কবিতাগুচ্ছ * রতন পালিত
আলো খুঁজতে আলোতে :
(এক)
সেই উতল মেঘের ভিতর থেকে চেয়ে দেখছিল সে। আমি তার নাম দিয়েছি জোনাকি। কী সুন্দর, কত সংযম তার সরল চলাফেরা! আমার মুগ্ধতায় সে অবিচল। তার অকঠিন পাঁজরের দিকে চেয়ে রয়েছি। পাঁজর পেরলেই খোলা দরজা। প্রহরীহীন। নিরুত্তাপ মগ্নতায় আমার চাপা উষ্ণতা পাঠিয়ে দিলাম সেই খোলা দরজায়। একটি চিরকুটে লিখে দিলাম - "জোনাকি, আলো দাও"।
(দুই)
কত রং নেমে আসছে! কুড়িয়ে নিচ্ছি একটা একটা করে। কোনটা মলিন, কোনটা স্নিগ্ধ। একটার পর একটা আলো নেমে আসছে। আমি ছুটে চলেছি সেই দিকে যেখানে তরল জ্যোৎস্নারা উল্লাস করছে। কিন্তু ছুটতে পারছি না। আড়ষ্ট হয়ে আসছে আমার পা। শ্লথ হয়ে আসছে গতি। আমার বুকের ভিতর থেকে ছিটকে পড়ল আমারই লালিত হৃদয়। চারিদিকে এত আলো। আর আমার সামনেটা গভীর অন্ধকার! শুষ্ক কন্ঠে চিৎকার করলাম - "জোনাকি, নেমে এসো, আলো দাও"।
(তিন)
ক্রমশ ঘোর কাটছে। আমি একা, একটা উত্তাল সাগরের তীরে ভেসে আসা এক কাষ্ঠ খণ্ড। আমার চারপাশে লোনা জল আছড়ে পড়ছে। আমার শুষ্ক কন্ঠ তাকিয়ে দেখছে সেই নিষ্ঠুর জলরাশির বিরূপ গভীরতা।
(চার)
চারিদিকে এখন কত আলো। এই আলোয় দু'চোখ দিয়ে তাকে খুঁজছি। কত তরুণ মেঘ, উড়তে উড়তে হারিয়ে যাচ্ছে। এত আলোতেও অমল ব্যর্থতায় সেই জোনাকিকে আমি খুঁজে পাচ্ছি না।
************************************************************************************
রতন পালিত
কবিতা মননে, চিন্তনে । স্কুল জীবন থেকে। প্রথম প্রকাশিত কবিতা স্কুল ম্যাগাজিনে, একাদশ শ্রেণী। তারপর বিভিন্ন জনের আবদারে অনেক লেখা বিভিন্ন স্কুল, কলেজ এবং স্থানীয় শারদীয় পত্রিকায় নিয়মিত প্রকাশ। মাঝে বেশ কয়েক বছর ছেদ। বর্তমানে নিয়মিত চর্চায়।



এই যে জোনাকির হাত ধরে আলোর কাছে যেতে চাওয়া -- আলোর জন্য আপনার এই প্রার্থনা নিশ্চয়ই ঘর পাবে! হিমেনেথ যেমন প্লাতেরোর সঙ্গে কথোপকথনকে চিরন্তন করে গেছেন! ভালো লাগল!
উত্তরমুছুন