প্রবীর কোনার * দুটি কবিতা
পাথরকুচি
তোমার শরীর খারাপ হয়েছে শুনলে
বাতাসকে ঝড় মনে হয় এখন আমার
পথকে মনে হয় ঘোরানো শোয়ানো বিভ্রান্তিকর অবস্থানে
অথচ আষাঢ়ের সব ঢেউ গুনে গুনে শেষ করে ফেলেছ তুমি
একটা সম্পন্ন শ্রাবণ বয়ে আনবে বলে
যার রিমঝিম গানের স্তবকে স্তবকে সমন্বয় আনতে
কোথাও বসিয়েছ ধানের মঞ্জরি
কামিনী কদমের ধুম নাচ
কোথাও-বা ধ্রুপদী নদীর সহজ সঙ্গীত
বলেছিলাম না, এখন আর সব রাত বিশ্বস্ত নয়
ওরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে তোমার দিকে এগোয়
অনুভূমিক করে
একটা একটা অঙ্গ ব্যবচ্ছিন্ন করে পাচার করে দেয়
কালো অমাবস্যার আসকারায়
এই দ্যাখো, বসে রয়েছি হাঁটু মুড়ে
তোমার আরোগ্য সংবাদ শোনা মাত্রই
আকাশে আকাশে ছড়িয়ে দেব
আমার অসমাপ্ত চিঠির মর্মবাণী
পৃথিবীর সমস্ত আধুনিক গাছে আমার কবিতা যেন উপশম
রাখে
এখন আমিও আমার শেষকৃত্যের দিকে
কাউকে কিছু বলিনি একা একা পুড়ছি আর দেখছি
তোমার বালিশের একদিক ঊষর একদিক আগ্নেয়
মাঝখানে আমার কবিতায় তোমার জনপ্রিয় তাৎপর্য
যা অলৌকিক নিরাময় নিশ্চিত করতে করতে
সবুজ ভূগোল রচনা করবে।
নবান্ন
দেখেছ কি তুমি প্রতিটি ধানের পাতায়
শিশিরের প্রেম সুস্থির রকমারি
দেখেছ কি তুমি প্রতি ঊষা সন্ধ্যায়
সাজিয়ে রেখেছে আগামীর মঞ্জরি।
তোমাকে সেভাবে বলিইনি আমি আগে
একা একা হেঁটে ছায়া হয়ে গেছি রোজ
কিছু কুয়াশারা তোমাকে না দেখে রেগে
পথে প্রান্তরে করে গেল অভিযোগ ।
আমার দৌড় কতদূর জানি প্রিয়
বন থেকে বন পাখিদের কলরব
পৌষের ডাক যতবার শুনে নিয়ো
ভিতরে একটা ফসলের বৈভব।
আজকে তোমার ঘুরে আসা থেকে শেখা
প্রতিটি বিদায় প্রকৃতই সাময়িক
হে মন,তোমার শেষ চিরকুটে লেখা
আজ নবান্ন গোটা গ্রাম ছান্দিক।
*********************************************************************
জন্ম পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়না থানার রামবাটী গ্রামে । পেশায় শিক্ষক । সাহিত্য তার কাছে অবসরের শুশ্রূষা ,তার নিকটতম উপশম ।




কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন