বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫

গুচ্ছ কবিতা * স্বপন নাথ





কবিতাগুচ্ছ * স্বপন নাথ

           

একটু ভাব

গাছে ফুল এলো তো ফুলই সব।

গাছ যেন কিছু না - - -


কোন বনে হরিলো রে মন !

কে পালক দেখালো আলোক ?


একটু ভাব। তলা খুঁড়ে খরা কাটা ।

একটু জল আদর দে। একটু আকাশ পাইয়ে রাখ। 

তবে না সৌরভ পাত্র টপকাবে ! 

বৃত্ত বাড়িয়ে নেবে । কৃষ্টি যতটা চায়।


তা না - - -। পাপড়ি  মেলবার আগেই ফুল এই । 

ফুল ওই। ফুল সেই। ফুল- - - ফুল - - -ফুল- - -

কথা হারিয়ে যায়।


কথা অবাঙমনসগোচর। 

যেন উপচে পড়ার মতো কিছু একটা অথৈই অনন্তর। 

ভাপ উঠে যায়।


ভাপ উঠে ভাপ উঠে ফোঁড়ন ঝাঁঝ।

চোখে জল চলে আসে। কোথা পাসরে এত ভাব !

একটু ভাব - - -




টবের মানুষ


টবের মধ্যে যত্নে ছিল মাটি

রোদে জলে ঊর্বরা দস্তুর

এবার সবুজ মেলে ধরবে হইহই

জয় পতাকা উদ্ভাস নিশ্চিত ।


হঠাৎ হাওয়ায় ককিয়ে ওঠে পক্ষী

মধ্যে আগুন লাগিয়েছে এক যক্ষী

অরণ্য তার গহীন গোপন ব'ক্ষে

দৃশ্য দূষণ লিখছে প্ল্যাকার্ড বনসাই ।


মাথায় ছোটো বহরে বেড়ে দুচ্ছাই

আমরা যারা মনের টবে অল্প

জল ধরেছি ; আকাশও পাই সল্প 

দৃশ্য দূষণ লিখবো নাকি বনসাই !


টবের মানুষ সবুজ ছোঁয়া আঁশ

টবে টবে সংহত সব গাছ

অকথিত জ্ঞানের গল্পে ডাঁই

টবের মানুষ চাষ করে বনসাই - - -।



প্রভুভক্তি


কি অদ্ভুত প্রভুভক্তি এই বাংলায় !

দেখি , গোসাবা বাংলোয় হ্যামিলটনের পল্লী নীতি

ফুটো বাটি ফুঁড়ে চমকায়।


ক্লীশে দেয়। ধর্ম পাল্টেও অনুন্নয়ণ !

গরিব গুর্বোগুলোর কপাল ওঠে না।


পর্যটক যারা আসে,দু-পয়সা দেয় ;

মরশুমি ফুলের শোভন পায় নোনাভাঙা দেওয়াল।

মাঝে কারো রস হয়। গুড় হয়। 

কেউ মধু বেচে।

হ্যামিলটনের জীর্ণ স্মারকে মাথা কোটে।


গোসাবা পার হয়ে তরী যায় তটে,

কিছু বাণিজ্য হয়।

ধর্মের কলোনী কঙ্কালে ধর্মান্তকরণের মর্চে ওঠে।

সওয়দা বিহীন বাংলো চুপ।

গুড় খাওয়া ধর্ম বদল হয় না খাঁড়ি পথে।


যারা চলে গেছে বুকে নদী পেতে 

সমুদ্রে ফিরতে চায় যারা

সোঁদরবনের সোঁদা আঁশজল সূর্যাস্তের রঙ গুলে দেয় চোখে।


ঘরওয়াপসি নিয়ে দু-কথা চার কথা তেরেছা গজাল পুঁতে

 রাখে। 

রাজনীতি ,রংনীতি হয়ে চিন্তার ভাঁজ দেয়।

বলে , ঠিক আছে । সব ঠিক আছে - - - 



পোড়াচোখে


আসো ,যাও ; মাইনে পাও । রাস্তায় আলো জ্বলে ওঠে।

কিছু সর্ষে তো ফোটে । নিদেন পক্ষে কিছু মাসকলাই !

নিতান্ত দায় না পড়লে , এক আধটা ভূতও জোটে ;

সুডৌল দুধ-দ্রোণী চাটে। হাসি পায়।


বেশী বেশী যেটা হয় : তাল ঠোকা লোক ; 

বেড়ে দেয় তোমার ভ্যূলোক। একটা সাঁকো গড়ে ওঠে।


তুমি সেই সাঁকোর মালিক। তার উপর অন্য কেউ আসে, 

চাইতে নাই পারো। পণ্য এলে বাঁচো। 

পায়ের তলায় সর্ষে নেচে ওঠে। 

তাকে গিয়ে বলো , 'এই ,নাচিস কেন ? 

পোড়াচোখে জল ফেটে আসে - - -


তোমার পাষাণ বুক , ডিগ্রীমুখিন কাগজ ভালোবাসে।

ভেসে ভেসে মুখর করে ভেলা। 

তুমি নীলাঞ্জনা ছল আঁকো স্তনের শিষে।



মাষ্টার


মাননীয় মাষ্টারমশাই ,

দিনান্তের দৈণ্যতা ছাঁটতে ছাঁটতে


শিক্ষক আজ নিজেই বনসাই।

চিত্রিত টবে টবে হোমানল বর্ধক ঋত্বিক।

কিংবা বাথরুম নিরুদক 

হাতে তুলে নিয়েছে ডাস্টার ।

রঙের গাঢ়তা নেয়নি কোথাও

শুধু ঢ্যারা টেনে গেছে বারবার ।

অবাঞ্ছিতের কাগুজে চিৎকার

যতকুঁড়ি ঝরিয়ে গেছে অবেলায়

একান্তর ভগ্ন সাব্যস্থ মৃণাল সন্ধে ডিঙিয়ে যায়।

সূত্র নির্বিকার !

ঝড়ে ওড়া কুটোর কঙ্কাল শ্রীটুকু হারিয়ে

পেয়েছে নিছক মাষ্টার - - -








*********************************************************************************************************



স্বপন নাথ 

পিতা : বলাই চন্দ্র দেবনাথ।মাতা:শ্রীমতি মায়া নাথ।গ্রাম-বেটিয়ারী, ডাকঘর- নলপুর,  থানা-সাঁকরাইল, জেলা- হাওড়া,পেশা- শিক্ষকতা ।
নেশা-লেখা , মূলত কবিতা ও প্রবন্ধ ।
প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ : আটটি। প্রথম প্রকাশ (2006)বাতুল বালিয়াড়ি। পর্যায়ক্রমে মৃত্যুজপ শীলিত পরিক্রমা, চন্দ্র হলো না,সেই হরিণী যেই হরিণী, দ্বীপজন্ম, আয়াত পেরনো জল, গ্রহণ,   প্রভৃতি । সবকটিই শ্রদ্ধেয় কবি শঙ্খ ঘোষের তদারকিতে প্রকাশিত । প্রকাশিতব্য "ছিপ ধরা প্রহর "2022কোলকাতা বইমেলা ।
"আয়াত পেরনো জল" কাব্যগ্রন্থটি 2020 অন্নদাশঙ্কর রায় স্মৃতি পুরস্কারে মনোনিত হয়েছিল। রবীন্দ্রভারতী


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন