স্বর্গ এখানেই
দেবাশীষ মুখোপাধ্যায়
দস্যিপনায় মাস্টারপিস তুতুন। চোখের নজরের বাইরে তো বাড়ির যে কোন জিনিসের ঠিকানা জানলা গলে ফুটপাত।রিয়ার তুতুনকে সামলাতে হিমসিম অবস্থা। অশীতিপর শাশুড়ির পক্ষেও তুতুনকে চোখে রাখা না - মুমকিন !
তমাল গেছে অফিসের কাজে মুম্বাই। রিয়া গেল বাজার করতে ফ্ল্যাটের নীচেই। তুতুন রইল শাশুড়ির কাছে।হাতে ক্যাডবেরি, টিভিতে কার্টুন!
যদি একটু ভুলে থাকে। তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরেই দেখে শোবার ঘরের দরজা খোলা। ঘরে ঢুকেই চক্ষু চড়কগাছ! সাজের টেবিলের সব জিনিসপত্র উধাও।মাথায় আগুন রিয়া ছুটল নীচে।দোকানের ছেলেটা জানাল, সমস্ত জিনিস রাস্তার পাগলিটা কুড়িয়ে দে দৌড়।
রিয়া পাগলির বাসার দিকে জোরে পা চালালো। সামনের মোড়ের পাশেই বটগাছটার তলায় থাকে পাগলিটা। বটগাছটার কাছে যেতেই এক অদ্ভুত অপত্যে মন ভেসে গেল রিয়ার। বিস্ময় ঘোর সারা মন জুড়ে ওর তখন। পাগলিটা ওর মেয়েটাকে গলায় হার, কানে দুল,চুলে ক্লিপ, মুখে পাউডার, ঠোঁটে লিপস্টিক লাগিয়ে সাজিয়ে দিয়েছে। ছেঁড়া ফ্রকের ছোট্ট মেয়েটাকে উজ্জ্বল দেখাচ্ছে।প্রজাপতির মতো উড়ে বেড়াচ্ছে মায়ের চারদিকে। মায়ের গায়েও সাজের ছোঁয়া। দুজনে অনাবিল হাসিতে।চরম পাওয়ায় ওদের মুখে স্বর্গীয় হাসি রিয়াকে লজ্জায় ফেলছে। এভাবে তো জীবনকে ভাবেনি কখনও ও ! স্বার্থপরের মতো শুধু বাঁচা ওর।না, ও পারবে না মা- মেয়ের এই সব পেয়েছির আনন্দ কেড়ে নিতে।
এক আকাশ না - পাওয়ার মাঝে ওদের এই পাওয়াটুকু স্থায়ী হোক। বাঁচুক ওরা আনন্দে।এক বুক ভালোলাগা নিয়ে রিয়া পা বাড়াল বাড়ির দিকে।
*************************************************************************************




কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন