্রিয় সুখ
গেল না তোমার ।
কাঁদো , কাঁদো আরো
কান্নায় ভিজে দাঁড়াতে পারো যদি , জানবো বিশুদ্ধ রক্তে বিমর্ষ সেই আকৃতির
জন্মও তোমার ;
বাকিটুকু গড়িয়ে গেছে যে পায়
তাদের জন্ম অভিশাপ
চেনেনি কখনো ;
সময় থাকতে জানো
কাকে দিয়েছ তুমি অঞ্জলী
অর্ঘ তোমার পড়েছে কোন দেবতার পায়?
কোন অভিশাপে কলঙ্কিত যে জন্ম আজও ;
নাচো কাঁদো গাও যতোই
নিঃসঙ্গতাই একমাত্র সঙ্গী তোমার।
৮.
যেখানে নদী সমুদ্র ঝর্ণা
কিছুই নেই
সেখানে গভীরতা মাপতে চেয়ে কী হবে ?
কেনোই বা ক্ষয় করা এত পাথর ?
ধুলায় গড়িয়ে তার চেয়ে
একটি চড়াই পাখির
স্নানের আনন্দ মাখি শরীরে ।
রক্তে ঝর্ণা নামে যখন
সেই গর্ভের মুখে ঠোঁট রেখে
ভুলে যাই দুই হাঁটুর মাঝে
কে কত উঁকি ঝুঁকি দিয়ে পাহাড়ি নদীর স্রোত দেখাতে চেয়েছিল তাকে, ওগো ঝরা পাতা
পোড়াও যতোই চৈত্রের আগুনে
বুঝতে দেবো না তাও
কেন কুসুম তলে ডেকে নিয়েছিলাম তাকে
দূরত্বে কান্না ছিলো শুধুই...
নাকি চোখের আগুনে
রাখতে চেয়েছি নদী সমুদ্র ছুঁইয়ে কিছুক্ষণ ?
সে কথা যদি বুঝতো সে
ধন্য হতো সকল স্রোতের
বয়ে যাওয়া আগুন
দিনের অন্তরঙ্গ কথায় ;
৯.
রাস্তা দুদিকে
থমকে আছি দাঁড়িয়ে,
একটি হাত বারবার পেছনে,
নির্ভরতা চাইছে
ফিরে দেখি
কই , কেউ তো নেই !
রাস্তা দুদিকে
এত দূর মিলিয়ে গেছে শূন্যে .....
আকাশ ঘোর কালো মেঘে
ছেয়ে আছে,
মাঝখানে ছুটে চলা দ্রুত যানের চিৎকার ;
কত পথিক এভাবেই থমকে থাকে ,
কোনো খোঁজ রাখে না
নগর তার ।
১০.
সব অসম্মানের নিদৃষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না ।
কিছু কিছু এতটাই গোপন
কিছু কিছু আত্মদহণেই মুক্তি খোঁজে
ঘুরেফিরে দেখা দেয় কত
অমানবিক মুখ
তাথ চেয়ে অসহায়তা আর কিছুতে নেই ;
সত্যিই কি নেই ?
ভুলে যাওয়া যায় সেইসব দুর্বল মুহূর্ত ?
কেন ভাবতে পারি না
জীবনের সব অর্থ মুছে যেতে পারে এমন কিছু কিছু ভুলে
বারবার....
এক একটা ছদ্মবেশ এতটাই আত্ম হন্তারক
নানা বিষদৃশ্য উপস্থিতি দিয়ে চিনতে বাধ্য করে;
১১.
মৃত্যুর কাছে দাঁড় করাও সামনাসামনি যদি
বলবো, আজকের ছায়ায়
চেয়ে দেখো
কীভাবে প্রবেশ করছে অনুভবের রোদ ;
পায়ের পাতায়
যে ক্ষত উপুর করেছিলো মেরুদন্ড
সে তো সহানুভূতির যন্ত্রণা;
কে সে কথা অস্বীকার করছে ?
করেনি বলেই কি আজ উচ্ছৃঙ্খল দিন ?
করেনি বলেই কিছুটা যেন উন্মাদ হয়েছিলো ড্যামের কিনার
পারে নি ছায়া দিতে
নিতেও পারেনি উৎসর্গ
গড়িয়েছে এতটাই উচচ্ছ্বাসী রক্ত
চোখ মেলে চেয়ে দেখেনি একটিবারও কেউ ;
সবটা উজাড় করে কোঁকিয়ে উঠছিলো তবুও একটি মুহূর্ত;
পথে পথে উন্মাদ হাতড়ে ফেরে যখন বিশুদ্ধ চোখ
প্রকৃত দেখাকে দেখেনি যারা
তাঁদের ভেতরেই ঘুরে মরে
সারা পথ কে ছিলো ?
কে ভাবিয়ে ছিলো শাল জঙ্গলের বনে বনে
একাকী রোদের মতো ?
সারাটি পথ
কতবার পথের বিপরীতে
খন্ড খন্ড হলো, পেলো না
একটুখানি স্বীকারোক্তি
শুধু শুধুই গান ভাসলো
একাকী নীরবে ;
সব জানে সে-ই
যে চেয়েছিলো আজকের আয়োজনে সবটুকু আহুতি
সাজানো প্রদীপ জ্বলে গেল
শুধু শুধুই ----
খালি খালি সবটাই !
জন্মদিন এলো না কারো ।
*********************************************************************


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন