বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫

নজর উল ইসলাম

 





নজর উল ইসলাম * দু'টি কবিতা 


চোখের আড়াল হলে 

চোখের আড়াল হলে ধূসরে ঢেকে যাওয়া জীবন ভবিষ্যপুরাণের মত শাস্ত্র হয়ে যায় অকপটে 
পথের ধুতরাফুলেরা হাস্যরস বেবাক অনন্তবোধে ঠেকে শেখে হৃদয়খানি আসক্তিহীন যৌন্যপূর্ণতা

খোলে তো আবাদি অনুরণন সুর গন্ধমুদ্রা 
আরক্ত ক্রিয়াশীল প্রিয় বৃক্ষের আজন্ম আত্মা 
গোপন গুহার টান দেখি যেন আশ্চর্য আলিঙ্গনে অতৃপ্ত উপত্যকায় জলজ সন্ধ্যার সঞ্চারী সঙ্গম
লেখা ..







যুবকজলের হিরণ্যপাখি 


অমোঘ শিহরণে খুলে যায় মণিপদ্মের ডানা 
যুবকজলের হিরণ্যপাখি স্ফুর্তির গান ছড়ায় 
দূরের জোছনা লিখে দেয় প্রেরণার নীল
রোদের ঝিকিমিকি আড়াল থেকে সৌর শুশ্রুষা

তৃষ্ণার্ত অস্থিরতার মহাবৃত্তে দাঁড়িয়ে ফণার আচরণ পোষাতে পারেনি আজও জলের নিমজ্জন সন্ধি রাতের তারারাও জানে নৈঃশব্দ্যের নিরুক্ত হাহাকার ঘনঘোর সরণী ধরে চুঁইয়ে আসে হৃদয়ের মায়াজল...






*****************************************************************************




                       নজর উল ইসলাম 


কবিতা এবং কবিতাকেই আঁকড়ে বাঁচতে চেয়েছেন নয়ের দশকের কবি নজর উল ইসলাম।১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দের ৩১ ডিসেম্বর বসিরহাটের পশ্চিম বিবিপুর গ্রামে জন্ম। হাদরিদ্র পরিবারে প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছেন নজর উল কবিতার হাত ধরেই।
দারিদ্র্যের কারণেই উচ্চ মাধ্যমিকের পর উচ্চশিক্ষার কৌলিন্য অর্জন না-করলেও নজর উল ইসলাম নিরন্তর কবিতাচর্চার কবি হিসেবে সমুজ্জ্বল দু-বাংলায়। তাঁর ক্রমান্বয়ে প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলি হল ‘নদী এলেই তুমি এসে যাও’, ‘রাতপাখির দেহলি’, ‘আমিই সেই পথ’, ‘ ও বৃষ্টির মেঘ’, ‘মুখ লুকনো হৃদযমুনা’, ‘ মেঘপাখির আগুনলিপি’ প্রভৃতি। বাংলা সাহিত্যের প্রাতিষ্ঠানিক ও অসংখ্য লিটল ম্যাগাজিনে প্রবহমান তাঁর সৃজনশীল কাব্যকৃতির জন্য নজর উল ইসলাম পেয়েছেন চন্দ্রকেতুগড়, রিয়া ইন্ডিয়া এবং এখন বঙ্গদেশ সন্মাননা।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন