মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬

জবা ভট্টাচার্য

 



জবা ভট্টাচার্য * তিনটি কবিতা 


দেবীপক্ষের_ভোর


    অপেক্ষায় আছি

    সামনে আদিগন্ত জলরাশির 

    বুকে ঝুঁকে আসা জমাট আকাশ 

    সংকেত শূন্যতা রেখে গেছে রাত্রিপলক।

    ছায়া ছায়া অন্ধকার,  যেন দেহাতীত জন্মকাল

    ছায়া ভেঙে যাচ্ছে,  মায়া ছড়াচ্ছে, আলো ফুটছে।


    সকালের আলোয় অন্তরাত্মায় দীপ জ্বালাতে 

    নির্ভরতা লাগে না কোনো উপকরণের, চোখ 

    মেলে তাকাতে হয় শুধু--বুকের  ওপর ঢেউ 

    এর মাতন, ঢেউ ভাঙে। ঝাউঢাল পেরিয়ে

    ভেজা পোশাক লেপ্টে থাকা শরীর

    ছাপিয়ে, সৈকত শূন্যে ভোর হয়---


    ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা স্তিমিত তারার মাঝে পূর্বপুরুষের 

    দৃষ্টির  আলোয় নির্জন দিগন্তে হিরণ্য সকাল---

    

    আলো মেখে ফুটে উঠি এক থেকে একশ আট



আজকের_যীশু


  অদ্ভুত আঁধার আজ, অদ্ভুত আঁধার 

  নাই শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, নাই কোলাহল 

  তবু নাভিখুঁটে, ব্যথা মেখে, জন্ম নেয় প্রাণ

  রাস্তার ফুটপাথে, বস্তিতে

  নতুন কুঁড়ি নামহীন  গাছটায়।


  চারিদিকে ত্রস্ত জীবন  আর ভয়

  তারই মাঝে ওরা বাড়ে সংখ্যায়

  মাটির শিশু,  মাটি মাখা গায়ে।


  নেমে এসো --- সব রঙ ছেড়ে, 

  ছেড়ে স্বাভিমান

   

  অনন্ত শুশ্রূষায়

  দৃশ্যে দৃশ্যে আলো ও শাশ্বতে।



কল্পতরু


 ব্রাহ্ম মুহূর্তে

 অঙ্গরাগে শ্বেতশুভ্র চন্দন যখন 

 সুবাসিত ভোরে হাত রাখে

 দক্ষিণেশ্বর থেকে বহুদূরে, মন অনুভব করে

 জাহ্নবী তীরে, পঞ্চবটী তলে-- প্রেমের ঠাকুর 

 যুগাবতার শ্রী রামকৃষ্ণ মগ্ন চৈতন্যে দেন ডাক 

 কল্পতরু  হয়েছেন  ঠাকুর আজ---

 

 অনন্ত প্রেমরসে সিক্ত  পরাণে

 হৃদয়ে স্থান দেন অন্ধ ভক্তজনে।


 তাঁর দিব্য আলোকে ত্রিভুবনজোড়া নাস্তির

 অন্ধকার মুছে আসে মোরগ ফুলের বর্ণালী

 চতুর্দিকে অনন্ত শূন্যতায় বেজে ওঠে

 অন্তর্জ্যোতিবলয় উৎসারিত আশীষধ্বনী

 ফুল্ল ফুলের বাতাসে দক্ষিণেশ্বর জুড়ে

 তোমার  অলীকসুন্দর  চরণধ্বনী---


 অধঃক্ষেপের কালো মুছে আলো দাও হে ঠাকুর!













**************************************************************************




জবা ভট্টাচার্য

জন্ম, বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা সবটুকুই  কলকাতায়। বিবাহ সূত্রে  উত্তরবঙ্গে আসা। ভালোবাসা থেকে লেখালিখি করা। এ পর্যন্ত  সাজি, মান্দাস,  বিবর্তন, সহ বহু ছোট বড়ো লিটল ম্যাগাজিনে লেখা প্রকাশিত  হয়েছে। নিজের  দুটি কবিতা সংকলন  আছে "মাধুকরী  মন" এবং “এক টুকরো ডাঙা”।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন