ধারাবাহিক রহস্য রোমাঞ্চ কাহিনি
প্রভাত ভট্টাচার্য
পর্ব 7
প্রস্তুতি
কৃষ্ণ ব্যাপারটা ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না। সূর্যদা তো এতদিন কখনও বাইরে থাকে না। বিশেষত তার সঙ্গে যোগাযোগ না রেখে। বলছে তো বড় একটা কাজ নিয়ে লেগে আছে, আর হয়তো বেশ গোপনীয় ব্যাপার।
উজ্জ্বয়িনীকেও জানাল ব্যাপারটা।
ঠিক আছে ,দেখা যাক। আমারও চিন্তা হচ্ছে। নতুন কিছু খবর পেলে আমাকে জানিও।
অবশ্যই। বলল কৃষ্ণ।
এদিকে অতীশ চলেছে শার্দুলের সাথে।
তোমার নাম কি? জিজ্ঞেস করল অতীশ।
কোন জবাব দিল না শার্দুল ।
তুমহারা নাম কেয়া?
এবারও কোন জবাব নেই।
আচ্ছা বেয়াদব তো! বোবা নাকি ? বলে অতীশ তাকালো শার্দুলের দিকে।
শার্দুলের তীক্ষ চাহনির সামনে সাধারণত কেউ বেশিক্ষণ চেয়ে থাকতে পারে না। কিন্ত এ তো কেমন অদ্ভুতভাবে চেয়ে রয়েছে । পাগলাটে লোক তো, তাই। ভাবল শার্দুল । অতীশ কে ঘর দেখিয়ে দিয়েই সে চলে গেল। তারপর সুমিতকে নিয়ে গেল অতীশের পাশের ঘরেই।
অতীশ ঘরের বাইরেই ছিল। সুমিতকে দেখে বলল, তোমাকে দেখে তো সুবিধের লোক বলে মনে হচ্ছে না।
চুপ, পাগল কোথাকার। বলে সুমিত ঘরে ঢুকে গেল।
যে বলে সে পাগল। বলে অতীশ ঘরে ঢুকে গেল।
একটু পরে একজন এসে চা বিস্কুট দিয়ে গেল। খাওয়া শেষ হতেই সে আবার এসে বলল, চলো, স্যার ডাকছে।
কোন স্যার ?
আরে স্যার তো একজনই আছে।
ও, তোমাদের সেই কত্তামশাই । চলো তাহলে যাই।
অজয় নীচে দাঁড়িয়েছিল। অতীশ নামতে বলল, চলুন আমার সঙ্গে।
তারপরে দেওয়ালের বোতাম টিপতেই দরজা খুলে গেল।
আরে বাবা, এ তো সেই আলিবাবার গুহার দরজা ! বলল অতীশ।
সিঁড়ি দিয়ে নামতে লাগল অজয়, আর ইশারায় বলল তাকে অনুসরণ করতে।
নীচে নেমে অতীশ বলল, আরিব্বাস, দারুণ জায়গা তো। বেশ কিছু রোবট ও রয়েছে দেখছি।
পছন্দ হয়েছে সবকিছু ?
গ্রেট! তোমার এলেম আছে তো ভাই।
রবিনসনকে ডেকে অতীশের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিল অজয়। তাকে বলল, ওনার যা প্রয়োজন, মেটাবে। উনি একজন বড় বিজ্ঞানী ।এখন আমাদের হয়ে কাজ করবেন।
ও কে স্যার।
গ্ল্যাড টু মীট ইউ। সতীশ বলল রবিনসনকে।
মি টু ।
রবিনসন কিন্ত মনে মনে অখুশি হল। ভাবল, এ আপদটা আবার কোত্থেকে এলো।
আপনার খাবার ঘরে দিয়ে ডেকে নিয়ে যাবে। নিন, কাজ শুরু করুন। বলে অজয় চলে গেল।
সুমিত একটু ঘর থেকে বেরিয়ে সামনের দিকে তাকিয়ে রইল। একটু দূরেই জঙ্গল। এ একদমই পাণ্ডববর্জিত জায়গা যাকে বলে। হঠাৎই এক অপার্থিব আওয়াজ ভেসে এল জঙ্গল থেকে , যে আওয়াজ আগেও শোনা গিয়েছে।
তারপর তার মনে হল কেউ রয়েছে পাশে। দেখল শার্দুল কখন এসে দাঁড়িয়েছে ।সে আঙুল দেখিয়ে ঘরে যেতে বলল।
সুমিত তাই করল। এ কোথায় এসে পড়েছে ! মনে মনে ভাবতে লাগল সে।
জঙ্গলের মধ্যে এই অদ্ভুত প্রাণীর ব্যাপারটা ভাবিয়ে তুলেছে অজয়কে। এটা একটা অস্বস্তির কারণ। মেশিনগান থেকে গুলি চালিয়ে দেখেছে কিছুই হয় নি। শার্দুল বর্ষা ছুঁড়েছে। কিন্ত মনে হচ্ছে তো তাতেও লাভ হয় নি। এবারে জঙ্গলে রোবট পাঠাতে হবে ।
যে কথা সেই কাজ। পাঁচজন রোবট গেল জঙ্গলের ভেতরে। তাদের ভেতরে প্রোগ্রামিং করে দেওয়া ছিল যে বড় কিছু স্ক্যানারে ধরা পড়লেই গুলি চালাবে। কিন্ত কিছুই ধরা পড়ে নি।
শার্দুলের দিকে তাকিয়ে অজয় বলল, না রে , কিছু হল না।
তারপর গিয়ে খেতে বসল দরজা বন্ধ করে , বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটটা খুলে রেখে।
কৃষ্ণ আর একবার সূর্যকে ফোন করে দেখল। সেই একই ব্যাপার।
************************************"**************************************************************







কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন