বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫

রহিত ঘোষাল

 




রহিত ঘোষাল * দুটি কবিতা



এলোমেলো সন্ধ্যা কিশোরী


এলোমেলো সন্ধ্যা কিশোরী

দ্বিগুণ হয়ে এ জীবনে এলে

শহুরে গিলোটিন দেখতে,

এক সমুদ্র মৃতদেহ ছড়িয়ে আছে,

সিগন্যাল ভেঙে ছুটে যায়

ভ্রমণকাহিনি,

পাপ-তাপের সংসার জুড়ে

তুমি করলে প্রাণসঞ্চার,

প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠলো তখন

অতীন্দ্রিয়,

মেঘের ফাঁকে ফাঁকে হত্যা,

তাও তুমি পবিত্র থেকে গেলে

আঁধারের বেলাভূমিতে,

দস্যুদল অস্ত্র ফেলে দিল,

মেছোবিড়ালের পা পিছিয়ে গেলো

সতর্কতায়,

এল-দরাদো হয়ে

যায় বসতঘর, ময়ূর-ময়ূরী খেলে বেড়ায়

ওখানে এখন,

ওখানে এখন নীল ঘাসের

এবড়োখেবড়ো পথে মোলায়েম শয্যা

এলোমেলো সন্ধ্যা কিশোরী

দ্বিগুণ হয়ে এ জীবনে এলো












বরফ ও গৃহলতা


অকস্মাৎ এলে তুমি—

উঁচু উঁচু পাহাড়ের চূড়ায়

তখন তুষার ঝড়,

শহরে তখন আত্মহত্যা,

তোমার হাতখোঁপার কাছে

বসে আছি একদিন—

হঠাৎ শিলাবৃষ্টি,

শিরোনামহীন লজ্জা ঢেলে দিলে

বীজপত্রে,

রুদ্ধশ্বাসে বালিয়াড়ি থেকে

বিভ্রমের দিকে হেঁটে যায় নষ্ট মেয়ে,

তার কথা তোমায় বলতে চেয়ে আমি

উদ্যানে উদ্যানে বিদূর বরফ হয়ে থাকি,

তাই আজ আমার চোখভর্তি বিষণ্ন

শ্মশানের ছাই, দ্বিধান্বিত তুমি শীত শিশিরে

নৈবেদ্য সাজাও আর সস্নেহে পাখিদের গুঞ্জন ও

গৃহলতা তুলে রাখো ঘরে


















******************************************************************************




 রহিত ঘোষাল 


দক্ষিণ কলকাতার টালিগঞ্জ এলাকায় ১৯৯০ এর ৯ অক্টোবর রহিত ঘোষালের জন্ম,সেখানেই শৈশব ও কৈশোর ব্যয় করেন।লেখালেখি করছেন ২০০৭ সাল থেকে। জীবনের বিচিত্র সব শিল্প সংস্কৃতি সংক্রান্ত কৌতূহল ও স্বপ্ন মেটাতে ও বাস্তবায়ন করতে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশুনা কলেজ অব্দি।বিভিন্ন রকম পেশা বদলে বর্তমানে একটি ব্যক্তি উদ্যোগের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।কবিতা লেখার আশেপাশে অভিনয় করেছেন মঞ্চনাটক ও অন্তরঙ্গ নাটকে।গান গেয়েছেন এবং লিখেছেন নানা বাংলা ব্যান্ডের দলে,অবসরের ছবি আঁকতে ভালোবাসেন আপন মনে।
প্রথম কবিতার বই 'পীড়িত অববাহিকা'—২০২৩,
দ্বিতীয় কবিতার বই 'জাদু ছত্রাক'—২০২৪
তৃতীয় কবিতার বই 'বৈদেহী'— ২০২৫


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন