বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫

শম্পা সামন্ত

 




শম্পা সামন্ত * দুটি কবিতা







ব্যথার হাপড়

ব্যথার আরশি বেয়ে মুখ আর মুখোশে ফারাক শিখলাম

অথচ জল আর কাচে অমিল কত 

আরশিতে রোজ ভিতর পড়ে ফেলি

হাওয়ারা কথা বলে কথার সঙ্গে সুগন্ধ মিশে মিশে আত্মীয়তা

 বাড়ায়

এভাবে গরমকালের মতোই উড়ে আসছে শীতকাল

রাত ক্রমশ ঘন হয়ে কমে আসছে অফুরন্ত সময়

অবাধ্য হাওয়ার কলার ধরে আমি পুব থেকে পশ্চিমে নদীটির

গতিপথ মেপেছি

অথচ চিরকাল খুঁজে চলেছি সেই মুখ সেই শীতল স্পর্শের

উত্তপ্ত আদর

এসব খুঁজে পাইনা খুব একটা

অথবা খুঁজে পেলেও তা কমবেশি স্থায়ী হয়

একটা  পূর্বজন্মের নদীতে একটা নবজন্মের সকাল কীভাবে

বিছিয়ে দিচ্ছিল রোদ

আর আমি খুঁজে পাচ্ছিলামনা কতটা বিদ্যুৎ গতিতে টেনে

যাচ্ছিলাম বিস্ময়ের হাওয়াভরা হাপর













চক্রভূক

আলোর আকাশ থেকে ঝুলে আছে বর্ধিষ্ণু ফল

আলের দিকে সরে যাওয়া মেঠো পথে লেগে ধানের হাওয়ার

ঢেউ উত্তাল

যেমন করে খড়কুটো ধরে বেঁচে ওঠে মানুষের ডুবন্ত আনচান

দিন গড়িয়ে সাঁঝ প্রদীপ জ্বালিয়েছে কেউ

তারার দিকে তুলে ধরেছে আলোর চাঁদ

অন্ধকার থেকে সরে আসা তোমার মুখ উজ্জ্বল ছটায়

যেন মহানিম গন্ধে ভরপুর রাত্রির অপেক্ষায় চক্রভূকের মরণ।












***********************************************************************************




শম্পা সামন্ত 

প্রথম প্রকাশিত কবিতার পত্রিকা আজকের যোধন।( ১৯৮৭) আসানসোলে একচেটিয়া কবিতায় তাপ উত্তাপ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অর্গান, কেতকী,  পরে শান্তিনিকেতনে থাকাকালীন অনুপত্রী, সাহিত্যিকা, নিজস্ব সম্পাদিত পত্রিকা বিকর্ণ। পরবর্তীতে বহু পত্রপত্রিকা নন্দন, এবং মুশায়েরা, একুশ শতক, কবিকণ্ঠ, কবিতা পাক্ষিক, জিরোবাউণ্ডারির বহু সং্খ্যা লেখা। ২০১০ সাল থেকে ইউনিভার্সিটি গ্র‍্যান্ড কমিশনের আওতাভুক্ত রিসার্চ জার্নাল অন্তর্মুখেসহসম্পাদক হিসেবে নিযুক্তি ও বর্তমানে অন্তর্মুখ অন্তর্জাতিক দ্বিভাষিক জার্নালের সম্পাদক। কবিতার পাশাপাশি প্রবন্ধ লেখাও ভীষণ শখ।



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন